ডিএ মামলার শুনানি পিছোল সুপ্রিম কোর্টে, ৮৫ শতাংশ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্যের
সকাল সকাল ডেস্ক সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও শুনানি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি আরও কিছুটা সময়ের জন্য অনিশ্চিত রইল। পরবর্তী শুনানির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যেই বুধবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সরকারের দাবি, রাজ্যের কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ রয়েছে। তাই আদালতের কাছে আংশিক ছাড় চেয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, আপাতত ৮৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ বকেয়া ২০২৮ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রস্তাবও আদালতের সামনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এককালীন অর্থপ্রদানের বদলে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর রূপরেখা পেশ করেছে সরকার। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তার সুপারিশ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কাজ শুরু করা ওই কমিটির সঙ্গে নতুন সরকারও বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকের সুপারিশ এবং আর্থিক পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। কমিশনটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করবে। বর্তমান ডিএ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ— এই দুই প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর সরকারি কর্মচারীদের। পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণার পাশাপাশি আদালত রাজ্যের প্রস্তাব সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত এফআইআরে একযোগে আইনি রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার আদালতের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা : রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুরাহা মিলল না কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলায় একযোগে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার মৌখিক আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সম্প্রতি রাজ্যের ভবানীপুর, শিলিগুড়ি, নকাশিপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে আটটি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই সমস্ত মামলাকে একত্র করে কড়া পদক্ষেপের হাত থেকে সুরক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে এভাবে একযোগে ঢালাও আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। অভিষেকের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন থানায় পর পর মামলা করা হচ্ছে। তাই সবকটি মামলায় একসঙ্গে স্বস্তি দেওয়া হোক। সিব্বল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে যুক্তি দেন, পূর্বে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হলে আদালত তাঁকে আইনি সুরক্ষা দিয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন মামলা দায়েরের ওপরও স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, শুভেন্দু অধিকারীর বিষয়টি একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ মাত্র ছিল। বিচারপতি ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দু অধিকারীর মামলার উদাহরণ এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য না শুনে আদালত কোনো নির্দেশ জারি করবে না। তবে আদালত এ-ও জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যদি কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হয়, তবে তা আদালতকে জানানো যেতে পারে। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই থাকছে, অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না হাইকোর্ট
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেল না তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জারি করা নোটিসের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্তর্বর্তী আবেদন সোমবার খারিজ করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে ইডি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে, সেগুলি আপাতত আগের মতোই ফ্রিজ অবস্থায় থাকবে। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ন’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এর মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ওই অর্থের উৎস, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইডির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের আইনজীবীদের দাবি ছিল, একই বিষয়ে এর আগে আদালতে শুনানি হয়েছে এবং সেই সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কিছু পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নোটিস জারি আইনসঙ্গত কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মামলার শুনানিতে ইডির আইনজীবীরা জানান, তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি সচল করা হলে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। সেই কারণেই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ রাখা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অন্তর্বর্তী আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিষেকের বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে তোপ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সব স্তরে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক : শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: ‘পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সবস্তরে সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক’, বিধানসভায় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে সব সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হবে, যাবতীয় চিঠিপত্র বাংলা ভাষায় লিখে আদান-প্রদান করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বাংলার পাশাপাশি হিন্দিতেও চিঠি আদানপ্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। বাংলা ভাষার ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে চেয়ে সেই চিঠি লিখেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ওই চিঠিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। সেই চিঠির কথাই সোমবার বিধানসভায় বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমি ঘোষণা করছি, ২০২৬ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করব। এই সময়ে আমাদের সরকার অনুবাদকের ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় অন্য যে কোনও চাহিদা পূরণ করবে। ভারত সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে আমরা বাংলা ভাষাতেই চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও উত্তর প্রদান করব। পাশাপাশি, ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমরা বাংলা ও হিন্দি—উভয় ভাষাতেই চিঠিপত্র ও জবাবের আদান-প্রদান করব।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নাগরিক পরিষেবা—যেমন এফআইআর দায়ের, অভিযোগ নথিভুক্তকরণ, নাগরিক তথ্য এবং নিরাপত্তা ও জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের ক্ষেত্রে—বাংলা ভাষার ব্যাপক ব্যবহার প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সুবিধা এবং অংশগ্রহণকে আরও সুদৃঢ় করবে। এছাড়া, ভারত সরকারের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা এবং সরকারি ভাষা হিন্দি ব্যবহার করা যেতে পারে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ভাঙায় স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
আমতলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ভাঙায় স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট। আদালত সূত্রে খবর, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। শনিবারের পরে রবিবারও অভিষেকের আমতলার দফতর ভাঙতে নিয়ে আসা হয় একাধিক যন্ত্রপাতি। তার আগে শনিবার রাতভর কার্যালয় থেকে বের করা হয়েছে জিনিসপত্র। অভিযোগ, বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল ওই কার্যালয়।
গর্ভগৃহে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, তারাপীঠ মন্দিরে ১ আগস্ট থেকে লাগু হচ্ছে নতুন নিয়ম
সকাল সকাল ডেস্ক। বীরভূম: তারাপীঠ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের সুবিধা, নিরাপত্তা এবং মন্দিরের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে আরও সুসংগঠিত করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই নতুন নিয়মাবলী কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে ‘তারামাতা সেবাইত সংঘ’। মন্দির প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দর্শন, পূজা, ভোগ এবং আরতির সময়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি, মন্দিরের গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, মন্দির প্রতিদিন ভোর ৩টেয় খুলে দেওয়া হবে। পুণ্যার্থীদের জন্য ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে পূজা ও দর্শন শুরু হবে। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করা হবে এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত মাতাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হবে। এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে পুনরায় দর্শন শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টায় আরতির সময় গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকবে। আরতি শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে পুনরায় পূজা ও দর্শন শুরু হবে। রাত ১০টায় মন্দির চত্বরের সমস্ত প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হবে। মন্দির প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুণ্যার্থীদের গর্ভগৃহে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট কাউন্টারে তাঁদের মোবাইল জমা রাখতে হবে। এছাড়া গর্ভগৃহে মায়ের পূজার অনুমতি থাকবে না এবং পূজা চলাকালীন যেখানে ঢাক বাজানো হয়, সেই অংশে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও জানানো হয়েছে, মাতাকে অন্নভোগ নিবেদনের আগে মন্দির প্রাঙ্গণে ভোগ গ্রহণ করা কিংবা মন্দিরের বাইরে ভোগ নিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দর্শন ব্যবস্থা মসৃণ রাখতে সাধারণ লাইন, ভিআইপি লাইন এবং প্রোটোকল লাইনের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। তারামাতা সেবাইত সংঘের পক্ষ থেকে সমস্ত পুণ্যার্থীদের এই নতুন নিয়মাবলী মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে মন্দিরে দর্শন ও পূজার্চনার কাজ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
বাংলা সফরে অমিত শাহ: প্রশাসনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি পরিবর্তনের বার্তা
কলকাতা: তিন দিনের বঙ্গ সফরে বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তরবঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা থেকে শুরু করে কলকাতায় বিভিন্ন সরকারি ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ—তাঁর এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি কেবল রুটিন প্রশাসনিক সফর নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রতি কেন্দ্রের বিশেষ গুরুত্বেরও ইঙ্গিত।
আসানসোলে পড়ুয়াদের পুলকারে নিয়ন্ত্রণহীন মিনিবাসের ধাক্কায় মৃত ১ পথচারী, আহত বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া
সকাল সকাল ডেস্ক আসানসোল, ১৭ জুলাই : মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনায় পাঁচ স্কুল পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আসানসোলে ঘটল আরও একটি পথ দুর্ঘটনা। পড়ুয়াদের একটি পুলকারে সজোরে ধাক্কা মারল নিয়ন্ত্রণহীন একটি মিনিবাস। এই ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম জয়দেব মণ্ডল (৬১)। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়াও আহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ যাত্রিবোঝাই মিনিবাসটি আসানসোল থেকে রানিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময়ে আসানসোলের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পুলকারটি মুর্গাসোল এলাকা থেকে পড়ুয়াদের নিয়ে সবেমাত্র কয়েক গজ এগিয়েছিল। ঠিক তখনই দ্রুতগতির মিনিবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে এক পথচারীকে পিষে দেয় এবং তারপরেই পুলকারটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে পুলকার থেকে পড়ুয়াদের উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এদিকে ঘটনার পরেই যাত্রিবোঝাই বাসটি রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেন চালক ও কন্ডাক্টর। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শহরের মিনিবাসগুলি কোনওরকম ট্রাফিক আইন মানে না। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় লাগামছাড়া গতিতে বাস চালানো হয়, যার জেরেই এই দুর্ঘটনা। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে জিটি রোডের সিংহভাগ অংশ জুড়ে অস্থায়ী দোকানপাট বসেছে। সেই সঙ্গে রাস্তা দখল করে চলে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। ফলে রাস্তা অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত পথচারী আদতে পুরুলিয়ার কাশিপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আসানসোলের একটি হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কর্মস্থলে ইতিমধ্যেই খবর পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আসানসোল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট পাঁচজন পড়ুয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
ফুচকার জলেই জীবাণুর আঁতুড়ঘর! স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উদ্বেগজনক রিপোর্ট, সতর্ক প্রশাসন
মুখরোচক ফুচকা—রাস্তার ধারের এই জনপ্রিয় খাবারটি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং মহিলারা নিশ্চিন্তে খেয়ে থাকেন। কিন্তু সেই ফুচকার জলই যদি অদৃশ্য জীবাণুর আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে? সাম্প্রতিক এক পরীক্ষার রিপোর্ট সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।