‘নিউ মার্কেট-রাজাবাজারে জবরদখল চলবে না’, হকার উচ্ছেদে কড়া বার্তা শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার ফুটপাত ও রাস্তা জবরদখলমুক্ত করতে নতুন করে অভিযানে নামতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনা ও প্রতিবাদের মাঝেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য। সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারকে খর্ব করে কোনওভাবেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের রয়েছে। সেই ফুটপাতকে জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। বড় বড় রাস্তা ও ফুটপাত কাউকে দিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আইন কিংবা জনগণ আমাকে দেয়নি।” তাঁর দাবি, সরকারের প্রথম দায়িত্ব সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই কিছু মানুষের সুবিধার জন্য বৃহত্তর জনস্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হবে না। কলকাতার নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর এবং মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকাগুলির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বহু জায়গায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে রয়েছে। এর ফলে যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি। তবে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি পুনর্বাসনের বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের ফাঁকা জমি বা দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকা বাজারগুলিকে কাজে লাগিয়ে বৈধ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। যাঁরা বর্তমানে রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদের আগে স্বেচ্ছায় সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, “আমরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি দেখছি। যেখানে উদ্বৃত্ত জায়গা রয়েছে, সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তার আগে বেআইনিভাবে দখল করা জায়গা খালি করতে হবে।” হকারদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য থাকা সরকারি সুবিধা হকারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলন বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই সরকারের লক্ষ্য। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ যৌথভাবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জবরদখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করতে পারে। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য হবে বলপ্রয়োগ নয়, বরং পুনর্বাসনের পথ খুলে দিয়ে শহরের রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া।
শিল্পায়নে নতুন রোডম্যাপ, টাটাকে বাংলায় ফেরাতে উদ্যোগী সরকার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— টাটা গোষ্ঠী কি আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরবে? সেই জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিঙ্গুর ও টাটা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “টাটাকে এখানে আনব আমরা।” তবে টাটা গোষ্ঠীকে সিঙ্গুরেই ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গুরের জমির বর্তমান মালিকানা সরকারের হাতে নেই। পূর্ববর্তী সরকার সেই জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়েছিল। তাই সেই জমিতে নতুন করে শিল্প স্থাপন বা টাটা প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি সিঙ্গুরের জমির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর দাবি, জমি ফেরত পেলেও কৃষকরা আজ সেখানে স্বাভাবিক চাষাবাদ করতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “ওই জমিতে এখন না সর্ষে হচ্ছে, না আলু, না ধান। মাছ চাষেরও চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও সাফল্য আসেনি।” তিনি অভিযোগ করেন, শিল্প প্রকল্পের সময় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর প্রভাবে জমির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং মাটির চরিত্র বদলে গেছে। শিল্পায়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার শুধুমাত্র প্রচারমুখী বিনিয়োগ সম্মেলনের পথে হাঁটবে না। তাঁর মতে, অতীতে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে বহু ঘোষণার পরও বাস্তবে অনেক বিনিয়োগ কার্যকর হয়নি। এবার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিক সংস্থা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কোনও সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়ার আগে তাদের আর্থিক ও আইনি অবস্থান খতিয়ে দেখা হবে। এই লক্ষ্যে শিল্প সচিব বন্দনা যাদবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমি জালিয়াতি, ব্যাঙ্ক প্রতারণা বা অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন কোনও সংস্থাকে বাংলায় শিল্প স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শুধুমাত্র জমি নিয়ে ফেলে রাখার প্রবণতাও বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর লক্ষ্যে সরকার তিন দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভারী শিল্পের পাশাপাশি ফুড প্রসেসিং, উদ্যানপালন ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টাটার মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগ করলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোরও উন্নয়ন হবে। ফলে শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যাও অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার।
স্বপনের হাতে অর্থ, দীপকের কাঁধে শিক্ষা, চূড়ান্ত বিজেপি সরকারের দফতর বণ্টন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১০ জুন : পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও দফতর বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। গত ১ জুন রাজ্যপাল আর.এন. রবির উপস্থিতিতে শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বর্তমানে মোট ৪১ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন দফতর বণ্টনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং নারী অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ১০ জন মন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে এসেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পাল ও মালতি রাভা রায়ের মতো মহিলা নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রেখেছেন। অর্থ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্তকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মন। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। অগ্নিমিত্রা পালের হাতে গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, আর তাপস রায় পেয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্বারদত মুখোপাধ্যায়কে। পরিবেশ ও বন দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন মনোজকুমার ওরাওঁ। এছাড়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। আদিবাসী কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। কৃষি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুধকুমার মণ্ডলকে, আর তথ্যপ্রযুক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন কল্যাণ চক্রবর্তী। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মালতি রাভা রায় পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর। রাজেশ মাহাতোর হাতে গিয়েছে মৎস্য দফতর এবং ইন্দ্রনীল খাঁ পেয়েছেন ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের দায়িত্ব। এছাড়া ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আনন্দময় বর্মন অর্থ ও পরিবহণ, কৌশিক চৌধুরী স্কুল শিক্ষা ও অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা, সুমনা সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং বিরাজ বিশ্বাস আইন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার এই দফতর বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার। এখন নজর থাকবে নতুন মন্ত্রীরা নিজেদের দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারেন, তার ওপর।
কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি, চর্চা তুঙ্গে
সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব মেদিনীপুর, ৯ জুন: কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে এবার নজর কাড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির হন তৃণমূলের দুই সাংসদ দেব ও জুন মালিয়া এবং বিধায়ক শিউলি সাহা। তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মঙ্গলবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম—এই তিন জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠকে ডাক পান তিন জেলার বিভিন্ন দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট তিন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতিশীল করতে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোবে। এই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেল কোলাঘাটের বৈঠকে। দলীয় মতভেদ সরিয়ে উন্নয়নের প্রশ্নে একসঙ্গে বসার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিন জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কাজের গতি বাড়াতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য পুলিশে ব্যাপক রদবদল, বদলি ১৭৯ আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ৮ জুন : বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। সোমবার রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ১৭৯ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকের বদলি ও পদোন্নতির ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার, ডিসিপি, আইজিপি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বদলির তালিকায় ডায়মন্ড হারবার, বীরভূম, বারাসাত, পূর্ব বর্ধমান, বারুইপুর, বাঁকুড়া, হাওড়া গ্রামীণ ও হুগলি গ্রামীণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলিও রয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ঈশানি পালকে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম বিভাগের ডিসি পদে আনা হয়েছে। বীরভূমের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিদিত রাজ বুন্দেশ, যিনি এতদিন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ শাখায় কর্মরত ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাসকে কলকাতা পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। বারাসাতের পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস জে মার্সি। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশিকে উত্তরবঙ্গ এসটিএফ-এর সুপার পদে পাঠানো হয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারিকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলি হয়েছে। রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজিপি পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর আইজিপি করা হয়েছে। দীপ নারায়ণ গোস্বামীকে মালদা রেঞ্জ থেকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদে আনা হয়েছে। গৌরব শর্মা পেয়েছেন এসটিএফ-এর আইজিপি পদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মুরলি ধরকে রাজ্য গোয়েন্দা শাখা (আইবি)-র আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক আধিকারিকের পদোন্নতিও ঘোষণা করা হয়েছে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার পদমর্যাদা ডিআইজি থেকে উন্নীত করে আইজিপি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) সোমা দাস মিত্র পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি (পলিসি) হয়েছেন। অর্ণব ঘোষ হয়েছেন আইজিপি কোস্টাল সিকিউরিটি এবং অলোক রাজোরিয়া আইজিপি (লিগ্যাল) পদে উন্নীত হয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের এই ব্যাপক রদবদলকে নির্বাচনের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
বাংলায় চালু ‘আয়ুষ্মান ভারত’, কেন্দ্র-রাজ্য চুক্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন অধ্যায়
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৮ জুন : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় এল পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, সোমবার থেকেই রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল। প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলির সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই সুবিধা মিলবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার এবং সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে। তবে বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। সেই সময় রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হবে। সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ‘প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজ’ বা পূর্ব থেকে থাকা রোগের চিকিৎসাও প্রথম দিন থেকেই কভারেজের আওতায় আসবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন এমন বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়া দেশের প্রায় ৩৬ হাজার তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা দেশের যে কোনও প্রান্তে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন। বিশেষভাবে উপকৃত হবেন ভিনরাজ্যে কর্মরত লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা কর্মস্থলের নিকটবর্তী তালিকাভুক্ত হাসপাতালে আয়ুষ্মান কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অতীতে এই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই জটিলতা দূর করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত ও সহজলভ্য করাই সরকারের লক্ষ্য। আয়ুষ্মান ভারতের সূচনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূলে ফাটল চওড়া, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা চেয়ে স্পিকারকে চিঠি বিদ্রোহীদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসে এবার বিদ্রোহ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন স্পিকার। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। এরপর সই জাল বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি।
এবার থেকে মা ক্যান্টিনের নাম হবে ‘মা আহার’ : দিলীপ ঘোষ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : রাজ্যের ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘মা-আহার’ রাখা হলো। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এবার থেকে মা ক্যান্টিনের নাম হবে ‘মা আহার’। তবে এই প্রকল্প এবার আরও বৃহত্তর আকারে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। রাজ্যের সব প্রান্তেই এবার পাঁচ টাকায় মিলবে পেটপুরে আহার। সব মিলিয়ে ৫০০ ‘মা আহার’ কেন্দ্রের কথা ঘোষণা করল সরকার। সেখানেই পাঁচ টাকাতেই পেটপুরে মধ্যাহ্নভোজন সারবেন আমজনতা। একই সঙ্গে ‘মা আহারে’র মেনুতেও বদল আনা হচ্ছে। এবার থেকে ওই ‘মা আহার’ কেন্দ্রগুলি থেকে সপ্তাহে দু’দিন করে মাছ, সপ্তাহে দু’দিন করে ডিম খাওয়ানো হবে। বাকি তিনদিন খাওয়ানো হবে বিশুদ্ধ নিরামিষ আহার। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার জানিয়েছিল, রাজ্যের কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। অন্তত যে সব প্রকল্পে আমজনতা উপকৃত হন, বরং সেগুলিকে আরও বৃহত্তর আকারে প্রসারিত করা হবে। সেই মতোই নবরুপে ‘মা আহার’ হয়ে আত্মপ্রকাশ করল মা ক্যান্টিন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের মাত্র ৫ টাকায় দুপুরের খাবার দেওয়ার জন্য ২০২১ সালে মা ক্যান্টিন প্রকল্পটি চালু করে তৃণমূল সরকার। মমতা জমানায় মা ক্যান্টিনে ৫ টাকার বিনিময়ে ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হত। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, মা ক্যান্টিনে গরিব মানুষদের মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে। সেই মতোই সপ্তাহে দু’দিন করে মাছ-ভাত খাওয়ানো শুরু হয় এই কেন্দ্রগুলিতে। এবার মা আহারের সাতদিনের মেনু ঠিক করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পরিষদীয় দলে সর্বসম্মত সমর্থন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পথে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিকেলে কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার-এ বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তাঁকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বাংলায় শাহকে ও অসমে নাড্ডাকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব বিজেপির
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি