পঞ্চায়েত আইনে বড় সংশোধন, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের পদত্যাগ বা অনাস্থায় বসতে পারেন প্রশাসক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পঞ্চায়েত স্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণপদত্যাগ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলে বা অনাস্থার জেরে বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলাশাসক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একসঙ্গে পদত্যাগ করলে জেলাশাসক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। প্রশাসক বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রধান, উপ-প্রধান এবং নির্বাচিত বোর্ডকে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। সংশোধিত আইনে প্রধান ও উপ-প্রধানকে অপসারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি প্রধান বা উপ-প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা তাঁদের বিরুদ্ধে বিধিসম্মত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতের কাজ আটকে থাকার সুযোগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক প্রশাসনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন পঞ্চায়েতের চেকে নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী হিসেবে প্রধানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো। সংশোধিত আইনে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব নির্বাহী সহায়ক গ্রাম পঞ্চায়েতের সভার সামনে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া প্রধান বা উপ-প্রধান টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে জেলাশাসক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারবেন। গ্রাম সভার কার্যক্রমেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনার জন্য প্রধানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পঞ্চায়েতের যে কোনও সদস্যকে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে বৈঠক পরিচালনা করা যাবে। সরকারের মতে, এই সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই সংশোধনী নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দেশবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ
আরামবাগ: দেশবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উদ্যোগে শনিবার আরামবাগ শহরে একটি পদযাত্রা ও পথসভার আয়োজন করা হয়।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে তৃণমূলের প্রস্তাবিত মিছিলে স্থগিতাদেশ, অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলাকে কেন্দ্র করে শনিবার প্রস্তাবিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি), যুব ও আইটি সেলের প্রতিবাদ মিছিলে কোনও স্বস্তি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আদালত এই মিছিল করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে।
নারী সুরক্ষা নিয়ে শোভনদেবের মন্তব্যে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শনিবার অর্থ বিল সংক্রান্ত আলোচনার সময় কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সরকারের মেয়াদের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বক্তব্য পেশ করতেই বিজেপি বিধায়কেরা তার তীব্র বিরোধিতা করেন, যার ফলে সভায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে হইচই ও স্লোগান চলতে থাকে।
ধর্মতলা হিংসায় যুক্ত চার কুখ্যাত অপরাধীর নাম বিধানসভায় প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা : ধর্মতলায় শুক্রবার ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা ছড়ানো এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার বিধানসভায় চার নামকরা অপরাধীর নাম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এরা কোনো ছাত্র নয়, বরং সংগঠিত উপদ্রবী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাস হওয়া পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (জননিরাপত্তা আইন)-এর অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, ইকবালপুরের তানভীর এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এরা কেউই ছাত্র নয়; হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই এরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। তিনি জানান, ধর্মতলার হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট সাতটি প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং সবকটি মামলাতেই পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো দুষ্কৃতীকে রেহাই দেবে না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুন্ডাদমন আইন এজন্যই তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমরা এমন পদক্ষেপ নেব যে একটা নয়, ওদের তিন প্রজন্ম তা মনে রাখবে। এখন রাজ্যের সাধারণ মানুষও দেখতে পাবেন এই আইনের প্রয়োজন কতটা ছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশকে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত যেন বলপ্রয়োগ না করা হয়। কর্তব্যে কর্মরত পুলিশকর্মীদের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উসকানি সত্ত্বেও পুলিশ ধৈর্য বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
সেবাশ্রয় শিবির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আরও একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। পৈলানের একটি রিসোর্টে জোরপূর্বক স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের ঘটনার সঙ্গে মামলাটি সম্পর্কিত। রিসোর্টের প্রতিনিধি সমীরণ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ অনুসারে, ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির জন্য রিসোর্টটিকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই সময়কালে ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক ও কর্মীর থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই করতে হয়েছিল। অভিযোগ, পুরো আয়োজনের খরচও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পর্যটন মরসুমে রিসোর্টটিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং সুমিত রায় রিসোর্টের মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। স্থানীয় শিবির পরিচালনার নামে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়। টাকা না দিলে রিসোর্টে ভাঙচুর চালানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবর অনুযায়ী, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ কর্মসূচির কারণে রিসোর্টটির ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রিসোর্টের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী সমীরণ রায় জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্তই প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে এতদিন তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তোলাবাজি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই সমস্ত মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন, তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাকে সার্বিকভাবে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব নয়।
ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হবে গুন্ডা দমন আইন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধর্মতলায় বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিধানসভায় কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যের গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সংযমেরও প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্ররোচনা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং অযথা বলপ্রয়োগ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সেগুলিতে গুন্ডা দমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের অনেকেই ছাত্র বা নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি। আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামাল নামে কয়েকজনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা তারা “তিন পুরুষ মনে রাখবে”। শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তিনি নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে, কিন্তু সেই অধিকারকে সামনে রেখে সাংবাদিক বা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। এদিকে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় কলকাতা প্রেস ক্লাবও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ক্লাব জানায়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের আক্রমণে প্ররোচনার অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রেস ক্লাব, কলকাতায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের একাংশও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রয়াণদিবসে শ্রদ্ধা, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা
সকাল সকাল ডেস্ক বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তমকুমারের ৪৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মহানায়কের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এবং আগামী জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর একটি ফাইবারের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রয়াণবার্ষিকীর পর মহানায়কের বাড়িতেও গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী তাপস রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সেলের কনভেনর রুদ্রনীল ঘোষ, বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং মহানায়কের পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। সেই উপলক্ষে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে মহানায়ক উত্তমকুমারের নামে কলকাতায় একটি আধুনিক ফিল্ম সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন উত্তম মঞ্চের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া নন্দন বা রবীন্দ্র সদনে একটি প্রস্তুতি সভা আয়োজন করে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, মহানায়কের পরিবারের মতামত ও সম্মতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। তাঁর জন্মশতবর্ষকে ঘিরে সরকারের এই উদ্যোগ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন সংস্কৃতিমহল।
ধর্মতলায় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ; লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক নিট-ইউজি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার পর আচমকাই বিক্ষোভকারীদের একাংশ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন। কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। এদিনের মিছিলে বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থকরাও অংশ নেন। পৃথক মিছিলের অনুমতি না পাওয়ায় তারা মূল কর্মসূচিতেই যোগ দেয়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পথে মিছিল এগোনোর সময় বহু ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারী এতে সামিল হন। কারও হাতে ছিল প্রতিবাদী পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান, আবার কেউ মুখোশ পরে মিছিলে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন শুধু রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে কলকাতার রাজপথেও প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, প্রশাসন শুরু থেকেই সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সংঘর্ষের পর ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএসি নির্বাচনে ভোটাভুটি এড়াল বিধানসভা, চেয়ারম্যান পদ বিরোধী শিবিরের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা
সকাল সকাল ডেস্ক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) গঠন নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ল না। নির্ধারিত ২০টি সদস্যপদের জন্য ঠিক ২০ জন বিধায়ক মনোনয়ন জমা দেওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমেই কমিটি গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বিধানসভা সূত্রের খবর, সংসদীয় প্রথা মেনে এবার পিএসি-র চেয়ারম্যান পদ বিরোধী শিবিরের হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক অশোককুমার দেবের। এছাড়া বিরোধী শিবির থেকে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, সমর মুখোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্র, গোলাম রব্বানী এবং কানাইয়ালাল আগরওয়াল। বাকি সদস্যরা শাসকদলের বিভিন্ন শিবিরের বিধায়ক। পিএসি-র সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন অশোককুমার দেব, অনুপকুমার সাহা, অম্লান ভাদুড়ি, বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাজেশ কুমার, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায়, সোনম লামা, সৌরভ সিকদার, সুব্রত ঠাকুর, স্বপনকুমার দাস, বিপ্লব মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, গোলাম রব্বানী, কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং সমর মুখোপাধ্যায়। বিধানসভা সূত্রের দাবি, সংসদীয় রীতি বজায় রেখে বিরোধী দলের মর্যাদা রক্ষায় চেয়ারম্যান পদ তাদের হাতেই রাখা হবে। সেই কারণে চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এবং বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতেই পিএসি-র নেতৃত্ব যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। উল্লেখ্য, সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী পিএসি-র চেয়ারম্যান সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য হন। তবে অতীতে এই প্রথা নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মানস ভুঁইয়া, মুকুল রায় এবং সুমন কাঞ্জিলালকে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি দীর্ঘদিন পিএসি-র বৈঠক বয়কট করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিতর্ক এড়িয়ে প্রথা বজায় রাখার দিকেই এগিয়েছে বিধানসভা।