যোগ দিবস উপলক্ষে তিন দিনের মহোৎসব, ‘রান ফর যোগা’ থেকে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রীর যোগাভ্যাস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যে এবার সাড়ম্বরে পালিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বৃহৎ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের সূচনা হবে ১৯ জুন ‘রান ফর যোগা’ ম্যারাথনের মাধ্যমে। কলকাতায় এই দৌড়ের মূল কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে কলকাতা পুরনিগম সংলগ্ন এলাকা। পুরনিগমের সামনে থেকে শুরু হয়ে মহাকরণ পর্যন্ত চলবে ম্যারাথন। পাশাপাশি শহরের আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হবেন এবং সকাল ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথন শুরু হবে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ২০ জুন পালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই উপলক্ষে গঙ্গাবক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ‘বন্দে যোগম’ নামে এক অভিনব যোগাভ্যাস কার্নিভাল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গঙ্গার দুই তীরজুড়ে আধ্যাত্মিক ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেখানে উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে সাধারণ মানুষের প্রবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব কলকাতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হোক। তিনি সকলকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে কটাক্ষ তাপসের, ‘উপভোগ করছি বিরোধীদের অস্থিরতা’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য রাখার জন্য পৃথক সময় বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে গোটা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিরোধী শিবিরের এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, কে কাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নেবেন বা মানবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সরকারের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বরং বিরোধীদের এই অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব তিনি উপভোগ করছেন বলেই মন্তব্য করেন। তাপস রায় আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনও গোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে দাবি করে এবং সেই অনুযায়ী আলাদা ঘর বা বক্তব্য রাখার সময় চায়, তাহলে সেই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনের পরিবর্তে শোভনদেবকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছিল, আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন রাখা হয়েছিল কিছুটা দূরে। যদিও এই দাবি খারিজ করে তাপস রায় বলেন, বিরোধী দলনেতার জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট আসন রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। শুধু বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গেই নয়, এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সুস্পষ্ট শিল্পনীতি ও জমিনীতি ছিল না। ফলে শিল্পপতিদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং অনেক বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।পাশাপাশি, অতীতে অনুষ্ঠিত আটটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প দফতর। কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন ঘোষণা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে— তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তাপস রায়। এই পদক্ষেপের ফলে অতীতের শিল্প সম্মেলনগুলির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে : রাজ্যপাল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১৮ জুন : রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ দিয়ে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তিনি বলেন, ‘এ বছর বাজেট অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। নতুন রাজ্য সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তোলাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে।’ রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় রাজ্যপাল আর এন রবির বক্তৃতা দিয়ে শুরু হয় অধিবেশন। এই উপলক্ষে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ হবে। অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। রাজ্যপাল এদিন বলেন, কোনও রকম থ্রেট কালচার বরদাস্ত করা হবে না। এদিনের অধিবেশন সূচনা ভাষণে রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। জনবিন্যাস বদল, তোলাবাজি, অত্যাচার, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বেআইনি উচ্ছেদ, সব ক্ষেত্রে রাজ্যের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা।
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের
কলকাতা: অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিরোধী দলনেতার পদে।
জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে হুড়া থানার বিশেষ উদ্যোগ: ট্রাফিক আইন, সাইবার অপরাধ ও বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা শিবির
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাতো, পুরুলিয়া: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। আজ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের হুড়া থানার বিশেষ তৎপরতায় জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে ট্রাফিক নিয়ম, সাইবার অপরাধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন হুড়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পথ নিরাপত্তা যেভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে, সে কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ব্যবহার এবং নাবালকদের গাড়ি বা বাইক চালানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পড়ুয়াদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়। এবং স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের যুগে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা অনলাইন জালিয়াতি ও প্রতারণা নিয়ে আলোচনা ছিল এই শিবিরের অন্যতম মূল আকর্ষণ। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা যাতে কোনোভাবেই অনলাইন ব্ল্যাকমেইলিং, ফেক অ্যাকাউন্ট বা লটারি-লিংকের ফাঁদে পা না দেয়, সেই বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অত্যন্ত সহজ ভাষায় বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সাথে ওটিপি (OTP) বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার না করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাছাড়া সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ ‘বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব’ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কীভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা আইনের দৃষ্টিতে কতটা বড় অপরাধ, সে সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়। স্কুল স্তরেই যাতে কোনো শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, তার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচির শেষে উপস্থিত সমস্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের হাতে পুলিশের জরুরি নম্বর সংবলিত বিশেষ ‘কন্ট্যাক্ট স্লিপ’ বা যোগাযোগ পত্র তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সরাসরি ও দ্রুততম সময়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্যই এই বিশেষ কন্ট্যাক্ট স্লিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের এই সময়োপযোগী ভূমিকায় অত্যন্ত খুশি জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর আদালতে পেশ
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ১৭ জুন : আট দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষে বুধবার বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে পুনরায় বিধাননগর আদালতে পেশ করা হলো। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এ দিন আদালত চত্বরের চিত্রটা ছিল অনেকটাই শান্ত। এদিন তাঁর ওপর কোনও ডিম ছোড়া বা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। ধৃত প্রাক্তন পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে মূলত তোলাবাজি এবং হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আট দিন নিজেদের হেফাজতে রেখে ধৃতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পরিমাণ সোনা এবং একাধিক মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সব্যসাচী দত্তের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি চালিয়ে তাঁর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে কয়েক কোটি টাকা ও ব্যাঙ্কে দুটো লকার রয়েছে। সেখানে গয়না থাকতে পারে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে তাঁর একটি বিলাসবহুল গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন সব্যসাচীকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যবসায়ী। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। যদিও সব্যসাচী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কেউ আইন হাতে নেবেন না, হামলাকারীদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত হবে : ফলতার হিংসায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ১৭ জুন : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ, সরকারি কর্মচারী এবং আধা-সামরিক বাহিনীর ওপর হামলাকারীদের কোনও অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না। বুধবার ফলতায় আয়োজিত একটি জনসভা থেকে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেন, এই ঘটনায় জড়িত সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেন কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদের শনাক্ত করা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার দেশবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ পুলিশ, সরকারি কর্মী বা আধা-সামরিক বাহিনীর ওপর চড়াও হওয়ার সাহস না পায়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শুধু জেলে পাঠানোই যথেষ্ট নয়, হামলায় জড়িতদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে তা নিলাম করা হবে। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার এবং এই বিষয়ে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফলতায় জাহাঙ্গীর খানের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বিক্ষোভ দেখায়, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ঘটনার সময় তিনি কার্শিয়াঙে ছিলেন এবং টেলিভিশনে পুরো ঘটনাটি দেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এক মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে কিছু মানুষ পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি সাফ জানান, ফলতাতেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং সে যতই বড় মাফিয়া হোক না কেন, বিজেপি সরকার তাকে যোগ্য শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে। রাজ্যে কোনও ধরনের গুন্ডাগিরি, জমি দখল বা ‘মব জাস্টিস’ (জনতার বিচার) মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেন। কারণ, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে এবং কোনও দোষী পার পাবে না।
আরজি কর কাণ্ড: এবার পানিহাটি শ্মশানে সিবিআই
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ১৭ জুন : আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই । বুধবার তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-এর একটি বিশেষ দল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছয়। ঘটনার দিন নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি এই শ্মশানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন তাঁর বাবা-মা। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এদিন শ্মশানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গেছে, এদিন পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে তৎকালীন শ্মশান পরিদর্শক, দাহকার্যের দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং স্থানীয় পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিবিআই আধিকারিকরা। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত বছরের আগস্ট মাসে দেহ শ্মশানে নিয়ে আসার পর থেকে দাহ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে শ্মশানের রেজিস্টার বুক এবং দাহ সংক্রান্ত শংসাপত্রের নথিপত্রও পরীক্ষা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ঘটনার দিন পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশ অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে দেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করার ব্যবস্থা করেছিল। পরিবারের সম্মতি ও উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন এত দ্রুততার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হলো এবং এর পেছনে কোনও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ছিল কি না— তা জানতেই সিবিআই এই নতুন করে তদন্তে নেমেছে। শ্মশানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তৎকালীন নথি খতিয়ে দেখে এই প্রক্রিয়ায় কার কার ভূমিকা ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
কার্শিয়াং পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি, ১৬ জুন : রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো কার্শিয়াং পৌঁছালেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কার্শিয়াং -এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সূত্র অনুযায়ী, বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণের পর হেলিকপ্টারে করে তাঁর কার্শিয়াং যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁকে সড়কপথে যেতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়াং -এর গোথালস মেমোরিয়াল স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দেন। এছাড়া মন্টেভিট গ্রাউন্ডে স্থানীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রী নিশিত প্রামাণিক, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং দার্জিলিং-এর সাংসদ রাজু বিস্তা সহ বহু জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উত্তরবঙ্গ এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনসংযোগের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দুর্গাপুরে ঝাঁটা হাতে রাস্তায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
সকাল সকাল ডেস্ক দুর্গাপুর, ১৬ জুন : রাজ্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্বয়ং ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তাঁর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এদিন সকালের এই বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক এবং সাফাই কর্মীরা। ‘নির্মল বন্ধু’ ও ‘নির্মল সাথী’দের নিয়ে মন্ত্রী বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করেন এবং স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দোকান ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন। শহরবাসীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, জনবহুল এলাকা, রাস্তা বা বাসস্ট্যান্ডে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা কিংবা পানের পিক ফেলার প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই জরিমানার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করা হচ্ছে যাতে তাঁরা শহর পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করেন। মন্ত্রী আরও জানান, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি হেল্পলাইন নম্বরের উদ্বোধন করবেন। শহরবাসী ওই নম্বরে ফোন করে আবর্জনা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং সরকারি উদ্যোগে দ্রুত তার সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান ও মন্ত্রীর সরাসরি মাঠে নামার ঘটনা শহরবাসীকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।