ডিএ মামলার শুনানি পিছোল সুপ্রিম কোর্টে, ৮৫ শতাংশ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্যের

সকাল সকাল ডেস্ক

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও শুনানি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি আরও কিছুটা সময়ের জন্য অনিশ্চিত রইল। পরবর্তী শুনানির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

এর মধ্যেই বুধবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সরকারের দাবি, রাজ্যের কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ রয়েছে। তাই আদালতের কাছে আংশিক ছাড় চেয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, আপাতত ৮৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ বকেয়া ২০২৮ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রস্তাবও আদালতের সামনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এককালীন অর্থপ্রদানের বদলে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর রূপরেখা পেশ করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তার সুপারিশ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কাজ শুরু করা ওই কমিটির সঙ্গে নতুন সরকারও বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকের সুপারিশ এবং আর্থিক পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। কমিশনটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করবে। বর্তমান ডিএ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে।

ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ— এই দুই প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর সরকারি কর্মচারীদের। পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণার পাশাপাশি আদালত রাজ্যের প্রস্তাব সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Read More News

Read More