বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে স্পেনে জনসমুদ্র, ১৮ লক্ষ মানুষের অভ্যর্থনায় ইতিহাস গড়ল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বজয়ের পর রাজধানী মাদ্রিদে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় ভাসল স্পেন, রাজপরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী—সবার অভিনন্দনে ঐতিহাসিক উদযাপন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে উৎসবের শহর মাদ্রিদ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেই ইতিহাসের সাক্ষী হল স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব নিয়ে রাজধানী মাদ্রিদে পৌঁছাতেই গোটা দেশ আনন্দে ভেসে যায়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রিয় ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। বিশ্বকাপ জয়ের এই উৎসব শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্যের উদযাপন ছিল না, বরং জাতীয় গর্ব, ঐক্য এবং আবেগের এক বিরল প্রকাশ হয়ে ওঠে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ রাজপরিবার ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা দেশে ফিরেই স্পেনের ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফ প্রথমে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাজপরিবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার জন্য শুভেচ্ছা জানায়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন দলের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশ্বকাপ জয় কেবল একটি ট্রফি অর্জনের ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের আত্মবিশ্বাস, ঐক্য এবং দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক। খেলোয়াড়দের অসাধারণ মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি পুরো দলকে ধন্যবাদ জানান। বিজয় শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত বিজয় শোভাযাত্রা। খোলা ছাদের বিশেষ বাসে ট্রফি হাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করেন ফুটবলাররা। বাসের গায়ে লেখা ছিল, ‘তারকারা একসঙ্গেই জ্বলে’। খেলোয়াড়দের পরনে ছিল ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন’ লেখা বিশেষ পোশাক। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকেরা জাতীয় পতাকা নেড়ে, গান গেয়ে এবং করতালির মাধ্যমে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানান। কোথাও আতশবাজি, কোথাও আবার দেশাত্মবোধক গান—সব মিলিয়ে রাজধানী পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সিবেলেস চত্বরে ঐতিহাসিক সমাবেশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে শুরু হওয়া বিজয় মিছিল শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে সিবেলেস চত্বরে পৌঁছায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই স্থানেই প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে কোনও ভাটা পড়েনি। লাল-হলুদ জাতীয় পতাকায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। শহরের প্রতিটি মোড়ে দেখা যায় মানুষের ঢল। আবেগঘন ভাষণ ও আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের প্রধান প্রশিক্ষক লুইস দে লা ফুয়েন্তে আবেগঘন ভাষণ দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস ছাড়া এই বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হতো না। এই সাফল্য দেশের প্রতিটি মানুষের। এরপর মঞ্চে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। ফুটবলারদের প্রিয় গান বাজতেই সমর্থকদের সঙ্গে নাচে যোগ দেন খেলোয়াড়রা। নিজের ২৫তম জন্মদিনে ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন অ্যালেক্স বায়েনা। সতীর্থরা প্রশিক্ষককে কাঁধে তুলে উদযাপনে মেতে ওঠেন। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনাও উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পটভূমি ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে স্পেনকে। অবশেষে এবারের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গুরুত্বপূর্ণ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করে স্পেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন শুরু হয়। রাতভর চলে গান, নাচ এবং আনন্দ উৎসব। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপ জয় শুধু ফুটবলের সাফল্য নয়, বরং নতুন স্পেনের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। গত এক দশকে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের উন্নতির সঙ্গে এই বিজয় নতুন প্রজন্মকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাও স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্পেনের এই ঐতিহাসিক সাফল্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সরকারি বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ বলেন, এই বিজয় গোটা দেশের ঐক্য, আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রামের প্রতীক। অন্যদিকে প্রধান প্রশিক্ষক লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, দেশের মানুষের অবিচল সমর্থনই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ জনসাধারণের জন্য তথ্য উৎসবের মধ্যেই একটি দুঃখজনক ঘটনায় ১৩ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বিজয় উদযাপনের সময় একটি ফোয়ারার অংশ ভেঙে পড়ায় সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সরকার নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ জয় স্পেনের কাছে শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অর্জন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, জাতীয় ঐক্য এবং অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নিল।
রাঁচিতে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ-২০২৬-এর ট্রফির জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, ২৬ জুলাই থেকে শুরু ম্যাচ
এশিয়ার প্রাচীনতম ও অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ-২০২৬-এর তিনটি ট্রফি শনিবার রাঁচিতে পৌঁছেছে। দীপাটোলি মিলিটারি স্টেশনের কেরকেট্টা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ট্রফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে ডুরান্ড কাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।
ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপজয়ীদের হাতে উঠবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়ন আংটি’
সকাল সকাল ডেস্ক নিউজার্সি : বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়ন আংটি’। শিরোপা জয়ের স্মারক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বকাপ ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি এই বিশেষ সম্মানও পাচ্ছেন বিজয়ী দলের ফুটবলার ও কর্মকর্তারা। আগামী ২০ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। এই ফাইনাল থেকেই প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘চ্যাম্পিয়ন আংটি’ প্রদানের নতুন প্রথা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোট দুই হাজার ছাব্বিশটি চ্যাম্পিয়ন আংটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩০টি আংটি। অবশিষ্ট এক হাজার নয়শো ছিয়ানব্বইটি আংটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি আংটির এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা। অন্য পাশে খোদাই করা থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয় এবং শিরোপা জয়ের স্মারক। বিজয়ী দলের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি আংটিতে আলাদা ক্রমিক নম্বর থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঙুলের মাপ অনুযায়ী বিশেষভাবে তৈরি করা হবে। প্রতিটি আংটির সঙ্গে দেওয়া হবে সত্যতা-প্রমাণপত্রও। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান প্রশিক্ষকের হাতে প্রতীকী আংটি তুলে দেওয়া হবে। পরে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আঙুলের মাপ অনুযায়ী তৈরি করা ৩০টি বিশেষ আংটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ভারতের হার, চার উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড
সকাল সকাল ডেস্ক কার্ডিফ : কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতকে চার উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনল ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার ২৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪৪.১ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৪৪ ওভারে ২৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের হয়ে বিরাট কোহলি ৬৫ এবং শ্রেয়স আইয়ার ৬৬ রান করলেও মধ্যক্রমের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে জোফ্রা আর্চার এবং গাস অ্যাটকিনসন তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ইনিংসকে চাপে ফেলে দেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে অভিজ্ঞ জো রুট অপরাজিত ৯৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন। ভারতের হয়ে গুরনুর ব্রার দুটি উইকেট নেন। এছাড়া জসপ্রীত বুমরাহ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল এবং শিবম দুবে একটি করে উইকেট শিকার করেন। তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের তৃতীয় ও শেষ তথা নির্ণায়ক ম্যাচ আগামী ১৯ জুলাই লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে।
ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
ইয়ামালের তৈরি পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল, ওলমোর দুর্দান্ত আক্রমণে দ্বিতীয় গোল; এমবাপ্পেদের থামিয়ে ফাইনালে লামিন ইয়ামালদের স্পেন।
জসপ্রীত বুমরাহ: ৯৬৮ দিন পর ওয়ানডেতে ফিরেই ইতিহাস, ইংল্যান্ডে ভাঙলেন জাদেজার রেকর্ড, পূর্ণ করলেন ১৫০ উইকেট
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে ফিরেই হ্যারি ব্রুককে আউট করে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হলেন জসপ্রীত বুমরাহ। প্রত্যাবর্তনেই রেকর্ড গড়লেন জসপ্রীত বুমরাহ প্রায় তিন বছর বা ৯৬৮ দিন পর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেই ইতিহাস গড়লেন জসপ্রীত বুমরাহ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ওয়ানডে উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন। একই সঙ্গে জসপ্রীত বুমরাহ নিজের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে কেরিয়ারের ১৫০তম উইকেটও পূর্ণ করেন। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর ধার, গতি এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে তাঁর অবস্থান এখনও অটুট। দ্বিতীয় স্পেলেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র টসে জিতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল পরে জানান, সুযোগ পেলে তাঁরাও আগে বোলিংই করতেন। নতুন বলে প্রথম স্পেলে চার ওভার বল করলেও উইকেট পাননি জসপ্রীত বুমরাহ। তবে পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলেই তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন। অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লেংথে করা বলে হ্যারি ব্রুক স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন এবং রোহিত শর্মা সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। এই উইকেটই বুমরাহর জন্য ইতিহাসের দরজা খুলে দেয়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইংল্যান্ডের মাটিতে নতুন ভারতীয় রেকর্ড হ্যারি ব্রুকের উইকেট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইংল্যান্ডের মাটিতে জসপ্রীত বুমরাহ-র ওয়ানডে উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১। এর ফলে তিনি রবীন্দ্র জাদেজাকে পিছনে ফেলে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যান। ইংল্যান্ডে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ওয়ানডে উইকেট এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বুমরাহ কতটা সফল এবং ধারাবাহিক। ১৫০ ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ হ্যারি ব্রুকের উইকেটটিই ছিল জসপ্রীত বুমরাহ-র আন্তর্জাতিক ওয়ানডে কেরিয়ারের ১৫০তম শিকার। শুধু তাই নয়, ভারতের হয়ে দ্রুততম ১৫০ ওয়ানডে উইকেট নেওয়ার তালিকায়ও উঠে এলেন তিনি। মাত্র ৪৬০৫ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বুমরাহ, যা ভারতীয়দের মধ্যে তৃতীয় দ্রুততম। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ভারতের হয়ে দ্রুততম ১৫০ ওয়ানডে উইকেট (বলের হিসেবে) এই পরিসংখ্যান তাঁর ধারাবাহিকতা এবং কার্যকারিতারই প্রমাণ বহন করে। ভারতের বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপ শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে চাপে রাখেন ভারতীয় বোলাররা। নতুন বল হাতে গুরনুর ব্রার দ্রুত ফিরিয়ে দেন বেন ডাকেট এবং জ্যাকব বেথেলকে। এরপর জসপ্রীত বুমরাহ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে আউট করে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে আরও বড় ধাক্কা দেন। ভারতের পেস আক্রমণের দুরন্ত শুরু স্বাগতিকদের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলতে বাধ্য করে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ আগামী দিনের জন্য বড় বার্তা ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামলেন জসপ্রীত বুমরাহ। দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণত ছন্দে ফিরতে সময় লাগে, কিন্তু বুমরাহ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই নতুন রেকর্ড গড়া এবং ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি আবারও বুঝিয়ে দিলেন, সুস্থ থাকলে বিশ্বের সেরা পেসারদের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। ভারতের সামনে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলি রয়েছে। সেই প্রস্তুতির আগে বুমরাহর এই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন দলকে নিঃসন্দেহে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
নরওয়ে ফুটবল দল: বিশ্বকাপে বিদায়, তবু বীরের সম্মান! অসলোয় এক লক্ষ সমর্থকের রাজকীয় সংবর্ধনা
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও অসলোয় এক লক্ষ সমর্থকের ভালোবাসায় ভাসল নরওয়ে ফুটবল দল, আবেগাপ্লুত অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, কিন্তু মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরল নরওয়ে ফুটবল দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও নরওয়ে ফুটবল দল দেশে ফিরে পেল এক অবিস্মরণীয় সম্মান। রাজধানী অসলোর রাস্তায় প্রায় এক লক্ষ সমর্থক জড়ো হয়ে মার্টিন ওডেগার্ডদের বীরের মর্যাদায় বরণ করে নেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ায় গোটা দেশ গর্বিত। সেই কারণেই নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বিমানবন্দর থেকেই শুরু রাজকীয় অভ্যর্থনা সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দলের বিমান অসলো বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই শুরু হয় বিশেষ সংবর্ধনা। ঐতিহ্য অনুযায়ী জলধারার বিশেষ সম্ভাষণের মাধ্যমে ফুটবলারদের স্বাগত জানানো হয়। এরপর ছাদখোলা বিশেষ বাসে করে শহরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নরওয়ে ফুটবল দল। রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হন শুধুমাত্র একবার প্রিয় খেলোয়াড়দের চোখের সামনে দেখার জন্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ রাজপ্রাসাদে রাজপরিবারের উষ্ণ অভ্যর্থনা শোভাযাত্রার প্রথম গন্তব্য ছিল নরওয়ের রাজপ্রাসাদ। সেখানে ফুটবলারদের স্বাগত জানান রাজা হ্যারাল্ড। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও তাঁর সতীর্থদের উপস্থিতিতে রাজপ্রাসাদ চত্বর এবং আশপাশের এলাকা উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স হাকন। তিনি নিজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে শামিল হন। রাজপরিবারের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণ নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে দেশের মানুষের আবেগ আরও স্পষ্ট করে তোলে। হালান্ড অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি তবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি নরওয়ের তারকা ফুটবলার এরলিং হালান্ড। তাঁর সঙ্গে ছিলেন না সান্ডার বের্গেও। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁদের নির্ধারিত বিমান দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হওয়ায় পরবর্তী সংযোগকারী বিমান ধরতে তাঁরা আগেই অন্য একটি উড়োজাহাজে যাত্রা করেন। ফলে রাজপ্রাসাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সমর্থকদের ভিড়ে থমকে গেল বিজয়যাত্রা রাজপ্রাসাদ থেকে সিটি হল চত্বর পর্যন্ত শোভাযাত্রার দূরত্ব খুব বেশি না হলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে বারবার থেমে যেতে হয় বাসটিকে। পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। এর পাশাপাশি আরেকটি সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়। ছাদখোলা বাসটির উচ্চতা বেশি হওয়ায় রাস্তার ওপর ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের নিচ দিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবলারদের বসে পড়তে বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় বিজয়যাত্রা। এই ঘটনায় অনেকেরই মনে পড়ে যায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই বিতর্ক, যেখানে নরওয়ের কোচ অভিযোগ করেছিলেন গোল হওয়ার আগে বল উপরের তারে স্পর্শ করেছিল। আবেগে ভেসে গেলেন অধিনায়ক ওডেগার্ড সমর্থকদের ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তিনি বলেন, এমন সংবর্ধনার কথা দলের কেউ কল্পনাও করেননি। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, দেশে ফিরে মানুষ যেভাবে তাঁদের বরণ করে নিয়েছে, তা সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই ভালোবাসাই ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। ওডেগার্ডের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও দেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে পেরেছে নরওয়ে ফুটবল দল। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ নতুন স্বপ্নের পথে নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে নরওয়ে যে লড়াই দেখিয়েছে, তা দেশটির ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজন্মের ফুটবলাররা আগামী বছরগুলিতে আরও বড় সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছেন। ট্রফি না জিতেও মানুষের ভালোবাসা, রাজপরিবারের সম্মান এবং এক লক্ষ সমর্থকের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, সাফল্যের মূল্য শুধু শিরোপায় নয়, লড়াইয়ের মানসিকতাতেও। সেই কারণেই নরওয়ে ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আবেগ ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আর্জেন্টিনা জার্সি: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চিরাচরিত নীল-সাদা নয়, ‘লাকি’ গাঢ় নীল পোশাকে মেসিদের নতুন ইতিহাসের স্বপ্ন
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গাঢ় নীল পোশাকে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এটি কি শুধু নিয়মের কারণে, নাকি অতীতের সাফল্যের বিশ্বাসও কাজ করছে? ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বদলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার পরিচিত পোশাক বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা জার্সি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বরাবরের নীল-সাদা ডোরা পোশাকের বদলে এবার গাঢ় নীল রঙের বাইরের পোশাক পরে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এই পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম এবং অতীতের কিছু স্মরণীয় ঘটনার কারণে বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই আর্জেন্টিনা জার্সি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং সমর্থকদের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নিয়মেই বদলাচ্ছে পোশাক বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় দুই দলের পোশাকের রঙ যেন একে অপরের সঙ্গে মিশে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী একটি দল হালকা রঙের এবং অন্য দল গাঢ় রঙের পোশাক পরে মাঠে নামে। ইংল্যান্ড তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাক ব্যবহার করায় আর্জেন্টিনাকে গাঢ় নীল বাইরের পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনা জার্সি পরিবর্তনের মূল কারণ নিয়ম বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ গ্রুপ পর্বেই মিলেছিল সাফল্য চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিরুদ্ধে একই গাঢ় নীল পোশাক পরে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের পর থেকেই অনেক সমর্থকের কাছে আর্জেন্টিনা জার্সি নতুন সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বহু সমর্থক এই পোশাকেই সেমিফাইনালে দলকে দেখতে চেয়েছিলেন। অতীতের ইতিহাস কি নতুন বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে? শুধু চলতি বিশ্বকাপ নয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার কয়েকটি স্মরণীয় জয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই গাঢ় নীল পোশাক। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘ঈশ্বরের হাত’ গোল এবং শতাব্দীর সেরা গোলের ম্যাচে আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল পোশাকেই খেলেছিল। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারানোর সময়ও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল একই ধরনের গাঢ় নীল পোশাক। এই দুই ঐতিহাসিক জয়ের কারণেই অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনা জার্সি হিসেবে এই গাঢ় নীল রং সৌভাগ্যের প্রতীক। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পরিসংখ্যানের অন্য ছবিও রয়েছে তবে ইতিহাসের অন্য দিকও রয়েছে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার যে তিনটি হার রয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা নিজেদের চিরাচরিত নীল-সাদা ডোরা পোশাক পরে খেলেছিল। ১৯৬২, ১৯৬৬ এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সেই পরাজয় আজও সমর্থকদের মনে রয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর অনেকেই মনে করছেন, আর্জেন্টিনা জার্সি হিসেবে গাঢ় নীল রং বেছে নেওয়ার পিছনে মানসিক আত্মবিশ্বাসও কাজ করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা—কেউই এমন কোনও দাবি সমর্থন করেনি। দুই দলই রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে দুই দলই কঠিন লড়াই পেরিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে। ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এবং টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ নতুন ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই ইতিহাস, আবেগ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মারাদোনার স্মরণীয় গোল, ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড কিংবা একাধিক নাটকীয় ম্যাচ—সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ। এবারও সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। গাঢ় নীল আর্জেন্টিনা জার্সি আদৌ দলকে সৌভাগ্য এনে দেয় কি না, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পর। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং দুই ফুটবল পরাশক্তির মর্যাদার আরেকটি ঐতিহাসিক সংঘর্ষ।
রাহুল দ্রাবিড় কি ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ? ম্যাককালামের বিদায়ের পর জোর জল্পনা
সকাল সকাল ডেস্ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়তেই নতুন কোচের খোঁজে ইংল্যান্ড, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাহুল দ্রাবিড় রাহুল দ্রাবিড়কে ঘিরে জল্পনায় সরগরম ক্রিকেট বিশ্ব ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ চার বছর দায়িত্ব পালনের পর টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন কোচ কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও প্রাক্তন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের নাম। যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু ক্রিকেট মহলে এই সম্ভাবনা ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ম্যাককালামের বিদায়ে শেষ হচ্ছে একটি অধ্যায় ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক মানসিকতার নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তাঁর কোচিংয়ে দল সাহসী ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। সেই দর্শনই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ পরিচিতি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দলের ওপর চাপ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতেই টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাককালাম। যদিও তিনি ইংল্যান্ডের একদিনের ও বিশ ওভারের দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ হার বাড়াল চাপ সম্প্রতি নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় ইংল্যান্ড। এই হার দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করে তোলে। এরপরই ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড জানায়, চার বছরের দায়িত্ব পালন শেষে ম্যাককালাম টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ ছাড়ছেন। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর দায়িত্বে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। সামাজিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড সামাজিক মাধ্যমেও ম্যাককালামের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, তিনি টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়লেও সীমিত ওভারের দুই দলের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন টেস্ট কোচ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। রাহুল দ্রাবিড় কি এগিয়ে? ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, সাবেক স্পিনার রিচার্ড ডসন এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার দক্ষতা এবং কৌশলগত নেতৃত্বের কারণে রাহুল দ্রাবিড়কে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় দলের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর সাফল্যও এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দ্রাবিড় কি দায়িত্ব নিতে রাজি? যদিও এই মুহূর্তে বিষয়টি পুরোপুরি জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর রাহুল দ্রাবিড় আপাতত পূর্ণসময়ের আন্তর্জাতিক কোচিংয়ে ফিরতে আগ্রহী নন। তিনি কিছুটা সময় ব্যক্তিগতভাবে কাটাতে চান বলেই জানা যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যদি তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাহলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সরকারি বক্তব্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়লেও সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। নতুন টেস্ট কোচের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা করা হয়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই মুহূর্তে রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা সম্পূর্ণ সম্ভাবনার ভিত্তিতে। বোর্ড এখনও নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেনি। ফলে দ্রাবিড়, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার কিংবা রিচার্ড ডসনের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পাবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। তবে যদি ভবিষ্যতে রাহুল দ্রাবিড় এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার কোনও ভারতীয় কিংবদন্তি ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হবেন। সেটি নিঃসন্দেহে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
লর্ডসে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল, ২৭০ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টেস্টে অপরাজিত থাকার নজির
সকাল সকাল ডেস্ক লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয়, ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে হারিয়ে বিলেতের মাটিতে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আরও উজ্জ্বল করল হরমনপ্রীত কৌরের দল লর্ডসে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যুক্ত হল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ জিতে নতুন নজির গড়ল ভারত। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুধু ঐতিহাসিক জয়ই নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ণ রাখল ভারতীয় মহিলা দল। ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যুতে এই সাফল্য বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাল। চতুর্থ দিনের শুরুতেই শেষ ইংল্যান্ডের লড়াই চতুর্থ দিনের শুরুতে ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র চারটি উইকেট। ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩০ রান। শেষ দিনে ভারতীয় বোলাররা কোনও সুযোগ না দিয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মাত্র ৬২.৫ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ২৭০ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় মহিলা দলের টেস্ট রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হল। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্টে জয় এবং সাতটি ম্যাচ ড্র করেছে ভারত। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনও টেস্ট ম্যাচ হারেনি ভারতীয় মহিলা দল। সচিনের উপস্থিতিতে বাড়ল অনুপ্রেরণা চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা ও অনুপ্রেরণা দেন। পরে লর্ডসের গ্যালারিতে বসে তিনি দলের ঐতিহাসিক জয় প্রত্যক্ষ করেন। ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মাঠে সচিনের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীও এই মুহূর্তকে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বিশেষ স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। অ্যামি জোন্স ও সোফি একলস্টোনের লড়াই যথেষ্ট ছিল না দ্বিতীয় ইনিংসে একসময় মাত্র ৫৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে অ্যামি জোন্স ও সোফি একলস্টোন লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দু’জনেই অর্ধশতরান করে কিছু সময় ভারতের জয় বিলম্বিত করেন। অ্যামি জোন্স ৫৪ রান করার পর আউট হলে আবার চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ৫০ রান করা সোফি একলস্টোনকে ফিরিয়ে দেন স্নেহ রানা। সেই উইকেটের পরই কার্যত ম্যাচ ভারতের মুঠোয় চলে আসে। স্নেহ রানা চারটি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে দেন। দীপ্তি শর্মাও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাট হাতে উজ্জ্বল স্মৃতি, যস্তিকা ও রিচা প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতীয় ব্যাটাররা দারুণ পারফরম্যান্স দেখান। স্মৃতি মন্ধনা প্রথম ইনিংসের ৮৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যস্তিকা ভাটিয়া ১১৩ রানের অসাধারণ শতরান করে লর্ডসের অনার বোর্ডে নিজের নাম তুলে নেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে দলের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত তারা স্পর্শও করতে পারেনি। বল হাতেও নায়ক ক্রান্তি গৌড় এই ঐতিহাসিক জয়ে বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন ক্রান্তি গৌড়। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি লর্ডসের অনার বোর্ডে জায়গা করে নেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও আরও দুটি উইকেট শিকার করে ম্যাচে মোট সাতটি উইকেট তুলে নেন। স্নেহ রানা, দীপ্তি শর্মা এবং ক্রান্তি গৌড়ের সম্মিলিত বোলিং ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়। তাদের ধারাবাহিক সাফল্যই ভারতের বড় জয়ের ভিত গড়ে দেয়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সরকারি প্রতিক্রিয়া ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। বিশ্বকাপের আগে বড় আত্মবিশ্বাস কয়েক দিন আগেই সীমিত ওভারের সিরিজে হতাশাজনক ফলের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় মহিলা দল। সেই হতাশা কাটিয়ে লর্ডসে এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বিশ্বকাপের আগে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে তাদেরই মাঠে ২৭০ রানে হারানো শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের শক্তিরও বড় প্রমাণ। এই সাফল্য দেখিয়ে দিল, বিশ্বের যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতার সামর্থ্য এখন ভারতীয় মহিলা দলের রয়েছে।