সকাল সকাল ডেস্ক
লন্ডন: দীর্ঘ ২৪ বছর পর ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে ফিরে এল ২০০২ সালের স্মৃতি। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত শার্ট ওড়ানোর উদযাপনের আদলে এবার উচ্ছ্বাসে মাতল ভারতের মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দল। বুধবার সাত ম্যাচের টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর ব্যালকনিতে ব্লেজার খুলে তেরঙ্গা হাতে উদযাপন করেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
সাত ম্যাচের সিরিজ অবশ্য ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে শেষ ম্যাচে ভারতের দাপুটে জয় এবং তার পরের উদযাপন আলাদা মাত্রা যোগ করেছে গোটা সফরে।
ম্যাচ জয়ের পরই লর্ডসের ব্যালকনিতে ছুটে যান ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কেউ গায়ের ব্লেজার খুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, কেউ হাতে তুলে নেন জাতীয় পতাকা। ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি ফাইনালের পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উদযাপনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে সেই দৃশ্য।
ডিফারেন্টলি এবেলড ক্রিকেট কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই উদযাপনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। দ্রুত তা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়ে নেয়।
মাঠের লড়াইয়েও ভারতের আধিপত্য ছিল একতরফা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান তোলে ভারত। চলতি সিরিজে এটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ স্কোর।
৪৪ বলে ৬৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অর্জুন গাওরে। তবে ইনিংসের শেষ দিকে কার্যত ঝড় তোলেন অধিনায়ক মজিদ মাগ্রে। মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করেন তিনি। সাই আকাশও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
২০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের সামনে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় আয়োজকরা। ফলে ১১৮ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।
বল হাতে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক হিলাল আহমেদ ওয়ানি। মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। জয়েশ পারমার ১৪ রান খরচ করে তুলে নেন ৩ উইকেট।
সাত ম্যাচের সিরিজে অবশ্য লড়াই ছিল জমজমাট। প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর পরপর দুটি ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৮ রানে জিতে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। কিন্তু চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচ টানা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে লর্ডসে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করে ভারত।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক ক্যালাম ফ্লিনও শেষ ম্যাচে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, লর্ডসে ভারত তাঁদের তুলনায় অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে। তবে সামগ্রিকভাবে সিরিজ জিততে পেরে তাঁরা খুশি। ভবিষ্যতে লর্ডসের মাঠে জয় পাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেটে শারীরিক, শ্রবণ বা শিখনগত প্রতিবন্ধকতা থাকা ক্রিকেটাররা একই দলের হয়ে মাঠে নামেন। ভিন্ন সক্ষমতার খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয় এই বিশেষ ফর্ম্যাট।
সিরিজের ট্রফি ইংল্যান্ডের হাতে উঠলেও সফরের শেষ ছবিটা তাই ভারতের। ১১৮ রানের বিশাল জয়, লর্ডসের ব্যালকনিতে তেরঙ্গা এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ২০০২ সালের ঐতিহাসিক উদযাপনের স্মৃতি—সব মিলিয়ে ভারতীয় মিক্সড ডিজেবিলিটি ক্রিকেট দলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।
No Comment! Be the first one.