সকাল সকাল ডেস্ক
শিলিগুড়ি
পশ্চিমবঙ্গে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক মুখের পরিবর্তন হয়নি, বদল আনা হয়েছে গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থায়— শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকারের লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং সংবিধান মেনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে সময় বাংলায় ‘শাসকের আইন’ চলার অভিযোগ তুলেছিল, সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।
সরকারের প্রথম কয়েক দিনের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ১০ মে রবিবার থাকায় পরদিন, ১১ মে সচিবালয়ে গিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ফাইলে সই করেন তিনি। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে জনগণনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে জনগণনার কাজ আটকে রেখেছিল। মুখ্য সচিবকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা–সহ নতুন আইনি ব্যবস্থাকে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সরকারের ১০৫ দিনের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু চারটি মূল নীতির কথাও বলেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমে আপস না করা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানববাদ’-এর আদর্শে জনকল্যাণ এবং কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
শিলিগুড়ির ‘ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনী’র কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইন কলেজের পড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্ম যাতে দেশের নতুন ফৌজদারি আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সহজে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেষে পশ্চিমবঙ্গকে ফের দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে কেন্দ্রের সহযোগিতার জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, নতুন সরকারের পথ ‘বদলা’ নয়— প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা।
No Comment! Be the first one.