সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বড় অঘটন। মাত্র ১৮ বছরের মার্কিন তরুণ গ্যারেট ট্যানের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিলেন ভারতের লক্ষ্য সেন। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে তিন গেমের লড়াইয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা লক্ষ্যকে হারিয়ে চমকে দেন তুলনামূলক অপরিচিত মার্কিন শাটলার। লক্ষ্যের হতাশার দিনে অবশ্য ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দিয়েছেন পিভি সিন্ধু ও আয়ুষ শেট্টি।
বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের বড় মঞ্চে এখনও কার্যত নবাগত গ্যারেট। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট টুর্নামেন্ট খেলেই অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট অনুশীলন শিবির বা স্থায়ী কোচ ছাড়াই এগিয়ে চলেছেন। উন্নত মানের স্পারিংয়ের জন্য তাইওয়ানে দাদু-দিদার কাছে গিয়ে অনুশীলনও করেন। সেই তরুণই এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে হারিয়ে দিলেন লক্ষ্যকে।
তিন গেমের লড়াইয়ে ২১-১৯, ১৯-২১, ২১-১৭ ব্যবধানে জয় পান গ্যারেট। ম্যাচে লক্ষ্যের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বারবার চোখে পড়েছে। মার্কিন শাটলারের আগ্রাসী আক্রমণের সামনে একাধিকবার শর্ট লিফট খেলে নিজেই চাপে পড়ে যান ভারতীয় তারকা।
প্রথম গেম হারলেও দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে ফিরেছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু নির্ণায়ক গেমের শুরুতেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। একসময় স্কোর ছিল ৪-১২। সেখান থেকে ১০-১৩ পর্যন্ত ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি।
লক্ষ্যের পারফরম্যান্সে হতাশ তাঁর কোচ বিমল কুমার। তাঁর মতে, এমন পারফরম্যান্সের কোনও অজুহাত হতে পারে না। ম্যাচ শেষে লক্ষ্যও স্বীকার করেন, প্রায় গোটা ম্যাচেই পিছিয়ে থাকায় তাঁর উপর চাপ বেড়েছিল। পাশাপাশি গ্যারেটের আক্রমণাত্মক খেলারও প্রশংসা করেন তিনি।
লক্ষ্যের ব্যাকলাইনের দুর্বলতাকে পরিকল্পনা করেই কাজে লাগিয়েছেন গ্যারেট। মার্কিন শাটলারের কোচ পলা লিন জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে লক্ষ্যর এই দুর্বলতা তাঁদের নজরে পড়েছিল এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, লক্ষ্য বিদায় নিলেও মহিলাদের সিঙ্গলসে সহজ জয় পেয়েছেন পিভি সিন্ধু। কানাডার ওয়েন ইউ ঝাংকে ২১-১৬, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছেছেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় তারকা।
তবে এবার সিন্ধুর সামনে কঠিন পরীক্ষা। তাঁর প্রতিপক্ষ চিনের ওয়াং ঝি ই, যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন। দু’জনের মুখোমুখি লড়াইয়ে চিনা শাটলার ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে চিনা প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সিন্ধুর অতীত রেকর্ড যথেষ্ট উজ্জ্বল। ম্যাচের আগে নিজের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলার উপরই জোর দিচ্ছেন সিন্ধু।
মহিলাদের সিঙ্গলসে অবশ্য বিদায় নিয়েছেন ভারতের উন্নতি হুডা। মিশেল লি-র বিরুদ্ধে তিন গেমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১১-২১, ২১-৯, ২৩-২১ ব্যবধানে হারেন তিনি। ফলে এই বিভাগে ভারতের প্রধান ভরসা এখন সিন্ধু।
পুরুষদের সিঙ্গলসে দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখেছেন আয়ুষ শেট্টি। প্রথম রাউন্ডে চিনের শীর্ষবাছাই শি ইউকিকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিলেন তিনি। এবার শ্রীলঙ্কার দুমিন্দু আবেবিক্রমকে মাত্র ২৬ মিনিটে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তরুণ।
পরের রাউন্ডে আয়ুষের সামনে ইন্দোনেশিয়ার একাদশ বাছাই আলভি ফারহান। দুই শাটলারের মুখোমুখি সাক্ষাতের ফল বর্তমানে ২-২। শেষবার চায়না ওপেন সুপার ১০০০ প্রতিযোগিতায় আলভিকে হারিয়েছিলেন আয়ুষ। ফলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী কঠিন পরীক্ষায় নামবেন তিনি।
একদিকে লক্ষ্য সেনের অপ্রত্যাশিত বিদায়, অন্যদিকে সিন্ধু ও আয়ুষের দাপুটে জয়—বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় শিবিরের জন্য বুধবারের দিনটি তাই মিশ্র অভিজ্ঞতার হয়ে রইল।
No Comment! Be the first one.