কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার
রাঁচি: কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার আজ রাঁচির ইটকি রোডের আগমন ব্যাঙ্কোয়েট হলে ভেটেরান অর্গানাইজেশন অফ ঝাড়খণ্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কার্গিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের বীর সেনা, প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিয়ের আগে সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করতে পারে ৩-৩-৩ ডেটিং রুল
সকাল সকাল ডেস্ক বিয়ে শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দায়িত্ব, পরিবার, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে থাকে। তাই শুধু আবেগ বা প্রাথমিক ভালো লাগার ওপর নির্ভর না করে, সময় নিয়ে সঙ্গীকে বোঝার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্পর্ককে ধাপে ধাপে মূল্যায়নের এমনই একটি পদ্ধতি হলো ৩-৩-৩ ডেটিং রুল। ৩-৩-৩ ডেটিং রুল কী? এই নিয়মে সম্পর্কের তিনটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে নিজের অনুভূতি ও সঙ্গীর আচরণ মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়। প্রথম মূল্যায়ন করা হয় তিনটি ডেটের পর, দ্বিতীয়টি তিন সপ্তাহ পর এবং তৃতীয়টি তিন মাস পর। এই সময়গুলোতে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া কতটা তৈরি হয়েছে, মতের মিল-অমিল কীভাবে সামলানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব কি না—এসব বিষয় ভেবে দেখা যায়। তিনটি ডেটের পর কী বুঝবেন? প্রথম কয়েকটি সাক্ষাতে কাউকে ভালো লেগে যেতেই পারে। তবে অল্প সময়ে একজন মানুষের প্রকৃত স্বভাব পুরোপুরি বোঝা কঠিন। তিনটি ডেটের পর সাধারণত কথাবার্তা ও আচরণে কিছুটা স্বাভাবিকতা আসে। এই পর্যায়ে খেয়াল করুন, সঙ্গী আপনার কথা মন দিয়ে শোনেন কি না, সম্মানজনক আচরণ করেন কি না এবং তার সঙ্গে সময় কাটাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না। দুজনের আগ্রহ ও কথাবার্তার মধ্যে স্বাভাবিক সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই পর্যায়টি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়। বরং সম্পর্কটি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত কি না, তা বোঝার সুযোগ। তিন সপ্তাহ পর যেসব বিষয় দেখবেন তিন সপ্তাহের মধ্যে একে অপরকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুধু সাজানো ডেট নয়, কাজের চাপ, ব্যস্ততা কিংবা ছোটখাটো সমস্যার সময় মানুষটির আচরণ কেমন, সেটিও ধীরে ধীরে বোঝা যায়। এ সময় লক্ষ্য করুন, তিনি কথা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন কি না। মতের অমিল হলে শান্তভাবে আলোচনা করেন, নাকি এড়িয়ে যান বা অসম্মানজনক আচরণ করেন। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিষেবা প্রদানকারী মানুষের সঙ্গে তার ব্যবহার কেমন, সেটিও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। ভবিষ্যৎ, বিয়ে, পরিবার, অর্থনৈতিক দায়িত্ব কিংবা কর্মজীবন নিয়ে দুজনের চিন্তাভাবনার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও কথা বলা যেতে পারে। তিন মাস পর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র সম্পর্কের শুরুতে আবেগ ও আকর্ষণ অনেক বেশি থাকে। সময়ের সঙ্গে সেই উত্তেজনা কিছুটা স্বাভাবিক হলে দুজনের প্রকৃত অভ্যাস, মূল্যবোধ ও জীবনযাপন আরও পরিষ্কারভাবে সামনে আসে। তিন মাস পর ভাবুন, সঙ্গীর সঙ্গে থাকলে আপনি মানসিকভাবে নিরাপদ ও শান্ত বোধ করেন কি না। সমস্যা দেখা দিলে দুজন মিলে সমাধান করতে পারেন কি না এবং একে অপরের ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। জীবনের লক্ষ্য, পরিবার, অর্থব্যবস্থা, সন্তান, কর্মজীবন ও বসবাসের পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুজনের মতামত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও এই পর্যায়ে আলোচনা করা যেতে পারে। অস্বস্তি বা সন্দেহ উপেক্ষা নয় সম্পর্কে সামান্য মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে একই বিষয়ে বারবার অস্বস্তি, ভয়, অবিশ্বাস বা অসম্মানজনক আচরণ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শুধু সময়ের সঙ্গে সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। অস্বস্তির বিষয়গুলো খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। কথা বলার পরও যদি সমস্যার ধরন বদল না হয়, তাহলে সম্পর্কটি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। সঙ্গীকে পরীক্ষা নেওয়া উদ্দেশ্য নয় ৩-৩-৩ নিয়মের উদ্দেশ্য সঙ্গীকে পরীক্ষার মুখে ফেলা বা প্রতিটি আচরণের নম্বর দেওয়া নয়। এটি মূলত নিজের অনুভূতি, প্রত্যাশা ও সম্পর্কের বাস্তব অবস্থা বোঝার একটি নির্দেশিকা। এ পদ্ধতিতে দুজনই খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন—সম্পর্কটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, ভবিষ্যতে কী চান এবং কোন জায়গায় আরও বোঝাপড়া প্রয়োজন। কঠোর নিয়ম নয়, কেবল নির্দেশনা প্রতিটি সম্পর্কের গতি আলাদা। কেউ তিন মাসে অনেকটাই কাছাকাছি আসতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে একজনকে বুঝতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ৩-৩-৩ পদ্ধতিকে কঠোর নিয়ম হিসেবে না দেখে একটি সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে নেওয়াই ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সম্মান, সততা, বিশ্বাস, মানসিক নিরাপত্তা এবং সুস্থ যোগাযোগ। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শুধু ভালোবাসা নয়, সঙ্গীর মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আচরণও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সময় নিয়ে সম্পর্ক বোঝা কখনোই সময় নষ্ট নয়। বরং তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে ধীরে, সচেতনভাবে এবং বাস্তবতা যাচাই করে এগোনো অনেক বেশি নিরাপদ।
কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, সবজি বিক্রেতা ঝান্ডু কুমারের হাতে এল ব্রোঞ্জ
সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো, ২৫ জুলাই: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদকের খাতা খুললেন বিহারের তরুণ প্যারা-পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের প্রথম পদক এনে দিলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির। বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা ২৮ বছরের ঝান্ডু কুমার বর্তমানে সবজি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি সফলভাবে ১৮১ কেজি ও ১৯০ কেজি ওজন তুলতে সক্ষম হন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তুলতে পারলে রুপোর লড়াইয়েও থাকতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন তিনি। একই ইভেন্টে ভারতের আরেক প্রতিযোগী সুধীর ১১৪.১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন। এই বিভাগে নাইজেরিয়ার ইদ্রিস রিলুওয়ান ১৩২.৮ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন। ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রুপো পান। ঝান্ডুর সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অর্থাভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। উন্নত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পুষ্টি কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। একসময় নিজের হুইলচেয়ারও ছিল না। পরে ধার করে একটি ই-রিকশার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে যাতায়াত সহজ হয়। সেই সংগ্রাম পেরিয়েই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। পদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঝান্ডু বলেন, “এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সবার আগে আমি বাড়িতে মা-বাবাকে ফোন করব। তারপর গৌতম ভাইকে ফোন করব, যার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে অনুশীলন করেছি।” ঝান্ডু কুমারের এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক এনে দেওয়ার জন্য ঝান্ডু কুমারকে অভিনন্দন। তাঁর এই সাফল্য অদম্য সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতীক। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অর্জনে গোটা দেশ গর্বিত।” ঝান্ডুর এই পদক ভারতের অন্যান্য প্যারা-ক্রীড়াবিদদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছে ক্রীড়ামহল।
তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার সিজেপির
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় তাদের তিনটি প্রধান দাবির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে বৃহত্তর শিক্ষা ও পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে পাঁচ দফা দাবিপত্রের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান, দিনের মতো মুলতুবি লোকসভা
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী সাংসদদের স্লোগান অব্যাহত থাকায় শুক্রবার দিনের মতো মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভার অধিবেশন। সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার, ফিরলেন কামিন্স-হ্যাজলউড-লায়ন
সকাল সকাল ডেস্ক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন, পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে নামছে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ২৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা দুই ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজকে সামনে রেখে ১৩ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, অভিজ্ঞ পেসার জোশ হ্যাজলউড এবং অফস্পিনার ন্যাথন লায়ন। তাঁদের প্রত্যাবর্তনে কার্যত পূর্ণশক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রত্যাবর্তনে বাড়ল শক্তি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলার পর লাল বলের ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতি ছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেই সময় চোটের কারণে দলের বাইরে ছিলেন প্যাট কামিন্স, জোশ হ্যাজলউড এবং ন্যাথন লায়ন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে মাইকেল নেসের, ব্রেন্ডান ডগেট এবং টড মারফির মতো ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশেষ করে নেসের ভালো পারফরম্যান্স করলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি তাঁর। একইভাবে ডগেট ও মারফিকেও এবার স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে অস্ট্রেলিয়া। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণের প্রস্তুতি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে পেস বিভাগে থাকছেন মিচেল স্টার্ক এবং জোশ হ্যাজলউড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই তিন পেসারের একসঙ্গে প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করেছে। অতিরিক্ত পেসার হিসেবে রয়েছেন স্কট বোল্যান্ড। সুযোগ পেলেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন এবং বিউ ওয়েবস্টারও প্রয়োজনে পেস বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। স্পিন বিভাগের ভরসা ন্যাথন লায়ন স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব আবারও ন্যাথন লায়নের কাঁধে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন বিভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম তিনি। চোট কাটিয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বাংলাদেশের ব্যাটাররা স্পিন ভালো খেললেও লায়নের অভিজ্ঞতা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাটিংয়েও অভিজ্ঞতার ছাপ ব্যাটিং বিভাগেও রয়েছে ভারসাম্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেল। উসমান খোয়াজার অবসরের পর উদ্বোধনী জুটিতে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঝের সারিতে রয়েছেন স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স কেয়ারি এবং জোশ ইংলিস। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দলের অন্যতম বড় ভরসা। পটভূমি বাংলাদেশ প্রায় আড়াই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। দুই দলের কাছেই এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। আটটি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় তুলে নিয়ে তারা ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ফলে এই সিরিজের ফল দুই দলের অবস্থানেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ প্রভাব অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজ জিতে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো ফল করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও উন্নত করার সুযোগ পাবে। দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ খেলতে নামায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহও তুঙ্গে। সরকারি বক্তব্য দল ঘোষণার পর নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি বলেন, প্যাট কামিন্স, জোশ হ্যাজলউড এবং ন্যাথন লায়নের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোট কাটিয়ে ফিরতে তাঁরা গত কয়েক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের শক্তি আরও বাড়াবে বলেই নির্বাচকদের বিশ্বাস। জনসাধারণের জন্য তথ্য সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে এবং চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট ম্যাকে শহরে। প্রায় ২৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তাই এই সিরিজ ঘিরে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
রাঁচিতে প্রথমবার ইসকনের তিন দিনের রথযাত্রার সূচনা, ভক্তদের টানে এগোল জগন্নাথের রথ
রাঁচি: রাঁচিতে প্রথমবারের মতো ইসকনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা উৎসবের শুভ সূচনা হল রবিবার। ভক্তিমুখর পরিবেশে কাঁকে রোডের লেক অ্যাভিনিউস্থিত ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার দর্শনের জন্য বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত ভক্তরা ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্রের সংকীর্তন, ভজন ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসাহের সঙ্গে রথযাত্রায় অংশ নেন।
শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন অমিত শাহ, সীমান্ত সুরক্ষায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন তিনি। শনিবার সকালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। সীমান্তে কর্তব্যরত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন। পরে উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার ওপর। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। সরকারি সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ রোধ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের তথ্যভাণ্ডারকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল রূপ দেওয়া, জাল ভোটার পরিচয়পত্র এবং ভুয়ো নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির প্রবণতা রুখতেও বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং জাল নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির মতো কর্মকাণ্ড রুখতে কেন্দ্র সরকার নতুন কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয় সুস্থ মা এবং পুষ্টিসম্পন্ন শিশুর মাধ্যমে : অন্নপূর্ণা
কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী শনিবার ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই) সংলাপ অনুষ্ঠানে ‘সম্মিলিত দায়িত্ব’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি গর্ভধারণের শুরু থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত, অর্থাৎ জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনের মাতৃপুষ্টি ও সঠিক পরিচর্যাকে জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দ্রুত প্রসার, চণ্ডীগড়ে ৪,৭০০ কোটির প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক চণ্ডীগড় : চণ্ডীগড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সড়ক পরিকাঠামো-সহ ৪,৭০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চণ্ডীগড় এখন শুধু একটি শহর নয়, বরং দেশের উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকারের কাছে চণ্ডীগড়ের উন্নয়ন সবসময়ই অগ্রাধিকার পেয়েছে। তাঁর কথায়, দণ্ডবিধির পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, স্মার্ট যান চলাচল ব্যবস্থা, স্মার্ট গাড়ি রাখার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্রশাসনের মতো একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগে ২,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতা সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিল। দেশজুড়ে কোটি কোটি শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান চালানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪ সালের পর দেশে ১৫টি নতুন সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে বহু নতুন চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় গড়ে উঠেছে এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো অভিযান চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির চালু রয়েছে, যা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।