সকাল সকাল ডেস্ক।
রাঁচি: রাঁচিতে প্রথমবারের মতো ইসকনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা উৎসবের শুভ সূচনা হল রবিবার। ভক্তিমুখর পরিবেশে কাঁকে রোডের লেক অ্যাভিনিউস্থিত ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার দর্শনের জন্য বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত ভক্তরা ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্রের সংকীর্তন, ভজন ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসাহের সঙ্গে রথযাত্রায় অংশ নেন।
রথযাত্রা শুরুর আগে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মঙ্গল আরতি এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। এরপর প্রথা অনুযায়ী জয়ন্তনাথ শাহদেও এবং তাঁর পুত্র জীতেশ নাথ শাহদেও সোনার ঝাড়ু দিয়ে প্রতীকীভাবে রথের পথ পরিষ্কার করেন। আরতির পর রথের দড়ি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠও ঝাড়ু দিয়ে সেবায় অংশ নেন এবং ভক্তদের সঙ্গে রথযাত্রায় শামিল হন।
রথযাত্রার পথে শ্রীজগন্নাথকে ফুল বর্ষণ করে স্বাগত জানান ভক্তরা। সংকীর্তন দলের ভজন, নৃত্য এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গোটা পরিবেশ ভক্তিময় হয়ে ওঠে। ভক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করেন এবং আরতিতে অংশ নিয়ে আশীর্বাদ লাভ করেন। পুরো যাত্রাপথ জুড়ে ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। যাত্রাপথে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে খিচুড়ি ও বুন্দির প্রসাদও বিতরণ করা হয়।
ইসকনের মহাপ্রবন্ধক মধুসূদন মুকুন্দ দাস জানান, রাঁচিতে প্রথমবার আয়োজিত এই রথযাত্রায় ভক্তদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে এই উৎসবের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ প্রায় ৬০ বছর আগে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে প্রথম ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। বর্তমানে ইসকনের উদ্যোগে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ভক্তিভরে শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
মধুসূদন মুকুন্দ দাস আরও জানান, পুরীধামের গজপতি মহারাজার সম্মতিতে ইসকন ইন্ডিয়া প্রতি বছর আষাঢ় শুক্ল দ্বিতীয়া থেকে বহুদা রথযাত্রা পর্যন্ত দেশজুড়ে শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রার আয়োজন করে। সেই ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এ বছর প্রথমবার রাঁচিতেও এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার দিল্লির ইস্ট কৈলাস, ঔরঙ্গাবাদ, গোরখপুর, চেন্নাই-সহ দেশের একাধিক ইসকন কেন্দ্রেও রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
No Comment! Be the first one.