সকাল সকাল ডেস্ক
গ্লাসগো, ২৫ জুলাই: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদকের খাতা খুললেন বিহারের তরুণ প্যারা-পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের প্রথম পদক এনে দিলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির।
বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা ২৮ বছরের ঝান্ডু কুমার বর্তমানে সবজি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি সফলভাবে ১৮১ কেজি ও ১৯০ কেজি ওজন তুলতে সক্ষম হন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তুলতে পারলে রুপোর লড়াইয়েও থাকতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন তিনি।
একই ইভেন্টে ভারতের আরেক প্রতিযোগী সুধীর ১১৪.১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন। এই বিভাগে নাইজেরিয়ার ইদ্রিস রিলুওয়ান ১৩২.৮ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন। ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রুপো পান।
ঝান্ডুর সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অর্থাভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। উন্নত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পুষ্টি কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। একসময় নিজের হুইলচেয়ারও ছিল না। পরে ধার করে একটি ই-রিকশার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে যাতায়াত সহজ হয়। সেই সংগ্রাম পেরিয়েই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি।
পদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঝান্ডু বলেন, “এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সবার আগে আমি বাড়িতে মা-বাবাকে ফোন করব। তারপর গৌতম ভাইকে ফোন করব, যার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে অনুশীলন করেছি।”
ঝান্ডু কুমারের এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক এনে দেওয়ার জন্য ঝান্ডু কুমারকে অভিনন্দন। তাঁর এই সাফল্য অদম্য সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতীক। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অর্জনে গোটা দেশ গর্বিত।”
ঝান্ডুর এই পদক ভারতের অন্যান্য প্যারা-ক্রীড়াবিদদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছে ক্রীড়ামহল।
No Comment! Be the first one.