কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার

সকাল সকাল ডেস্ক।

রাঁচি: কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার আজ রাঁচির ইটকি রোডের আগমন ব্যাঙ্কোয়েট হলে ভেটেরান অর্গানাইজেশন অফ ঝাড়খণ্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কার্গিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের বীর সেনা, প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাজ্যপাল বলেন, কার্গিল বিজয় দিবস কেবল একটি সামরিক জয়ের স্মারক নয়, এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অদম্য সাহস, অসামান্য বীরত্ব, অটল দেশপ্রেম এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের চিরন্তন প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৯ সালে কার্গিলের দুর্গম ও তুষারাবৃত পাহাড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় সেনারা যে বীরত্বের নজির গড়েছিলেন, তা গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল যে দেশের এক ইঞ্চি জমিও রক্ষায় ভারত সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।

তিনি বলেন, দেশের বীর জওয়ানরা নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে মাতৃভূমি রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মবলিদান দিয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ, সাহস ও নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, কর্তব্যবোধ এবং ‘দেশ সবার আগে’—এই আদর্শে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

রাজ্যপাল প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁর দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে ভারত কখনও নিজের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে আপস করবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও অটল বিহারী বাজপেয়ী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও যতদিন পাকিস্তানের দখলে থাকবে, ততদিন কোনও আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

রাজ্যপাল বলেন, সীমান্তে মোতায়েন থাকা সেনাদের সতর্কতা, ত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠার কারণেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারেন। যখন দেশের মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব পালন করেন, তখন সেনারা সীমান্তে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি দেশবাসীর শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাসই দেশের অন্যতম বৃহত্তম শক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ধারাবাহিকভাবে নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, স্বদেশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন, আত্মনির্ভর ভারত কর্মসূচি এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুর-এর মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তাদের অসীম বীরত্ব, নির্ভুল সক্ষমতা এবং দেশের নিরাপত্তার প্রতি অটল অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুবসমাজের উদ্দেশে রাজ্যপাল আহ্বান জানান, তাঁরা যেন দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সেবাভাব, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সচ্চরিত্রকে জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, দেশ গঠনের কাজে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বীর সেনা এবং শহিদ জওয়ানদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল।

Read More News

আইনি সচেতনতার পাশাপাশি ১০৫ জন উপভোক্তার হাতে ১০৫.৯৪ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ও সুবিধা তুলে দিল ডিএলএসএ

পশ্চিম সিংভূম: ঝাড়খণ্ড রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রবিবার কোলহান বিশ্ববিদ্যালয়...

ঝাড়খণ্ডে পরিষ্কার আকাশে বাড়ল গরম ও অস্বস্তি, ৩০ জুলাই পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় শনিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকায় তাপমাত্রা...

Read More