প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের জয়, চেলসির গোলবন্যা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন : আন্তর্জাতিক বিরতির পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রত্যাবর্তনেই জমজমাট লড়াই। একদিকে পিছিয়ে পড়েও লিডস ইউনাইটেডকে হারিয়ে দুরন্ত জয় তুলে নিল আর্সেনাল। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে বোর্নমুথকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করল চেলসি। তবে জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দশ জনের টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ১-১ ব্যবধানে ড্র করল তারা। এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিডস ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে শুরুটা ভালো হয়নি আর্সেনালের। প্রথমার্ধে ছন্দ খুঁজে পায়নি মিকেল আর্তেতার দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে জেমস জাস্টিনের গোলে এগিয়ে যায় লিডস। তবে সাত মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় আর্সেনাল। বেন হোয়াইটের পাস থেকে ৬২ মিনিটে গোল করেন রিকার্ডো ক্যালাফিওরি। এরপর পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা ব্রুনো গিমারেজ ৭০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে জয়সূচক গোল করেন। ২-১ ব্যবধানে জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে আর্সেনাল। অন্যদিকে, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বোর্নমুথের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় চেলসি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কোল পালমারের পাস থেকে গোল করেন জর্ডান হেন্ডারসন। পরের মিনিটে তাঁর পাস থেকে মর্গ্যান রজার্সের শট বিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ান জোয়াও পেদ্রো। বোর্নমুথের হয়ে ইভানিলসন একটি গোল শোধ করলেও চেলসির জয় আটকাতে পারেননি। পেদ্রো আরও একটি গোল করেন। শেষদিকে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন হেন্ডারসন। এই জয়ের ফলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে চেলসি। এদিকে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মাথিয়াস কুনহার পাস থেকে গোল করে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান এমবেউমো। পাঁচ মিনিট পর লুক শ-কে মাথা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে লাল কার্ড দেখেন টটেনহ্যামের রদ্রিগো বেন্টানকুর। দশ জনে নেমে গেলেও লড়াই চালিয়ে যায় স্পার্স। সংযুক্ত সময়ের ৯২ মিনিটে স্যান্দ্রো টোনালির ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান ডমিনিক সোলাঙ্কে। শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বাদশ স্থানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টাদশ স্থানে রয়েছে টটেনহ্যাম। অন্যান্য ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন। অ্যাস্টন ভিলা ও ব্রেন্টফোর্ডের ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। অন্যদিকে, ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইপসউইচ টাউন। সংযুক্ত সময়ের ৯২ মিনিটে অধিনায়ক দারা ও’শিয়ার গোলেই জয় নিশ্চিত হয়। আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রথম দফার ম্যাচেই একাধিক নাটকীয় ফলাফলে জমে উঠেছে প্রিমিয়ার লিগের লড়াই। আর্সেনাল ও চেলসি গুরুত্বপূর্ণ জয় পেলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্ট হারানো তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
হাজার গোলের স্বপ্নের মাঝেই বড় ধাক্কা রোনাল্ডোর
সকাল সকাল ডেস্ক লিসবন : কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে অনুমতি ছাড়া শিবির ছেড়ে মাদ্রিদে চলে যাওয়ার অভিযোগে পর্তুগিজ মহাতারকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার থেকেই রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবেন না আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলের মালিক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এক থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নেশনস লিগের ম্যাচ চলাকালীন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিরুদ্ধে পর্তুগালের দ্বিতীয় ম্যাচে দলে থাকলেও রোনাল্ডোকে পুরো সময় রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোচ জর্জ জেসুস। এরপর ডেনমার্কের বিরুদ্ধে কোপেনহেগেনে পরবর্তী ম্যাচেও তাঁকে না খেলানোর সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে জানান কোচ। এতেই অসন্তুষ্ট হন রোনাল্ডো। তাঁর অভিযোগ, মাঠে খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি কোচ। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে মাদ্রিদে চলে যান তিনি। যদিও পরবর্তী সময়ে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রোনাল্ডো। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পর্তুগালের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ক্লাব ফুটবলে গোলের ধারা অব্যাহত রেখেছেন রোনাল্ডো। শুক্রবার সৌদি প্রো লিগে দিরিয়া ক্লাবের বিরুদ্ধে আল-নাসেরের হয়ে একটি গোল করেন তিনি। সেই সুবাদে তাঁর কেরিয়ারে মোট গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮০। ঐতিহাসিক এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে আর মাত্র ২০টি গোল প্রয়োজন পর্তুগিজ তারকার। ম্যাচে দিরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় আল-নাসের। তবে ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের মধ্যেও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে রোনাল্ডোর। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন।
রেনশ-লিয়ঁর রেকর্ড জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক ডারবান : মাত্র ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। ম্যাট রেনশর অসাধারণ ১৯০ রানের ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ৩৯০ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া। ডারবানের কিংসমিডে দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৭ রান। প্রথম ইনিংসে এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন রেনশ। ৩৯৭ বল মোকাবিলা করে ১৯০ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে শতরানের মুখ দেখলেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৫ রান করেছিলেন। সেটিই ছিল তাঁর আগের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। এবার সেই নজির ছাপিয়ে কেরিয়ারের সেরা ইনিংস খেললেন রেনশ। প্রথম দিনে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রেনশ। ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স ৪৩ এবং মিচেল স্টার্ক ৬ রান করে আউট হলে ফের চাপে পড়ে সফরকারীরা। তবে নাথান লিয়ঁকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রেনশ। নবম উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ১৩৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টে নবম উইকেটে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটি। কিংসমিডের ইতিহাসেও নবম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েন তাঁরা। লিয়ঁ করেন ২৭ রান। ইনিংস চলাকালীন অনরিখ নোখিয়ার বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেলেও মনঃসংযোগ হারাননি রেনশ। শেষ পর্যন্ত দ্বিশতরান থেকে মাত্র ১০ রান দূরে সাইমন হার্মারের বলে এডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩৯০ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে উইয়ান মুল্ডার ৬৮ রানে ৪টি এবং মার্কো জানসেন ৬৮ রানে ৩টি উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জশ হেজলউডের বলে কোনও রান না করেই আউট হন রায়ান রিকেলটন। তৃতীয় স্লিপে তাঁর ক্যাচ ধরেন বিউ ওয়েবস্টার। এরপর এডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহ্যাম ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। মার্করাম ১৫ এবং বেডিংহ্যাম ১২ রানে অপরাজিত থাকাকালীন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়। প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার উপর চাপ বাড়ানোই লক্ষ্য থাকবে কামিন্সদের। অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে বড় জুটি গড়ার উপর নির্ভর করতে হবে প্রোটিয়া ব্যাটারদের।
ইউনিসেফের সেলিব্রিটি অ্যাডভোকেট হলেন স্মৃতি মান্ধানা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে স্মৃতি মান্ধানাকে। আন্তর্জাতিক শিশুকন্যা দিবস উপলক্ষে রবিবার ভারতীয় ক্রিকেট তারকাকে সেলিব্রিটি অ্যাডভোকেট হিসেবে নিযুক্ত করার ঘোষণা করেছে ইউনিসেফ ইন্ডিয়া। কিশোরীদের সমানাধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিশুকন্যা দিবস পালিত হয়। সমাজে মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধিই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই বিশেষ দিনেই স্মৃতি মান্ধানাকে নতুন দায়িত্ব দিল ইউনিসেফ। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ স্মৃতি মান্ধানা। দেশের অসংখ্য তরুণীর কাছে তিনি অনুপ্রেরণা। তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কিশোরীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় ইউনিসেফ ইন্ডিয়া। এর আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে লিঙ্গসমতা এবং শিশুদের অধিকার রক্ষার প্রচারে অংশ নিয়েছেন অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ক্রিকেটার। ইউনিসেফের ‘প্রমিস টু চিলড্রেন’ কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্মৃতি। তিনি জানান, ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার সেলিব্রিটি অ্যাডভোকেট হিসেবে যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত। ক্রিকেট তাঁকে শিখিয়েছে, প্রতিটি বড় স্বপ্নের শুরু হয় একটি সুযোগ থেকে। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং সঠিক উৎসাহ পেলে সেই সুযোগ অসাধারণ সাফল্যে পরিণত হতে পারে। প্রত্যেক শিশু ও তরুণ-তরুণীর বড় স্বপ্ন দেখার এবং নিজের প্রতিভা বিকাশের অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্মৃতির এই নতুন দায়িত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর। দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফের আঞ্চলিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে স্মৃতিকে অভিনন্দন জানিয়ে সচিন আশা প্রকাশ করেন, ক্রিকেট মাঠে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও শিশুদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন ভারতীয় তারকা। সম্প্রতি হরমনপ্রীত কৌর নেতৃত্ব ছাড়ার পর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। এবার ইউনিসেফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক ক্ষেত্রেও নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি। ক্রিকেট মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি কিশোরীদের ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তাঁর অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ছোটবেলার ভয়-লড়াইয়ের গল্প শোনালেন বিজয়-রাশমিকা
সকাল সকাল ডেস্ক হায়দরাবাদ: পর্দায় আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, জনপ্রিয়তাও আকাশছোঁয়া। কিন্তু ছোটবেলার গল্পটা একেবারেই অন্য রকম ছিল বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার। দু’জনের শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে স্কুলের ছাত্রাবাসে। তবে অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। দীর্ঘদিন ছেলেদের হোস্টেলে থাকার কারণে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেই ভয় পেতেন বিজয়। অন্যদিকে ভাষা ও উচ্চারণের সমস্যার কারণে স্কুলে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল রাশমিকাকে। নতুন ছবি ‘রণবলী’-র প্রচারে নিজেদের ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতার কথাই ভাগ করে নিয়েছেন দুই তারকা। মেয়েদের দেখলেই অস্বস্তিতে পড়তেন বিজয় বিজয়ের জন্ম হায়দরাবাদে। মাত্র ছ’বছর বয়সে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। স্কুলের নিয়মকানুন ছিল অত্যন্ত কড়া। বছরের প্রায় ১০ মাস ছাত্রাবাসেই কাটত। পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ মিলত মাত্র দু’মাস। বিজয়ের কথায়, স্কুলটি ছিল শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। মহিলা শিক্ষক ছাড়া মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যত কোনও সুযোগ ছিল না। এমনকী ছেলেমেয়েদের একে অপরের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রেও ছিল কড়াকড়ি। ফলে কৈশোরে হায়দরাবাদে ফিরে এসে মেয়েদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও সমস্যায় পড়তেন তিনি। অভিনেতা জানিয়েছেন, প্রথম দু’বছর কোনও মেয়ের সঙ্গে প্রায় কথাই বলেননি। স্কুলবাসে কোনও মেয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এলে চোখে চোখ রাখার বদলে জানালার বাইরে তাকিয়ে উত্তর দিতেন। সেই সময় এতটাই অস্বস্তি হতো যে বুক ধড়ফড় করত তাঁর। মজার বিষয়, বিজয়ের এই লাজুক স্বভাবকেই অনেক মেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করতেন। তাঁকে পাশে বসিয়ে গল্প করার জন্যও ডাকতেন। কিন্তু নিজের সংকোচ কাটাতে সময় লেগেছিল অভিনেতার। কলেজে ওঠার পরই পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। নিজের ভয়কে জয় করতে একদিন সরাসরি এক তরুণীর সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার অস্বস্তি কাটতে শুরু করে তাঁর। ভাষাই ছিল রাশমিকার বড় বাধা রাশমিকার শৈশবের লড়াই ছিল অন্য রকম। ছোটবেলায় ভাষাগত সমস্যার কারণে স্কুলে বেশ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর প্রথম ভাষা ছিল তামিল। ফলে কুর্গের স্কুলে গিয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে বলা হলে অনেক সময়ই চুপ করে যেতেন তিনি। রাশমিকার কথায়, কেউ ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞাসা করলে কীভাবে উত্তর দেবেন, সেটাই বুঝে উঠতে পারতেন না। ফলে সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতেও সমস্যা হতো। শুধু স্কুলজীবনেই নয়, অভিনয়জগতে পা রাখার পরও ভাষা এবং উচ্চারণ নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। কখনও তাঁর উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কখনও আবার অভিনয় দক্ষতা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে এসব মন্তব্য সামলাতে শিখেছেন অভিনেত্রী। এখন এ ধরনের সমালোচনা তাঁকে আর বিশেষ অবাক করে না বলেই জানিয়েছেন রাশমিকা। শৈশবে একজনের লড়াই ছিল সংকোচের সঙ্গে, অন্যজনের ভাষার সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই বাধা পেরিয়েই ভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।
রণবীরের ‘রামায়ণ’-এর শুটিং সেটে আগুন, অল্পের জন্য এড়াল বড় বিপদ
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: রণবীর কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’-এর শুটিং সেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মুম্বইয়ের প্রাইম ফোকাস স্টুডিওর বাইরে থাকা একটি তাঁবুতে আচমকা আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় কোনও অভিনেতা বা কলাকুশলী আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের সভাপতি বি এন তিওয়ারি। তাঁর দাবি, আগুন বড় আকার নেওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও সামান্য। তবে বিষয়টিকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে শুটিং সেটে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বি এন তিওয়ারির কথায়, স্টুডিওর বাইরে থাকা একটি তাঁবু থেকেই আগুনের সূত্রপাত। সেই সময় ‘রামায়ণ’-এর শুটিং চলছিল। সম্প্রতি ওই এলাকার কাছেই আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। তার পরেই প্রযোজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুটিংয়ের জায়গায় পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ফের আগুন লাগার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। একই এলাকায় ‘হাসল’ এবং ‘পতি পত্নী পাঙ্গা’-র মতো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শুটিংও চলছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফের কাজ শুরু হয়। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ ইতিমধ্যেই বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রকল্প। ভারতীয় মহাকাব্যের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি ছবিটি দুই পর্বে মুক্তি পাওয়ার কথা। রামের ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে অভিনয় করছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের ভূমিকায় দেখা যাবে রবি দুবেকে। এছাড়াও দশরথের চরিত্রে অরুণ গোভিল এবং কৈকেয়ীর ভূমিকায় রয়েছেন লারা দত্ত। তারকাখচিত এই ছবি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। তার মধ্যেই শুটিং সেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনে দিল সেটের নিরাপত্তার বিষয়টি।
৩১ বছর পর ফের এক পর্দায় মিঠুন-রজনীকান্ত, ‘জেলার ২’-এ দুই কিংবদন্তির পুনর্মিলন
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: একজন বলিউডের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, অন্যজন দক্ষিণী সিনেমার ‘থালাইভা’। দুই ভিন্ন চলচ্চিত্র জগতে কয়েক দশক ধরে রাজত্ব করলেও মিঠুন চক্রবর্তী ও রজনীকান্তের বন্ধুত্ব বহু পুরনো। অতীতে একসঙ্গে পর্দাতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। তবে শেষবারের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৩১ বছর। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। ‘জেলার ২’-এ ফের রজনীকান্তের সঙ্গে পর্দা ভাগ করছেন মিঠুন। বন্ধুত্বের শুরু বহু আগে মিঠুন ও রজনীকান্ত প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন ১৯৮৯ সালে রমেশ সিপ্পি পরিচালিত ‘ভ্রষ্টাচার’ ছবিতে। সেখানে মিঠুন অভিনয় করেছিলেন ইন্সপেক্টর অশুতোষ দাসের চরিত্রে। রজনীকান্তকে দেখা গিয়েছিল আবদুল সাত্তারের ভূমিকায়। এর কয়েক বছর পর ১৯৯৫ সালের বাংলা ছবি ‘ভাগ্য দেবতা’-তেও তাঁদের যোগসূত্র তৈরি হয়। ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে ছিলেন মিঠুন। আর বিশেষ উপস্থিতিতে দেখা গিয়েছিল রজনীকান্তকে। একটি গানে মঞ্চের গায়কের ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, মিঠুনের অনুরোধেই বাংলা ছবিটিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার। তারপর কেটে গিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে মিঠুন বাংলা ও হিন্দি-সহ বিভিন্ন ভাষার ছবিতে নিজের অভিনয়জীবন এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে রজনীকান্ত ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় সুপারস্টার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। কিন্তু দুই তারকার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে। ‘জেলার ২’-এ বড় চমক মিঠুন এবার সেই বন্ধুত্বই ফের ধরা দিতে চলেছে বড় পর্দায়। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ‘জেলার ২’-এ টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে ফিরছেন রজনীকান্ত। ২০২৩ সালের ‘জেলার’-এর সাফল্যের পর দ্বিতীয় পর্ব ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে। আর সেই ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ মিঠুন চক্রবর্তী। জানা যাচ্ছে, এবার তাঁর উপস্থিতি শুধুমাত্র অতিথি চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। যদিও মিঠুনের চরিত্র নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি নির্মাতারা। ফলে তাঁর ভূমিকা ঘিরে রহস্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালেই মিঠুন জানিয়েছিলেন, রজনীকান্তের সঙ্গে ‘জেলার ২’-এ কাজ করছেন তিনি। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে ফের একই ছবিতে অভিনয়ের ইচ্ছার কথাও সামনে এসেছিল। এবার সেই ইচ্ছাই বাস্তব রূপ পেয়েছে। তারকাখচিত দ্বিতীয় পর্ব ‘জেলার ২’-এর তারকা তালিকাও নজরকাড়া। রজনীকান্ত ও মিঠুনের পাশাপাশি রয়েছেন বিদ্যা বালান, এস জে সূর্য, সূরজ ভেঞ্জারামুডু এবং জাটিন সরনার মতো অভিনেতারা। প্রথম ছবির পরিচিত মুখ শিবরাজকুমার, রম্যা কৃষ্ণন ও জ্যাকি শ্রফকেও ফের দেখা যাচ্ছে। মিঠুনের লুক সামনে আসার পর থেকেই তাঁর চরিত্র ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। ট্রেলারেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান যখন নতুন বিপদের মুখোমুখি, তখন সেই লড়াইয়ে মিঠুনের চরিত্রের ভূমিকা কী হবে, আপাতত সেই রহস্যই জিইয়ে রেখেছেন নির্মাতারা। ১৯৮৯ সালের ‘ভ্রষ্টাচার’, ১৯৯৫ সালের ‘ভাগ্য দেবতা’-র পর এবার ২০২৬ সালের ‘জেলার ২’। অর্থাৎ প্রথমবার একই ছবিতে কাজ করার ৩৭ বছর পর এবং শেষবার একই ছবিতে দেখা যাওয়ার প্রায় ৩১ বছর পর ফের একসঙ্গে মিঠুন ও রজনীকান্ত। তাই ‘জেলার ২’ শুধুমাত্র সফল ছবির সিক্যুয়েল নয়, ভারতীয় সিনেমার দুই কিংবদন্তির দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় পুনর্মিলনের ছবিও। একসময় মিঠুনের অনুরোধে বাংলা ছবিতে বিশেষ চরিত্রে হাজির হয়েছিলেন রজনীকান্ত। এবার সেই পুরনো বন্ধুর ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় হাজির হচ্ছেন মিঠুন। ফলে দুই মহাতারকার এই পুনর্মিলন ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
বক্স অফিসে ‘দৃশ্যম ৩’-র রাজত্ব, ভাঙল একাধিক রেকর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে অজয় দেবগন অভিনীত অ্যাকশন-সাসপেন্স থ্রিলার ‘দৃশ্যম ৩’। গত ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও দর্শকদের নজর কেড়েছে। টানটান গল্প এবং অভিনেতাদের অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে দর্শক ও সমালোচকদের কাছে। অভিষেক পাঠক পরিচালিত ছবিতে ফের বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে দেখা গিয়েছে অজয় দেবগনকে। এবারের পর্বে তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষের ভূমিকায় রয়েছেন জয়দীপ অহলাওয়াত। সোমবারও আয়ের গতি বজায় প্রথম দু’দিনেই ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা পার করার পর সপ্তাহান্তেও দুরন্ত ছন্দ ধরে রাখে ছবিটি। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবারেও বক্স অফিসে তার প্রভাব বজায় ছিল। স্যাকনিল্কের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির চতুর্থ দিনে প্রায় ২১ কোটি টাকা আয় করেছে ‘দৃশ্যম ৩’। এর ফলে চার দিনে ভারতে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ২০০ কোটির মাইলফলক থেকে সামান্য দূরে রয়েছে অজয়ের ছবি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার ছবিটির আয় ছিল ৬২ কোটি টাকা। শনিবার ৫৩ কোটি ৫০ লক্ষ এবং রবিবার ৬১ কোটি টাকা আয় করে ছবিটি। সোমবার আরও ২১ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় চার দিনে মোট সংগ্রহ পৌঁছেছে ১৯৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায়। সালগাঁওকর পরিবারের গল্পের শেষ অধ্যায় মোহনলাল অভিনীত মালয়ালম সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজির হিন্দি সংস্করণ হিসেবে ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল অজয় দেবগনের ‘দৃশ্যম’-এর যাত্রা। ২০২২ সালে মুক্তি পায় দ্বিতীয় পর্ব। এবার তৃতীয় ছবিতে বিজয় সালগাঁওকর ও তাঁর পরিবারের রহস্যময় কাহিনির চূড়ান্ত পরিণতি দেখানো হয়েছে। পরিচালক অভিষেক পাঠকের বক্তব্য অনুযায়ী, দর্শকদের কাছে এই গল্পের সমাপ্তি স্পষ্ট করতেই ছবিটির নাম রাখা হয়েছে ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’। ফলে এই পর্বেই সালগাঁওকর পরিবারের দীর্ঘদিনের রহস্য ও টানটান নাটকীয়তার ইতি ঘটতে চলেছে। অজয় দেবগন ও জয়দীপ অহলাওয়াত ছাড়াও ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তাবু, শ্রিয়া সরন, প্রকাশ রাজ, ইশিতা দত্ত এবং রজত কাপুর।
ঘরেই কেরাটিন ট্রিটমেন্ট, চুল হবে মসৃণ ও ঝলমলে
সকাল সকাল ডেস্ক আধুনিক জীবনে ধুলোবালি, দূষণ, বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট এবং ঘন ঘন হিট স্টাইলিংয়ের কারণে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যেতে পারে। এই সমস্যা সামলাতে অনেকেই স্যালনে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করান। তবে তা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে এবং কিছু স্যালন ট্রিটমেন্টে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়। তাই বাড়িতেই চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। কেরাটিন কী? কেরাটিন হল এক ধরনের প্রোটিন, যা স্বাভাবিকভাবেই চুল, ত্বক ও নখের গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুলের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুল রুক্ষ, শুষ্ক, জটপ্রবণ এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেশাদার কেরাটিন ট্রিটমেন্ট মূলত চুলের উপরিভাগ মসৃণ করতে এবং ফ্রিজ কমাতে সাহায্য করে। তবে বাড়িতে কলা, দই বা অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি মাস্ককে পেশাদার কেরাটিন ট্রিটমেন্টের সমতুল্য ভাবা ঠিক নয়। এই ধরনের উপাদান মূলত চুলকে কন্ডিশনিং ও ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করতে পারে। ঘরে কীভাবে তৈরি করবেন হেয়ার মাস্ক? এই হেয়ার মাস্ক তৈরির জন্য প্রয়োজন একটি পাকা কলা, ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং চাইলে একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল। সব উপাদান ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর চুলে সমানভাবে লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে চুল পরিষ্কার করে নিন। কলা যাতে চুলে আটকে না থাকে, সে জন্য মিশ্রণটি একেবারে মসৃণ করে নেওয়া জরুরি। কী উপকার মিলতে পারে? এই ধরনের ময়েশ্চারাইজিং হেয়ার মাস্ক শুষ্ক ও রুক্ষ চুলকে সাময়িকভাবে নরম এবং মসৃণ রাখতে সাহায্য করতে পারে। নারকেল তেল চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে দই, মধু ও অ্যালোভেরা চুলের কন্ডিশনিংয়ে কাজে আসতে পারে। ফলে চুল তুলনামূলকভাবে চকচকে ও সহজে সামলানো যেতে পারে। তবে এই মাস্ক চুলের হারানো কেরাটিন সরাসরি ফিরিয়ে দেয় বা চুলের কেরাটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়—এমন দাবি করার যথেষ্ট ভিত্তি নেই। এটি মূলত একটি ঘরোয়া কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক হিসেবেই ব্যবহার করা ভালো। ব্যবহারের সময় কী খেয়াল রাখবেন? চুলের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লারের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। চুলের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। সপ্তাহে একবার এই ধরনের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অ্যালোভেরা, দই বা অন্য কোনও উপাদানে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে মাস্কটি ব্যবহার না করাই ভালো। প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালা, খুশকি বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে ঘরোয়া পদ্ধতির উপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গলফে ইতিহাস প্রণবী উরসের, এশিয়ান গেমসে সোনা জয়
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতের প্রণবী উরস। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় মহিলা গলফার হিসেবে ব্যক্তিগত বিভাগে স্বর্ণপদক জিতলেন ২৩ বছর বয়সি এই তারকা। মহীশূরের প্রণবীর দুরন্ত পারফরম্যান্সে মহিলা দলগত বিভাগেও রুপো জিতেছে ভারত। ফাইনাল রাউন্ডের শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না প্রণবীর। আগের দিনের তিন শটের লিড নিয়ে মাঠে নামলেও তৃতীয় হোলে ট্রিপল বগি করে সেই সুবিধা হারিয়ে ফেলেন তিনি। তবে চাপের মুখে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন ভারতীয় গলফার। ৬, ১০ ও ১৩ নম্বর হোলে বার্ডি করে ফের শিরোপার লড়াইয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। ফাইনাল রাউন্ডে ইভেন-পার ৭০ স্কোর করেন প্রণবী। চার দিনের প্রতিযোগিতা শেষে তাঁর মোট স্কোর দাঁড়ায় ১৫-আন্ডার ২৬৫। মাত্র এক শটের ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক। চিনের ইন রুয়েনিং এবং সিঙ্গাপুরের শ্যানন টান দু’জনেই ২৬৬ স্কোরে শেষ করেন। পদকের স্থান নির্ধারণের লড়াই শেষে রুপো পান ইন রুয়েনিং এবং ব্রোঞ্জ জেতেন শ্যানন। ঐতিহাসিক সাফল্যের পর প্রণবী জানান, কোনও ক্ষেত্রে প্রথম হওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ। ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় গলফার এই পর্যায়ে পৌঁছবেন এবং আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। দলগত বিভাগেও ভারতের রুপো ব্যক্তিগত সোনার পাশাপাশি মহিলা দলগত বিভাগে ভারতের রুপো জয়ের পিছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রণবীর। ভারতীয় দলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগর। দলগত বিভাগে প্রতিটি রাউন্ডে দলের সেরা দুই গলফারের স্কোর হিসাব করা হয়। ফাইনাল রাউন্ডে নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায় অদিতিকে। টানা পাঁচটি বার্ডি করেন তিনি। চার রাউন্ড শেষে ২-ওভার ২৮২ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে ১৪তম স্থানে শেষ করেন অদিতি। দীক্ষা ডাগর ১২-ওভার স্কোর নিয়ে ২৩তম হন। প্রণবী ও অদিতির পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারত দলগত বিভাগে ১৪-আন্ডার ৫৪৬ স্কোর করে দ্বিতীয় স্থানে থেকে রুপো জেতে। ২২-আন্ডার ৫৩৮ স্কোর নিয়ে স্বর্ণপদক জেতে চিন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গলফে সোনা এশিয়ান গেমসের গলফে দীর্ঘদিন পর ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক পেল ভারত। এর আগে পুরুষদের বিভাগে ২০০২ সালে শিব কাপুর ব্যক্তিগত সোনা জিতেছিলেন। এবার প্রণবীর হাত ধরে ভারতীয় মহিলা গলফেও তৈরি হল নতুন ইতিহাস। এশিয়ান গেমসে গলফ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। দিল্লিতে আয়োজিত সেই আসরে লক্ষণ সিং পুরুষদের ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা জিতেছিলেন। দলগত বিভাগেও সাফল্য পেয়েছিল ভারত। এবার প্রণবীর ব্যক্তিগত সোনা এবং মহিলা দলের রুপো ভারতীয় গলফের এশিয়ান গেমস অভিযানে যোগ করল আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়।