সকাল সকাল ডেস্ক
বস্টনে এমবাপে ও ডেম্বেলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ২-০ ব্যবধানে মরক্কোকে হারিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স, নতুন নজির গড়লেন এমবাপে।
World Cup 2026-এ নিজেদের শক্তিমত্তার আরেকটি বড় প্রমাণ দিল ফ্রান্স। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল দিদিয়ের দেশঁর দল। বস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান ডেম্বেলে। World Cup 2026-এর অন্যতম হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ফরাসি তারকারা অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের দারুণ প্রদর্শনী উপহার দেন।
প্রথমার্ধে গোল না পেলেও দাপট ছিল ফ্রান্সের

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ফ্রান্স। এমবাপে, ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিস একের পর এক আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা মিলছিল না। মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টিও পায় ফ্রান্স। তবে সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপে। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে দুই দল। যদিও খেলার গতি ও আক্রমণের সংখ্যার বিচারে ফরাসিরাই ছিল অনেক এগিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপের জাদু

বিরতির পর ম্যাচের রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শক্তিশালী শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। গোল হজমের ধাক্কা সামলানোর আগেই ৬৬ মিনিটে আবারও ফরাসি আক্রমণে ভেঙে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ।
এমবাপের দ্রুতগতির দৌড়ে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান ডেম্বেলে। এই দুই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। World Cup 2026-এ আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন এমবাপে।
পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ফরাসি আধিপত্য

পুরো ম্যাচে ২০টি শট নেয় ফ্রান্স, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল লক্ষ্যভেদী। অন্যদিকে মরক্কো বলের দখল ধরে রাখলেও আক্রমণের শেষ মুহূর্তে কার্যকর হতে পারেনি। ৮৩ মিনিটে আজাদ্দিন ওনাহির একটি শট ছাড়া ফরাসি গোলরক্ষক মাইক ম্যাইঁনানকে বড় কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি।
ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপে সামান্য অস্বস্তি অনুভব করায় তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তাঁর চোট গুরুতর নয়।
Background: সাইবারির অনুপস্থিতি ভোগাল মরক্কোকে
মরক্কোর বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় ইসমায়েল সাইবারির অনুপস্থিতি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারেননি সদ্য বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে গোল করা সাইবারির অভাব আক্রমণে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
আশরফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও আজাদ্দিন ওনাহিরা মাঝমাঠে লড়াই করলেও ফাইনাল থার্ডে কার্যকর ফিনিশারের অভাবে একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়। ফলে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে টুর্নামেন্টে দারুণ লড়াই করেও শেষ আট থেকেই বিদায় নিতে হয় মরক্কোকে।
দেশঁর কৌশলেই ম্যাচের মোড়
ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ আবারও নিজের কৌশলগত দক্ষতার পরিচয় দেন। প্রথমার্ধে গোল না এলেও তিনি দলকে ধৈর্য ধরে খেলতে বলেন। বিরতির পর দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ বাড়ানোর পরিকল্পনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরিবর্ত হিসেবে নামা জঁ-ফিলিপ মাতেতা ও ব্র্যাডলি বারকোলা আক্রমণে নতুন গতি আনেন। পাশাপাশি অরেলিয়েন চুয়ামেনিকে বেঞ্চে রেখে শুরু করার সিদ্ধান্তও সফল প্রমাণিত হয়।
Official Statement
ম্যাচ শেষে ফরাসি শিবির জানায়, দল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে এবং দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ানোর কৌশল সফল হয়েছে। এমবাপের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলেও জানানো হয়েছে।
Impact: এমবাপের নতুন রেকর্ড, সেমিফাইনালে ফ্রান্স
এই ম্যাচে গোল করে চলতি World Cup 2026-এ নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে যান এমবাপে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত আটটি করে গোল করার নজিরও গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর মোট গোল-অবদান এখন ১৩, যেখানে গত ছয় দশকে তাঁর সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি।
Public Information
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নিজেদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করল ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কো বিদায় নিলেও গোটা টুর্নামেন্টে তাদের লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে। World Cup 2026-এর শেষ চারের লড়াইয়ে এখন সব নজর থাকবে ফরাসি শিবিরের দিকে।
No Comment! Be the first one.