সকাল সকাল ডেস্ক
প্যাকেটজাত চিপসের বদলে এবার বাড়িতেই তৈরি করুন মুচমুচে বিটের চিপস। স্বাদে দুর্দান্ত, পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই সহজ রেসিপি মন জয় করবে সকলের।
বর্ষার বিকেলে এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে মুচমুচে স্ন্যাকসের আনন্দই আলাদা। তবে বাজারের প্যাকেটজাত চিপস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে যদি ঘরেই স্বাস্থ্যকর কিছু তৈরি করা যায়, তাহলে স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব। Beet Chips Recipe এখন অনেকের কাছেই জনপ্রিয় একটি বিকল্প। পুষ্টিগুণে ভরপুর বিট দিয়ে তৈরি এই মুচমুচে চিপস যেমন সুস্বাদু, তেমনি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, Beet Chips Recipe অনুসরণ করে বেক বা এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি করলে তেলের ব্যবহার অনেকটাই কমানো যায় এবং বিটের পুষ্টিগুণও অনেকাংশে বজায় থাকে।
কেন বিটের চিপস বেছে নেবেন?

বিটে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, আয়রন, ফলেট, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাড়িতে তৈরি হওয়ায় এতে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রং বা অতিরিক্ত লবণ থাকে না। তাই শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক— সকলের জন্যই এটি হতে পারে একটি ভালো স্ন্যাকস।
কী কী উপকরণ লাগবে?
বিটের চিপস তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে—
- ১টি মাঝারি আকারের বিট
- আধা কাপ সাবুদানা
- আধা কাপ বিউলির ডাল
- ২–৩ টেবিল চামচ চিনির গুঁড়ো
- স্বাদমতো লবণ
- ১ চা চামচ ভাজা জিরার গুঁড়ো
- ১–২ চা চামচ তেল
- বিট সেদ্ধ করার জল
পরিবেশনের সময় স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন—
- গোলমরিচের গুঁড়ো
- পেঁয়াজের গুঁড়ো
- বিট লবণ
- চাট মশলা (ঐচ্ছিক)
কীভাবে বানাবেন বিটের মুচমুচে চিপস?

প্রথমে বিটের খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কেটে প্রায় ১০ মিনিট ভাপে সেদ্ধ করুন। ঠান্ডা হলে ব্লেন্ডারে মিহি করে পিউরি তৈরি করুন। বিট সেদ্ধ করার জল আলাদা করে রেখে দিন।
এরপর সাবুদানা ও বিউলির ডাল পরিষ্কার কাপড়ে মুছে শুকনো অবস্থায় মিহি গুঁড়ো করে চালনি দিয়ে চেলে নিন।
এবার ওই গুঁড়োর সঙ্গে চিনির গুঁড়ো, লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়ো, বিটের পিউরি এবং সামান্য তেল মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে বিট সেদ্ধ করার জল অল্প অল্প করে দিয়ে এমন একটি মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন, যা পাইপিং ব্যাগ দিয়ে সহজে বের করা যায়।
বেকিং ট্রেতে তেল ব্রাশ করে সরু ফিতার মতো করে ব্যাটার ছড়িয়ে দিন। এরপর ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ারে বেক করুন। চাইলে গরম তেলেও ভেজে নেওয়া যেতে পারে।
চিপস মুচমুচে হয়ে গেলে ওপরে গোলমরিচের গুঁড়ো, পেঁয়াজের গুঁড়ো বা বিট লবণ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
কীভাবে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বাড়বে?

এই চিপস গরম চা, কফি কিংবা লেবুর শরবতের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। শিশুদের টিফিনেও এটি দেওয়া যেতে পারে। টক-ঝাল স্বাদ পছন্দ হলে পরিবেশনের আগে সামান্য চাট মশলা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
এছাড়া টমেটো সস, দই-ডিপ বা পুদিনা-ধনেপাতার চাটনির সঙ্গেও এই চিপস দারুণ লাগে।
সংরক্ষণের উপায়
চিপস পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে কয়েক দিন পর্যন্ত এর মুচমুচে ভাব বজায় থাকবে। বেক করা চিপস সংরক্ষণ করলে খাওয়ার আগে কয়েক মিনিট এয়ার ফ্রায়ারে গরম করে নিলেও আবার খাস্তা হয়ে যায়।
পটভূমি
বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে ঘরে তৈরি স্ন্যাকসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও প্রিজারভেটিভযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে সবজি দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর বিকল্পের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিটের চিপস সেই প্রবণতারই একটি সুস্বাদু উদাহরণ।
স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব
বিটে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং আয়রন ও ফলেট রক্তস্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে ভাজা বা বেক করা যেকোনো স্ন্যাকসই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদদের মতে, ঘরে তৈরি স্ন্যাকস সবসময় প্যাকেটজাত খাবারের তুলনায় ভালো বিকল্প। বেক বা এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে তেলের ব্যবহার কম হয়, ফলে এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ বা মশলা ব্যবহার না করাই উত্তম।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাঁরা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় নতুন কোনও রেসিপি যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই এই ধরনের স্ন্যাকস খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
No Comment! Be the first one.