সকালের প্রথম পানীয় হিসেবে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার আগে জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কারা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন এবং কীভাবে নিরাপদে কফি পান করবেন।
সকাল সকাল ডেস্ক
দিনের শুরুতে এক কাপ ব্ল্যাক কফি অনেকের কাছেই শক্তি ও সতেজতার উৎস। ঘুম কাটানো, মনোযোগ বাড়ানো এবং কর্মব্যস্ত দিনের প্রস্তুতির জন্য অসংখ্য মানুষ সকালে প্রথমেই কফি পান করেন। তবে Black Coffee Empty Stomach নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন সতর্কবার্তা জানাচ্ছে, এই অভ্যাস সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাঁরা উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Black Coffee Empty Stomach অভ্যাসের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
কেন খালি পেটে ব্ল্যাক কফি সমস্যা তৈরি করতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট শরীরে কর্টিসল বা ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। এই হরমোন শরীরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতে এবং দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।
এই সময় খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন দ্রুত রক্তে মিশে কর্টিসলের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিরক্তি এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যাঁরা ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।
দ্রুত শোষিত হয় ক্যাফেইন

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খালি পেটে কোনও খাবার না থাকায় ক্যাফেইনের শোষণ ধীর করার মতো প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি বা জটিল শর্করা শরীরে থাকে না। ফলে ক্যাফেইন খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।
এতে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়লেও একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উদ্দীপ্ত হতে পারে। এর ফলেই অনেকের মধ্যে অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপের অনুভূতি বেড়ে যায়।
কারা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি থাকলে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান না করাই ভালো—
- উদ্বেগজনিত সমস্যা (Anxiety)
- দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
- অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা
- দ্রুত হৃদস্পন্দনের প্রবণতা
- ক্যাফেইনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
এই ধরনের শারীরিক বা মানসিক অবস্থায় সকালে খালি পেটে কফি পান করলে উপসর্গ আরও বাড়তে পারে।
তাহলে কি ব্ল্যাক কফি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের উত্তর— একেবারেই নয়। বরং কফি পান করার সময় এবং পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তাঁদের পরামর্শ—
- সকালের নাশতার পরে ব্ল্যাক কফি পান করুন।
- নাশতা সম্ভব না হলে অন্তত ফল, বাদাম, দই বা একটি টোস্ট খেয়ে নিন।
- একসঙ্গে অতিরিক্ত কফি পান করবেন না।
- বিকেল বা সন্ধ্যার পরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিন, যাতে ঘুমের সমস্যা না হয়।
খাবারের পরে কফি পান করলে ক্যাফেইনের শোষণ ধীরে হয় এবং শরীরের ওপর এর প্রভাবও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
ব্ল্যাক কফির উপকারিতাও রয়েছে

পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে ব্ল্যাক কফি পান করলে এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে, ক্লান্তি কমাতে এবং ব্যায়ামের সময় পারফরম্যান্স উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া কিছু গবেষণায় নিয়মিত ও পরিমিত কফি পানের সঙ্গে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং কিছু স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সুফল নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন এবং কফি পানের পরিমাণের ওপর।
পটভূমি
বিশ্বজুড়ে কফি অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্ল্যাক কফির স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে একাধিক গবেষণা প্রকাশিত হলেও, কখন এবং কীভাবে কফি পান করা উচিত, সে বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রভাব
যাঁদের উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সকালে খালি পেটে কফি পান করা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, সঠিক সময়ে ও পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ এবং উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক মানুষের শরীর ক্যাফেইনের প্রতি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাই কারও ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি কোনও সমস্যা তৈরি না করলেও, অন্য কারও ক্ষেত্রে একই অভ্যাস উদ্বেগ বা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়, অনিদ্রা, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার আগে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে কফি পানের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
No Comment! Be the first one.