বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় কেন পরানো হয়? জানুন হাজার বছরের ইতিহাস ও আসল কারণ

সকাল সকাল ডেস্ক

প্রাচীন মিশরের ঐতিহ্য, রোমানদের বিশ্বাস ও আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা—কেন এখনও বাঁ হাতের অনামিকাই বিয়ের আংটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ঠিকানা?

বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় কেন পরানো হয়—এই প্রশ্ন বহু মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি করে। বিয়ে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, আর সেই নতুন সম্পর্কের সূচনা হয় বাগদান বা আংটি বদলের মাধ্যমে। কিন্তু তর্জনী, মধ্যমা বা কনিষ্ঠা নয়, কেন যুগের পর যুগ ধরে অনামিকাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, রোমানদের বিশ্বাস এবং ভালোবাসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের মধ্যে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান এই বিশ্বাসের সবটুকু সমর্থন করে না, তবুও বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় কেন পরানো হয়—তার পেছনের গল্প আজও সমান আকর্ষণীয়।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

প্রাচীন মিশর থেকেই শুরু এই প্রথা

ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে প্রথম বিয়ের আংটি ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। তখন সোনা বা রুপোর আংটি নয়, বরং নলখাগড়া, খেজুরপাতা কিংবা গাছের আঁশ দিয়ে গোলাকার আংটি তৈরি করা হতো।

মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, বৃত্তের কোনও শুরু বা শেষ নেই। তাই গোলাকার আংটি অনন্ত ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং চিরস্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আংটি বিবাহবন্ধনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।

রোমানদের ‘ভালোবাসার শিরা’ বিশ্বাস

পরবর্তীকালে এই প্রথা রোমান সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ে। তখনই জন্ম নেয় একটি জনপ্রিয় ধারণা, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

রোমানদের বিশ্বাস ছিল, বাঁ হাতের অনামিকা থেকে একটি বিশেষ শিরা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে মিলেছে। এই শিরার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ভালোবাসার শিরা’। তাঁদের মতে, হৃদয় যেহেতু ভালোবাসার কেন্দ্র, তাই এই আঙুলে আংটি পরানো মানেই দুই মানুষের হৃদয়ের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করা।

এই বিশ্বাসই ধীরে ধীরে বিশ্বের বহু দেশে বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় পরার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী বলছে?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অবশ্য এই ঐতিহাসিক বিশ্বাসকে সমর্থন করে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহে এমন কোনও পৃথক শিরা নেই, যা কেবল বাঁ হাতের অনামিকা থেকে সরাসরি হৃদয়ে পৌঁছে যায়।

অর্থাৎ ‘ভালোবাসার শিরা’ একটি রোম্যান্টিক ঐতিহাসিক ধারণা, বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। তবে এই তথ্য জানার পরও প্রথাটির জনপ্রিয়তায় কোনও ভাটা পড়েনি। কারণ আংটির মূল্য তার ধাতুতে নয়, বরং তার প্রতীকী অর্থেই নিহিত।

বিশ্বের সব দেশে কি একই নিয়ম?

বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় কেন পরানো হয়—এই প্রশ্নের উত্তর সব দেশে এক নয়। বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতির কারণে এর ভিন্নতা দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও ইতালিসহ বহু পশ্চিমা দেশে এখনও বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার প্রচলন রয়েছে।

অন্যদিকে জার্মানি, রাশিয়া, পোল্যান্ড, নরওয়ে, ইউক্রেনসহ পূর্ব ইউরোপের একাধিক দেশে ডান হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরার রীতি অনুসরণ করা হয়। কোথাও ধর্মীয় বিশ্বাস, কোথাও পারিবারিক ঐতিহ্য, আবার কোথাও সাংস্কৃতিক প্রভাব এই পার্থক্যের কারণ।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

আধুনিক সময়ে বদলাচ্ছে রীতি

বর্তমান সময়ে অনেকেই ব্যক্তিগত পছন্দ, পেশাগত প্রয়োজন বা ফ্যাশনের কারণে ডান হাতে কিংবা অন্য আঙুলেও বিয়ের আংটি পরেন। অনেক দম্পতি আবার নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়েও সিদ্ধান্ত নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আংটি কোন আঙুলে পরবেন, তার কোনও বৈজ্ঞানিক বাধ্যবাধকতা নেই। এটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

পটভূমি

প্রাচীন মিশরের প্রতীকী আংটি থেকে শুরু করে রোমান সভ্যতার বিশ্বাস—হাজার বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজও বিয়ের আংটি ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের অন্যতম প্রতীক হিসেবে টিকে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে আংটির নকশা ও উপকরণ বদলালেও তার প্রতীকী গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রভাব

বিয়ের আংটি আজ শুধু একটি অলঙ্কার নয়, বরং সম্পর্কের প্রতি আস্থা, দায়িত্ববোধ, বিশ্বস্ততা এবং সারাজীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতির প্রতীক। তাই এই ঐতিহ্য এখনও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকায় কেন পরানো হয়—এর উত্তর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মধ্যে নিহিত। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও এই প্রথা আজও ভালোবাসা ও সম্পর্কের এক চিরন্তন প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়।

Read More News

শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, বৈদ্যনাথধাম-বাসুকীনাথে মোতায়েন হবে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে...

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে পুনর্নির্মিত পিস্কা ও মুরি রেলস্টেশনের সূচনা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের...

Read More