ছবি মুক্তির আগে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দেব, ব্যস্ততার মাঝেই দিলেন পুজো
সকাল সকাল ডেস্ক সামনেই নতুন ছবির মুক্তি। একদিকে ছবির প্রচার, অন্যদিকে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’র শুটিং—ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে দেবের। সেই কর্মব্যস্ততার মধ্যেই সময় বের করে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছলেন অভিনেতা। রবিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে পুজো দিয়ে জগন্নাথ দর্শন করেন তিনি। পরে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন। বর্তমানে দেবের নতুন ছবি ‘দেশু ৭’-এর প্রচার চলছে জোরকদমে। পাশাপাশি ‘দাদাগিরি’র শুটিং নিয়েও ব্যস্ত অভিনেতা। এর মধ্যেই তাঁর পুরী সফর এবং ছবি মুক্তির আগে জগন্নাথ দর্শন অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। ‘দেশু ৭’ ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে ফের একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে। একসময় বাংলা ছবির জনপ্রিয় জুটিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেব-শুভশ্রী। ফলে তাঁদের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিয়ার পাশাপাশি নতুন করে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার প্রকাশ্যে এসেছে ছবির আইটেম ডান্স নম্বর ‘ইলিশ-চন্দনা’। গানটি মুক্তির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে দেব ও ইধিকা পালের জুটি নিয়ে। জানা গিয়েছে, মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গানটির ভিউ ৭ লক্ষের গণ্ডি পার করেছে। এবারের দুর্গাপুজোয় অবশ্য বক্স অফিসে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে চলেছে ‘দেশু ৭’। একই সময়ে মুক্তির তালিকায় রয়েছে ‘একেন বাবু’, ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, ‘বহুরূপী’ এবং ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’-র মতো একাধিক বাংলা ছবি। ভিন্ন ঘরানার একাধিক ছবি একই সময়ে প্রেক্ষাগৃহে আসায় পুজোর বক্স অফিসের লড়াই জমে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সাল দেবের কেরিয়ারেও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর শুভশ্রীর সঙ্গে তাঁর জুটি বাঁধার খবর বিশেষ নজর কেড়েছে। নতুন গল্প ও নতুন প্রেক্ষাপটে এই জুটিকে ফের বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা। তার আগেই ছবির প্রচার ও শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে দেবের পুরী সফর সামনে এল। জগন্নাথ দর্শনের সেই মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। এবার পুজোর বক্স অফিসে ‘দেশু ৭’ দর্শকদের কতটা সাড়া পায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
৯ বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন আমির খান, মুক্তি পাবে ‘সিতারে জমিন পর’
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ ৯ বছরের বিরতির পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন আমির খান। তাঁর অভিনীত ২০২৫ সালের ছবি ‘সিতারে জমিন পর’ ২০২৭ সালের বসন্তে জাপানে মুক্তি পেতে চলেছে। ২০১৮ সালে ‘দঙ্গল’-এর পর এটিই হবে জাপানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত আমির অভিনীত প্রথম ছবি। যদিও তাঁর প্রযোজিত ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ ২০১৯ সালের অগস্টে জাপানে মুক্তি পেয়েছিল। জাপানের পরিবেশক গিক পিকচার্স ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ ছবিটির মুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। জাপানে ছবিটি ‘সিতারে! দ্য মিরাকল টিম অফ স্টারডাস্ট’ নামে মুক্তি পাবে। হিউম্যান ট্রাস্ট সিনেমা ইউরাকুচো, ইয়েবিসু গার্ডেন সিনেমা-সহ জাপানের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখানো হবে। এই ঘোষণার পাশাপাশি জাপানি দর্শকদের জন্য ছবিটির একটি অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও চালু করা হয়েছে। প্রচারে আমির খানকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত অভিনেতা হিসেবে তুলে ধরে ছবিটিকে হাসি-কান্না এবং জীবনের প্রতি এক হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ‘সিতারে জমিন পর’ নামটির সঙ্গে আমির খানের ২০০৭ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘তারে জমিন পর’-এর যোগসূত্র রয়েছে। তবে এটি সেই ছবির সরাসরি সিক্যুয়েল নয়, বরং আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে নির্মিত। ছবিটি ২০১৮ সালের স্প্যানিশ কমেডি ‘চ্যাম্পিয়নস’-এর অফিশিয়াল রিমেক। ছবিতে আমির অভিনয় করেছেন গুলশান নামে এক বাস্কেটবল কোচের চরিত্রে। বেপরোয়া আচরণ ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় সমস্যায় পড়ার পর তাঁকে সমাজসেবামূলক কাজের শাস্তি দেওয়া হয়। সেই সূত্রেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে তৈরি ‘সিতারে’ নামের একটি বাস্কেটবল দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব পান তিনি। প্রথমদিকে গুলশানের কাছে এই দায়িত্ব শুধুই শাস্তির অংশ ছিল। কিন্তু খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দলের সদস্যরা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। সাফল্য, ব্যর্থতা এবং মানুষের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকেও নতুন করে উপলব্ধি করতে শেখেন তিনি। আর এস প্রসন্ন পরিচালিত ‘সিতারে জমিন পর’-এ আমির খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন জেনেলিয়া দেশমুখ, গুরপাল সিং, ডলি আহলুওয়ালিয়া এবং ব্রিজেন্দ্র কালা। এছাড়াও ছবিতে আশিস পেন্ডসে, আরুশ দত্ত, আয়ুষ বনসালি, ঋষি শাহানি, গোপী কৃষ্ণান কে ভার্মা, ঋষভ জৈন, বেদান্ত শর্মা, সম্বিত দেশাই, নমন মিশ্র এবং সিমরন মঙ্গেশকর-সহ দশ জন নবাগত অভিনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। ভারতের পর এবার জাপানের দর্শকদের কাছে ‘সিতারে জমিন পর’ কতটা সাড়া ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে।
বক্স অফিসে জমজমাট লড়াই, ‘দ্য ভান’ থেকে ‘হনুমান অংশ’—রবিবার কে কত আয় করল?
সকাল সকাল ডেস্ক বক্স অফিসে এখন একাধিক ছবির মধ্যে জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্বাদের সিনেমা। একদিকে ‘হনুমান অংশ’ এবং ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ এখনও দর্শক টানছে, অন্যদিকে কুণাল খেমু পরিচালিত ‘ভাইব’-ও চলছে সিনেমা হলে। এরই মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তমন্না ভাটিয়া অভিনীত ‘দ্য ভান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’। সপ্তাহান্তে কোন ছবি বক্স অফিসে কত টাকার ব্যবসা করল, দেখে নেওয়া যাক। তৃতীয় দিনে বড় লাফ ‘দ্য ভান’-এর সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তমন্না ভাটিয়া অভিনীত ‘দ্য ভান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ মুক্তির পর থেকেই চর্চায় রয়েছে। দীপক কুমার মিশ্র ও অরুণাভ কুমার পরিচালিত এই অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন অনুপ সোনিও। ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন একতা কাপুর, শোভা কাপুর ও অরুণাভ কুমার। ছবিতে বিহারের একটি ‘অলৌকিক মন্দির’-কে ঘিরে গল্প এগিয়েছে। পাশাপাশি ছটপুজোর আবহও ছবির একটি গানে তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটি ৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। সপ্তাহান্তে সেই আয় আরও বেড়েছে। Sacnilk-এর হিসাব অনুযায়ী, রবিবার ছবিটির আয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। ফলে ভারতে তিন দিনে মোট নেট কালেকশন পৌঁছেছে ৩৩.২৫ কোটি টাকায়। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট গ্রস কালেকশন প্রায় ৪৩.১৫ কোটি টাকা। ৫২ দিন পরেও দাপট ‘হনুমান অংশ’-এর দীর্ঘদিন প্রেক্ষাগৃহে চলেও বক্স অফিসে চমক দেখিয়ে চলেছে ‘হনুমান অংশ’। ৭ অগস্ট মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে নিম করোলি বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শোভিনব সত্য। মাত্র ২ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ছবিটি মুক্তির পর থেকেই একের পর এক নজির গড়েছে। প্রথম দিনে মাত্র ১০ লক্ষ টাকা আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরে ছবিটির ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে। Sacnilk-এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম সপ্তাহে ছবিটি প্রায় ৪৪.৮০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। মুক্তির ৫২তম দিন, অর্থাৎ রবিবারেও ছবিটির আয় হয়েছে ৯ কোটি টাকা। এর ফলে ভারতে ‘হনুমান অংশ’-এর মোট নেট কালেকশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭.০৩ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট গ্রস কালেকশন প্রায় ৩৮৯.৮৫ কোটি টাকা। মাত্র ২ কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় এই বিপুল ব্যবসা ছবিটিকে বক্স অফিসের অন্যতম আলোচিত সাফল্যে পরিণত করেছে। চতুর্থ সপ্তাহে কমল ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’-র গতি ৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ শুরু থেকেই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছে। প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল ২৫.৭৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ৫৫ কোটি এবং তৃতীয় সপ্তাহে ১৯.৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে ছবিটি। তবে চতুর্থ সপ্তাহে এসে আয়ের গতি কিছুটা কমেছে। Sacnilk-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির ২৪তম দিনে অর্থাৎ রবিবার ছবিটির আয় হয়েছে প্রায় ১.৭০ কোটি টাকা। এর ফলে ভারতে মোট নেট কালেকশন দাঁড়িয়েছে ২২৭.০৫ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট গ্রস কালেকশন প্রায় ৩৩০.৭২ কোটি টাকা। ‘ভাইব’-এর আয় এখনও লাখের ঘরে অন্যদিকে কুণাল খেমু পরিচালিত ‘ভাইব’ বক্স অফিসে তুলনামূলক ভাবে ধীর গতিতে এগোচ্ছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রীতি জিন্টা, স্পর্শ শ্রীবাস্তব ও বংশিকা ধীর-সহ একাধিক অভিনেতা। কুণালের আগের পরিচালিত ছবি ‘মাডগাঁও এক্সপ্রেস’ দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল। সেই কারণে তাঁর নতুন ছবি নিয়েও প্রত্যাশা ছিল। মুক্তির প্রথম দিনে ‘ভাইব’ ১.৭০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। প্রথম সপ্তাহে ছবিটির মোট আয় ছিল ১১.৩৫ কোটি টাকা। Sacnilk-এর হিসাব অনুযায়ী, দশম দিনে অর্থাৎ রবিবার ছবিটি ৯০ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে। ফলে ভারতে ছবিটির মোট নেট কালেকশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তের বক্স অফিসে নতুন ছবি ‘দ্য ভান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ দ্রুত গতি বাড়ালেও দীর্ঘ ৫২ দিন পরেও ‘হনুমান অংশ’-এর শক্তিশালী ব্যবসা বিশেষ নজর কেড়েছে। অন্যদিকে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’-র আয় ধীরে ধীরে কমছে এবং ‘ভাইব’ এখনও বড় অঙ্কের ব্যবসার অপেক্ষায়।
ভারত সিরিজের আগে ধাক্কা, ২৫ শতাংশ বেতন কমছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের
সকাল সকাল ডেস্ক আগামী রবিবার থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে চলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সিরিজ দিয়েই ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের ঠিক আগে বড় ধাক্কা ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে। তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে শাই হোপ, আলজারি জোসেফদের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের উপরেও। দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার গোটা আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে তারা। সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপেই ক্রিকেটারদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, আর্থিক চাপ সামলে ভবিষ্যতে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা যেভাবে বোর্ডের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রশংসাও করেছে কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের ১২ মাসের চুক্তির আওতায় রাখা হলেও তাঁরা বেতন পাবেন সাত মাসের জন্য। বোর্ডের দাবি, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য আপাতত এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্বীকার করেছে, এই পরিস্থিতি আদর্শ নয়। তবে বর্তমান আর্থিক অবস্থায় খরচ কমানো ছাড়া বিকল্প পথও সীমিত। এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বহু ক্রিকেটার এমনিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলেন। জাতীয় দলের চুক্তি থেকে আয় কমে গেলে তাঁদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক আরও বাড়তে পারে। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বেতনেই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটের দুটি প্রতিযোগিতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেতন, ম্যাচ ফি, হোটেল, বিমানভাড়া এবং ম্যাচ আয়োজনের খরচও কমানো হচ্ছে। বোর্ডের মূল্যায়ন, গত প্রায় ১৫ বছরে বিভিন্ন খাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় প্রত্যাশিত আর্থিক ফল পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আইসিসি থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত পূরণ করতেও খরচে রাশ টানতে হচ্ছে। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্থিক সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সামনে।
শুটিংয়ে ভারতের সোনালি সাফল্য, এশিয়ান রেকর্ড কমলজিৎ-সুরুচির
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমসে শুটিং থেকে ফের সাফল্য পেল ভারত। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনা জিতলেন কমলজিৎ ও সুরুচি। শুধু শীর্ষস্থান দখল করাই নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নতুন এশিয়ান রেকর্ডও গড়লেন ভারতীয় শুটাররা। ফাইনালে তাঁদের সংগ্রহ ৪৮৪.৬ পয়েন্ট। বিশ্বরেকর্ডের থেকে মাত্র ৩.৮ পয়েন্ট পিছনে থামলেন তাঁরা। ফাইনালের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল কমলজিৎ ও সুরুচির হাতে। মাঝের দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জুটি ব্যবধান কমিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও ছন্দ হারাননি ভারতীয়রা। শেষ পর্যন্ত ৬.৬ পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করেন তাঁরা। ৪৮৪.৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত প্রথম স্থানে শেষ করে। ৪৭৮ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৪১৫.৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ব্রোঞ্জ জেতে ইরান। যোগ্যতাপর্ব থেকেই ছন্দে কমলজিৎ-সুরুচি ফাইনালের আগে যোগ্যতাপর্বেও দাপট দেখিয়েছিলেন ভারতীয় জুটি। শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট তুলে শীর্ষস্থান ধরে রাখেন কমলজিৎ ও সুরুচি। প্রথম সিরিজে তাঁদের সংগ্রহ ছিল ১৯৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় সিরিজের শেষে মোট স্কোর পৌঁছে যায় ৩৯১ পয়েন্টে। শেষ ২০টি শটের সময়ও ফাইনালে ওঠার অবস্থানে ছিলেন তাঁরা। চাপের মধ্যেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। এরপর পদকের লড়াইয়ে আরও নিখুঁত পারফরম্যান্স করে সোনার পাশাপাশি এশিয়ান রেকর্ডও নিজেদের নামে করেন। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতের সোনার পদকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই। ৫০ মিটার রাইফেলেও পদক ভারতের একই দিনে শুটিং থেকে ভারতের ঝুলিতে এসেছে আরও একটি পদক। পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন দলগত ইভেন্টে রুপো জিতেছেন ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমার, নীরজ কুমার ও রুদ্রাংশ পাতিল। যোগ্যতাপর্বে ঐশ্বর্য ৫৮৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। নীরজের স্কোর ৫৮৮ এবং রুদ্রাংশের ৫৮৫। তিন শুটারের সম্মিলিত স্কোর দাঁড়ায় ১৭৬২ পয়েন্ট। ১৭৬৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সোনা জেতে চিন। তৃতীয় স্থানে থেকে ব্রোঞ্জ পায় দক্ষিণ কোরিয়া। এবার নজর ব্যক্তিগত ফাইনালে। তবে ভারতীয়দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে থাকায় রুদ্রাংশ ব্যক্তিগত ফাইনালে নামতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী একটি দেশ থেকে সর্বোচ্চ দু’জন শুটার ব্যক্তিগত ফাইনালে অংশ নিতে পারেন। ফলে ভারতের পদকের আশা থাকবে ঐশ্বর্য ও নীরজের উপর।
এশিয়ান গেমসে বড় ধাক্কা, প্রথম রাউন্ডেই বিদায় সাত্ত্বিক-চিরাগের
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ সাফল্যের পাশাপাশি একের পর এক হতাশার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। যে সমস্ত ইভেন্টে ভারতের সোনা জয়ের সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হয়েছিল, সেখানেই প্রত্যাশিত ফল আসছে না। হাংঝাউ এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়া একাধিক ভারতীয় প্রতিযোগী এবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় খেতাব ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ব্যাডমিন্টন তারকা সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি। পুরুষদের ডাবলসে গতবারের সোনাজয়ী জুটি এবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন। থাই জুটির গতিতে থামলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ কয়েকদিন আগেই দলগত ইভেন্টের সেমিফাইনালে চিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জুটিকে হারিয়েছিলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। কাঁধের চোট কাটিয়ে ফেরার পর সাত্ত্বিক সম্প্রতি চায়না মাস্টার্সও জিতেছিলেন। ফলে ভারতীয় জুটিকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট। কিন্তু পুরুষদের ডাবলসে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারলেন না তাঁরা। শুক্রবার বিশ্বের পাঁচ নম্বর ভারতীয় জুটিকে হারিয়ে দেন থাইল্যান্ডের পক্কপন থিরারতসাকুল ও পিরাচাই সুখফুন। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলে লড়াই। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ নম্বরে থাকা থাই জুটির বিরুদ্ধে প্রথম গেম ২১-১২ ব্যবধানে জিতে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। কিন্তু পরের দুই গেমে ঘুরে দাঁড়ায় থাইল্যান্ড। দ্বিতীয় গেম ১৯-২১ এবং তৃতীয় গেম ১৪-২১ ব্যবধানে হারেন ভারতীয়রা। নেটের সামনে থাই জুটির নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুতগতির খেলাই পার্থক্য গড়ে দেয়। সাত্ত্বিক-চিরাগ তাঁদের পরিচিত শক্তিশালী স্ম্যাশের সুযোগও খুব বেশি পাননি। এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগের তিনটি সাক্ষাতেই জিতেছিলেন ভারতীয়রা। এবার সেই জয়ের ধারাও থেমে গেল। শুটিং থেকে ড্রেসাজ, একের পর এক পদক হাতছাড়া গত এশিয়ান গেমসে ভারত ২৮টি সোনা-সহ মোট ১০৭টি পদক জিতেছিল। কিন্তু এবার বেশ কয়েকটি ইভেন্টে আগের সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অশ্বারোহণের দলগত ড্রেসাজে হাংঝাউয়ে সোনা জিতেছিল ভারত। এবার হৃদয় ছেদা ও শ্রুতি ভোরাদের নতুন দল চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে। শুটিংয়েও এসেছে হতাশা। মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ব্যক্তিগত বিভাগে গতবার ভারত সোনা ও রুপো জিতেছিল। এবার মনু ভাকর পঞ্চম হয়েছেন। দলগত বিভাগেও গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত চতুর্থ স্থানে শেষ করে। ভিয়েতনামের সঙ্গে ১৭১৯ পয়েন্টে সমতা হলেও ‘ইনার টেন’-এর হিসাবে ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয় ভারতের। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলেও হাংঝাউয়ে সোনা এসেছিল। এবার কমলজিৎ ও বালাকৃষ্ণরা ফাইনালেই উঠতে পারেননি। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলও সোনা ধরে রাখতে পারেনি, তবে রুপো জিতেছে ভারত। নেই নীরজ, যোগ্যতা পেরোতে ব্যর্থ অন্নু অ্যাথলেটিক্সেও ধাক্কা খেয়েছে ভারত। মহিলাদের জ্যাভলিনে গতবারের চ্যাম্পিয়ন অন্নু রানি এবার যোগ্যতামান পেরোতে পারেননি। পুরুষদের জ্যাভলিনে নেই গতবারের সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া। গোড়ালির লিগামেন্টের চোটের কারণে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছেন। ফলে রোহিত যাদব ও যশবীর সিংয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে ভারতকে। এখন পর্যন্ত ভারতের ঝুলিতে এসেছে দুটি সোনা—মহিলা ক্রিকেট এবং সুরুচি-কমলজিতের মিক্সড দলগত শুটিং থেকে। সামনে পুরুষদের ক্রিকেট ও কবাডিতে খেতাব ধরে রাখার লড়াই রয়েছে। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকেও পদকের আশা রয়েছে। তবে একাধিক গতবারের চ্যাম্পিয়নের ব্যর্থতা ভারতের পদক অভিযানে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধোনির রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির হরমনপ্রীতের
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সোনার সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত নজির গড়লেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতেছে ভারত। হাংঝাউয়ের পর আইচি-নাগোয়া—টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। একই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের প্রতিযোগিতার ফাইনালে জয়ের নিরিখে মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে পিছনে ফেলেছেন হরমনপ্রীত। অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের ফাইনালে হরমনপ্রীতের জয়ের সংখ্যা এখন ১০। অন্যদিকে, ধোনির নেতৃত্বে দল জিতেছে ৯টি টি-টোয়েন্টি ফাইনাল। ২০০৭ সালে ধোনির নেতৃত্বেই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপেও ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। পাশাপাশি আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসকে পাঁচবার ট্রফি জিতিয়েছেন ধোনি। এই তালিকায় আটটি ফাইনাল জিতে রয়েছেন রোহিত শর্মাও। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২১৬ রান তোলে ভারত। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন স্মৃতি মন্ধানা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৪৯ রান করেন। ওপেনার শেফালি বর্মাও দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন, তবে মাত্র ২ রানের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেন। অধিনায়ক হরমনপ্রীত অবশ্য ব্যাট হাতে বড় রান পাননি। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ২৯ রান করেন, যা দলের সর্বোচ্চ। ভারতীয় বোলারদের দাপটে বড় জুটি গড়তে পারেননি শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। বল হাতে সবচেয়ে সফল দীপ্তি শর্মা। চার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। শেফালি বর্মা ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও নজর কাড়েন, নেন ২ উইকেট। শ্রেয়াঙ্কাও পান ২ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে ভারত। আর সেই জয়ের সঙ্গেই অধিনায়ক হিসেবে নতুন নজিরের মালিক হলেন হরমনপ্রীত কৌর।
রিল দেখে সঙ্গীকে ‘টক্সিক’ ভাবছেন? সাবধান!
সকাল সকাল ডেস্ক ফিটনেস, ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া—জীবনের প্রায় প্রতিটি বিষয়েই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সেই তালিকায় বাদ নেই প্রেম ও সম্পর্কও। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে প্রতিদিনই ভাইরাল হচ্ছে সম্পর্ক নিয়ে অসংখ্য রিল ও ভিডিও। সেখানে কখনও উঠে আসছে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, কখনও ‘টক্সিক পার্টনার’, ‘গ্যাসলাইটিং’ কিংবা ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর মতো শব্দ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল দেখে নিজের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজে তাঁকে বিচার করতে শুরু করলে উল্টে সম্পর্কেই তৈরি হতে পারে সমস্যা। কাউন্সেলর ও ফ্যামিলি থেরাপিস্ট অর্চনা সিংঘালের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক সংক্রান্ত সমস্ত কনটেন্টকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এর কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ব্যক্তিগত সীমারেখা বা ‘বাউন্ডারি’ তৈরি করা, মানসিক নির্যাতন কিংবা অসম্মানজনক আচরণ চিহ্নিত করার মতো বিষয়ে মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন বাস্তব জীবনের সাধারণ ঘটনা বা মতবিরোধকেও সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় কিছু শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘টক্সিক’ এবং ‘গ্যাসলাইটিং’-এর মতো শব্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক অনেক বেশি জটিল। সঙ্গী কোনও এক দিন খারাপ আচরণ করেছেন বা কোনও বিষয়ে আপনার সঙ্গে একমত হননি মানেই তিনি ‘টক্সিক’, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, একই ধরনের নেতিবাচক আচরণ তিনি বারবার করছেন কি না। নিজের ভুল বুঝতে পারার পর তা সংশোধনের চেষ্টা করছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি রিল দেখে কারও ব্যক্তিত্ব বা মানসিক অবস্থা বিচার করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। বাস্তব জীবনে একই ধরনের ঘটনার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। একই ভাবে, সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। দু’জন মানুষের চিন্তাভাবনা, পছন্দ, অভ্যাস এবং কোনও বিষয়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। তাই মতের অমিল হলেই সঙ্গী আপনার জন্য ‘সঠিক মানুষ নন’, এমন ধারণা তৈরি করা উচিত নয়। সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা জরুরি। তবে নিয়মিত অসম্মান, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কিংবা ম্যানিপুলেশনের মতো আচরণ দেখা গেলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার রিলকে সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি না বানিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
কোঁকড়া চুল রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? যত্ন নিন এই ৫ ধাপে
সকাল সকাল ডেস্ক কার্লি বা কোঁকড়া চুল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও তার যত্ন নেওয়া বেশ কঠিন। অনেকেরই অভিযোগ, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পরেও চুল রুক্ষ, শুষ্ক বা ফ্রিজ়ি হয়ে থাকে। কার্ল ক্রিম, সিরাম কিংবা বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করেও সমস্যার সমাধান হয় না। কেশচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় না থাকা। কোঁকড়া চুলের গঠনের কারণে মাথার তালুতে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক তেল বা সেবাম সহজে গোড়া থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। ফলে চুল তুলনামূলকভাবে দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। আবার অতিরিক্ত বা ভারী প্রডাক্ট ব্যবহার করলে চুল চিটচিটে ও ভারী দেখাতে পারে। তাই ত্বকের মতো চুলের ক্ষেত্রেও সঠিক হাইড্রেশন এবং উপযুক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন। প্রথমেই নজর দিতে হবে চুল পরিষ্কার করার দিকে। অতিরিক্ত ফেনা তৈরি করে এমন শক্তিশালী শ্যাম্পুর বদলে মৃদু ক্লিনজ়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু অনেকের ক্ষেত্রে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা চুলে হাইড্রেটিং কন্ডিশনার লাগিয়ে আঙুল বা বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে আলতোভাবে জট ছাড়িয়ে নিতে হবে। এতে চুলে অপ্রয়োজনীয় টান পড়ার সম্ভাবনা কমে এবং কার্লও সুন্দর থাকে। শাওয়ার থেকে বেরিয়ে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই লিভ-ইন কন্ডিশনার বা উপযুক্ত ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে রং করা বা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট নেওয়া চুলের জন্য চুলের ধরন অনুযায়ী প্রডাক্ট বেছে নেওয়া প্রয়োজন। এরপর চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত অল্প পরিমাণে হালকা কার্ল ক্রিম লাগিয়ে নিচ থেকে উপরের দিকে আলতোভাবে স্ক্রাঞ্চ করুন। এতে চুলের স্বাভাবিক কার্ল প্যাটার্ন আরও স্পষ্ট হতে পারে। সবশেষে কার্ল দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে অল্প পরিমাণ জেল বা মুস ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্টাইলিং প্রডাক্ট না লাগানোই ভালো। সঠিক ক্লিনজিং, কন্ডিশনিং ও হাইড্রেশনের নিয়ম মেনে চললে কোঁকড়া চুলের শুষ্ক ও ফ্রিজ়ি ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।
বর্ষায় জলবাহিত রোগের ঝুঁকি, সতর্ক থাকুন
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষা এলেই ডায়ারিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস এবং পেটের সংক্রমণের মতো জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ দূষিত পানীয় জল। বৃষ্টির মরশুমে যে কোনও সময় পানীয় জলের উৎস দূষিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জল দেখতে স্বচ্ছ এবং গন্ধহীন হলেই তা নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কারণ জলে থাকা বহু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু খালি চোখে দেখা যায় না। বর্ষার সময়ে বৃষ্টির জল, রাস্তার জমা জল, নর্দমার নোংরা জল কিংবা কৃষিজমি থেকে আসা রাসায়নিক মিশ্রিত জল পুকুর, কুয়ো বা অন্য পানীয় জলের উৎসে মিশে যেতে পারে। ফলে জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পানীয় জলের পাইপলাইন ফেটে গেলে তার মধ্যে নোংরা জল প্রবেশ করতে পারে। তাই এই সময়ে পানীয় জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। জলবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে জল ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জল যথাযথভাবে ফুটিয়ে নিলে অনেক ধরনের রোগজীবাণু নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। তবে জল ফুটিয়ে সব ধরনের দূষণ দূর করা যায় না। জলে সিসা, আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকলে তা ফুটিয়েও থেকে যেতে পারে। তাই এলাকার জলের মান অনুযায়ী উপযুক্ত ওয়াটার পিউরিফায়ার বা নিরাপদ পরিশোধন ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু পানীয় জল বিশুদ্ধ হলেই হবে না, জল রাখার পাত্রও পরিষ্কার থাকা জরুরি। বোতল, জগ, ফিল্টার এবং জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ট্যাঙ্ক পরিষ্কার না করলে সেখানে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির পাইপলাইনে কোনও ফাটল বা লিক রয়েছে কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। বর্ষায় রাস্তার ধারের কাটা ফল, শরবত, বরফ দেওয়া পানীয় এবং অপরিচিত উৎসের জল এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ সেগুলিতে ব্যবহৃত জল কতটা নিরাপদ, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। বাইরের খাবারের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। বাড়িতে খাবার তৈরির আগে হাত ভালোভাবে ধোয়া এবং রান্নায় নিরাপদ জল ব্যবহার করাও জরুরি। পানীয় জলের স্বাদ, গন্ধ বা রঙে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে সেই জল ব্যবহার না করে উৎস পরীক্ষা করা উচিত। বর্ষার মরশুমে নিরাপদ জল, পরিষ্কার পাত্র এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর রাখলেই জলবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।