কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, সবজি বিক্রেতা ঝান্ডু কুমারের হাতে এল ব্রোঞ্জ
সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো, ২৫ জুলাই: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদকের খাতা খুললেন বিহারের তরুণ প্যারা-পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের প্রথম পদক এনে দিলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির। বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা ২৮ বছরের ঝান্ডু কুমার বর্তমানে সবজি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি সফলভাবে ১৮১ কেজি ও ১৯০ কেজি ওজন তুলতে সক্ষম হন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তুলতে পারলে রুপোর লড়াইয়েও থাকতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন তিনি। একই ইভেন্টে ভারতের আরেক প্রতিযোগী সুধীর ১১৪.১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন। এই বিভাগে নাইজেরিয়ার ইদ্রিস রিলুওয়ান ১৩২.৮ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন। ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রুপো পান। ঝান্ডুর সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অর্থাভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। উন্নত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পুষ্টি কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। একসময় নিজের হুইলচেয়ারও ছিল না। পরে ধার করে একটি ই-রিকশার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে যাতায়াত সহজ হয়। সেই সংগ্রাম পেরিয়েই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। পদক জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ঝান্ডু বলেন, “এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সবার আগে আমি বাড়িতে মা-বাবাকে ফোন করব। তারপর গৌতম ভাইকে ফোন করব, যার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে অনুশীলন করেছি।” ঝান্ডু কুমারের এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “হেভিওয়েট প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক এনে দেওয়ার জন্য ঝান্ডু কুমারকে অভিনন্দন। তাঁর এই সাফল্য অদম্য সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতীক। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অর্জনে গোটা দেশ গর্বিত।” ঝান্ডুর এই পদক ভারতের অন্যান্য প্যারা-ক্রীড়াবিদদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছে ক্রীড়ামহল।
সাহালের একমাত্র গোলে ডার্বি জিতল মোহনবাগান, হতাশ করল দুই প্রধানের পারফরম্যান্স
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ডুরান্ড কাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে সাহাল আবদুল সামাদের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির। তবে ফলাফলের বাইরে ম্যাচে দুই দলের পারফরম্যান্সই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো আক্রমণ গড়ে তুলেছিল মোহনবাগান। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলকে বেশ ছন্নছাড়া দেখায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে লাল-হলুদের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সাহাল আবদুল সামাদ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। গোল খাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। বদলি হিসেবে নেমে মোহাম্মদ রশীদ আক্রমণে গতি আনলেও একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ম্যাচে আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। দুই দলই নতুন মরসুমে নতুন কোচের অধীনে খেলছে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও হাবাস এবং মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস—দু’জনেরই হাতে প্রস্তুতির সময় ছিল খুবই কম। সেই প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায় ম্যাচে। ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব, ঘনঘন ভুল পাস এবং আক্রমণ গঠনে সমন্বয়ের ঘাটতি নজরে আসে। ফিটনেসও দুই দলের অন্যতম দুর্বল দিক হিসেবে সামনে আসে। ম্যাচের মাঝামাঝি থেকেই অনেক ফুটবলারকে ক্লান্ত দেখায়। ফলে প্রত্যাশিত গতিতে খেলা এগোয়নি এবং দীর্ঘ সময় ম্যাচটি প্রীতি ম্যাচের মতোই নিষ্প্রভ ছিল। ম্যাচের শুরুতে কোনও দলই প্রথম একাদশে বিদেশি ফুটবলার রাখেনি। পরে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দানি রামিরেজ ও মোহাম্মদ রশীদ এবং মোহনবাগানের হয়ে দেজান দ্রাজিচ মাঠে নামেন। বিদেশি ফুটবলারদের নথিভুক্তিকরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠের অবস্থাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। অসমান ঘাস ও অনুপযুক্ত মাঠের কারণে ফুটবলারদের বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মরসুমের শুরুতেই চোটের ঝুঁকি নিয়েই খেলতে হয়েছে দুই দলের ফুটবলারদের। ডার্বিতে জয় পেলেও মোহনবাগান এবং হারলেও ইস্টবেঙ্গল—দুই দলকেই আগামী ম্যাচগুলিতে অনেক বেশি ছন্দে ফিরতে হবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
জিম্বাবোয়েকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল ভারত, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ট্রফির স্বাদ শ্রেয়স আইয়ারের
সকাল সকাল ডেস্ক হারারে: ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টানা টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের হতাশা কাটিয়ে অবশেষে জয়ের ছন্দে ফিরল ভারত। জিম্বাবোয়েকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের নামে করে নিল শ্রেয়স আইয়ারের দল। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলেন শ্রেয়স। গৌতম গম্ভীরের পরিবর্তে এই সফরে ভারতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিলেও দলে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি তিনি। এদিন অশোক শর্মার জায়গায় সুযোগ পান যশ ঠাকুর। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকন্দর রাজা। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। বৈভব সূর্যবংশী ৯ বলে ২০ এবং অভিষেক শর্মা মাত্র ৮ রান করে ফিরলেও ইনিংস সামলে নেন ঈশান কিষাণ ও তিলক বর্মা। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ২৫ রান করে আউট হন। তিন নম্বরে নেমে ঈশান কিষাণ ৪৪ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে, তিলক বর্মা মাত্র ২৯ বলে অপরাজিত ৬০ রান করেন। তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের রান ৫ উইকেটে ২১৯-এ পৌঁছে দেন। ২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের চাপে পড়ে জিম্বাবোয়ে। ব্রায়ান বেনেট ৩২ রান করে কিছুটা লড়াই করলেও অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওয়েসলি মাধেভেরে ২৪ রান করেন, আর অধিনায়ক সিকন্দর রাজা খাতা খুলতেই ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে ১২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মা বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ১৭ রানে ৩টি উইকেট নেন। যশ ঠাকুর ও প্রিন্স যাদব ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া রবি বিষ্ণোই, শিবম দুবে এবং তিলক বর্মা একটি করে উইকেট তুলে নেন। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য এগিয়ে গেল ভারত। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার পর এই সিরিজ জয় ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনল। একই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ট্রফি জিতে আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়ল শ্রেয়স আইয়ারের।
ইন্টার মিয়ামি নয়, চিলির কোলো কোলোয় বিশ্বকাপের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহা
সকাল সকাল ডেস্ক হায়দরাবাদ, ২৬ জুলাই: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ট্রান্সফার মার্কেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন কেপ ভের্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। তাঁর সঙ্গে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মিয়ামির যোগসূত্র নিয়েও জোর জল্পনা চলছিল। তবে সেই সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত চিলির শীর্ষ ক্লাব কোলো কোলোয় যোগ দিলেন তিনি। শনিবার সকালে কোলো কোলো আনুষ্ঠানিকভাবে ভোজিনহার চুক্তির ঘোষণা করে। বর্তমানে চিলির শীর্ষ লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে ক্লাবটি। ১৬ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা লিগে প্রথম স্থানে রয়েছে। মরশুমের মাঝপথেই দলে যোগ দিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু করলেন কেপ ভের্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। গত মরশুমে ভোজিনহা পর্তুগালের ক্লাব শ্যাভেসের হয়ে খেলেছিলেন। তবে ১ জুলাইয়ের পর ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি আর নবীকরণ হয়নি। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তাঁর বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যার ফলে একাধিক ক্লাব তাঁকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখায়। চলতি বিশ্বকাপে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে প্রথমবার অংশ নিয়েই নজির গড়েন ভোজিনহা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে কেপ ভের্দেকে চমকপ্রদ ড্র এনে দেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে তাঁর অনবদ্য গোলরক্ষণের উপর ভর করেই ইতিহাস গড়ে কেপ ভের্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নকআউট পর্বে পৌঁছে যায় আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি। যদিও রাউন্ড অব ৩২-এ অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের অভিযান শেষ হয়। বিশ্বকাপে ধারাবাহিক সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ভোজিনহা। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন গোল্ডেন গ্লাভ জিতলেও, সেরা একাদশের গোলরক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন কেপ ভের্দের এই তারকা। ২০১২ সালে কেপ ভের্দে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর এখনও পর্যন্ত ৯২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ভোজিনহা। ক্লাব ফুটবলেও পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, সাইপ্রাস এবং মলডোভার বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এবার সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই চিলির অন্যতম সফল ক্লাব কোলো কোলোর জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি।
ইতালির নতুন কোচ হতে চলেছেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি
সকাল সকাল ডেস্ক মিলান, ২৫ জুলাই: ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলো। একসময় জাতীয় দলে সতীর্থ থাকা জেন্নারো গাত্তুসোর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি থাকলেও আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে ব্যর্থ হয় ইতালি। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে গত এপ্রিলেই জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন কোচের খোঁজ শুরু করে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন। প্রথমে ফেডারেশনের পছন্দের তালিকায় ছিলেন কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গুয়ার্দিওলা। তবে আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকায় তাঁকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর গুয়ার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজি করানো যায়নি। এরপরই আন্দ্রে পিরলোর উপর আস্থা রাখে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন। ইতালির জার্সিতে ১১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই কিংবদন্তির সঙ্গে আগামী চার বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতি মরশুমে ২০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক পাবেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানেই পিরলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৮ ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোচিং ক্যারিয়ারে এর আগে জুভেন্টাস, সাম্পদোরিয়া এবং দুবাই ইউনাইটেডের দায়িত্ব সামলেছেন আন্দ্রে পিরলো। তবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম দায়িত্ব। ফুটবলার হিসেবে যেমন সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন, তেমনই কোচ হিসেবেও ইতালিকে আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের পথে ফেরাতে পারবেন কি না, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।
অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি করছেন? দৈনন্দিন ৬ অভ্যাসেই বাড়ছে ব্রণ ও বলিরেখার ঝুঁকি
সকাল সকাল ডেস্ক নিয়মিত স্কিনকেয়ার করেও যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলে, তাহলে শুধু প্রসাধনী নয়, নজর দিতে হবে দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কিছু ভুল অভ্যাসই ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে, ব্রণ বাড়ায় এবং অকালেই বলিরেখার ঝুঁকি তৈরি করে। ১. নোংরা বালিশের ওয়ার ব্যবহার প্রতিদিন বালিশের ওয়ারে তেল, ঘাম, ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া জমে। দীর্ঘ সময় সেই কাপড়ের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে ব্রণ, জ্বালাভাব ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার বালিশের ওয়ার পরিবর্তন করা উচিত। ২. বারবার মুখে হাত দেওয়া অজান্তেই অনেকেই বারবার মুখে হাত দেন বা ব্রণ খোঁচান। এতে হাতের জীবাণু ও ময়লা সরাসরি ত্বকের রোমকূপে পৌঁছে প্রদাহ, ব্রণ এবং কালো দাগের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ৩. অতিরিক্ত স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন উজ্জ্বল ত্বকের আশায় ঘন ঘন স্ক্রাব বা অ্যাসিডভিত্তিক এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হতে পারে। এর ফলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, লালচে ভাব ও ব্রণের প্রবণতা বেড়ে যায়। ৪. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মুখ ধোয়া দিনে বারবার মুখ ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে, যা শুষ্কতা ও ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ৫. অতিরিক্ত চিনি খাওয়া খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং কোলাজেনের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। ফলে ত্বক দ্রুত নিস্তেজ হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপ আগেভাগেই দেখা দিতে পারে। ৬. ঘরেও সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভিতরে থাকলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানালার কাচ ভেদ করে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, ট্যান এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে। সুস্থ ত্বকের জন্য কী করবেন? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ত্বক পেতে শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে সুস্থ, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
ঝাল খেলেই হেঁচকি? কেন হয়, আর কীভাবে মিলবে দ্রুত স্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক ঝাল বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খেলেই অনেকের হেঁচকি শুরু হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দ্রুত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা খাবার, এমনকি দীর্ঘক্ষণ হাসা বা কান্নার পরও হেঁচকি উঠতে পারে। সাধারণত জল খেলেই অনেকে স্বস্তি পান, তবে সবসময় তা কার্যকর হয় না। চিকিৎসকদের মতে, হেঁচকির আসল কারণ জানা থাকলে তা থামানোও সহজ হয়। কেন ওঠে হেঁচকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, হেঁচকি মূলত ডায়াফ্রামের আকস্মিক ও বারবার সংকোচনের ফল। ডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে। এই পেশি হঠাৎ সংকুচিত হলে ফুসফুসে দ্রুত বাতাস ঢোকে। একই সময়ে স্বরযন্ত্রের গ্লটিস অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ‘হিক’ শব্দের সৃষ্টি হয়। হেঁচকির সাধারণ কারণ হেঁচকি ওঠার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন— কীভাবে থামাবেন হেঁচকি? চিকিৎসকদের মতে, ‘টাং পুল মেথড’ অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। এই পদ্ধতিতে মুখ যতটা সম্ভব বড় করে খুলে জিভ বাইরে বের করে ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখতে হয়। প্রয়োজনে হাত দিয়ে জিভ আলতোভাবে ধরে রাখা যেতে পারে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ বার করলে ডায়াফ্রামের সংকোচন কমতে পারে। কিছু ঘরোয়া উপায় হেঁচকি কমাতে কয়েকটি সহজ উপায়ও কাজে লাগতে পারে— কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে হেঁচকি নিজে থেকেই থেমে যায়। তবে যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে বা খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই প্রতিবেদনটি চাইলে আরও এসইও-ফ্রেন্ডলি, গুগল ডিসকভার উপযোগী বা প্রিন্ট মিডিয়া স্টাইলেও সাজিয়ে দিতে পারি।
প্রথমবার ট্রেকিংয়ে যাচ্ছেন? নিরাপদ ও আরামদায়ক সফরের জন্য জেনে নিন জরুরি প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক ট্রেকিংয়ের আগে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চললেই প্রথম অভিযান হবে আরও নিরাপদ ও স্মরণীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে ট্রেকিং এখন অন্যতম জনপ্রিয় অভিযান। পাহাড়ি পথ, সবুজ বন, ঝরনা এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘ পথ হাঁটার অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই শরীর ও মনকে নতুনভাবে সতেজ করে। তবে প্রথমবার ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে শুধুমাত্র উৎসাহ থাকলেই চলবে না, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে রাখলে ট্রেকিং অনেক বেশি নিরাপদ, আরামদায়ক ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। ট্রেকিংয়ের আগে শরীরকে প্রস্তুত করুন প্রথমবার ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা করলে অন্তত এক মাস আগে থেকে শরীরচর্চা শুরু করা উচিত। প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা, হালকা দৌড়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে শরীর দীর্ঘ সময় হাঁটার জন্য প্রস্তুত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেকিংয়ের সময় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে পায়ের পেশি, হাঁটু এবং ফুসফুসের ওপর। তাই আগে থেকেই শরীরকে প্রস্তুত করা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মানসিক প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেকিং শুধু শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, এটি মানসিক ধৈর্যেরও পরীক্ষা। পাহাড়ে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, দীর্ঘ পথ হাঁটা, ক্লান্তি কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। এসব বিষয় আগে থেকেই মাথায় রেখে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করলে যেকোনো পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করা সহজ হয়। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অভিযানে অংশ নিলে পুরো ভ্রমণ আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। ব্যাগে যে জিনিসগুলি অবশ্যই রাখবেন ট্রেকিংয়ে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করে ব্যাগ গুছিয়ে নিন। অবশ্যই সঙ্গে রাখুন— ব্যাগ এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন যাতে প্রয়োজনের সময় সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ সঙ্গে রাখুন পুষ্টিকর খাবার ট্রেকিংয়ের সময় শরীরের শক্তি দ্রুত খরচ হয়। তাই এমন খাবার সঙ্গে রাখুন, যা দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। শুকনো ফল, বাদাম, কিশমিশ, কলা, আপেল এবং শস্যজাত শক্তিবর্ধক খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে শরীর ভারী লাগে এবং হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে। যেসব ভুল একেবারেই করবেন না প্রথমবার ট্রেকিং করতে গিয়ে অনেকেই নিজের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। শরীর ক্লান্ত লাগলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্রাম নিন এবং অতিরিক্ত চাপ নেবেন না। পানি কম পান করা, প্রয়োজনের চেয়ে ভারী ব্যাগ বহন করা বা অনুপযুক্ত জুতো ব্যবহার করাও বড় ভুল। এসব কারণে দুর্ঘটনা বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও আপনার ট্রেকিং মানেই প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখা ও উপভোগ করা। তাই পাহাড়, বন বা জলাশয়ের আশপাশে প্লাস্টিক, খাবারের মোড়ক বা অন্য কোনো বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করবেন না। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন। পরিবেশ রক্ষা করা প্রতিটি ভ্রমণকারীর নৈতিক দায়িত্ব। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যে ট্রেকিংয়ের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাহাড়ি অভিযানের ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতার কারণে অনেকেই প্রথমবার ট্রেকিংয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই বিশেষজ্ঞরা সচেতন পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। সম্ভব হলে অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের সঙ্গে যান এবং একা না গিয়ে দলবদ্ধভাবে অভিযানে অংশ নিন। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী পথ নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রথমবার ট্রেকিংয়ে গেলে নিরাপত্তাকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সঠিক সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতন আচরণ আপনার অভিযানকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলবে। মনে রাখবেন, সফল ট্রেকিংয়ের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব।
সম্পর্ক ভালো রাখতে সঙ্গীকে কোন কথাগুলো না বলাই ভালো? বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সকাল সকাল ডেস্ক প্রাক্তন সম্পর্ক, অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য ও নেতিবাচক মন্তব্য— কিছু বিষয় অযথা আলোচনা করলে সম্পর্কে বাড়তে পারে দূরত্ব, জানালেন বিশেষজ্ঞরা একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে। সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা অবশ্যই জরুরি, তবে তার অর্থ এই নয় যে জীবনের প্রতিটি তথ্য বা প্রতিটি ভাবনা সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেই হবে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভালো রাখতে সঙ্গীকে কোন কথাগুলো না বলাই ভালো— তা জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোন বিষয় ব্যক্তিগত রাখবেন, সেই সচেতনতাও সমান প্রয়োজন। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু আলোচনা ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক অস্বস্তি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা না করাই ভালো অনেকেই বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে নিজের আগের সম্পর্কের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তবে প্রাক্তন সঙ্গীকে নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা, তাঁর সঙ্গে বর্তমান সঙ্গীর তুলনা করা বা পুরোনো স্মৃতি বারবার তুলে আনা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সঙ্গীর মনে অস্বস্তি, ঈর্ষা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো, কিন্তু সেই অতীতকে বর্তমান সম্পর্কের মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়। বর্তমান সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ অন্যের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য প্রকাশ করবেন না বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত কেউ যদি আপনাকে বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জানিয়ে থাকেন, তাহলে সেই বিশ্বাস রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। শুধুমাত্র সঙ্গী বলে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা ঠিক নয়। এতে অন্য মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। একটি সুস্থ সম্পর্ক মানে শুধু একে অপরকে ভালোবাসা নয়, অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও সম্মান দেখানো। পরিবার বা বন্ধুদের নেতিবাচক মন্তব্য হুবহু বলবেন না অনেক সময় পরিবার বা বন্ধু আপনার সঙ্গী সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করতে পারেন। সেই মন্তব্য হুবহু সঙ্গীকে জানিয়ে দিলে অকারণে সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি তৈরি হতে পারে। যদি কোনো বিষয় সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং সম্পর্কের উন্নতির জন্য আলোচনা প্রয়োজন হয়, তাহলে তা শান্তভাবে, সম্মানজনক ভাষায় এবং সমাধানের উদ্দেশ্যে বলা উচিত। কিন্তু শুধুমাত্র কষ্ট দেওয়ার মতো মন্তব্য পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্বকে সম্মান করুন অনেকের ধারণা, ভালোবাসা মানেই সব তথ্য, সব পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত হিসাব একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে ব্যক্তিগত গোপনীয়তারও একটি স্বাভাবিক সীমা থাকে। পারস্পরিক সম্মতি ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তথ্য ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখা কখনোই সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাসের লক্ষণ নয়। বরং একে অপরের স্বাধীনতাকে সম্মান করা সম্পর্ককে আরও পরিণত করে তোলে। পটভূমি বর্তমান সময়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দ্রুত যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সহজে ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এর ফলে অনেক সময় আবেগের বশে এমন কিছু কথা বলা হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা সম্পর্কে সংযত ও সচেতন যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হলো সততা, পারস্পরিক সম্মান এবং সংবেদনশীলতা। সব বিষয় খোলাখুলি বলার চেয়ে কোন বিষয় কীভাবে বলা উচিত, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় তুলনা, অন্যের গোপন তথ্য প্রকাশ বা কষ্টদায়ক মন্তব্য এড়িয়ে চললে সম্পর্ক আরও সুস্থ ও স্থায়ী হতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা হলে তা শান্তভাবে আলোচনা করুন। আবেগের বশে এমন কথা বলবেন না, যা সঙ্গীর মনে আঘাত করতে পারে। একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, সব কথা বলাই প্রয়োজনীয় নয়; বরং সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলাই একটি সুখী ও সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম চাবিকাঠি।
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখেন? এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা
সকাল সকাল ডেস্ক ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বাড়াতে পারে মানসিক চাপ, চোখের ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখেন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নেওয়া এখন বহু মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। চোখ খুলেই বার্তা দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো কিংবা খবর পড়া—এসব যেন দিনের শুরুতেই নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং দিনের শুরুতেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। কেন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার ক্ষতিকর? ঘুমের সময় শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও বিশ্রাম নেয়। ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু সেই সময়ই যদি মোবাইলে অসংখ্য বার্তা, ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য দেখতে শুরু করা হয়, তাহলে মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এবং দিনের শুরুতেই মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে সকালে ঘুম ভাঙার সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। এই সময় নেতিবাচক খবর, কাজের বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা বিষয় দেখলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হলে তা সারাদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং কাজের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকালটা যতটা সম্ভব শান্তভাবে শুরু করাই ভালো। চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইলের উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকালে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। চোখের সুরক্ষার জন্য ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকা এবং সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে দিনের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালে নিজের কাজের পরিকল্পনা থেকে মন সরে যেতে পারে। অন্যের নানা পোস্ট বা খবরের কারণে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে কাজের গতি, মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর। যাঁরা নিয়মিত সকালে মোবাইল ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই দিনের শুরুতেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব মোবাইলের নীল আলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী মেলাটোনিন হরমোনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও রাতে মোবাইল ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, তবুও সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যবহার করাও শরীরের স্বাভাবিক জৈব ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর ফলে অস্থিরতা, মানসিক ক্লান্তি এবং সারাদিন অবসাদ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন এবং যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাসও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো। এই সময় এক গ্লাস জল পান, হালকা শরীরচর্চা, ধ্যান, প্রার্থনা, বই পড়া অথবা খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ও মন সতেজ থাকে। এতে দিনের শুরু ইতিবাচক হয় এবং কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের বদলে নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন আনতে পারলে মানসিক চাপ কমবে, মনোযোগ বাড়বে এবং দৈনন্দিন কাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা চোখের গুরুতর সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।