সকাল সকাল ডেস্ক
দুর্ভেদ্য প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে দীর্ঘ অপেক্ষা, বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে শেষ আটে উঠল ফ্রান্স।
FIFA World Cup 2026-এর নকআউট পর্বে সহজ জয়ের কোনও সুযোগ নেই, সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল ফ্রান্স। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভ্যাপসা গরম, প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ এবং কঠোর শারীরিক ফুটবলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিল দিদিয়ের দেশঁর দল। শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের নায়ক অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করে FIFA World Cup 2026-এর কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকে পৌঁছে দেন। এবার শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
প্যারাগুয়ের রক্ষণে আটকে গেল ফরাসি আক্রমণ

ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে। বলের দখল স্বেচ্ছায় ফ্রান্সকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের অর্ধে পাঁচ ডিফেন্ডার ও ঘন মিডফিল্ড নিয়ে শক্তিশালী রক্ষণব্যূহ গড়ে তোলে তারা।
ফলে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তারকারাও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেননি। প্রথমার্ধে ফ্রান্স বলের দখলে ৮০ শতাংশেরও বেশি সময় এগিয়ে থাকলেও সেই আধিপত্য গোলের সুযোগে পরিণত করতে ব্যর্থ হয়।
পরিসংখ্যানও সেই চিত্রই তুলে ধরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্সের এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.১৫। FIFA World Cup 2026-এর অন্যতম সেরা আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে প্যারাগুয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ।
শারীরিক ফুটবলে উত্তপ্ত ম্যাচ
শুধু রক্ষণ নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই কঠোর শারীরিক ফুটবল খেলেছে প্যারাগুয়ে। এমবাপেকে থামাতে বারবার শক্ত ট্যাকল এবং শরীরি চ্যালেঞ্জের আশ্রয় নেয় তারা।
এক পর্যায়ে জুয়ান ক্যাসেরেস বক্সের ভেতরে এমবাপেকে টেনে ধরলেও রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। পরে আন্দ্রেস কুবাসের একটি কঠোর ট্যাকলের পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়।
বদলি নেমে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন ডেজিরে দুয়ে

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা গেলে ৬০ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ। ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ উইঙ্গার ডেজিরে দুয়েকে।
তাঁর গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল প্যারাগুয়ের রক্ষণে নতুন চাপ তৈরি করে। বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের গতি বদলে দেন তিনি এবং FIFA World Cup 2026-এর এই নকআউট ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন।
এমবাপের পেনাল্টিতেই জয়ের হাসি

৭০ মিনিটের কিছু পরে আসে ম্যাচের নির্ধারণী মুহূর্ত। দ্রুতগতিতে বক্সে ঢোকার সময় ডেজিরে দুয়েকে ফাউল করেন দিয়েগো গোমেজ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর পরামর্শে রিপ্লে দেখে স্পট কিকের নির্দেশ দেন।
চাপের মুহূর্তে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে এসে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিলকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল এমবাপের সপ্তম গোল, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আরও এগিয়ে দিল।
Background: প্যারাগুয়ের লড়াকু অভিযান
এই ম্যাচের আগে প্যারাগুয়ে বড় চমক দেখিয়ে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছিল। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষেও তারা রক্ষণভিত্তিক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে দীর্ঘ সময় সফলভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি পেনাল্টিই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
Impact: সামনে মরক্কোর বড় চ্যালেঞ্জ
এই জয়ের মাধ্যমে FIFA World Cup 2026-এর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে।
ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সকে আরও কার্যকর আক্রমণ এবং দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে হবে।
Official Statement
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশলের প্রশংসা করে বলেন, প্যারাগুয়ে ফুটবলের সব ধরনের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে। তিনি আরও জানান, এমবাপেকে বারবার শারীরিক চাপে ফেলার চেষ্টা হওয়ায় দলের লম্বা ফুটবলারদের তাঁর কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
Public Information
ফিফার নকআউট সূচি অনুযায়ী, ফ্রান্স এখন কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ। তবে তাদের লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। FIFA World Cup 2026-এ ফ্রান্স আবারও দেখিয়ে দিল, নকআউট ফুটবলে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং সঠিক সময়ে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত জয়ের মূল চাবিকাঠি।
No Comment! Be the first one.