‘সারা রাত ঘুমোতে পারিনি’, সঞ্জু প্রসঙ্গে গম্ভীর
সকাল সকাল ডেস্ক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। এতটাই কঠিন ছিল সেই সিদ্ধান্ত যে, সারা রাত ঘুমোতে পারেননি ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের আগে জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জু স্যামসনকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বৈভব সূর্যবংশীর সুযোগ পাওয়া, শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্ব এবং ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স— একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন গম্ভীর। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের পরই প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টারে অভিষেক হয়েছিল তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে কয়েকটি ম্যাচের পরেই বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সেই সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। গম্ভীর জানিয়েছেন, কোচিং জীবনে সেটিই ছিল তাঁর অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে তিন-চারটি ম্যাচের পর বাদ দেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সঞ্জুর সঙ্গে সরাসরি এবং খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন তিনি। একই সময়ে বৈভব দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় এবং সিরিজ জয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়। গম্ভীরের মতে, দলের স্বার্থে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত সঞ্জুও ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। পরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দলে ফিরে টানা দুটি অর্ধশতরান করেন স্যামসন। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা বা বাইরের চাপ দেখে প্রথম একাদশ নির্বাচন করা যায় না। শেষ পর্যন্ত কোচ এবং অধিনায়ককেই ঠিক করতে হয় কোন কম্বিনেশন দলকে ম্যাচ জেতাতে পারে। কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সফল একটি কম্বিনেশন ভেঙে দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। তাই প্রতিভাবান কোনও তরুণকে অপেক্ষা করতে হলেও দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে শ্রেয়সের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দলের প্রয়োজনে নিজের ব্যাটিং পজিশন ছেড়ে দিতেও কখনও দ্বিধা করেন না শ্রেয়স। লেফট-রাইট কম্বিনেশন কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতেও তাঁর আপত্তি নেই। গম্ভীরের মতে, একজন অধিনায়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল নিঃস্বার্থ মানসিকতা। একজন ক্রিকেটার প্রচুর পরিশ্রমী কিংবা দলের সেরা ব্যাটার হতে পারেন, কিন্তু দলের স্বার্থে নিজের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে নেতৃত্ব পূর্ণতা পায় না। শ্রেয়সের মধ্যে সেই গুণ রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। ভারতীয় দলের সাময়িক ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনারও বিরোধিতা করেছেন গম্ভীর। কয়েকটি খারাপ ম্যাচ বা একটি সিরিজের ফলের ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের বিচার করা উচিত নয় বলে তাঁর মত। গত কয়েক বছরে দলের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। গম্ভীরের বক্তব্য, এক বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর তৃতীয় বিশ্বকাপের জন্য দলকে দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়নি, মাত্র ১৭ মাসের মধ্যেই এসেছে পরবর্তী সাফল্য। তাঁর মতে, তিনটি খারাপ ম্যাচ কোনও ক্রিকেটারকে রাতারাতি খারাপ খেলোয়াড়ে পরিণত করে না। একইভাবে সাময়িক ব্যর্থতায় একটি সফল দলও খারাপ হয়ে যায় না। তাই বারবার কম্বিনেশন বদলের পরিবর্তে ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখা এবং দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য।
এশিয়াডে ইতিহাস রোশিবিনার, টানা তিন আসরে পদক জিতে নজির
সকাল সকাল ডেস্ক আইচি-নাগোয়া : প্রাথমিক স্কোয়াডে নামই ছিল না। ট্রায়ালে দিব্যাংশী চৌধুরির কাছে হেরে তৃতীয়বার এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার স্বপ্নও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দিব্যাংশীর চোটে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান নাওরেম রোশিবিনা দেবী। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ইতিহাস গড়লেন মণিপুরের উশু তারকা। দেশের প্রথম উশু অ্যাথলিট হিসেবে টানা তিনটি এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের নজির গড়লেন তিনি। জাপানে মহিলাদের ৬০ কেজি স্যান্ডা বিভাগে রুপো জিতেছেন রোশিবিনা। এর আগে ২০১৮ জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ হ্যাংঝৌ এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফাইনালে ঝ্যাং শিয়াওজুর কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে সোনার স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে দুই রাউন্ডেই ০-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন ভারতীয় তারকা। সোনা হাতছাড়া হলেও ইতিহাস গড়তে অবশ্য সমস্যা হয়নি রোশিবিনার। সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তার আগে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভিয়েতনামের এনগুয়েন থি থু থুইকেও পরাজিত করেন। এশিয়ান গেমসে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিক পদক রয়েছে রোশিবিনার ঝুলিতে। ২০১৯ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনা এবং ২০২৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতেছিলেন কৃষক পরিবারের এই সন্তান। শেষ মুহূর্তে কীভাবে এশিয়াডের টিকিট ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে দিব্যাংশী চৌধুরির কাছে হেরে প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েছিলেন রোশিবিনা। পরে দিব্যাংশীর চোটের কারণে তাঁর সামনে সুযোগের দরজা খুলে যায়। তবে সেই দলবদল ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। পাতিয়ালার জাতীয় শিবিরে রোশিবিনার বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন দিব্যাংশী। তাঁর অভিযোগ ছিল, রোশিবিনা তাঁর ঘাড়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দিব্যাংশী আরও দাবি করেছিলেন, তাঁর পরিবারও হেনস্তার শিকার হয়েছে। চিকিৎসকদের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্র করে তাঁকে এশিয়ান গেমসের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তবে সর্বভারতীয় উশু ফেডারেশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানায়, রোশিবিনাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়, চোট ও চিকিৎসাজনিত কারণেই দিব্যাংশীকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জুনে চিনের হুবেইয়ে অনুষ্ঠিত উশু স্যান্ডা চ্যাম্পিয়নশিপে চোট পেয়েছিলেন দিব্যাংশী। প্রায় এক মাস পরে তিনি পাতিয়ালার জাতীয় শিবিরে যোগ দেন। শিবিরে অনুশীলনের সময় ফের অস্বস্তি অনুভব করায় তাঁর এমআরআই করা হয়। পরীক্ষায় হাঁটুর এসিএল-এ গুরুতর চোট ধরা পড়ে। রিপোর্ট স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হলে তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাইয়ের অর্থোপেডিক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিলেন বলে ফেডারেশনের দাবি। এই পরিস্থিতিতেই এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ পান রোশিবিনা। শেষ মুহূর্তে পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টানা তৃতীয় এশিয়াডে পদক জিতে ভারতীয় উশুর ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন মণিপুরের এই অ্যাথলিট।
তিন বছর পর দেশে ফিরছে আইপিএল নিলাম, ডিসেম্বরে আসর গোয়ায়
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ তিন বছর পর ফের ভারতের মাটিতে বসতে চলেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলাম। আগামী ডিসেম্বরে আইপিএলের মেগা বা মিনি নিলামের আসর বসবে গোয়ায়। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। এর ফলে টানা তিন বছর বিদেশে আইপিএল নিলাম আয়োজনের পর ফের দেশে ফিরছে তারকা ক্রিকেটারদের এই নিলামপর্ব। গত তিন মরসুমে ভারতের বাইরে আয়োজন করা হয়েছিল আইপিএলের নিলাম। ২০২৪ সালে দুবাই, ২০২৫ সালে জেড্ডা এবং ২০২৬ সালে আবু ধাবিতে বসেছিল নিলামের আসর। এবার সেই ধারা বদলে সৈকত শহর গোয়াকে বেছে নিয়েছে বিসিসিআই। দেশে নিলাম ফেরানোর বিষয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, টানা তিন বছর বিদেশে নিলাম আয়োজনের পর এবার তা ভারতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোয়াতেই হবে আগামী আইপিএলের নিলাম। এদিকে নিলামের প্রস্তুতির পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বিসিসিআই। আলোচনার অন্যতম বিষয় ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম। এই নিয়ম নিয়ে অতীতে একাধিক ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। বিসিসিআইয়ের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাইকিয়া জানিয়েছেন, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শ পাওয়ার পরই নিয়মটি রাখা হবে, না কি পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। আগামী আইপিএলের সূচিতেও পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ করে মে মাসের অতিরিক্ত গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়া এড়াতে প্রতিযোগিতা কিছুটা আগে শুরু করে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ১০ মার্চের মধ্যে আইপিএল শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ১৫ মে-র মধ্যে ফাইনাল শেষ করার লক্ষ্যও রাখা হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিসিসিআই।
হকিতে বিধ্বস্ত কোরিয়া, কবাডিতে পদকের আরও কাছে ভারত
সকাল সকাল ডেস্ক এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের দাপট অব্যাহত। বৃহস্পতিবার জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে একদিকে হকির টার্ফে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত করল ভারতীয় পুরুষ দল। অন্যদিকে কবাডিতে চাইনিজ তাইপেকে ৩৭-২১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। একই দিনে দুই দলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে পদকের আশা আরও উজ্জ্বল হল ভারতের। কাকামিগাহারার গ্রিন স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ক্রেগ ফুল্টনের দল। মাত্র চার মিনিটের মাথায় কঠিন কোণ থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন শিলানন্দ লাকড়া। দশম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান সুখজিৎ সিং। তার এক মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের নিখুঁত ড্র্যাগ ফ্লিকে স্কোর হয়ে যায় ৩-০। এরপরও ভারতের আক্রমণের গতি কমেনি। অভিষেক ও দিলপ্রীত সিং জোড়া গোল করেন। শেষ দিকে রাজিন্দর সিংয়ের গোল ভারতের বড় জয় নিশ্চিত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে কিম জে-হো এবং কিম ইয়ং বক দুটি গোল করলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ৮-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ভারত। পুল এ-তে টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারত। এর আগে ইন্দোনেশিয়াকে ১৩-১ এবং শ্রীলঙ্কাকে ১৬-১ গোলে হারিয়েছিল দল। শনিবার ভারতের পরবর্তী প্রতিপক্ষ জাপান। অন্যদিকে কবাডিতেও ভারতের জয়যাত্রা অব্যাহত। চাইনিজ তাইপেকে ৩৭-২১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ এ-র শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারতীয় পুরুষ দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আসলাম ইনামদার ও রাহুল শেঠপালের পারফরম্যান্সে চাপে পড়ে যায় চাইনিজ তাইপে। বিশেষ করে রাহুলের একের পর এক সফল ‘অ্যাঙ্কেল হোল্ড’ বিপক্ষের রেডারদের সমস্যায় ফেলে। প্রথমার্ধ শেষে ২৩-১১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। দ্বিতীয়ার্ধেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ভারত। দেবাঙ্ক দালাল ও অয়ন লোহচাব নিয়মিত পয়েন্ট এনে ব্যবধান আরও বাড়ান। ম্যাচে সফল রেড থেকে ২৮ এবং অলআউট থেকে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ভারত। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও বাংলাদেশকেও হারিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ২৫ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে নামবে ভারত। ১৯৯০ সালে এশিয়ান গেমসে কবাডি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ভারতীয় পুরুষ দল আটবার সোনা জিতেছে। এবার লক্ষ্য নবম সোনা। পুরুষদের পাশাপাশি ভারতের মহিলা কবাডি দলও দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। বাংলাদেশকে হারানোর পর ইরানের বিরুদ্ধে ৩৭-২৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা। তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ জাপান।
মালদ্বীপের সৈকতে অন্য মেজাজে নয়নতারা
সকাল সকাল ডেস্ক শুটিংয়ের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে মালদ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সোনালি বালুকাবেলা আর রোদ ঝলমলে পরিবেশে একেবারে ছুটির মেজাজে ধরা দিয়েছেন তিনি। সেই সফরের একাধিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিতেই নজর কেড়েছেন অনুরাগীদের। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপ সফরের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন নয়নতারা। ছবিতে তাঁকে সমুদ্রসৈকতে হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। চোখে স্টাইলিশ সানগ্লাস এবং মাথায় টুপি— সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর ক্যাজুয়াল হলিডে লুক প্রশংসা কুড়িয়েছে ভক্তদের। ছবির লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল পাতিনা মালদ্বীপ রিসোর্টকে ট্যাগ করেছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রের নীল জল এবং সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ছুটির মেজাজে থাকলেও কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। তাঁকে সম্প্রতি বড় পর্দায় ‘হাই’ ছবিতে দেখা গিয়েছে। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডিতে দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন কাভিন। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে ময়িল ও দেবায়ানি নামে দুই ভিন্ন স্বভাবের মানুষকে ঘিরে। বিশৃঙ্খলা, ভুল বোঝাবুঝি ও মিথ্যার জালের মধ্যে দিয়ে কীভাবে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। চেনা রোমান্টিক কমেডির কাঠামোর মধ্যেও বিভিন্ন নাটকীয় মোড় দর্শকদের আকর্ষণ করেছে। পর্দার ব্যস্ততা থেকে আপাতত কিছুটা দূরে নয়নতারা। আর সেই অবসর যে সমুদ্রের ধারে পুরোদমে উপভোগ করছেন অভিনেত্রী, মালদ্বীপ থেকে প্রকাশিত তাঁর ছবিগুলিই তার প্রমাণ।
রজনীকান্তের প্রতি শ্রদ্ধায় বড় পদক্ষেপ ধানুশের
সকাল সকাল ডেস্ক একসময় পারিবারিক সম্পর্ক ছিল তাঁদের। রজনীকান্ত ছিলেন ধানুশের শ্বশুর। সেই সম্পর্ক এখন অতীত হলেও বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রতি ধানুশের শ্রদ্ধায় যে কোনও ঘাটতি পড়েনি, তারই যেন প্রমাণ মিলল আরও একবার। রজনীকান্তের ছবির সঙ্গে বক্স অফিসে সরাসরি সংঘাত এড়াতে নিজের নতুন ছবি ‘ওম’-এর মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ধানুশ। বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত তামিল অ্যাকশন-থ্রিলার ‘ওম: চ্যাপ্টার ১ (উধিরাম—দ্য ব্লাড উড)’ নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবির গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্পীদের পাশাপাশি মম্মুট্টির মতো তারকার উপস্থিতি ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ১৬ অক্টোবর ‘ওম’-এর মুক্তির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তার ঠিক একদিন আগে, ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে রজনীকান্ত অভিনীত নতুন ছবি। একই সময়ে দুই ছবি মুক্তি পেলে বক্স অফিসে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারত। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই নিজের ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ধানুশ। তবে ‘ওম’-এর নতুন মুক্তির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ধানুশ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তা সত্ত্বেও রজনীকান্তের প্রতি সম্মান জানিয়েই তাঁরা এই পথে হাঁটছেন। ধানুশ জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে রজনীকান্তকে তাঁরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে এসেছেন। তাঁর ছবি ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ায় সেই তারিখকে সম্মান জানিয়ে ‘ওম’-এর মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু রজনীকান্তের ছবির সঙ্গেই নয়, দীপাবলির সময়ও অন্য বড় বাজেটের ছবির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে চাইছেন ধানুশ। তাঁর মতে, আগে থেকে ঘোষিত মুক্তির তারিখকে সম্মান করা চলচ্চিত্র শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। বড় ছবির নির্মাতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে তা গোটা ইন্ডাস্ট্রির পক্ষেই ইতিবাচক। প্রসঙ্গত, রজনীকান্তের বড় মেয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে ২০০৪ সালে বিয়ে হয়েছিল ধানুশের। দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২২ সালে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সেই অধ্যায় শেষ হলেও রজনীকান্তের প্রতি ধানুশের শ্রদ্ধার জায়গা যে অটুট, তাঁর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ফের সেই বার্তাই উঠে এসেছে।
সেরা অভিনেতার সম্মান নিয়ে গণপতির দরবারে কার্তিক
সকাল সকাল ডেস্ক ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান। গুজরাতে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের পর মুম্বইয়ের বিখ্যাত লালবাগচা রাজার মণ্ডপে গণপতির আশীর্বাদ নিতে পৌঁছে যান অভিনেতা। সঙ্গে ছিল সদ্য পাওয়া জাতীয় পুরস্কারও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই লালবাগচা রাজার দর্শনে পৌঁছেছেন কার্তিক। তাঁর পরনে ছিল হালকা নীল রঙের কুর্তা-পাজামা। স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্যে গণেশমূর্তির সামনে পৌঁছে প্রণাম করেন তিনি। এরপর জাতীয় পুরস্কারটি গণপতির চরণে স্পর্শ করিয়ে মাথা নোয়ান অভিনেতা। দর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন কার্তিক। জানান, এই সম্মান তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত। একই সঙ্গে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর লালবাগচা রাজার আশীর্বাদ নিতে পারাও তাঁর কাছে বিশেষ সৌভাগ্যের। হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমি ভীষণ খুশি। শুধু একটাই কথা বলতে চাই— গণপতি বাপ্পা মোরিয়া।” জাতীয় পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন কার্তিক। সেখানে আবেগঘন বার্তায় তিনি জানান, এত বড় সম্মান হাতে পাওয়ার অনুভূতি এখনও তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা ছেলের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত হিসেবেই এই সাফল্যকে দেখছেন অভিনেতা। ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী মুরলীকান্ত পেটকরের জীবন ও লড়াইকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন কার্তিক। এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচালক কবীর খান এবং প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। জাতীয় পুরস্কারের সাফল্যের পর কার্তিকের হাতে রয়েছে একাধিক ছবি। আগামী দিনে তাঁকে ‘নাগজিলা’, অনুরাগ বসুর পরিচালনায় একটি রোমান্টিক ছবি, কবীর খানের নতুন প্রজেক্ট এবং ‘ক্যাপ্টেন ইন্ডিয়া’-য় দেখা যাওয়ার কথা। বর্তমানে ‘ক্যাপ্টেন ইন্ডিয়া’-র শুটিং নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। জাতীয় পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর সেই সম্মান নিয়ে সরাসরি গণপতির দরবারে পৌঁছে যাওয়ার মুহূর্তটি ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।
‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ রণবীরের ভিন্টেজ লুকে চমক
সকাল সকাল ডেস্ক রক্তমাখা হাতে রণবীর, প্রকাশ্যে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর প্রথম লুক রক্তের দাগ, ক্লাসিক স্টাইল আর রহস্যে মোড়া অভিব্যক্তি— সঞ্জয় লীলা বনশালীর বহুপ্রতীক্ষিত ছবি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ রণবীর কাপুরের প্রথম লুক প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পোস্টারে একেবারে অন্য রূপে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা। রণবীরের সাজপোশাক থেকে শুরু করে গোটা পোস্টারের আবহে রয়েছে পুরনো দিনের ছোঁয়া। প্রকাশিত পোস্টারে নীলচে-সবুজ রঙের একটি ক্লাসিক ভিন্টেজ গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে রণবীরকে। চোখে গোল চশমা, ঠোঁটের উপর সরু পেন্সিল গোঁফ, পিছনের দিকে আঁচড়ানো চুল এবং পরনে হালকা রঙের নিটেড পোলো শার্ট। তাঁর মুখে শান্ত অথচ আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তি। তবে নজর কেড়েছে রণবীরের বাঁ হাত। গাড়ির বাইরে রাখা সেই হাতে স্পষ্ট ক্ষত ও রক্তের দাগ। একদিকে পরিপাটি, অভিজাত সাজ, অন্যদিকে রক্তাক্ত হাত— এই বৈপরীত্যই চরিত্রটিকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়েছে। পোস্টারের সামগ্রিক আবহেও রয়েছে ভিন্টেজ ছোঁয়া। পুরনো দিনের গাড়ি ও স্থাপত্যের উপস্থিতি ছবির সময়কাল সম্পর্কে ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথম লুক প্রকাশ করে নির্মাতাদের তরফে লেখা হয়েছে, ‘উহ রুতবা, উহ রৌব, উহ জুনুন!’ রণবীরের চরিত্রের ব্যক্তিত্ব ও তীব্রতার আভাস দিতেই এই ক্যাপশন বলে মনে করা হচ্ছে। ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফের সঞ্জয় লীলা বনশালীর পরিচালনায় কাজ করছেন রণবীর কাপুর। ২০০৭ সালে বনশালীর ‘সাঁওরিয়া’ দিয়েই বলিউডে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। ফলে এত বছর পর পরিচালক-অভিনেতার পুনর্মিলন ঘিরেও আগ্রহ রয়েছে দর্শকদের। ছবির তারকা তালিকাও নজরকাড়া। রণবীরের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশলকে। অর্থাৎ প্রথমবার এই তিন তারকাকে একই ছবিতে একসঙ্গে দেখা যাবে। হিন্দির পাশাপাশি তামিল ও তেলুগু ভাষাতেও ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’। প্রথম পোস্টারে রণবীরের রহস্যময় অবতার প্রকাশ্যে আসার পর এবার ছবিতে তাঁর চরিত্র ঠিক কেমন হতে চলেছে, তা জানার অপেক্ষায় দর্শকরা।
ব্যক্তিগত বিতর্ক যেন অভিনয়কে ছাপিয়ে না যায়, গোবিন্দাকে পরামর্শ অনুপম খেরের
সকাল সকাল ডেস্ক বলিউড অভিনেতা গোবিন্দাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। স্ত্রী সুনীতা আহুজার সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে চর্চার পাশাপাশি অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু গোবিন্দাকে নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দার অভিনয় প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন অনুপম। তাঁর কথায়, গোবিন্দা তাঁর দেখা অন্যতম সেরা অভিনেতা। একসঙ্গে প্রায় ১০-১২টি ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অনুপম জানান, অভিনয়, ইম্প্রোভাইজেশন কিংবা নাচ— সব ক্ষেত্রেই গোবিন্দার দক্ষতা অসাধারণ। তবে প্রশংসার পাশাপাশি বন্ধুকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন অনুপম। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা বা অভ্যাসকে কখনও এমন জায়গায় যেতে দেওয়া উচিত নয়, যাতে তা একজন শিল্পীর গোটা জীবন ও পেশাকে প্রভাবিত করে। সম্প্রতি মুম্বইয়ের লালবাগচা রাজার মণ্ডপে গণপতি দর্শনে গিয়ে ফের আলোচনায় আসেন গোবিন্দা। সেখানে তাঁর সঙ্গে কোমল রানি স্বর্ণকারকে দেখা যায়। গোবিন্দা সাদা কুর্তা-পাজামায় এবং কোমল লাল-হলুদ শাড়িতে মণ্ডপে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পরই সম্পর্ক নিয়ে পুরনো জল্পনা নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজাও একাই সেখানে গণপতি দর্শন করেছিলেন বলে জানা যায়। এর আগেও মুম্বই বিমানবন্দরে গোবিন্দা ও কোমলকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর তাঁদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে গোবিন্দার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাননি অনুপম খের। তিনি জানিয়েছেন, বন্ধুকে বিচার করার অধিকার তাঁর নেই এবং নিজের জীবন সম্পর্কে গোবিন্দাই সবচেয়ে ভাল বোঝেন। একবার গোবিন্দাকে ফোনও করেছিলেন তিনি। যদিও সেই সময় বিস্তারিত কথা হয়নি। অনুপমের কথায়, তিনি শুধু বন্ধুকে বলতে চান— কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়, এটিও একসময় কেটে যাবে। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কোনও না কোনও কঠিন অধ্যায় আসে। তাঁর আশা, গোবিন্দাও বর্তমান পরিস্থিতি সামলে আবার নিজের কাজে মন দেবেন। শেষে অনুপম খেরের প্রার্থনা, যাবতীয় বিতর্ক পিছনে ফেলে গোবিন্দা যেন দ্রুত নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসেন এবং অভিনয়ের মাধ্যমে আবার দর্শকদের মন জয় করেন।
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে উড়িয়ে এশিয়াডে ভারতের সোনার জয়
সকাল সকাল ডেস্ক নিশশিন: অপেক্ষার অবসান। এশিয়ান গেমসের তৃতীয় দিনে ভারতের ঝুলিতে এল বহুপ্রতীক্ষিত সোনা। মহিলাদের ক্রিকেটের ফাইনালে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল ভারত। স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর স্পিনারদের দাপটে কার্যত একপেশে হয়ে যায় ফাইনাল। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে রাখেন ভারতীয় ব্যাটাররা। বিশেষ করে স্মৃতি মন্ধানা ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ৩০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ৪৫ বলে ৭৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা। স্মৃতি ফেরার পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন বাংলার রিচা ঘোষ। চার নম্বরে নেমে মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসের সুবাদে শেষদিকে দ্রুত রান তোলে ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান করে টিম ইন্ডিয়া। ২১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় স্পিনারদের সামনে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ২৯ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও নজর কাড়েন শেফালি বর্মা। তিনি দুটি উইকেট নেন। দীপ্তি শর্মা ফেরান বিপজ্জনক আতাপাত্তুকে। শ্রী চরণিও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে ধস নামান। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষ ব্যাটার কৌশানি নুথ্যাঙ্গানাকে বোল্ড করে ভারতের ১৪৭ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। এর আগের এশিয়ান গেমসেও মহিলাদের ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল ভারত। এবারও ফাইনালে দাপট দেখিয়ে খেতাব ধরে রাখল হরমনপ্রীত কৌরের দল। এই জয়ের সঙ্গে এশিয়ান গেমসে ভারতের পদক তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি সোনা।