সকাল সকাল ডেস্ক
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় 15 Point Badminton Rule চালু করছে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া।
বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে আসতে চলেছে বড় নিয়ম পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের পরিচিত ২১ পয়েন্টের গেমের পরিবর্তে আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চালু হবে 15 Point Badminton Rule। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে ভারতীয় খেলোয়াড়দের আগে থেকেই মানিয়ে নিতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নতুন স্কোরিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (বিএআই)।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই দেশের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাগুলোতে নতুন ফরম্যাটে খেলা শুরু হবে। সংস্থার মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শাটলারদের দ্রুত নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জুলাই থেকেই শুরু নতুন ফরম্যাট

বিএআই জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১৪ জুলাই এর্নাকুলামে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া সিনিয়র র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টেই প্রথমবারের মতো 15 Point Badminton Rule ব্যবহার করা হবে।
শুধু সিনিয়র বিভাগ নয়, অনূর্ধ্ব-১১, অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯, সিনিয়র এবং মাস্টার্স—সব বয়সভিত্তিক জাতীয় প্রতিযোগিতাতেই ধাপে ধাপে এই নিয়ম চালু করা হবে। ফলে দেশের প্রতিটি স্তরের খেলোয়াড় বাস্তব ম্যাচের মাধ্যমে নতুন নিয়মের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের জন্য আগাম প্রস্তুতি
Badminton World Federation ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নতুন স্কোরিং পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। সেই কারণেই আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে চাইছে ভারত।
বিএআই-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় মিশ্র জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় হঠাৎ নতুন নিয়মের মুখোমুখি হলে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে। তাই সব বয়সের শাটলারদের এখন থেকেই 15 Point Badminton Rule অনুযায়ী ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“যত বেশি ম্যাচ খেলোয়াড়রা নতুন নিয়মে খেলবেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানিয়ে নেওয়া তত সহজ হবে।”
কী বদলাচ্ছে স্কোরিং পদ্ধতিতে?

নতুন নিয়মে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে প্রতিটি গেমের পয়েন্ট সংখ্যায়।
এতদিন একটি গেম জিততে ২১ পয়েন্ট লাগত। এখন 15 Point Badminton Rule অনুযায়ী সেই লক্ষ্য কমে দাঁড়াবে ১৫ পয়েন্টে। তবে ম্যাচের কাঠামো একই থাকবে—অর্থাৎ ম্যাচ এখনও বেস্ট-অফ-থ্রি গেমেই অনুষ্ঠিত হবে।
যদি কোনো গেমে দুই খেলোয়াড় বা জুটি ১৪-১৪ সমতায় পৌঁছে যায়, তাহলে অন্তত দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে গেম জিততে হবে। লড়াই যদি ২০-২০ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে যে খেলোয়াড় বা জুটি ২১তম পয়েন্ট অর্জন করবে, তারাই গেম জিতে নেবে।
অর্থাৎ ডিউসের পরেও অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খেলা চলবে না; সর্বোচ্চ ২১ পয়েন্টেই গেমের নিষ্পত্তি হবে।
বর্তমান নিয়ম
২১ পয়েন্ট
চলমান
নতুন নিয়ম
১৫ পয়েন্ট
নতুন
ম্যাচ ফরম্যাট
বেস্ট অব ৩ গেম
অপরিবর্তিত
বিরতির নিয়মেও পরিবর্তন
শুধু স্কোরিং নয়, ম্যাচ চলাকালীন বিরতির নিয়মেও বদল এসেছে।
বর্তমান নিয়মে একটি গেমে ১১ পয়েন্টে পৌঁছালে ৬০ সেকেন্ডের বিরতি দেওয়া হয়। নতুন 15 Point Badminton Rule অনুযায়ী সেই বিরতি নেওয়া হবে ৮ পয়েন্টে।
নির্ধারণকারী তৃতীয় গেমেও ৮ পয়েন্টে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়রা এক মিনিটের বিরতি পাবেন এবং তখন কোর্টের দিক পরিবর্তন করবেন। তবে দুটি গেমের মধ্যবর্তী ১২০ সেকেন্ডের বিরতির নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে।
কেন এই পরিবর্তন আনছে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন?

Badminton World Federation-এর মতে, নতুন স্কোরিং পদ্ধতির পেছনে একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
প্রথমত, ছোট গেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে। ফলে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়বে এবং ম্যাচের গতি আরও দ্রুত হবে।
দ্বিতীয়ত, ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমলে টেলিভিশন সম্প্রচার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সময় পরিকল্পনা করা সহজ হবে। দর্শকরাও আরও দ্রুতগতির প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পারবেন।
কমতে পারে চোটের ঝুঁকি
বিশ্ব ব্যাডমিন্টন কর্তৃপক্ষ মনে করছে, 15 Point Badminton Rule খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপও কিছুটা কমাবে। দীর্ঘ ২১ পয়েন্টের গেমে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। টানা টুর্নামেন্ট খেললে ক্লান্তি ও চোটের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ছোট গেমে ম্যাচের সময় কম হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক চাপও কমতে পারে। এতে গতি, রিফ্লেক্স, ফিটনেস এবং কোর্ট কাভার করার দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য কী বার্তা?
গত কয়েক বছরে ভারত আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। তাই বিশ্বব্যাপী নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিএআই।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আগেভাগে 15 Point Badminton Rule চালু হওয়ায় খেলোয়াড়রা শুধু নিয়ম জানবেন না, বাস্তব ম্যাচের অভিজ্ঞতাও অর্জন করবেন। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন ফরম্যাট কার্যকর হওয়ার পর ভারতীয় শাটলাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে শুরু হতে যাওয়া এই নতুন যুগের আগে ভারতের এই আগাম প্রস্তুতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.