সকাল সকাল ডেস্ক।
সামাজিক অংশগ্রহণ, শৈল্পিক উৎকর্ষ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের উপর ভর করে দশকের পর দশক ধরে নিজস্ব পরিচয় ধরে রেখেছে দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি।
Deshapriya Park Durga Puja নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুর্গাপূজা কমিটিগুলিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও দাবি সামনে এলেও, দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহাসিক দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যদের বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট। তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত Deshapriya Park Durga Puja কোনও রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়নি। বরং স্থানীয় বাসিন্দা, ক্লাব সদস্য এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণেই এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবের বিকাশ ঘটেছে।
প্রায় ৯০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বারোয়ারি দুর্গাপূজার আয়োজক। দীর্ঘ প্রায় নয় দশক ধরে এই পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
কমিটির সদস্যদের মতে, Deshapriya Park Durga Puja-এর মূল পরিচয় তৈরি হয়েছে তার অভিনব শিল্পভাবনা, সৃজনশীল মণ্ডপ, ব্যতিক্রমী প্রতিমা এবং বছরজুড়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা পৃষ্ঠপোষকতা এই পূজার পরিচয়ের অংশ নয়।
রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কী বলছে কমিটি?
সাম্প্রতিক সময়ে দাবি উঠেছে যে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য দেবাশিস কুমারের এই পূজা কমিটির উপর প্রভাব ছিল। তবে কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য দীপঙ্কর সেন সেই দাবি নাকচ করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, দেবাশিস কুমার স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের মতোই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু তিনি কখনও কমিটির সভাপতি, সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সভাপতি বা অন্য কোনও প্রশাসনিক পদে ছিলেন না। কমিটির সমস্ত সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সবসময় পদাধিকারী এবং সদস্যদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।
শৈল্পিক উৎকর্ষেই বিশ্বজোড়া পরিচিতি
Deshapriya Park Durga Puja আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশেষ পরিচিতি পায় ২০১৫ সালে। সেই বছর এখানে ৮৮ ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করা হয়, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর হাজার হাতের দুর্গা, মাহিষ্মতী মহল-অনুপ্রাণিত মণ্ডপ এবং আন্তর্জাতিক স্থাপত্যশৈলীর বিভিন্ন থিম এই পূজাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। প্রতি বছর নতুন শিল্পভাবনা এবং অভিনব পরিকল্পনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী পূজা।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
কমিটির মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি এই নিষ্ঠাই তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
বছরজুড়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড
দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটির আর এক প্রবীণ সদস্য গৌতম মৈত্র জানান, এই কমিটি শুধু দুর্গাপূজা আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়।
বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা আয়োজন করে—
- রক্তদান শিবির
- বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- ত্রাণ বিতরণ
- ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
- দুঃস্থ মানুষের সহায়তা কর্মসূচি
- বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ
এই ধারাবাহিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেই Deshapriya Park Durga Puja দক্ষিণ কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
অন্যান্য পূজা কমিটির থেকে কীভাবে আলাদা?
কলকাতার একাধিক বিখ্যাত দুর্গাপূজা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সক্রিয় ভূমিকার আলোচনা হয়েছে। তবে দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যদের দাবি, তাঁদের সংগঠন শুরু থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে থেকেছে।
তাঁদের মতে, এই পূজার সবচেয়ে বড় শক্তি হল স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। সেই কারণেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও এই পূজার মৌলিক চরিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার
কমিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, Deshapriya Park Durga Puja শুধু একটি দুর্গাপূজা নয়, এটি দক্ষিণ কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। শিল্প, ঐতিহ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের অংশগ্রহণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই প্রায় ৯০ বছর ধরে এগিয়ে চলেছে এই পূজা।
আগামী দিনেও একই ঐতিহ্য বজায় রেখে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায় দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি।
No Comment! Be the first one.