সকাল সকাল ডেস্ক।
Mitali Express, মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর জোর সম্ভাবনা। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক ও পরিকাঠামো পর্যালোচনার পর আশাবাদ বাড়ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে বলে আশা করা হচ্ছে। Mitali Express-সহ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক বৈঠক, ট্র্যাক ও পরিকাঠামো পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন যাত্রী, পর্যটন শিল্প এবং ব্যবসায়ী মহল।
ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম এই তিনটি ট্রেন—Mitali Express, মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেস। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফের ট্রেন চলাচল শুরু হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগে নতুন আশার আলো
রেল সূত্রের খবর, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। ট্রেন চলাচলের রুট, রেললাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের মধ্যেই Mitali Express-সহ তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
কী বলছে রেল কর্তৃপক্ষ?
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, Mitali Express চালুর বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়নি।

তাঁর বক্তব্য, রেল বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী ট্র্যাক, স্টেশন অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ের মূল্যায়ন চলছে। সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই পরিষেবা চালুর তারিখ ঘোষণা করা হবে।
কেন বন্ধ হয়েছিল ট্রেন পরিষেবা?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারত সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে Mitali Express, মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের যাত্রী পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছিল। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক, বাড়ছে সম্ভাবনা
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দেশের রেল আধিকারিকদের দ্বিতীয় বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক মতামত উঠে এসেছে। এর ফলে Mitali Express পুনরায় চালুর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
ভিসা পরিষেবা চালু হওয়ায় স্বস্তি
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবা আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে আসতে ইচ্ছুক বহু মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসার জন্য কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং ভারতের বিভিন্ন শহরে আসেন। তাঁদের কাছে Mitali Express এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের মাধ্যম।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি ট্রেন পুনরায় চালু হলে শুধু যাত্রী চলাচলই সহজ হবে না, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পর্যটন সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে।
রেল যোগাযোগ দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়াকে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা রয়েছে।
- মৈত্রী এক্সপ্রেস: ২০০৮ সালে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চালু হয়। এটি দুই দেশের প্রথম আধুনিক আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন।
- বন্ধন এক্সপ্রেস: ২০১৭ সালে কলকাতা ও খুলনার মধ্যে যাত্রা শুরু করে।
- Mitali Express: ২০২২ সালে নিউ জলপাইগুড়ি জংশন ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে চালু হয়, যা উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের যোগাযোগকে নতুন মাত্রা দেয়।
রেল বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই তিনটি ট্রেন পুনরায় চালু হলে সীমান্তের দুই প্রান্তের সাধারণ মানুষের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.