সকাল সকাল ডেস্ক
নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও বিরোধীদের সম্মান দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী; ওম বিড়লারও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
লোকসভা সচিবালয়ের ‘প্রাইড’ (গণতন্ত্র বিষয়ক সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নবনির্বাচিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজনৈতিক সৌজন্য, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও নবীন বিধায়কদের সংসদীয় শিষ্টাচার, আচরণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদ পরামর্শ দেন।
‘৩৪ বছর সিদ্ধান্ত হয়েছে পার্টি অফিসে’— তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে Suvendu Adhikari রাজ্যের অতীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পার্টি অফিস, বিধানসভার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি গত ১৫ বছরের শাসনকালেও বিরোধী প্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের বিধায়ক কিংবা সাংসদদের প্রশাসনিক গুরুত্ব প্রায় ছিল না বললেই চলে। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আচরণ করা হতো বলে তাঁর অভিযোগ।

বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে Suvendu Adhikari জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি বিধানসভায় বক্তব্য রাখা থেকে বিরত রাখতে তাঁকে একাধিকবার সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বর্তমান সরকারের অবস্থান ভিন্ন বলেই তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত দেড় মাসে অনুষ্ঠিত প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে দলমত নির্বিশেষে বিরোধী বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাঁদের এলাকার সমস্যা ও দাবিদাওয়াও গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নবীন বিধায়কদের দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
দু’দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে Suvendu Adhikari বলেন, বিধানসভার কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়নের পদ্ধতি এবং সংসদীয় আচরণ সম্পর্কে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের মনোযোগ দিয়ে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করে তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের সেই ইতিহাস জানা উচিত।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
ওম বিড়লার পরিসংখ্যান ও পরামর্শ
প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বর্তমান বিধানসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান বিধানসভায় ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ১৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ১৮১ জনই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন বিধায়কদের উচিত অতীতের বিধানসভা বিতর্ক, কার্যবিবরণী এবং অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য নিয়মিত অধ্যয়ন করা। এতে সংসদীয় কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে কার্যকর প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সুবিধা হবে।
জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়াই জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব
ওম বিড়লা আরও বলেন, বিধানসভায় শুধুমাত্র নিজের বক্তব্য রাখাই নয়, অন্য সদস্যদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনাও একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। নিজের এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সমস্যা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি নিয়মিতভাবে বিধানসভায় তুলে ধরা উচিত।
সরকার কোনও বিষয়ে একমত হোক বা না হোক, জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিধায়কদের দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি জনগণের মতামতকে যথাযথভাবে আইনসভায় তুলে ধরার মধ্যেই নিহিত।
বাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান
বাংলার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে ওম বিড়লা বলেন, একসময় বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে। বর্তমান সময়েও দেশের নজর বাংলার দিকে রয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হবে বাংলার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করা।
সরকারি কর্মসূচির তাৎপর্য
লোকসভা সচিবালয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় রীতি, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, এক বিধায়কের থেকে মানুষের আশা, প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে।এক বিধায়কের কী ভূমিকা? এই রাজ্যের কী আইন? রাজ্যবাসীর কী আশা, কী অবস্থা?- সবটা রাজ্যের উন্নয়নের সঙ্গে জুড়ে থাকে।
No Comment! Be the first one.