সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউটে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের লড়াইয়ে উঠল কলম্বিয়া, জয়ের নায়ক জন আরিয়াস।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখে শেষ আটের লড়াইয়ে জায়গা নিশ্চিত করল কলম্বিয়া। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ Colombia vs Ghana ম্যাচে জন আরিয়াসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লাতিন আমেরিকার দল। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল কলম্বিয়া। এখন প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
অন্যদিকে, ঘানার দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ নকআউট জয়ের স্বপ্ন আবারও অধরাই থেকে গেল। সাহসী লড়াই করেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বিদায় নিতে হলো ব্ল্যাক স্টারসদের।
Colombia vs Ghana: শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল

Colombia vs Ghana ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণভাগে নিজেদের শক্তি দেখানোর চেষ্টা করে। তবে ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যেই চোটের কারণে একটি করে পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় উভয় দল।
কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড জন কর্দোবা কুঁচকির চোটে মাঠ ছাড়লে তাঁর পরিবর্তে নামেন লুইস সুয়ারেজ। এই পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
জন আরিয়াসের গোলেই নির্ধারিত হলো ম্যাচ
ম্যাচের ১৪ মিনিটে আসে একমাত্র এবং নির্ণায়ক গোল। ডান দিক থেকে ড্যানিয়েল মুনোজের দুর্দান্ত পাস পেয়ে লুইস সুয়ারেজ নিখুঁত ক্রস বাড়ান। বক্সে ফাঁকায় থাকা জন আরিয়াস সহজেই বল জালে পাঠিয়ে কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই গোলের পর Colombia vs Ghana ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। প্রথমার্ধের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
ঘানার লড়াই, কিন্তু ভাঙা গেল না কলম্বিয়ার রক্ষণ

গোল হজম করার পর ঘানা মাঝমাঠের দখল বাড়িয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায়। তবে কলম্বিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ও নিয়ন্ত্রিত পাসিংয়ের সামনে তারা কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা কয়েকবার বক্সের কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি। পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি কলম্বিয়া।
বাতিল গোলেও বাড়েনি ব্যবধান
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। বায়ার্ন মিউনিখের তারকা লুইস দিয়াজ বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দেন।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ফলে Colombia vs Ghana ম্যাচে স্কোরলাইন ১-০-ই থেকে যায় এবং ঘানার প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে ছিল।
ম্যাচের সেরা পারফরমারদের মধ্যে লরেন্স জিগি

যদিও ঘানা পরাজিত হয়েছে, তবুও তাদের গোলরক্ষক লরেন্স জিগি ছিলেন ম্যাচের অন্যতম উজ্জ্বল পারফরমার। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে বড় ব্যবধানে হারার হাত থেকে রক্ষা করেন।
পুরো ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন জিগি। তাঁর অসাধারণ গোলকিপিং না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
ম্যাচের প্রভাব
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। আগামী ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় পেলেই বহু প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে, ঘানার বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ হলেও তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া এই দল ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা রেখে গেল।
অফিসিয়াল তথ্য
অফিসিয়াল ফল অনুযায়ী Colombia vs Ghana ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে কলম্বিয়া। ম্যাচের একমাত্র গোল করেন জন আরিয়াস। দ্বিতীয়ার্ধে লুইস দিয়াজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এই জয়ের ফলে কলম্বিয়া প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
সমর্থকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘদিন পর জয়ের স্বাদ পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে কলম্বিয়ার। তবে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচ হবে আরও কঠিন। অন্যদিকে, ঘানা বিদায় নিলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং গোলরক্ষক লরেন্স জিগির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলে প্রশংসিত হয়েছে।
Colombia vs Ghana ম্যাচ প্রমাণ করে দিল, নকআউট ফুটবলে একটি গোলই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। জন আরিয়াসের সেই গুরুত্বপূর্ণ গোল কলম্বিয়াকে শুধু জয়ই দেয়নি, বিশ্বকাপে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও জিইয়ে রেখেছে।
No Comment! Be the first one.