সকাল সকাল ডেস্ক
Women’s T20 World Cup 2026 ফাইনালে বেথ মুনির দুরন্ত ব্যাটিংয়ে লর্ডসে সাত উইকেটের জয়, সপ্তমবার বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া।
লন্ডন : Women’s T20 World Cup 2026-এর মহারণে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল অস্ট্রেলিয়া। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে সাত উইকেটে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া। এক বছরের বিরতির পর হারানো বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করে নারী ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল ক্যাঙ্গারু শিবির। ম্যাচের নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ ওপেনার বেথ মুনি, যার দুর্দান্ত ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে সহজ জয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
Women’s T20 World Cup 2026 ফাইনালের শুরুতেই বোলারদের দাপট

লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক সোফি মোলিনেক্স প্রথমে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইন ও লেংথ বজায় রেখে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে রাখেন।
কিম গার্থ, লুসি হ্যামিলটন, সোফি মোলিনেক্স এবং অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড প্রত্যেকে একটি করে উইকেট তুলে নেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় ইংল্যান্ড বড় স্কোরের দিকে এগোতে পারেনি। তবে শেষদিকে অধিনায়ক ন্যাট শিভার-ব্রান্ট এবং ফ্রেয়া কেম্প দুর্দান্ত জুটি গড়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন স্বাগতিকদের।
ন্যাট শিভার-ব্রান্ট ও কেম্পের লড়াই
ইংল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটার ব্যর্থ হলেও অধিনায়ক ন্যাট শিভার-ব্রান্ট অসাধারণ দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তিনি ৫৩ বলে ৫৮ রান করেন, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি চারের মার। অন্যদিকে ফ্রেয়া কেম্প মাত্র ২৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেন।
দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ড চার উইকেটে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। এই সংগ্রহ লড়াই করার মতো হলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না।
বেথ মুনি ও লিচফিল্ডের জুটি বদলে দিল ম্যাচ

১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই ওপেনার জর্জিয়া ভলের উইকেট হারায়। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বেথ মুনি এবং ফোবি লিচফিল্ড।
দুই বাঁহাতি ব্যাটারের ১০০ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডের জয়ের আশা কার্যত শেষ করে দেয়। লিচফিল্ড ৩৫ বলে ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। যদিও অর্ধশতরান থেকে বঞ্চিত হন, তাঁর ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
অন্যদিকে বেথ মুনি বড় ম্যাচে আবারও নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। মাত্র ৪৯ বলে ৬৪ রানের দুরন্ত ইনিংসে তিনি ১০টি চারের মার হাঁকান। গোটা ইনিংস জুড়ে তিনি রান তোলার গতি ধরে রেখে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে রাখেন।
সহজ জয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ

মুনি ও লিচফিল্ড আউট হলেও জয়ের পথে আর কোনও বাধা আসেনি। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এলিস পেরি অপরাজিত ১৩ এবং অ্যাশলে গার্ডনার অপরাজিত ৩ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
মাত্র ১৭.১ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলে সাত উইকেটের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। Women’s T20 World Cup 2026-এ এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সপ্তমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে ইতিহাসে আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করল।
পটভূমি
২০১৮, ২০২০ ও ২০২৩ সালে টানা তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে শিরোপা হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই হতাশা কাটিয়ে ২০২৬ সালে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে দলটি প্রমাণ করল যে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের ক্ষেত্রে তাদের সমকক্ষ এখনও কেউ নেই।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
ফাইনাল শেষে অধিনায়ক সোফি মোলিনেক্স দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। ম্যাচসেরা বেথ মুনিও দলের সমর্থন ও পরিকল্পিত ক্রিকেটকেই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
Women’s T20 World Cup 2026-এর এই ঐতিহাসিক ফাইনাল নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এই জয় নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ফাইনালে অসাধারণ ৬৪ রানের ইনিংস খেলে বেথ মুনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। শুধু তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে ২৩৮ রান করে তিনি Player of the Tournament নির্বাচিত হন। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে সপ্তম বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া আবারও প্রমাণ করে দিল, নারী টি-২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দল তারাই।
No Comment! Be the first one.