সকাল সকাল ডেস্ক
FIFA World Cup 2026-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে ১০ জন নিয়েও ৩-২ ব্যবধানে মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড, এবার অপেক্ষায় নরওয়ের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ লড়াই।
মেক্সিকো সিটি : FIFA World Cup 2026-এর শেষ ষোলোর অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ভেন্যু অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল থ্রি লায়ন্স। জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোল এবং অধিনায়ক হ্যারি কেনের পেনাল্টি থেকে করা গোলের সৌজন্যে প্রতিকূল পরিবেশেও জয় তুলে নিল টমাস টুখেলের দল। এবার শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে দুরন্ত ছন্দে থাকা নরওয়ে।
FIFA World Cup 2026-এ অ্যাজটেকার কঠিন পরীক্ষায় সফল ইংল্যান্ড

ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনায় ছিল অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা ও পাতলা বাতাস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে ইউরোপীয় দলগুলোর খেলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার নজির রয়েছে।
ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের শারীরিক প্রস্তুতি এবং উচ্চতার প্রভাব কাটাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে ম্যাচের আগে কোচ টমাস টুখেল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন কোনও তথ্যের ভিত্তি নেই। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, ম্যাচের প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে।
বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স
এক ঘণ্টার বৃষ্টিবিঘ্নের পর ম্যাচ শুরু হলেও শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই। ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলের প্রথম গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। মাত্র দুই মিনিট পরে আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তাঁর এই জোড়া গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এবং ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
১০ জন নিয়েও দুর্দান্ত লড়াই

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৫৬ মিনিটে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় টমাস টুখেলের দলকে।
কিন্তু সংখ্যায় পিছিয়ে পড়েও আত্মবিশ্বাস হারায়নি ইংল্যান্ড। ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। চলতি FIFA World Cup 2026-এ এটি ছিল তাঁর ষষ্ঠ গোল, যা গোলদাতাদের তালিকায় তাঁর অবস্থান আরও মজবুত করে।
মেক্সিকোর প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা ব্যর্থ

৬৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের বক্সে ফাউলের ঘটনায় ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। ৬৯ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন রাউল হিমেনেস।
এরপর শেষ ২০ মিনিটে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। হেসুস গায়ার্দো, আলভারো ফিদালগো এবং বদলি সান্তিয়াগো হিমেনেস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
যোগ করা সময়ে হ্যারি কেন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও শেষ পর্যন্ত ফলাফল বদলায়নি। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
পটভূমি
অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আবেগ ও ইতিহাসে ভরপুর একটি ভেন্যু। এই মাঠেই অতীতে বিশ্বকাপের স্মরণীয় ম্যাচগুলোর সাক্ষী ছিল ফুটবল বিশ্ব। FIFA World Cup 2026-এ সেই মাঠেই কঠিন পরিবেশ, স্বাগতিক দর্শকদের চাপ এবং উচ্চতার চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস লিখল থ্রি লায়ন্স।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে কোচ টমাস টুখেল দলের মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং প্রতিকূল পরিবেশে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ১০ জন নিয়ে খেলার পরও দল যেভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, সেটিই এই জয়ের মূল কারণ।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
এই জয়ের ফলে FIFA World Cup 2026-এর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বাধীন নরওয়ে, যারা শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হ্যারি কেন বনাম আর্লিং হালান্ডের এই মহারণ ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
No Comment! Be the first one.