পূর্ব রেলে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন। মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন। পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সরকারি বাসের ধাক্কা; মৃত ২, আহত অন্তত ২৯
জলপাইগুড়ি:- জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির উল্লা ডাবরী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সরকারি বাস ধাক্কা মারায় রবিবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে এক শিশু-সহ তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী একটি সরকারি বাস ময়নাগুড়ির দোমনী ও উল্লা ডাবরীর মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছলে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
ঝড়-বৃষ্টির দাপটে মধ্য কলকাতায় বিপত্তি, গাছ ভেঙে যানজট
কলকাতা : সকাল গড়াতেই কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি । এই দুর্যোগের মধ্যেই চাঁদনি চকের অদূরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের উপর আচমকা উপড়ে পড়ে একটি বড় গাছ। মুহূর্তের মধ্যেই ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজনৈতিক বার্তা, শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে মোদী–শাহ, তোপ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়। সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা। সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
দমদম বিমানবন্দর-কাণ্ডে অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ, চরমে রাজনৈতিক উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দিল্লি সফর শেষে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই বিক্ষোভ ও হাতাহাতির পরিস্থিতির মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম বিমানবন্দর কাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর শনিবার তিনি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে বিজেপি নেতৃত্বের যোগসাজশ রয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত উস্কানি তৈরি করা হয়েছে। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেখানে হলুদ পোশাক পরা এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির নাম উত্তম দাস বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি করেন, তিনি দমদম এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি নেতা। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই যুবকের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার আরও কিছু প্রমাণও তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতের দিক থেকে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জমায়েত করেন একদল বিজেপি সমর্থক, যাদের হাতে ‘ডিম’ ছিল বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অভিষেককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন এবং দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিমানবন্দর চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে এনএসসিবিআই থানার পুলিশ মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ এবং ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল দাবি করছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত উস্কানি। ঘটনাটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হবে এবং যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পুলিশ ও রাজনৈতিক মহল ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস, চাপে বিশ্বাস ব্রাদার্স
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো আয়োজক নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার সামনে এল জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি দাবি করেছে, তাদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্লাবঘর এবং পুজোর বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে ক্লাবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। শনিবার এলআইসি-র প্রতিনিধিরা সুরুচি সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেন। সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরের অত্যন্ত মূল্যবান ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০ এবং ৫০১ নম্বর চারটি বাণিজ্যিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। এই জমিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণকাজও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ওই জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এলআইসি সূত্রে দাবি, জমি দখল নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধারে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ১৮ জুলাইয়ের সময়সীমাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসও তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস বিশ্বাস পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এখন নজর ১৮ জুলাইয়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা হয় কি না এবং এলআইসি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২০ জুন : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাসভবনে গেল রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সকালে তদন্তকারীদের একটি দল বালিগঞ্জের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে আধিকারিকরা তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তারপর সেখান থেকে রওনা দেন। তদন্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি তিনি দাবি তোলেন, যাঁরা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তিনি বলেন, প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষরের সময় সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলেন, তাই অভিযোগকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল বলে জানানো হয়। তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ সেই চিঠি গ্রহণ করেননি এবং ওই স্বাক্ষরে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অধ্যক্ষের কাছে স্বাক্ষর জালিয়াতির এই লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই ঘটনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন এবং তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়। অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। এরপর শোভনদেব ডিভিশন বেঞ্চে আপিল দায়ের করেন, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকার এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে সঁপেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়াও সিআইডি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যে বহু বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছেন আধিকারিকরা, আবার অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সিআইডি আধিকারিকরা তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ দিতে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দিল্লিতে থাকায় তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য নোটিশ নিতে রাজি হননি। সূত্র মারফত জানা গেছে, সিআইডি দল শনিবার আবারও তাঁর আবাসে যেতে পারে।
লুকোচুরি শেষ, পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা
সকাল সকাল ডেস্কফলতা, ২০ জুন : লুকোচুরি শেষ, এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিও। গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার চক্রান্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই থানা ঘেরাও করা হয়েছিল। থানায় হামলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজিনা বিবি ছিলেন পলাতক, অবশেষে তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, ফলতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির। এই ফলতায় পুনর্নির্বাচনও হয়েছিল। পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ, অযোধ্যা পাহাড়ের রিসোর্টের সামনে চলল বনদপ্তরের বুলডোজার
সকাল সকাল ডেস্ক সংবাদদাতা রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যে কড়া অভিযান চলছে, তার বড়সড় প্রভাব পড়ল এবার অযোধ্যা পাহাড়ে। বনদপ্তরের জায়গা বেআইনিভাবে দখল করে রিসোর্টে ঢোকার রাস্তা তৈরি করার অপরাধে, শনিবার বুলডোজার দিয়ে সেই রাস্তা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগমুন্ডি থানার অযোধ্যা পাহাড় এলাকার ‘গ্রিনভিলা’ নামক একটি রিসোর্টের সামনে। বনদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বনদপ্তরের জমি দখল করে রাস্তাটি বানিয়েছিল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। জেলাজুড়ে চলা অবৈধ দখলদারি রুখতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে এদিন চরম সমস্যায় পড়তে হয় রিসোর্ট মালিকদের। অন্য দিকে, রাস্তা ভেঙে দেওয়ার ফলে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু পর্যটকরাই নন, চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকরা। রিসোর্টটি যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বহু মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়বে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এই ধরণের বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে আগামীদিনেও নজরদারি ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জারি থাকবে।
গৌতম দেবের পর এবার ইস্তফা দিলেন মানিক দে, শিলিগুড়ি পুরনিগমে তীব্র চাঞ্চল্য
সকাল সকাল ডেস্কশিলিগুড়ি, ২০ জুন : রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ডামাডোল অব্যাহত। এই আবহে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সংকট আরও গভীরতর হচ্ছে। শুক্রবার মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর, এবার মেয়র পরিষদ (এমএমআইসি) থেকে ইস্তফা দিলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানিক দে। মানিক দে পুরনিগমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মেয়র গৌতম দেব মেয়র পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকেই তিনি নিজের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা শুনে সেখানে উপস্থিত সদস্যরা স্তম্ভিত হয়ে যান। এরপর শুক্রবারই গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। শনিবার মেয়রের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংগঠনের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন এবং প্রশাসনিক স্তরের একাধিক সমস্যার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার গৌতম দেবের ইস্তফার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানিক দে-ও পদ ছাড়ায় পুরনিগমের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেল। রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, আগামী দিনে কি আরও পদত্যাগ দেখা যাবে? যদি এইভাবে কাউন্সিলররা একে একে পদ ছাড়তে থাকেন, তবে বর্তমান বোর্ডের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।