গত বছরের শহিদ দিবস কর্মসূচি নিয়ে মমতা ও অভিষেককে হাইকোর্টের নোটিশ
কলকাতা : গত বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস কর্মসূচি চলাকালীন কলকাতার প্রধান সড়কগুলি অবরুদ্ধ করে সভা আয়োজনের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ জারি করেছে। এই মামলাটি মূলত আদালতের অবমাননার সঙ্গে যুক্ত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ জুলাই।
সপ্তাহান্তে ভিজবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ
কলকাতা : গত কয়েক দিন ধরে তীব্র অস্বস্তিকর ও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হচ্ছিলেন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। তবে সপ্তাহান্তে মিলতে চলেছে বড় স্বস্তি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনি ও রবিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ঝড়-বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির জেরে আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রতর স্বীকৃতি বহাল, স্পিকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন দেখছে না আদালত। এই রায়ের ফলে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অবস্থান বড় ধাক্কার মুখে পড়ল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পৃথক গোষ্ঠী দাবি করে, তাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁরা বিধানসভায় নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানান। পরে স্পিকার সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল। কিন্তু বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই আবহেই ঋতব্রত শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল’ বলে দাবি করতে শুরু করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়। বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, প্রথম চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার কেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেননি এবং দ্বিতীয় চিঠি আসার পর কেন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং চিঠির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। শুনানিতে সই জালিয়াতি, দলীয় রেজোলিউশন এবং বহিষ্কার সংক্রান্ত নানা যুক্তি উঠে এলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের হলেই তা প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আদালত। রায়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অধিকাংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আস্থা ভোট হলে কার পক্ষে কত সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মেসি সফর বিতর্কে পুলিশের ম্যারাথন জেরা, ‘সত্যের জয় হবেই’ বলেই থানাছাড়া অরূপ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা লিওনেল মেসির সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি থানায় পৌঁছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না, তবে শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। থানা থেকে বেরোনোর পর সরাসরি বাড়ি না ফিরে অরূপ বিশ্বাসকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আলিপুরে গিয়ে তিনি নিজের আইনজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, মামলার বিষয়ে যা বলার তা আদালতেই বলবেন। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ২২ জুন আবারও তদন্তের স্বার্থে পুলিশি তলবে হাজির হবেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে মেসির সম্ভাব্য সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পর সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন মন্ত্রী নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেই টিকিটগুলির একটি অংশ বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু টিকিট বিতর্কই নয়, মেসির সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। এর আগে তিনবার নোটিস পাঠানো হলেও অরূপ বিশ্বাস হাজিরা দেননি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। যদিও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি থানায় পৌঁছন। আগে থেকেই তাঁর হাজিরার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় থানার সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ।
যোগ দিবস উপলক্ষে তিন দিনের মহোৎসব, ‘রান ফর যোগা’ থেকে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রীর যোগাভ্যাস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যে এবার সাড়ম্বরে পালিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বৃহৎ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের সূচনা হবে ১৯ জুন ‘রান ফর যোগা’ ম্যারাথনের মাধ্যমে। কলকাতায় এই দৌড়ের মূল কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে কলকাতা পুরনিগম সংলগ্ন এলাকা। পুরনিগমের সামনে থেকে শুরু হয়ে মহাকরণ পর্যন্ত চলবে ম্যারাথন। পাশাপাশি শহরের আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হবেন এবং সকাল ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথন শুরু হবে। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ২০ জুন পালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই উপলক্ষে গঙ্গাবক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ‘বন্দে যোগম’ নামে এক অভিনব যোগাভ্যাস কার্নিভাল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গঙ্গার দুই তীরজুড়ে আধ্যাত্মিক ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেখানে উপস্থিত থেকে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে সাধারণ মানুষের প্রবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব কলকাতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হোক। তিনি সকলকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে কটাক্ষ তাপসের, ‘উপভোগ করছি বিরোধীদের অস্থিরতা’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য রাখার জন্য পৃথক সময় বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে গোটা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিরোধী শিবিরের এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, কে কাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নেবেন বা মানবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সরকারের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বরং বিরোধীদের এই অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব তিনি উপভোগ করছেন বলেই মন্তব্য করেন। তাপস রায় আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনও গোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে দাবি করে এবং সেই অনুযায়ী আলাদা ঘর বা বক্তব্য রাখার সময় চায়, তাহলে সেই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনের পরিবর্তে শোভনদেবকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছিল, আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন রাখা হয়েছিল কিছুটা দূরে। যদিও এই দাবি খারিজ করে তাপস রায় বলেন, বিরোধী দলনেতার জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট আসন রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। শুধু বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গেই নয়, এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সুস্পষ্ট শিল্পনীতি ও জমিনীতি ছিল না। ফলে শিল্পপতিদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং অনেক বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।পাশাপাশি, অতীতে অনুষ্ঠিত আটটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প দফতর। কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন ঘোষণা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে— তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তাপস রায়। এই পদক্ষেপের ফলে অতীতের শিল্প সম্মেলনগুলির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে : রাজ্যপাল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১৮ জুন : রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ দিয়ে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তিনি বলেন, ‘এ বছর বাজেট অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। নতুন রাজ্য সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তোলাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলা হবে।’ রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় রাজ্যপাল আর এন রবির বক্তৃতা দিয়ে শুরু হয় অধিবেশন। এই উপলক্ষে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ হবে। অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। রাজ্যপাল এদিন বলেন, কোনও রকম থ্রেট কালচার বরদাস্ত করা হবে না। এদিনের অধিবেশন সূচনা ভাষণে রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। জনবিন্যাস বদল, তোলাবাজি, অত্যাচার, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বেআইনি উচ্ছেদ, সব ক্ষেত্রে রাজ্যের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা।
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের
কলকাতা: অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিরোধী দলনেতার পদে।
জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে হুড়া থানার বিশেষ উদ্যোগ: ট্রাফিক আইন, সাইবার অপরাধ ও বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা শিবির
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাতো, পুরুলিয়া: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। আজ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের হুড়া থানার বিশেষ তৎপরতায় জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে ট্রাফিক নিয়ম, সাইবার অপরাধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন হুড়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পথ নিরাপত্তা যেভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে, সে কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ব্যবহার এবং নাবালকদের গাড়ি বা বাইক চালানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পড়ুয়াদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়। এবং স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের যুগে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা অনলাইন জালিয়াতি ও প্রতারণা নিয়ে আলোচনা ছিল এই শিবিরের অন্যতম মূল আকর্ষণ। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা যাতে কোনোভাবেই অনলাইন ব্ল্যাকমেইলিং, ফেক অ্যাকাউন্ট বা লটারি-লিংকের ফাঁদে পা না দেয়, সেই বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অত্যন্ত সহজ ভাষায় বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সাথে ওটিপি (OTP) বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার না করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাছাড়া সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ ‘বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব’ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কীভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা আইনের দৃষ্টিতে কতটা বড় অপরাধ, সে সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়। স্কুল স্তরেই যাতে কোনো শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, তার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচির শেষে উপস্থিত সমস্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের হাতে পুলিশের জরুরি নম্বর সংবলিত বিশেষ ‘কন্ট্যাক্ট স্লিপ’ বা যোগাযোগ পত্র তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সরাসরি ও দ্রুততম সময়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্যই এই বিশেষ কন্ট্যাক্ট স্লিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের এই সময়োপযোগী ভূমিকায় অত্যন্ত খুশি জবরাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর আদালতে পেশ
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ১৭ জুন : আট দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষে বুধবার বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে পুনরায় বিধাননগর আদালতে পেশ করা হলো। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এ দিন আদালত চত্বরের চিত্রটা ছিল অনেকটাই শান্ত। এদিন তাঁর ওপর কোনও ডিম ছোড়া বা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। ধৃত প্রাক্তন পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে মূলত তোলাবাজি এবং হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আট দিন নিজেদের হেফাজতে রেখে ধৃতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পরিমাণ সোনা এবং একাধিক মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সব্যসাচী দত্তের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি চালিয়ে তাঁর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে কয়েক কোটি টাকা ও ব্যাঙ্কে দুটো লকার রয়েছে। সেখানে গয়না থাকতে পারে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে তাঁর একটি বিলাসবহুল গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন সব্যসাচীকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যবসায়ী। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। যদিও সব্যসাচী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।