কসবাকাণ্ডের পর হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপ: রাজ্যের সব কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্টস ইউনিয়ন রুম বন্ধের নির্দেশ
কসবা আইন কলেজের ছাত্রী ধর্ষণকাণ্ডের জেরে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দে’র ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে স্টুডেন্টস ইউনিয়ন রুম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হলেন শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার দুপুরে দিল্লি থেকে ফিরে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আর কোনও মনোনয়ন না পড়ায় বিনা লড়াইয়েই সভাপতি পদে নির্বাচিত হন দলের বর্ষীয়ান নেতা শমীক।
‘কারোরবাড়িরকন্যাআরনিরাপদনন’: গণধর্ষণকাণ্ডেতৃণমূলকেঘিরেক্ষোভ, ঝাঁটা-লণ্ঠনহাতেপথেবিজেপি
কসবার দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজে এক ছাত্রীকে কলেজ চত্বরে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অস্বস্তি। এই ঘটনায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বিরোধী দল বিজেপি। বুধবার রাসবিহারী মোড় থেকে কসবা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বিজেপির মহিলা ও যুব মোর্চা। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে পথে নামেন দলের বহু কর্মী-সমর্থক।
কালীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে নাবালিকার মৃত্যু: গ্রেফতার আরও তিন, ধৃত মোট চার
সকাল সকাল ডেস্ক। নদিয়া, ২৪ জুন: নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিল ঘিরে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে এক ১০ বছর বয়সি শিশুকন্যা। ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চার জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চার অভিযুক্ত হল আদর শেখ, মানোয়ার শেখ, কালু শেখ ও আনোয়ার শেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মঙ্গলবারই তাদের আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন। বিজয় মিছিল চলাকালীন অভিযোগ ওঠে, শাসক দলের কর্মীরা স্থানীয় এক সিপিএম কর্মীর বাড়ির দিকে বোমা নিক্ষেপ করে। সেই সময় বিস্ফোরণের শিকার হয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না খাতুন। ঘটনাস্থল ছিল বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের মোলান্দি গ্রাম। নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তাঁরা সিপিএম সমর্থক এবং যারা বোমা ছুড়েছে তারা তৃণমূল কর্মী বলেই চিহ্নিত করেছেন, যদিও নাম জানেন না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেছে, “রক্তপাত ছাড়া তৃণমূল জিততে জানে না।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। জয়ী তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদও বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। যারা দোষী, তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।” পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, কালীগঞ্জ অঞ্চলে ২০২৩ সাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দ্বন্দ্ব ছিল, এই বিস্ফোরণ তারই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি। এখন প্রশাসন বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার চাইছে ন্যায়বিচার এবং কঠোর শাস্তি।
রথের আগেই মিলবে বকেয়া ডিএ? ২৭ জুনের সময়সীমায় চাপ বাড়ছে নবান্নে
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: ২৭ জুন রথযাত্রা, আর সেই দিনই শেষ হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা—যার মধ্যে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। সময় গুনছেন প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। প্রশ্ন একটাই: রথের আগে মিলবে তো বকেয়া টাকার প্রাপ্য অংশ? ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ—প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা—সরকারি কর্মীদের দিতে হবে। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, পুরো বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট খরচ হবে ৪১,৭৭০ কোটি টাকা। এই অবস্থায় আর্থিক সঙ্কটে থাকা নবান্ন ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২৪ জুন রাজ্য ফের ৩,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে চলেছে—যার মধ্যে ২,০০০ কোটি ২৫ বছরের মেয়াদি এবং ১,৫০০ কোটি ২৬ বছরের মেয়াদি ঋণ। এর আগে ৩ ও ১৭ জুন যথাক্রমে ২,০০০ কোটি করে আরও দুটি ঋণ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে জুন মাসে নবান্ন মোট ৭,৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি মন্তব্য করেছিলেন, একসঙ্গে পুরো বকেয়া ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্য সরকারের “কোমর ভেঙে যাবে।” আদালত স্পষ্ট করে দেয়, অন্তত ২৫ শতাংশ দিতে হবে ২৭ জুনের মধ্যে। সেই চাপ সামাল দিতেই ঋণের পথেই হাঁটছে রাজ্য, বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্রের খবর, নবান্ন আদালতের কিছু দিক নিয়ে ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দায়ের করেছে। কিন্তু বর্তমানে গ্রীষ্মাবকাশ থাকায় সেই আবেদন এখনও ওঠেনি। ফলে জুনের মধ্যেই নির্দেশ পালন ছাড়া বিকল্প দেখছেন না আইনজ্ঞরা। এখন নজর ২৭ জুনের দিকেই—রথের চাকা গড়ানোর আগে বকেয়া ডিএ-র টাকা আদৌ হাতে পাবেন তো সরকারি কর্মীরা?
গভীর সমুদ্রে পরপর ট্রলারডুবি, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৭ মৎস্যজীবী
সকাল সকাল ডেস্ক। নামখানা: ফের গভীর সমুদ্রে বিপর্যয়। শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে নামখানা উপকূলের কাছে পরপর দুটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে দুই ট্রলারেই থাকা মোট ২৭ জন মৎস্যজীবী সৌভাগ্যবশত প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। এই ঘটনায় মৎস্যজীবীদের মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও বড় রকমের দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলেই স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনায়, শনিবার সকালে ‘এফবি সাকিলা’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার নামখানার ১০ মাইল খেয়াঘাট থেকে সমুদ্রে রওনা দেয়। জম্বুদ্বীপের আশপাশে গভীর সমুদ্রে পৌঁছনোর পরই ট্রলারটির সি-কক পাইপ ফেটে যায়। ফলে ইঞ্জিনঘরে জল ঢুকে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ওই ট্রলারে থাকা ১১ জন মৎস্যজীবী তখন বিপদে পড়েন। তবে কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রলারগুলির সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে তার আগের দিন, শুক্রবার রাতে। ‘এফবি মা দুর্গা’ নামে আরেকটি ট্রলার ১৬ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কেঁদুয়া দ্বীপের কাছে পৌঁছতেই ট্রলারটির নিচের কাঠের অংশ খুলে যায় এবং জল ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটির অধিকাংশ অংশ ডুবে যায়। আর্তনাদ শুনে আশপাশের ট্রলারগুলি দ্রুত ছুটে এসে সবাইকে উদ্ধার করে। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানিয়েছেন, “খারাপ আবহাওয়া কাটতেই ট্রলারগুলি ফের সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। মরশুমের শুরুতেই পরপর দুটি ট্রলার ডুবে যাওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের। তবে সব মৎস্যজীবী সুস্থভাবে ফিরে এসেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।” তিনি আরও জানান, ট্রলারগুলির কাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা নিরাপত্তা পরীক্ষার অভাব—এই সব কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সমুদ্রে রওনা হওয়ার আগে প্রতিটি ট্রলারের প্রযুক্তিগত যাচাই নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রেকার-ডাম্পার সংঘর্ষে মৃত ৫, জখম ১০
সকাল সকাল ডেস্ক। কান্দি: রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের কান্দি-বহরমপুর রাজ্য সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা। গোকর্ণ পাওয়ার হাউস মোড়ে যাত্রীবোঝাই একটি ট্রেকার ও একটি ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের, আহত অন্তত ১০। গুরুতর জখম অবস্থায় তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল ১১টা নাগাদ বীরভূমের বেলে এলাকা থেকে একটি ট্রেকার ২০ জন যাত্রী নিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরছিল। প্রত্যেকেই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। গোকর্ণ মোড়ের কাছে হঠাৎই একটি দ্রুতগামী ডাম্পার সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেকারটিকে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ট্রেকারটি রাস্তায় উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক-সহ পাঁচ জন, যাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছে আহতদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর জখমদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ট্রেকারটি ধীরগতিতে চলছিল, কিন্তু ডাম্পারটি আচমকাই এসে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে রাজ্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, তৈরি হয় যানজট। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফের স্বাভাবিক করে চলাচল। মৃত ও আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের হাসপাতালে ডাকা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখছে—ডাম্পার চালকের অসাবধানতা, নিয়ন্ত্রণ হারানো না কি অন্য কোনো কারণ ছিল, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। ডাম্পার চালক ও মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে গ্রামীণ রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই যান ও বেপরোয়া ডাম্পার চলাচল নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু দিন ধরেই ওই মোড়ে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাঁরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সুপারি পাচারচক্রের মূল চক্রী ধীরজ ঘোষ অবশেষে গ্রেফতার
সকাল সকাল ডেস্ক।শিলিগুড়ি : অবশেষে সুপারি পাচারকারী চক্রের প্রধান চক্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তের নাম ধীরজ ঘোষ। শনিবার গভীর রাতে নকশালবাড়ি থানার পুলিশ সুপারি পাচারকারী ধীরজ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নকশালবাড়ি ও ঘোষপুকুরে সুপারি বোঝাই মোট পাঁচটি ট্রাক আটক করেছিল পুলিশ। এই ঘটনায় কোনও বৈধ নথি না পাওয়ায় পুলিশ সুপারি পাচারের এই মামলায় মোট দশজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ধীরজ ঘোষের নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরেও তিনি পুলিশের কাছে হাজির হচ্ছিলেন না। গত রাতে নকশালবাড়ি থেকে ধীরজ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।
খিদিরপুরে অগ্নিকাণ্ড ‘ম্যান মেড’, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে শুভেন্দু
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ১৭ জুন:খিদিরপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দেন, যেকোনো সহায়তায় তিনি এবং তাঁর দল পাশে থাকবেন। শুভেন্দুর দাবি, এই অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ‘ম্যান-মেড’ ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, “এটা কোনও স্বাভাবিক আগুন নয়, পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।” রবিবার গভীর রাতে খিদিরপুরের অরফ্যানগঞ্জ বাজারের একাধিক দোকানে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকল বাহিনী। অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুনের কারণ অস্পষ্ট হলেও বেশ কিছু দোকানে দাহ্য বস্তু মজুত ছিল, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। শুভেন্দুর দাবি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং গভীর ষড়যন্ত্র এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে, যার তদন্ত হওয়া জরুরি।
মন্ত্রীর স্বামীর উপর হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত খাতড়া, গ্রেফতার ৬ জনকে আদালতে পেশ
সকাল সকাল ডেস্ক। বাঁকুড়া : রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির স্বামী তুহিন মান্ডির ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার খাতড়া। শুক্রবার রাতে খাতড়া বাজারে এই হামলার অভিযোগে খাতড়া থানার পুলিশ ৬ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার তাঁদের খাতড়া মহকুমা আদালতে পেশ করে। মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি অভিযোগ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় খাতড়া বাজারে লাঠিসোঁটা হাতে জমায়েত করে ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। ঠিক সেই সময় বাজারে মুদিখানার জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত ১৫-১৬ জন বিজেপি কর্মী তাঁর স্বামীর উপর চড়াও হয়। হামলায় তুহিন মান্ডি পিঠ ও ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে দ্রুত খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছাড়া হয়। এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ ৬ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার তাঁদের খাতড়া মহকুমা আদালতে পেশ করে। মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির অভিযোগ, “বিজেপি গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। রাজনীতির লড়াই থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কখনও মেনে নেওয়া যায় না। আমার স্বামী রাজনীতি করেন না। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপির ঔদ্ধত্য এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। খাতড়ার মানুষ এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেবে।” যদিও তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বিজেপির পালটা দাবি, “এই ঘটনা সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দীপক দাস বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় খাতড়া বাজারে তৃণমূলের গুন্ডারাই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। বিজেপি কর্মীরা আত্মরক্ষায় প্রতিরোধ করে। পরে র্যাফ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও লাঠিচার্জ করে। সেই সময় কার লাঠির আঘাতে মন্ত্রীর স্বামী আহত হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। হতে পারে, তৃণমূলেরই কেউ ভুল করে লাঠি মেরেছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে মূল ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের সাহায্য নিয়ে মিথ্যা মামলা করছে।”