তারাতলায় নির্মীয়মাণ ভবন বিপর্যয়, বিধানসভায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
কলকাতা: কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভা অধিবেশনে এই দুর্ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গোডাউনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১৩
কলকাতা: তারাতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে বুধবার এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শ্রমিকের আটকে পড়ার আশঙ্কায় বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনকে তড়িঘড়ি এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি পাঁচজন বর্তমানে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
বিদেশে চোখের চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আবেদন মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জমা পড়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। মামলাটির শুনানি আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবানীপুর ভোট গণনা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হাইকোর্টের
কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছেন।
৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটির রাজ্য বাজেট পেশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়
কলকাতা: সোমবার রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোয় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মূল স্তম্ভ। রাজ্যের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের। রাজ্য সরকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছোতে ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।
সিভিক, গ্রিন পুলিশ ও হোমগার্ডদের পারিশ্রমিক বাড়ল ২ হাজার, প্যারা-টিচারদের ৫ হাজার টাকা : ঘোষণা রাজ্য বাজেটে
কলকাতা : রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে বিভিন্ন স্তরের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মচারীদের জন্য বড়সড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করা হলো। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড এবং প্যারা-টিচারদের মাসিক পারিশ্রমিক একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
অভিষেকের পাশে থেকেও তৃণমূলে কোণঠাসা কল্যাণ? আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নতুন জল্পনা
কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন। তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে। মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়, শোভনদেবকে জেরার পর উদ্ধার তৃণমূলের ‘রেজোলিউশন বুক’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রেজোলিউশন বুক’-এর একটি কপি উদ্ধার করেছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান মেলে। শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যও নথিবদ্ধ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তাঁদের হাতে আসে। এখন ওই নথিতে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, মামলার সত্যতা নির্ধারণে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই রেজোলিউশনের একটি কপি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা থাকে এবং অন্য একটি কপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংরক্ষণে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ওই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা। তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রেজোলিউশন বুকের হদিস মেলেনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। এরপর তদন্তের দিশা বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদনের জন্য যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, ওই নথিতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁদের অনেকেই সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদে ইস্তফা মোশারফের, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল। এবার দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার সকালে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। ইটাহারের জয়হাট চেকপোস্ট এলাকায় নিজের বাড়িতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কারণই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরিবারের পাশে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সেই জল্পনার আংশিক অবসান ঘটান। তবে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর আরও একটি মন্তব্য। মোশারফ স্বীকার করেন যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছেন। এছাড়াও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মোশারফ বলেন, অতীতে উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার উন্নয়নই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি সব ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা চান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোশারফ হোসেনের এই অবস্থান উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মহুয়ার ‘৪০ কোটি’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী সাংসদরা, মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে করা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলত্যাগী সাংসদদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়–সহ এনসিপিআই–তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কাকলির দাবি, মহুয়ার ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সাংসদরা একমত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।” বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা নাকি মাথাপিছু ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ ছিল, “আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন, বাকি ৩৬ মাসে এক কোটি টাকা করে পাবেন।” এই মন্তব্যকেই মানহানিকর বলে দাবি করছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের মতে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েছে। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরপর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনডিএ–সমর্থিত এনসিপিআই–তে যোগ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র দলবদল না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা বজায় রেখেছেন।