https://www.sokalsokal.com/সকাল সকাল ডেস্ক
West Bengal Anti Riot Bill নিয়ে বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর; দাঙ্গা, ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসে কঠোর আইনের আশ্বাস।
রাজ্যে দাঙ্গা, রাজনৈতিক হিংসা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় কড়া বার্তা দিতে বিধানসভায় পাশ হল West Bengal Anti Riot Bill। বিলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে দাঙ্গা বা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলাই নয়, ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তিও বিক্রি করা হবে। তাঁর দাবি, এই আইন কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে সরকারের বার্তা
বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত রাজনৈতিক হিংসার শিকার পরিবারগুলির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডায়মন্ড হারবার, মুর্শিদাবাদ ও নন্দীগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আজও বিচার প্রত্যাশা করছেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নিলে বহু প্রাণহানি ও সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা এড়ানো যেত।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও ধরনের রাজনৈতিক তোষণ বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।
২০১৯ সালের হিংসার উদাহরণ
West Bengal Anti Riot Bill-এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ২০১৯ সালের সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় রেললাইন উপড়ে ফেলা, স্টেশনে আগুন, সরকারি বাস ভাঙচুর, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এসব ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ
মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আপস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অতীতে বহু দাঙ্গা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

কী বলছে নতুন আইন?
সরকারের দাবি, West Bengal Anti Riot Bill-এর মূল উদ্দেশ্য হল দাঙ্গা, ভাঙচুর, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জনসম্পত্তি ধ্বংস করে, তবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশ মেনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা বিক্রির পথও খোলা থাকবে।
Official Statement
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই আইন কোনওভাবেই রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার জন্য নয়। শুধুমাত্র দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরও জানান, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।
Background
গত কয়েক বছরে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দাঙ্গা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি উঠলেও তার জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অভাব ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
Impact
বিশেষজ্ঞদের মতে, West Bengal Anti Riot Bill কার্যকর হলে ভবিষ্যতে দাঙ্গা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ক্ষমতাও বাড়বে। তবে আইনটির বাস্তব প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের।

Public Information
সরকার জানিয়েছে, বিলটি কার্যকর হওয়ার পর বিস্তারিত বিধি ও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। সাধারণ নাগরিকদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি কোনও ধরনের হিংসা, ভাঙচুর বা সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
No Comment! Be the first one.