সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপ চলাকালীন ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত জেট সফর ঘিরে প্রশ্ন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব?
FIFA Private Jet Controversy বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ফিফা। কিন্তু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র আড়াই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বকাপের ২৪টি ম্যাচ দেখতে ইনফান্তিনো অন্তত ২৭ বার ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে দ্রুত যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর বিমান। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে FIFA Private Jet Controversy আরও তীব্র হয়েছে।
FIFA Private Jet Controversy: কী নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?

২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে। তিনটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ভেন্যুগুলির কারণে ফিফা সভাপতির ব্যস্ত সফরসূচি ছিল স্বাভাবিক।
তবে সমালোচনার মূল কারণ, একাধিক ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের সফরেও ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইনফান্তিনোর বিভিন্ন ম্যাচে উপস্থিতির সময় এবং গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর বিমানের ফ্লাইট রেকর্ড প্রায় পুরোপুরি মিলেছে।
১৩ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটার উড়ে মায়ামিতে পৌঁছান ইনফান্তিনো। আবার ২২ জুন মাত্র ১৪৮ কিলোমিটার দূরের ফিলাডেলফিয়া থেকে নিউ জার্সির টিটারবোরোতেও ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
স্বল্প দূরত্বেও ব্যক্তিগত জেট
১৫ জুন ছিল তাঁর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকালে মায়ামি থেকে সিয়াটল, এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পরে আরও একাধিক শহরে ম্যাচ দেখতে যান তিনি। ২৬ জুনও মায়ামি, ডালাস এবং সিয়াটলের মধ্যে দীর্ঘ সফর শেষে আবার মায়ামিতে ফিরে আসেন।
এই ধারাবাহিক যাতায়াতই FIFA Private Jet Controversy-কে আরও বড় আকার দিয়েছে।
পরিবেশগত প্রভাব কতটা?

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিমানটি মোট প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার উড়েছে এবং আকাশে ছিল ৬৬ ঘণ্টারও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ১,৮০০ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করে। সেই হিসেবে এই সফরগুলির ফলে আনুমানিক ৫১৬ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ গড় হিসেবে প্রায় ৭৮ জন মানুষের এক বছরের মোট কার্বন নিঃসরণের সমান।
Background
ফিফা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্থাটি কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমাতে চায় এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার, গণপরিবহণে উৎসাহ, বিদ্যমান স্টেডিয়ামের ব্যবহার এবং দলগুলিকে আঞ্চলিক ভিত্তিতে রাখার মতো একাধিক উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
Impact
FIFA Private Jet Controversy ফিফার পরিবেশবান্ধব ভাবমূর্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বার্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত জেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সাংঘর্ষিক।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত জেট বাণিজ্যিক বিমানের তুলনায় অনেক বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। ফলে ফিফার ঘোষিত পরিবেশ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
Official Statement
ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সভাপতি সদস্য সংস্থা, টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন দেশে সফর করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনও বাণিজ্যিক বিমান, আবার কখনও ব্যক্তিগত চার্টার ব্যবহার করা হয়।
ফিফার দাবি, সময়, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতার বিষয় বিবেচনা করেই পরিবহণের মাধ্যম নির্বাচন করা হয়।
তবে কোন কোন সফরে বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করা হয়েছে, ব্যক্তিগত জেটে কতজন যাত্রী ছিলেন কিংবা অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলায় কোনও কার্বন অফসেট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
Public Information
২০২৬ বিশ্বকাপ তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দল, কর্মকর্তা এবং সংগঠকদের দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করতে হচ্ছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, এত বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ফলে সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণ আগের বিশ্বকাপগুলির তুলনায় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে FIFA Private Jet Controversy শুধু ইনফান্তিনোর সফর নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে ফিফা কীভাবে তাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ব ফুটবল মহলের।
No Comment! Be the first one.