‘কারোরবাড়িরকন্যাআরনিরাপদনন’: গণধর্ষণকাণ্ডেতৃণমূলকেঘিরেক্ষোভ, ঝাঁটা-লণ্ঠনহাতেপথেবিজেপি

সকাল সকাল ডেস্ক।

কলকাতা

কসবার দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজে এক ছাত্রীকে কলেজ চত্বরে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অস্বস্তি। এই ঘটনায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বিরোধী দল বিজেপি। বুধবার রাসবিহারী মোড় থেকে কসবা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বিজেপির মহিলা ও যুব মোর্চা। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে পথে নামেন দলের বহু কর্মী-সমর্থক। কেউ হাতে ঝাঁটা, কেউ হাতে লণ্ঠন নিয়ে এই মিছিলে অংশ নেন। উঠতে থাকে স্লোগান— ‘কন্যা বাঁচাও, মমতা হঠাও’, ‘ধর্ষকদের চামড়া তুলে নেব’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। শুভেন্দুর দাবি, এই মিছিলে যে শুধু বিজেপি নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের এই প্রতিবাদ এখন আর শুধু দলীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নয়, এটা জনতার আওয়াজ।

এই প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে পুলিশের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কড়া। অন্যদিকে রাজ্য মহিলা কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মিছিলের পর বিজেপি কর্মীরা লণ্ঠন হাতে হাজির হন মহিলা কমিশনের দফতরের সামনে। তাঁদের অভিযোগ, কলেজ চত্বরের ভিতরে একজন আইনের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, অথচ রাজ্যের মহিলা কমিশন কোনও জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি, কোনও বিবৃতি দেয়নি। তাই প্রতীকীভাবে তাঁরা লণ্ঠন হাতে কমিশনের চেয়ারপার্সনকে খুঁজছেন। যদিও সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য মহিলা কমিশন ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তাও দেবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক প্রাক্তন নেতার নাম উঠে আসায় শাসকদলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়েছে। অভিযোগ, আইন কলেজের ভিতরেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে ওই প্রাক্তন নেতা ও তার দুই সঙ্গী। অভিযুক্তদের মধ্যে কলেজের এক নিরাপত্তারক্ষীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চারজনই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে। তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল। গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, কলেজ প্রশাসনের দায়িত্ব ও প্রোটোকল নিয়েও শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাপের মুখে পড়েছে শাসক দল। বিশেষত, কিছুদিন আগেই রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শাসকদলকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এবার ফের আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের অভিযোগ, এবং তাও দলীয় প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধে—তাতে তৃণমূলের ভাবমূর্তি আরও চাপে।

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি ঘরের কন্যা আজ অনিরাপদ। কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী যতই প্রচার করুন, বাস্তবে বাংলার কন্যারা চরম বিপন্ন। তাঁর মন্তব্য, এই সরকার শুধু ব্যর্থ নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধীদের রক্ষা করে যাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে—‘কন্যা রত্ন বাঁচাও, কন্যা লক্ষ্মী বাঁচাও, মমতা হঠাও’। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এখন নিজের পরিবার, নিজের মেয়ে, নিজের ছাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বিজেপি।

Read More News

Read More