ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৩২ জনের, আহত ৭০০-র বেশি
সকাল সকাল ডেস্ক কারাকাস: জোরালো তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসে একাধিক ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ে। আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন বহু মানুষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.২ ও ৭.৫। ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এছাড়াও ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনিজুয়েলার একই এলাকায় ৭.২ ও ৭.৫ তীব্রতার ভূমিকম্পের পর ২০-বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল মোরোন থেকে ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৭.৫। ভূমিকম্পের পর শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হতে পারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী কারাকাস-সহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা দ্রুত বহুতল ছেড়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এই ভূমিকম্পে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স মাধ্যমে জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনিজুয়েলা সরকার ও জনগণের প্রতি, বিশেষ করে যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের পাশে আছি। ভারত সম্ভাব্য সকল প্রকার সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
বড় পতনে বন্ধ শেয়ার বাজার, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ৪.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি,। দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত এবং এশিয়ার বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপে মঙ্গলবার দেশের শেয়ার বাজার বড় পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। সাপ্তাহিক নিষ্পত্তির দিন হওয়ায় বাজারজুড়ে সারাদিন বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। দিনের শুরুতে দুর্বল অবস্থান থেকে লেনদেন শুরু হলেও পরে কিছু সময়ের জন্য সূচকগুলি ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে দুপুরের আগেই বাজারে তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি হলে প্রধান সূচকগুলি ফের নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনের শেষে সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়ই প্রায় ১.১৬ শতাংশ পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করে। ধাতু, তথ্যপ্রযুক্তি ও ভোক্তা টেকসই পণ্যের শেয়ারে বড় বিক্রি দিনভর ধাতু, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ভোক্তা টেকসই পণ্য খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং, মোটরগাড়ি, মূলধনী পণ্য, দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্য, তেল ও গ্যাস এবং সরকারি সংস্থার শেয়ার সূচকও নিম্নমুখী ছিল। অন্যদিকে ওষুধ শিল্পের শেয়ারগুলিতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যায়। এর ফলে ওষুধ খাতের সূচক ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যসেবা সূচক ০.৬২ শতাংশ ঊর্ধ্বগতিতে দিনের লেনদেন শেষ করে। মধ্যম ও ক্ষুদ্র মূলধনী শেয়ারেও চাপ বিস্তৃত বাজারেও বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। মধ্যম মূলধনী সূচক ১.০৫ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র মূলধনী সূচক ০.৪৮ শতাংশ পতনের সঙ্গে দিনের লেনদেন শেষ করে। বিনিয়োগকারীদের সম্পদ কমল ৪.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা বাজারে বড় পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদে ব্যাপক ক্ষয় হয়েছে। বোম্বে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫.০৯ লক্ষ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে এই মূল্য ছিল ৪৭৯.৭২ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪.৬৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। লেনদেনে পতনশীল শেয়ারের সংখ্যাই বেশি বোম্বে শেয়ার বাজারে মোট ৪,৪৪৭টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৪৯৬টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ২,৭৯৪টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। ১৫৭টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় শেয়ার বাজারে ৩,০০২টি শেয়ারে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১টি শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২,১৭১টি শেয়ার পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্স ও নিফটির দিনের গতিপ্রকৃতি সেনসেক্স ৭৭,০৮৬.০৫ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। শুরুতে ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচক ৭৭,১৯৪.৮৩ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু পরে তীব্র বিক্রির চাপে তা দ্রুত নেমে আসে। দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে সেনসেক্স ৭৬,০৮২.৫১ পয়েন্টে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত ৮৯৩.৩৯ পয়েন্ট পতন ঘটিয়ে ৭৬,২০০.৬৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়। নিফটি ২৪,০৭১.৩০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে এবং কিছু সময়ের জন্য ২৪,১৩৫.৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু বিক্রির চাপে তা নেমে গিয়ে দিনের সর্বনিম্ন ২৩,৭৮৪.৯৫ পয়েন্ট স্পর্শ করে। শেষ পর্যন্ত ২৭৮.৮০ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে ২৩,৮২৪.১০ পয়েন্টে বন্ধ হয়।
সমঝোতা না মানলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চুক্তির প্রতিটি শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সম্প্রতি দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনায় বসে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ খাদ্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হবে এবং এর সুফল মার্কিন কৃষকরাও পাবেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা ইরানের নেই। দেশটি নিজস্ব প্রয়োজন ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ। আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অন্তর্বর্তী সমঝোতায় উল্লিখিত বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। আলোচনার ইতিবাচক পরিবেশের অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননের পরিস্থিতিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই আগামী পর্যায়ের আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
বার্নহামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বে আসা ঠেকাতে সক্রিয় লেবারের জ্যেষ্ঠ নেতারা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পর শাসক লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহাম যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্বে না আসতে পারেন, সে জন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না, তা এখনও চূড়ান্ত করেননি। একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ড্যারেন জোনসও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলীয় সূত্রের দাবি, অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহাম সহজেই নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনা এড়াতেই বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর আলোচনা চলছে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আল কার্নস বলেন, তিনি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। তবে তিনি এমন রাজনীতির পক্ষে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেয়। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কিয়ার স্টারমার দলীয় পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। প্রার্থী হতে হলে অন্তত ৮১ জন লেবার সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে দলের সাফল্যের পর অ্যান্ডি বার্নহাম নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে প্রথমদিকে বার্নহামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হলেও তিনি পরে বার্নহামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে বার্নহামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে সম্ভাব্য নেতাদের যোগ্যতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত। এদিকে বিরোধী দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে লেবারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অ্যান্ডি বার্নহাম শেষ পর্যন্ত এককভাবে এগিয়ে যান, নাকি তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়।
কাতারের গ্যাস হাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ৫৪; বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ
সকাল সকাল ডেস্ক কাতারে : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে কাতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কাতার প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল রাস লাফান শিল্প নগরীর বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গ্যাস রফতানি অবকাঠামো মেরামতের পর রবিবার পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গভীর রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শিল্পাঞ্চল। পুনরায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই দুর্ঘটনা রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলাকালীন বারজান গ্যাস কেন্দ্রে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশজুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বহু কিলোমিটার দূর থেকেও শিখা দেখা যাচ্ছিল। শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে দমকল বাহিনী জরুরি ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দূর থেকে আগুনের বিশাল শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলেও সেসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪, নিখোঁজ ১৮ প্রথমদিকে প্রশাসন সীমিত সংখ্যক আহতের কথা জানালেও পরে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হতাহতের সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং ১৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাস লিকের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়নি। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। এ কাজে কাতারি ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপকে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রফতানিকারক দেশ কাতার। ফলে এই বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস লাফান শিল্প নগরীর উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা সংকটের কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি সীমিত করেছিল। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তার মধ্যেই এই বিস্ফোরণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্রগুলির অন্যতম। এখান থেকেই ইউরোপ, এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কাতারের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। ভারতের আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ কাতার থেকে আসে। ফলে রাস লাফানে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যাহত হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্প খাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে কাতারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি মহল।
দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন,: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করবেন। লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সহকর্মীদের মতামত বিবেচনা করে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি। স্টারমারের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘদিনের বিরোধী আসন থেকে সরকার গঠন করে। তাঁর সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক নীতিগত ইউ-টার্ন, জনপ্রিয়তা হ্রাস, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান এবং বহু সাংসদের প্রকাশ্য অসন্তোষ তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। লেবার পার্টি জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্টারমারের বিদায়ের ফলে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর ব্রিটেন তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা এবং ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।
৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটির রাজ্য বাজেট পেশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়
কলকাতা: সোমবার রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোয় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মূল স্তম্ভ। রাজ্যের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের। রাজ্য সরকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছোতে ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে স্থায়ী সমাধান অসম্ভব: ইরান
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/সুইৎজারল্যান্ড: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও স্থায়ী সমাধানের পথে এখনও বড় বাধা লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়বে। সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিতে কিছু ছাড়, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পুনর্গঠনমূলক প্রকল্প শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোর সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেবাননের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর। এরই মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বৈঠকের প্রথম দফা শেষ হয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আগের সমঝোতাগুলির বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। বৈঠকে ইরানের তেল রফতানির অনুমোদন, স্থগিত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির দাবি করেছে তেহরান। একইসঙ্গে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখার কথা জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কারিগরি পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না। দেশের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে থাকবে।
ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের
রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) ২০২৬ প্রক্রিয়ার আওতায় কোনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, প্রচলিত সংবাদমাধ্যম এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।