লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে স্থায়ী সমাধান অসম্ভব: ইরান
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান/সুইৎজারল্যান্ড: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও স্থায়ী সমাধানের পথে এখনও বড় বাধা লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়বে। সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিতে কিছু ছাড়, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পুনর্গঠনমূলক প্রকল্প শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোর সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেবাননের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর। এরই মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বৈঠকের প্রথম দফা শেষ হয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আগের সমঝোতাগুলির বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। বৈঠকে ইরানের তেল রফতানির অনুমোদন, স্থগিত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির দাবি করেছে তেহরান। একইসঙ্গে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখার কথা জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কারিগরি পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না। দেশের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে থাকবে।
ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের
রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) ২০২৬ প্রক্রিয়ার আওতায় কোনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, প্রচলিত সংবাদমাধ্যম এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।
‘আমার কথা তারা শোনে’, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, নিহত ৫
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/বেইরুট: ইজরায়েলের ওপর নিজের প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। শনিবারের এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইজরায়েল তাঁর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি যা বলেন, তারা তা-ই করে। লেবাননে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান রোধে তিনি ইজরায়েলকে প্রভাবিত করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘‘হ্যাঁ, আমি পারব। আমার প্রতি তাদের অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।’’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘সম্পর্ক ভালো, তবে তাঁকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।’’ যদিও তেহরানের সঙ্গে সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অতীতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই ইজরায়েলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেই চুক্তি বহাল থাকলে ইরান অনেক আগেই পরমাণু অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় ট্রাম্পের বক্তব্যে। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বাস্তবে তাঁর কার্যক্ষমতার পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। যুদ্ধবিরতির পর এত দ্রুত পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-মেলোনি প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
সকাল সকাল ডেস্ক রোম/আঙ্কারা : জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একে অপরকে লক্ষ্য করে করা মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে ট্রাম্প দাবি করেছেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি একাধিকবার তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ইতালিতে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় মেলোনি রাজনৈতিকভাবে সেই ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিতে চাইছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ইতালি তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। কিন্তু অভিযানের পর পরিস্থিতি বদলাতেই রোম আবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাঁর কথায়, ইতালির জনগণের সমর্থন তিনি অর্জন করেছেন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে নয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইতালিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলির ব্যবহার কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় সম্ভব। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ট্রাম্প পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন। জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, মিত্র দেশের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেয় না। এরই মধ্যে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত মার্কিন সফর স্থগিত করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া অস্বস্তিরই ইঙ্গিত। উল্লেখ্য, বেশ কিছু সময় আগেও ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু ইরান নীতি, সামরিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সেই সম্পর্কেই এখন স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে।
রেলের নতুন কড়া আইন : টিকিট ছাড়া যাত্রা থেকে ধূমপান, বাড়ল জরিমানা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ দিল্লী রেলযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় রেল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক সংশোধিত জরিমানা ও নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করলেও টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। স্টেশন বা ট্রেনে অনুমোদনহীন হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন আচরণের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের জন্য ৫০০ টাকা এবং রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যেখানে ন্যূনতম জরিমানা ১০ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রকের মতে, এই সংশোধিত আইন যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রেন ও স্টেশনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করে তুলবে।
“বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য” আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি : রাজ্যপাল
রাঁচি। রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার আজ লোক ভবনে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ স্থাপনা দিবস অনুষ্ঠানে ঝাড়খণ্ডে বসবাসরত পশ্চিমবঙ্গবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ভারত বৈচিত্র্যের দেশ এবং বহু ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার এক মিলনস্থল। ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য” আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
কোনোও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না : কে. রবি কুমার
রাঁচি। মুখ্য নির্বাচনী পদাধিকারী শ্রী কে. রবি কুমার বলেছেন, বর্তমানে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার কাজ চলছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো—একজনও যোগ্য ভারতীয় নাগরিক যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকাভুক্ত না হন। এই লক্ষ্যে ভারত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সকল জেলা নির্বাচনী পদাধিকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো আদেশ জারি করার সময় বা ভোটারদের সচেতন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা যেন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
জি-৭ সম্মেলনের ছবি ঘিরে ট্রাম্প-মেলোনি বিতর্ক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে ‘মনগড়া’ বললেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক রোম : জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলেও তার রেশ এখনও কাটেনি। সম্মেলনে তোলা একটি ছবি এবং তা ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে খণ্ডন করে দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক জি-৭ সম্মেলনের পর এক ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অত্যন্ত আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতালির প্রধানমন্ত্রী নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ইতালির রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী ও শাসক উভয় শিবিরের নেতারাই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। পরবর্তীতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং তা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইতালি একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ এবং কোনও পরিস্থিতিতেই অন্য কারও কাছে অনুগ্রহ বা বিশেষ সুবিধা প্রার্থনা করার প্রয়োজন অনুভব করে না। মেলোনির কথায়, “আমি জানি না কেন তিনি তাঁর মিত্রদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কিংবা ইতালি কখনও কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।” শুধু ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেই থেমে থাকেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেলোনির অভিযোগ, যেসব দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থান অনেক সময় নমনীয় হয়ে পড়ে। অথচ মিত্র দেশগুলির প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোরতা দেখা যায়। এই মন্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও দেখা গিয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রশ্নে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা নীতি এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ সামনে এসেছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কাউকে সরাসরি আক্রমণ করেননি, তবুও কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই নেতার সম্পর্কের উষ্ণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক সেই দূরত্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, একটি ছবি এবং তা নিয়ে মন্তব্যের জেরে যে মাত্রার প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত মতবিরোধের বিষয় নয়; বরং এর মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তাও নিহিত রয়েছে। সব মিলিয়ে, জি-৭ সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতৃত্বের ভাষা, পারস্পরিক সম্মান এবং মিত্র দেশগুলির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
দুই ট্রেনের সংঘর্ষ লন্ডনে; মৃত্যু চালকের, আহত বহু
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: লন্ডনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে একটি ট্রেনের চালকের। আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উত্তর লন্ডনের বেডফোর্ডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এক চালকের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। দু’টি ট্রেনই দক্ষিণ থেকে লন্ডনের সেন্ট প্যাংক্রাস স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পরে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে আহতদের উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়। উত্তর লন্ডন থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে বেডফোর্ড এলাকায় দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। পূর্ব লন্ডন অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস জানায়, বেডফোর্ডের দক্ষিণে এই ট্রেন দু্র্ঘটনার খবর পেতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে তারা একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স-সহ একাধিক জরুরি সামগ্রী পাঠায়।