রাম মন্দিরে অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে সরব কেজরিওয়াল, রিপোর্ট জমা দিল এসআইটি
নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান এবং মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একই দিনে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।
মানবজাতিকে শান্তি, সম্প্রীতির দিকে পরিচালিত করতে পারে যোগ : রাষ্ট্রপতি
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : দ্বাদশতম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রবিবার যোগ চর্চা করেন। তিনি দেশবাসীকেও নিয়মিত যোগাভ্যাস করার আহ্বান জানান। এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি জানান, মানবজাতিকে শান্তি, সম্প্রীতির দিকে পরিচালিত করতে পারে যোগ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে যোগ উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, যোগ হলো ব্যক্তিকে আত্মার সঙ্গে, সমাজকে প্রকৃতির সঙ্গে এবং মানবতাকে সুবিশাল বিশ্বচেতনার সঙ্গে সংযুক্ত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব অসংখ্য প্রতিকূলতার সম্মুখীন, তখন মানবতাকে শান্তি, ভারসাম্য, সম্প্রীতি এবং সম্মিলিত কল্যাণের দিকে পরিচালিত করতে যোগ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি জনগণকে যোগকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার আহ্বান জানান।
পূর্ব রেলে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন। মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন। পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
যে কোনও ব্যক্তি অথবা সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম : রাষ্ট্রপতি
জব্বলপুর : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রবিবার মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, বৈজ্ঞানিক মানসিকতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিশ্ব যোগ দিবসে কাঠমান্ডুতে গণযোগ কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে রবিবার ১২তম বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য গণযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সরকারি আধিকারিক, কর্মচারী এবং যোগবিশেষজ্ঞ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের মুখ্যসচিব সুমনরাজ আর্যাল, বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব, সরকারি কর্মচারী এবং যোগগুরুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে যোগাভ্যাস করে যোগের গুরুত্ব এবং এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতার বার্তা তুলে ধরেন। এ বছরের যোগ দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমেও এই বার্তাই দেওয়া হয় যে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে যোগ একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। এই দিবসের উদ্দেশ্য হল যোগের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নেপাল সরকারও প্রতি বছর এই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে, যাতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গ্রহণে উৎসাহিত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগচর্চা মানসিক চাপ কমায়, একাগ্রতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন উদ্যম ও শক্তি সঞ্চার করে।
রেলের নতুন কড়া আইন : টিকিট ছাড়া যাত্রা থেকে ধূমপান, বাড়ল জরিমানা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ দিল্লী রেলযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় রেল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক সংশোধিত জরিমানা ও নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করলেও টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। স্টেশন বা ট্রেনে অনুমোদনহীন হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন আচরণের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের জন্য ৫০০ টাকা এবং রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যেখানে ন্যূনতম জরিমানা ১০ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রকের মতে, এই সংশোধিত আইন যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রেন ও স্টেশনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করে তুলবে।
৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেএনকেকে সড়ক উদ্বোধন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সীতারমণের
জোয়াই (মেঘালয়) : সুস্থ চিন্তাভাবনা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার করতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ শনিবার মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার অন্তর্গত ওয়াহিয়াজের ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জোয়াই-নার্টিয়াং-কদিয়াপ-খান্দুলি (জেএনকেকে) সড়কের উদ্বোধন করে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা।
ওড়িশার অর্থনীতি শক্তিশালী হলে ভারত মজবুত হবে : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক, ময়ূরভঞ্জ : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার পাহাড়পুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। পাহাড়পুর গ্রাম পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাঁওতালি জহের ও হো জহের (পবিত্র উপাসনা স্থল), দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পাহাড়পুর স্কুলে প্রার্থনা ও পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন। ওড়িশা সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিকাশ রা ধারা, ওড়িশা সারা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ময়ূরভঞ্জ জেলারই রাইরংপুরে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে আমাদের সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রয়েছে। ২০৩৬ সালে ওড়িশা গঠনের ১০০ বছর পূর্ণ হবে এবং ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। অর্থাৎ, ওড়িশা এবং দেশের লক্ষ্য একই দিকে। ওড়িশার অর্থনীতি শক্তিশালী হলে ভারতও শক্তিশালী হবে। ওড়িশার সম্ভাবনার উপর আমার বিশ্বাস আছে। একসঙ্গে আমাদের ওড়িশাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে হবে।” আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করছি। এই শিশুদের পড়াশোনার জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত। আর এ কারণেই সারা দেশে প্রায় ৫০০টি ‘একলব্য মডেল স্কুল’ চালু করা হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “আমাদের সরকার ওড়িশার সম্পদকে ওড়িশার সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করছে। ওড়িশায় বিপুল বিনিয়োগ আসছে এবং এখানে নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠছে; এই লক্ষ্যেই ‘উৎকর্ষ ওড়িশা’-র মতো কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অসংখ্য মেগা প্রকল্পের কাজও চলছে।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজনৈতিক বার্তা, শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে মোদী–শাহ, তোপ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়। সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা। সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।