রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতকে যেন ‘শাস্তি’ নয়, ট্রাম্প প্রশাসনকে বার্তা জেপিমর্গ্যান কর্তার

সকাল সকাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর নতুন করে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞার চাপ তৈরি হওয়া উচিত নয়—এমনই বার্তা দিলেন জেপিমর্গ্যান চেজের চেয়ারম্যান তথা সিইও জেমি ডিমন। তাঁর বক্তব্য, মস্কোর উপর চাপ বাড়াতে গিয়ে ওয়াশিংটনের এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়, যার ফলে ভারত কিংবা আন্তর্জাতিক তেলের বাজার সমস্যায় পড়ে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।

দিল্লিতে জেপিমর্গ্যানের ভারতীয় বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রসঙ্গ তোলেন ডিমন। তাঁর মতে, ভারত যে রুশ তেল আমদানি করে, তার একটি অংশ দেশের নির্দিষ্ট ধরনের শোধনাগারের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। ফলে হঠাৎ করে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে একই ধরনের অপরিশোধিত তেল অন্য উৎস থেকে পাওয়া সব সময় সহজ নাও হতে পারে।

ডিমনের বক্তব্য, ভারত রাশিয়া থেকে তেল না কিনলে বিকল্প উৎস থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। কিন্তু অন্য দেশ থেকে পাওয়া তেল ভারতের বিভিন্ন শোধনাগারের প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। রুশ তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু ভারতের উপর নয়, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আগে নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন জেপিমর্গ্যান কর্তা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভারত এবং বিশ্ব অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে দিকে নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি।

রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে আমেরিকার সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা বেড়েছে। ভারত ও চিন রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা হওয়ায় সম্ভাব্য শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজার পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনা করেই অপরিশোধিত তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে তেল আমদানি ভারতের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ডিমনের বক্তব্যের মূল বার্তাও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের এই বাস্তবতাকে ঘিরে। তাঁর মতে, রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে তার প্রভাব ভারতীয় শিল্প, তেল শোধনাগার কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের উপর অপ্রত্যাশিতভাবে পড়ে।

ফলে রাশিয়াকে ঘিরে আমেরিকার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতের জ্বালানি চাহিদা এবং বিশ্ব তেলের বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখার বার্তাই দিয়েছেন জেপিমর্গ্যানের শীর্ষ কর্তা। এখন ওয়াশিংটন এই অবস্থানকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

Read More News

Read More