একসাথে নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় টেট-২ উত্তীর্ণরা, আটক বহু চাকরিপ্রার্থী
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : টেট-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের একসাথে নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষোভকারীদের আটক করে এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। জানা যায়, ২০২৫ সালের টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একযোগে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি রাজ্য সরকার টেট-২ উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ১০২০ জনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রোস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষণ নীতিমালা মেনে নিয়োগ করা হলে বাস্তবে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০টি পদ পূরণ হবে। ফলে বাকি পদগুলো শূন্য থেকে যাবে এবং মোট উত্তীর্ণদের প্রায় অর্ধেকই বঞ্চিত হবেন। অথচ মোট ১৪৮৮ জন পরীক্ষার্থী টেট-২ উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং শূন্যপদের সংখ্যা তার থেকেও বেশি বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এদিন সকালে আগরতলায় সিটি সেন্টারের সামনে জড়ো হন টেট-২ উত্তীর্ণরা। সেখানে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর তাঁরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভে সামিল হয়। বিক্ষোভস্থল থেকে জনৈক চাকরিপ্রার্থী জানান, “আমরা ১৪৮৮ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু সরকার মাত্র ১০২০ জনকে নিয়োগের কথা বলছে। সংরক্ষণ নীতি মেনে চললে তারও অর্ধেকের মতো চাকরি পাবেন। তাহলে বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমরা সবাই একসাথে নিয়োগ চাই এবং বাকি নিয়োগ কবে হবে তার স্পষ্ট সময়সীমা জানতে চাই।” এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথমে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে এবং তাঁদের এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগরতলায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
“এবার টিটিএএডিসিতে পদ্ম ফুটবেই”—বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজীবের দৃঢ় প্রত্যয়
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের মধ্যেই আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। সোমবার আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এবার টিটিএএডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির পদ্ম ফুল ফুটতে চলেছে, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।” সোমবার সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন রাজীব ভট্টাচার্য। এরপর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ভারত মাতা, জনসংঘের দুই প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দলের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়। এর আগে ১৯৫১ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, “জনসংঘ থেকে বিজেপি-র পথচলার ইতিহাস প্রতিটি কার্যকর্তার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজীব ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, জনগণের সমর্থন নিয়ে এবার টিটিএএডিসিতেও বিজেপি সাফল্য অর্জন করবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনমুখী নীতির উপর ভর করেই এই সাফল্য আসবে। এদিকে, শুধু প্রদেশ কার্যালয়েই নয়, আগরতলায় বিভিন্ন মণ্ডল এবং বুথ এলাকায়ও দিনভর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়। পতাকা উত্তোলন, প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দলীয় কর্মীরা দিনটি পালন করেন। একইভাবে রাজ্যের সব মহকুমা, জেলা এবং মণ্ডল কমিটির উদ্যোগেও যথাযথ মর্যাদায় বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সেবাভিত্তিক রাজনীতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সেবাভিত্তিক রাজনীতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করেছে, বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে সোমবার এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিজেপির স্থাপনা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া রাজনীতির ক্রমান্বয়ে অবক্ষয় ঘটে এবং সেবামুখী রাজনীতি ক্রমান্বয়ে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। এখন আমরা গর্বিত যে, আমাদের আচরণের মাধ্যমে আমরা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন নীতি প্রতিষ্ঠা করেছি: দেশই সর্বোপরি নীতি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশ অবগত, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজেপি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বিজেপি এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অতীতে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অর্জিত হবে। ব্রিটিশ আমলের শত শত কঠোর আইনের বিলোপসাধন; আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ; সাধারণ বর্গের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশগুলোর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা; আইনের মাধ্যমে ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করা; সিএএ এবং অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ—এগুলো হলো বিজেপির আন্তরিক প্রচেষ্টার সাক্ষ্য বহনকারী অসংখ্য অর্জনের মাত্র কয়েকটি দৃষ্টান্ত। আর আমাদের এই অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সুবিশাল ও পবিত্র বটবৃক্ষের পাদদেশে আমরা বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে রাজনীতির জগতে পা রাখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে, প্রথম কয়েক দশক ধরে আমরা সংগঠনের জন্য নীতি প্রণয়নে আমাদের শক্তিকে নিয়োজিত করেছিলাম। তারপর এলো সেই যুগ, যখন বিজেপি একটি শক্তিশালী, ক্যাডার-ভিত্তিক দল গঠনে অবিচল অঙ্গীকার নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছিল। আমরা কর্মীদের এক বিশাল ক্যাডার গড়ে তুলেছিলাম—এমন সব ব্যক্তি, যারা নিঃস্বার্থ সেবার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন, দলের নীতিগুলোকে তাঁদের জীবনের পথপ্রদর্শক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং কোনও অবস্থাতেই নিজেদের মূল্যবোধের সঙ্গে আপোস করেননি।”
প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার পথে বিজেপির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কোচবিহার : প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় রবিবার কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা শহরে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাসে করে কর্মীরা কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন। সেই সময় পথে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং আচমকাই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি কর্মীদের বাস সেখান থেকে নিরাপদে কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিজেপির তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।
নাসিকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, কুয়োয় গাড়ি পড়ে গিয়ে মৃত ৯
সকাল সকাল ডেস্ক নাসিক : মহারাষ্ট্রের নাসিকে ঘটে গেল মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। জলভর্তি কুয়োয় গাড়ি পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ৬টি শিশু রয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ডিন্ডোরি শহরের শিবাজী নগর এলাকায়। মৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পুলিশ জানিয়েছে, একটি অনুষ্ঠান থেকে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন সবাই। মৃতরা সকলেই ডিন্ডোরি তালুকার ইন্দোর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে ডিন্ডোরির শিবাজী নগরে তাঁদের গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি কুয়োয় পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডিন্ডোরি পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে কাছেই জলভর্তি একটি কুয়োয় পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত লাগান, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃত হলেন সুনীল দত্তু দারগুড়ে (৩২), তাঁর স্ত্রী রেশমা, আশা অনিল দারগুড়ে (৩২) এবং পরিবারের ছয় সন্তান—যাদের মধ্যে সাত থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী পাঁচজন মেয়ে এবং এগারো বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
যারা চায় বাংলার সর্বনাশ, তাদের আমরা করব বিনাশ : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সকাল সকাল ডেস্ক দক্ষিণ দিনাজপুর : দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের হাজারিপাড়ার জনসভা সেরে শুক্রবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জনসভা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিরামপুরের জনসভা থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। মমতা বলেন, আমরা বলি না। আমরা করে দেখাই। লক্ষ্মীর ভান্ডার শুরু হয়েছিল ৫০০ টাকা দিয়ে। এখন ১৫০০ এবং ১৭০০ টাকা। যুবসাথী নতুন করে করেছি। মমতা আরও বলেন, বিজেপির সরকার, অত্যাচারী সরকার, লোককে অনাহারে মারার সরকার, স্বৈরাচারী সরকার। বাংলাকে করেছে বঞ্চনা, লাঞ্ছনা। এক কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি পাকা করেছি। আগামী দিন আরও করব। মমতা বলেন, যারা চায় বাংলার সর্বনাশ, তাদের আমরা করব বিনাশ। আপনার গণতন্ত্র কেড়ে নিচ্ছে, ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। মাছ, ডিম খেতে দেবে না। ওদের ধর্মের নাম অধর্ম। আর আমাদের ধর্মের নাম মানবধর্ম। মমতা এদিন আরও বলেন, মালদা মামলার সঙ্গে জড়িতকে স্থানীয় পুলিশ নয়, সিআইডি ধরেছিল। সে বাগডোগরা থেকে পালাচ্ছিল এবং মুম্বই থেকে এসেছিল।
জয়পুরের মাটি থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে অর্জুন মাহাতোর পক্ষে সওয়াল
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাতো, কোটশিলা: পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম তরুণ তুর্কি তথা জেলা পরিষদ সদস্য অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে কোটশিলার বামনিয়া ডাকবাংলো মাঠে নির্বাচনী জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই জনসভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করেন তিনি, তেমনই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও পারিবারিক রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। এদিন ভাষণের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর প্রশংসা করে বলেন, “অর্জুন কোনো পারিবারিক পরিচিতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের লড়াই এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্য দলের প্রার্থীরা যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজের ছেলের জন্য টিকিট নিয়ে আসেন, সেখানে অর্জুন মাহাতো মাটির লড়াই লড়ে আজ আপনাদের প্রতিনিধি হয়েছেন। বিজেপি সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মোদী সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী করেছে? আমি আমার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছি, ক্ষমতা থাকলে ওরাও রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক।” তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাস যোজনার টাকা আটকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ‘ভাতে মারার’ চেষ্টা করছে।পুরুলিয়া ও জয়পুরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পাকা বাড়ি পেয়েছেন। জয়পুর ব্লকেই প্রায় ৮২ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে জয়পুরে ১১০টি রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ করা হয়েছে।আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রকল্পের সুবিধা মায়েরা আজীবন পাবেন। প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। ব্লক ভিত্তিক ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা চালু করা হবে। কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার বাংলার প্রতিটি গরিব মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেবে।যাদের আবেদন জমা পড়েছে, তাদের প্রত্যেকের বকেয়া টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। সবশেষে জয়পুরের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি আশ্বস্ত করেন, “যেভাবে আমি ডায়মন্ড হারবারকে আগলে রাখি, আগামী দিনে ঠিক একইভাবে জয়পুরকেও নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবো।” এদিনের সভায় জেলা চেয়ারম্যানসহ নিবেদিতা মাহাতো, গৌরব সিং, উজ্জ্বল কুমার, মিনি বাউরী, কিরী আচারিয়া, সাদ্দাম আনসারী ও শক্তিপদ মাহাতোর মতো জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
মণিপুরে গ্ৰেফতার জঙ্গি ক্যাডার, ভারত-মায়ানমার সীমান্তে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও আইইডি
সকাল সকাল ডেস্ক ইমফল : মণিপুরের ইমফল পশ্চিমে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গি সংগঠন ‘কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (পিপলস ওয়ার গ্রুপ)’, সংক্ষেপে কেসিপি (পিডব্লিউজি)-এর সক্রিয় ক্যাডার। আজ সোমবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার ইমফল পশ্চিম জেলার অন্তর্গত সিঙ্গজামেই থানাধীন সাঙ্গাইপ্রউ মামাং লেইকাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেসিপি (পিডব্লিউজি)-র সক্ৰিয় ক্যাডার মৈবাম পিংকু সিং (৪২)-কে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পিংকু সিং চিংগামাথাক পিশুম লেইরাক এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারের সময় ধৃতের হেফাজত থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে, জানিয়েছে সূত্রটি। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এর আগের দিন শনিবার (২৮ মার্চ) পরিচালিত পৃথক অভিযানে তেংনৌপাল জেলার ভারত-মায়ানমার সীমান্তবৰ্তী মোরে থানাধীন ইয়াংগৌবুং গ্রামে সীমান্ত পিলার-৭৩-এর কাছে বিপুল পরিমাণের আগ্নেয়াস্ত্র, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছয়টি ৯ এমএম পিস্তল, ছয়টি ৯ এমএম ম্যাগাজিন, একটি সিঙ্গল-ব্যারেল রাইফেল, ১৫টি আইইডি এবং দুটি ট্যাকটিক্যাল রেডিও সেট রয়েছে। আধিকারিক সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বিধি মেনে ঘটনাস্থলেই আইইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ : দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যসচিব, শোকস্তব্ধ টলিপাড়া
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার বিনোদন জগতে। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। রবিবার সন্ধ্যায় দিঘার সমুদ্রে নেমে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতার। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে রাহুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা ছিল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল যে, সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক কিছু জটিলতায় সকাল ৯টার পরেও সেই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে প্রয়াত অভিনেতার মরদেহ দিঘা থেকে কলকাতার বিজয়গড়ে তাঁর বাসভবনে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এদিন সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যসচিব। অভিনেতার অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লিখেছেন যে, এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত এবং রাহুলের মতো একজন প্রিয় অভিনেতা ও ভালো মানুষের চলে যাওয়া বিশ্বাস করা কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত অভিনেতার পরিবার, পরিজন এবং অগণিত অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলা সিনেমা ও ধারাবাহিক জগতে রাহুলের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর প্রয়াণ অভিনয় জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাহুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার বিজয়গড়ে রাহুলের মায়ের কাছে পৌঁছন। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তিনি ছেলে সহজের কাছে যান এবং গভীর রাতে পুনরায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ফিরে আসেন। সোমবার দুপুর থেকে বিজয়গড় এলাকায় উপচে পড়ছে ভিড়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুরের মধ্যেই অভিনেতার পার্থিব শরীর তাঁর বাসভবনে আনা হতে পারে। সেখানে শেষবারের মতো প্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষ ও চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্বদের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিল্লিতে গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি, গ্রেফতার চার
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। এর মধ্যেই দিল্লিতে সিলিন্ডার কালোবাজারি চক্রের হদিস পেল পুলিশ। বুধবার সঙ্গম বিহার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮৩টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে সিলিন্ডার মজুত ও রিফিলিংয়ের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার সতেন্দ্র মোহনের তত্ত্বাবধানে পুলিশ আধিকারিক মহিপাল সিংয়ের নেতৃত্বে তিনটি আলাদা জায়গায় হানা দিয়ে শের সিং, সুরজ পরিহার, রঘু রাজ সিং এবং জিতেন্দ্র শর্মাকে হাতেনাতে ধরা হয়। উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারের মধ্যে ১৫৪টি ভর্তি এবং ২৯টি খালি। পাশাপাশি লোহার পাইপ, ইলেকট্রনিক ওজন মাপার যন্ত্র–সহ নানা সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ইন্ডেন গ্যাস এজেন্সির নিবন্ধিত ডেলিভারি এজেন্ট। গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করার বদলে তারা সিলিন্ডার গুদামে মজুত রাখত এবং সেখান থেকে গ্যাস বের করে অন্য সিলিন্ডারে ভরে বেশি দামে বিক্রি করত। পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের বেআইনি কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।