আরজি কর কাণ্ড: এবার পানিহাটি শ্মশানে সিবিআই
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা, ১৭ জুন : আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই । বুধবার তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-এর একটি বিশেষ দল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছয়। ঘটনার দিন নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি এই শ্মশানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন তাঁর বাবা-মা। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এদিন শ্মশানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গেছে, এদিন পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে তৎকালীন শ্মশান পরিদর্শক, দাহকার্যের দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং স্থানীয় পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিবিআই আধিকারিকরা। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত বছরের আগস্ট মাসে দেহ শ্মশানে নিয়ে আসার পর থেকে দাহ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে শ্মশানের রেজিস্টার বুক এবং দাহ সংক্রান্ত শংসাপত্রের নথিপত্রও পরীক্ষা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ঘটনার দিন পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশ অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে দেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করার ব্যবস্থা করেছিল। পরিবারের সম্মতি ও উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন এত দ্রুততার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হলো এবং এর পেছনে কোনও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ছিল কি না— তা জানতেই সিবিআই এই নতুন করে তদন্তে নেমেছে। শ্মশানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তৎকালীন নথি খতিয়ে দেখে এই প্রক্রিয়ায় কার কার ভূমিকা ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
কার্শিয়াং পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি, ১৬ জুন : রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো কার্শিয়াং পৌঁছালেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কার্শিয়াং -এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সূত্র অনুযায়ী, বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণের পর হেলিকপ্টারে করে তাঁর কার্শিয়াং যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁকে সড়কপথে যেতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়াং -এর গোথালস মেমোরিয়াল স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দেন। এছাড়া মন্টেভিট গ্রাউন্ডে স্থানীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রী নিশিত প্রামাণিক, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং দার্জিলিং-এর সাংসদ রাজু বিস্তা সহ বহু জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উত্তরবঙ্গ এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনসংযোগের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দুর্গাপুরে ঝাঁটা হাতে রাস্তায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
সকাল সকাল ডেস্ক দুর্গাপুর, ১৬ জুন : রাজ্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্বয়ং ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তাঁর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এদিন সকালের এই বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক এবং সাফাই কর্মীরা। ‘নির্মল বন্ধু’ ও ‘নির্মল সাথী’দের নিয়ে মন্ত্রী বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করেন এবং স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দোকান ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন। শহরবাসীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, জনবহুল এলাকা, রাস্তা বা বাসস্ট্যান্ডে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা কিংবা পানের পিক ফেলার প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই জরিমানার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করা হচ্ছে যাতে তাঁরা শহর পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করেন। মন্ত্রী আরও জানান, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি হেল্পলাইন নম্বরের উদ্বোধন করবেন। শহরবাসী ওই নম্বরে ফোন করে আবর্জনা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং সরকারি উদ্যোগে দ্রুত তার সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান ও মন্ত্রীর সরাসরি মাঠে নামার ঘটনা শহরবাসীকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
শিল্পায়নে নতুন রোডম্যাপ, টাটাকে বাংলায় ফেরাতে উদ্যোগী সরকার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— টাটা গোষ্ঠী কি আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরবে? সেই জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিঙ্গুর ও টাটা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “টাটাকে এখানে আনব আমরা।” তবে টাটা গোষ্ঠীকে সিঙ্গুরেই ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গুরের জমির বর্তমান মালিকানা সরকারের হাতে নেই। পূর্ববর্তী সরকার সেই জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়েছিল। তাই সেই জমিতে নতুন করে শিল্প স্থাপন বা টাটা প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি সিঙ্গুরের জমির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর দাবি, জমি ফেরত পেলেও কৃষকরা আজ সেখানে স্বাভাবিক চাষাবাদ করতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “ওই জমিতে এখন না সর্ষে হচ্ছে, না আলু, না ধান। মাছ চাষেরও চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও সাফল্য আসেনি।” তিনি অভিযোগ করেন, শিল্প প্রকল্পের সময় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর প্রভাবে জমির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং মাটির চরিত্র বদলে গেছে। শিল্পায়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার শুধুমাত্র প্রচারমুখী বিনিয়োগ সম্মেলনের পথে হাঁটবে না। তাঁর মতে, অতীতে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে বহু ঘোষণার পরও বাস্তবে অনেক বিনিয়োগ কার্যকর হয়নি। এবার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিক সংস্থা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কোনও সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়ার আগে তাদের আর্থিক ও আইনি অবস্থান খতিয়ে দেখা হবে। এই লক্ষ্যে শিল্প সচিব বন্দনা যাদবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমি জালিয়াতি, ব্যাঙ্ক প্রতারণা বা অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন কোনও সংস্থাকে বাংলায় শিল্প স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শুধুমাত্র জমি নিয়ে ফেলে রাখার প্রবণতাও বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর লক্ষ্যে সরকার তিন দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভারী শিল্পের পাশাপাশি ফুড প্রসেসিং, উদ্যানপালন ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টাটার মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগ করলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোরও উন্নয়ন হবে। ফলে শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যাও অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার।
স্বপনের হাতে অর্থ, দীপকের কাঁধে শিক্ষা, চূড়ান্ত বিজেপি সরকারের দফতর বণ্টন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ১০ জুন : পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও দফতর বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। গত ১ জুন রাজ্যপাল আর.এন. রবির উপস্থিতিতে শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বর্তমানে মোট ৪১ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন দফতর বণ্টনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং নারী অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ১০ জন মন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে এসেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পাল ও মালতি রাভা রায়ের মতো মহিলা নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রেখেছেন। অর্থ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্তকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মন। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। অগ্নিমিত্রা পালের হাতে গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, আর তাপস রায় পেয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্বারদত মুখোপাধ্যায়কে। পরিবেশ ও বন দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন মনোজকুমার ওরাওঁ। এছাড়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। আদিবাসী কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। কৃষি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুধকুমার মণ্ডলকে, আর তথ্যপ্রযুক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন কল্যাণ চক্রবর্তী। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মালতি রাভা রায় পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর। রাজেশ মাহাতোর হাতে গিয়েছে মৎস্য দফতর এবং ইন্দ্রনীল খাঁ পেয়েছেন ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের দায়িত্ব। এছাড়া ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আনন্দময় বর্মন অর্থ ও পরিবহণ, কৌশিক চৌধুরী স্কুল শিক্ষা ও অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা, সুমনা সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং বিরাজ বিশ্বাস আইন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার এই দফতর বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার। এখন নজর থাকবে নতুন মন্ত্রীরা নিজেদের দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারেন, তার ওপর।
কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি, চর্চা তুঙ্গে
সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব মেদিনীপুর, ৯ জুন: কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে এবার নজর কাড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির হন তৃণমূলের দুই সাংসদ দেব ও জুন মালিয়া এবং বিধায়ক শিউলি সাহা। তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মঙ্গলবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম—এই তিন জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠকে ডাক পান তিন জেলার বিভিন্ন দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট তিন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতিশীল করতে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোবে। এই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেল কোলাঘাটের বৈঠকে। দলীয় মতভেদ সরিয়ে উন্নয়নের প্রশ্নে একসঙ্গে বসার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিন জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কাজের গতি বাড়াতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য পুলিশে ব্যাপক রদবদল, বদলি ১৭৯ আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস অফিসার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ৮ জুন : বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। সোমবার রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ১৭৯ জন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকের বদলি ও পদোন্নতির ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার, ডিসিপি, আইজিপি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বদলির তালিকায় ডায়মন্ড হারবার, বীরভূম, বারাসাত, পূর্ব বর্ধমান, বারুইপুর, বাঁকুড়া, হাওড়া গ্রামীণ ও হুগলি গ্রামীণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলিও রয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ঈশানি পালকে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম বিভাগের ডিসি পদে আনা হয়েছে। বীরভূমের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিদিত রাজ বুন্দেশ, যিনি এতদিন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ শাখায় কর্মরত ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাসকে কলকাতা পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। বারাসাতের পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস জে মার্সি। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশিকে উত্তরবঙ্গ এসটিএফ-এর সুপার পদে পাঠানো হয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারিকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলি হয়েছে। রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজিপি পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর আইজিপি করা হয়েছে। দীপ নারায়ণ গোস্বামীকে মালদা রেঞ্জ থেকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদে আনা হয়েছে। গৌরব শর্মা পেয়েছেন এসটিএফ-এর আইজিপি পদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মুরলি ধরকে রাজ্য গোয়েন্দা শাখা (আইবি)-র আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক আধিকারিকের পদোন্নতিও ঘোষণা করা হয়েছে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার পদমর্যাদা ডিআইজি থেকে উন্নীত করে আইজিপি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) সোমা দাস মিত্র পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি (পলিসি) হয়েছেন। অর্ণব ঘোষ হয়েছেন আইজিপি কোস্টাল সিকিউরিটি এবং অলোক রাজোরিয়া আইজিপি (লিগ্যাল) পদে উন্নীত হয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের এই ব্যাপক রদবদলকে নির্বাচনের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
বাংলায় চালু ‘আয়ুষ্মান ভারত’, কেন্দ্র-রাজ্য চুক্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন অধ্যায়
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৮ জুন : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় এল পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, সোমবার থেকেই রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল। প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলির সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই সুবিধা মিলবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার এবং সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে। তবে বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। সেই সময় রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হবে। সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ‘প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজ’ বা পূর্ব থেকে থাকা রোগের চিকিৎসাও প্রথম দিন থেকেই কভারেজের আওতায় আসবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন এমন বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়া দেশের প্রায় ৩৬ হাজার তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা দেশের যে কোনও প্রান্তে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন। বিশেষভাবে উপকৃত হবেন ভিনরাজ্যে কর্মরত লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা কর্মস্থলের নিকটবর্তী তালিকাভুক্ত হাসপাতালে আয়ুষ্মান কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অতীতে এই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই জটিলতা দূর করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত ও সহজলভ্য করাই সরকারের লক্ষ্য। আয়ুষ্মান ভারতের সূচনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গ্রেট নিকোবর : ভারতের সামুদ্রিক কৌশলের প্রধান কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক অ্যাডমিরাল ডি. কে. জোশী “যে রাজ্য তার সীমানা, অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত রাখে না, সে তার ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত রাখতে পারে না।” কৌটিল্য কৌটিল্যের এই শিক্ষা শত শত বছর আগে শাসন ও কৌশলের মূল চিন্তার অংশ হয়ে উঠেছিল, এবং আজকের সময়ে এটি আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আজ দেশগুলোর পরীক্ষা কেবল তাদের অর্থনীতির আকার বা সামরিক শক্তি দিয়ে হচ্ছে না, বরং এই বিষয় দিয়ে হচ্ছে যে তারা ভূগোলকে কতটা ভালোভাবে বোঝে, ভবিষ্যতের কতটা সঠিক অনুমান করে এবং সুযোগের বিপদ হয়ে ওঠার আগে কতটা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেট নিকোবর ভারতের জন্য এমনই একটি বড় পরীক্ষা। এটি ভারতীয় মানচিত্রের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি দূরবর্তী দ্বীপের মতো মনে হয়। এমন একটি জায়গা যা কয়েক দশক ধরে প্রায় অক্ষত রাখা হয়েছে এবং যাকে সেভাবেই থাকতে দেওয়া উচিত। কিন্তু গ্রেট নিকোবর ভারতের অগ্রিম সামুদ্রিক চৌকি। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছাকাছি অবস্থিত এই দ্বীপটি বিশ্বের দিকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগগুলির মধ্যে একটি। অতএব, গ্রেট নিকোবরের প্রস্তাবিত উন্নয়নকে কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখা যায় না। এটি কেবল একটি বন্দর, বিমানবন্দর, টাউনশিপ বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির প্রশ্ন নয়। এটি আসলে এই বিষয়ে একটি কৌশলগত পরীক্ষা যে ভারত তার এই বিরল ভৌগোলিক সুবিধাটিকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করতে প্রস্তুত কিনা। শত শত বছর ধরে ভারত মহাসাগর ভারতের ভাগ্যকে আকার দিয়েছে। এই সামুদ্রিক অঞ্চলই আমাদের বাণিজ্য, আমাদের ধারণা এবং আমাদের সভ্যতার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে, তবে অনেক সময় এটি আমাদের দুর্বলতার কারণও হয়েছে। তবে, স্বাধীনতার পর দীর্ঘকাল ধরে ভারতের কৌশলগত চিন্তা মূলত স্থল-ভিত্তিক ছিল। এটি অনস্বীকার্য যে গ্রেট নিকোবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান। এটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপগুলির মধ্যে একটি, যার আয়তন প্রায় 910 বর্গ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট আয়তন 166.10 বর্গ কিলোমিটার, যা সমগ্র দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তনের প্রায় 2 শতাংশ। এর মধ্যে 130.75 বর্গ কিলোমিটার বনভূমি প্রকল্পের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দ্বীপপুঞ্জের মোট বনভূমির প্রায় 1.82 শতাংশ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত এবং মালাক্কা প্রণালী, 60 চ্যানেল, সুন্দা প্রণালী এবং লোম্বক প্রণালীর মতো প্রধান বৈশ্বিক সামুদ্রিক পথের কাছাকাছি আসে। প্রকৃত কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি ভারতের পূর্ব সামুদ্রিক চৌকি। এর গুরুত্ব তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন এটিকে কেবল ভূখণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মহাসাগরীয় কৌশলের ব্যাপক প্রেক্ষাপট থেকে দেখা হয়। কল্পনা করুন সেই জাহাজগুলির কথা, যা এডেন উপসাগর থেকে মালাক্কা প্রণালীর দিকে এগিয়ে চলেছে, শক্তিতে ভরা মালবাহী জাহাজ, যা পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে পূর্ব এশিয়ার দিকে যাচ্ছে, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপকে সংযুক্তকারী কন্টেইনার ট্র্যাফিক এবং নৌ সামরিক সম্পদ, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং লজিস্টিক চেইন, যা এই জলপথ দিয়ে অতিক্রম করছে। ভারত মহাসাগর এখন শান্ত সমুদ্র নয়। এটি দ্রুত একটি জনাকীর্ণ কৌশলগত অঞ্চলে রূপান্তরিত হচ্ছে। শক্তি সরবরাহ, কন্টেইনার ট্র্যাফিক, নৌ সামরিক মোতায়েন, দ্বীপীয় সুবিধা, সমুদ্রের নিচে বিছানো কেবল এবং সামুদ্রিক নজরদারি এখন একটি বড় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে। এটি হয়তো মূল ভূখণ্ডে বসে থাকা অনেকের কাছে দৃশ্যমান নাও হতে পারে, তবে দেশগুলির ভবিষ্যতের জন্য এটি অত্যন্ত নির্ণায়ক। সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল যে আন্দামান সাগরকে থাইল্যান্ড উপসাগরের সাথে সংযুক্তকারী কয়েক দশকের পুরনো ক্যানাল প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন প্রায় 90 কিলোমিটার দীর্ঘ মাল্টি-মোডাল ল্যান্ড ব্রিজের পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পটি টেন্থ প্যারালালের সাথে দুটি নব-নকশাকৃত গভীর সমুদ্র বন্দরকে সংযুক্ত করবে — একটি আন্দামান সাগরের তীরে রানং-এ এবং অন্যটি থাইল্যান্ড উপসাগরের তীরে চুম্ফোন-এ। এর সাথে দ্বৈত ট্র্যাকের উচ্চ গতির রেল, বহু-লেন সড়ক,তেল ও গ্যাসের জন্য শক্তি পাইপলাইন এবং বায়ু ও ডিজিটাল গ্রিডও প্রস্তাবিত। এই সমস্ত কারণ একত্রিত হয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক বাণিজ্য পথগুলিকে সম্পূর্ণরূপে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র সরাসরি আন্দামান অববাহিকার দিকে স্থানান্তরিত করছে। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট। এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করে এবং অত্যন্ত মূল্যবান শক্তি সম্পদ (তেল ও এলএনজি) এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান পথ। গ্রেট নিকোবরের গালাথিয়া উপসাগর 60 চ্যানেল থেকে প্রায় 45 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা মালাক্কা প্রণালীকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দিকে যাওয়া সামুদ্রিক পথগুলির সাথে সংযুক্ত করে। অনুমান করা হয় যে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ জাহাজ মালাক্কা প্রণালী 60 চ্যানেল পথ দিয়ে যাতায়াত করে। মালাক্কা, সুন্দা এবং লোম্বকের মতো কৌশলগত চোকপয়েন্টগুলির কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ার কারণে এই দ্বীপ ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে। কোনো গুরুতর সামুদ্রিক শক্তি এমন ভৌগোলিক তথ্য উপেক্ষা করার ঝুঁকি নিতে পারে না। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (আইওআর) অনেক শক্তিশালী দেশ বন্দর, লজিস্টিক ব্যবস্থা, সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার সুবিধা, নৌ সম্পদ, নজরদারি ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে ক্রমাগত তাদের উপস্থিতি বিস্তার করছে। ভারতের উত্তর দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারে না। তার উত্তর কৌশলগত সুদৃঢ়করণ হওয়া উচিত। সার্বভৌমত্ব কেবল মানচিত্রে সীমানা টেনে দিলেই সুদৃঢ় হয় না। এটি তখন শক্তিশালী হয় যখন কোনো ভূখণ্ড সংযুক্ত, জনবহুল, সুবিধাযুক্ত, উৎপাদনশীল এবং কৌশলগতভাবে উপযোগী হয়। আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট, গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, টাউনশিপ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি আলাদা আলাদা প্রকল্প নয়। এই সমস্ত একত্রিত হয়ে সেই বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) তৈরি করে, যার সাহায্যে ভারত একটি নির্ণায়ক সামুদ্রিক স্থানে নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং বহুমুখী উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল যথাযথ তদন্ত-পড়তাল এবং আপত্তির নিষ্পত্তির পর এটি স্বীকার করেছে যে এই প্রকল্পটি কেবল দ্বীপ এবং তার আশেপাশের কৌশলগত অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই নয়, বরং প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুর কেবল এই কারণে একটি মহান সামুদ্রিক কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি যে তার ভৌগোলিক অবস্থান অনুকূল ছিল। সে সেই স্থানের আশেপাশে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা তৈরি করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান তাকে সুযোগ দিয়েছে, এবং তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেই সুযোগকে প্রভাবে রূপান্তরিত করেছে। ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ উপস্থাপন করে। এটি দেখায় যে কোনো দূরবর্তী দ্বীপও, যদি তাকে লজিস্টিক এবং অপারেশনাল অবকাঠামো দিয়ে সজ্জিত করা হয়, তাহলে অসাধারণ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করতে পারে। সামুদ্রিক শক্তি কেবল ভূগোল থেকে তৈরি হয় না; এটি ভূগোলের ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে নির্মিত হয়। গ্রেট নিকোবর ভারতকে এই সমস্ত কিছু একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে করার সুযোগ প্রদান করে। এটি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে পারে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করতে পারে, বিদেশী ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্রগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে, পাশাপাশি ভারতের সামুদ্রিক প্রবেশাধিকারকে প্রসারিত করতে পারে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য একটি প্রবেশদ্বার এবং ব্যাপক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য একটি কৌশলগত মঞ্চ হিসাবে কাজ করতে পারে। গ্রেট নিকোবরে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট ভারতের সেই সামগ্রীর উপর নির্ভরতা কমাতে পারে যা বর্তমানে বিদেশী বন্দরগুলির মাধ্যমে ট্রান্সশিপ করা হয়। এর ফলে সাপ্লাই চেইন সুদৃঢ় হবে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ভারত তার সামগ্রীর চলাচলের উপর অধিক নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিততা অর্জন করবে। নিঃসন্দেহে, গ্রেট নিকোবর পরিবেশগত দিক
বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা
সকাল সকাল ডেস্ক ড. ময়ঙ্ক চতুর্বেদী পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা, বৈশ্বিক বাণিজ্যে মন্দা এবং উন্নত অর্থনীতির দুর্বল চাহিদার মধ্যে যদি কোনো দেশ আজ তুলনামূলকভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তবে তা হলো ভারত। অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর শুরুতে প্রকাশিত জিএসটি সংগ্রহ, উৎপাদন কার্যক্রম এবং পরিষেবা খাতের পরিসংখ্যান ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করছে। প্রকৃতপক্ষে, মে ২০২৬-এ মোট জিএসটি সংগ্রহ প্রায় ১.৯৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছানো এই ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও শীর্ষ স্তরে এই বৃদ্ধি মাত্র ৩.২ শতাংশ দেখা যায়, তবে রিফান্ড সমন্বয়ের পর প্রকৃত রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশে পৌঁছে যায়। এটি নির্দেশ করে যে অর্থনীতিতে ভোগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪.৩৭ লক্ষ কোটি টাকার মোট জিএসটি সংগ্রহ সরকারের জন্যও স্বস্তির বিষয়, কারণ এটি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এপ্রিল মাসে পণ্য সম্পর্কিত করযোগ্য সরবরাহে প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সমস্ত প্রধান পণ্য বিভাগে সম্প্রসারণ এটি নির্দেশ করে যে ভারতীয় ভোক্তারা এখনও ব্যয় করার অবস্থানে রয়েছেন। গ্রামীণ ও শহুরে চাহিদার উন্নতি, অবকাঠামোতে সরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে বিশেষ বিষয় হলো, এই বৃদ্ধি কেবল কিছু নির্বাচিত খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যাপক স্তরে দেখা যাচ্ছে, যা যেকোনো অর্থনীতির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়। পরিষেবা খাতের পারফরম্যান্সও ভারতের উন্নয়ন গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে। মে মাসে সার্ভিসেস পিএমআই ৫৯.৮-এ পৌঁছানো সেই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রমাণ, যেখানে ভারত ধীরে ধীরে একটি পরিষেবা-প্রধান বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তার পরিচয় শক্তিশালী করছে। পণ্য পরিবহন, ডিজিটাল পরিষেবা, ই-কমার্স, বিনোদন এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা নতুন ব্যবসাকে গতি দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি বাজার থেকে প্রাপ্ত অর্ডারের উন্নতি এটি নির্দেশ করে যে বৈশ্বিক স্তরে ভারতীয় পরিষেবাগুলির গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত বাড়ছে। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এপ্রিল মাসে রপ্তানিভিত্তিক পরিষেবার চাহিদায় যে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল, তা মে মাসে অনেকটাই দূর হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলি থেকে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ইঙ্গিত দেয় যে ভারত অভ্যন্তরীণ ভোগের শক্তির সঙ্গে আজ বৈশ্বিক পরিষেবা অর্থনীতিতেও তার অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করছে। উৎপাদন খাতের পরিসংখ্যানও উৎসাহব্যঞ্জক। মে মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৫৫.০-এ পৌঁছানো নির্দেশ করে যে উৎপাদন, ক্রয় এবং নতুন অর্ডারে ক্রমাগত সম্প্রসারণ হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারমিডিয়েট এবং ক্যাপিটাল গুডস খাতে দ্রুত বৃদ্ধি এই ইঙ্গিত দেয় যে শিল্প ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে আশাবাদী। অবকাঠামো প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ উৎপাদন কার্যক্রমকে নতুন ভিত্তি প্রদান করেছে। এখানে এটিও একটি সত্য যে রপ্তানি অর্ডারের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর ছিল, তবে এশিয়া, আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রাপ্ত চাহিদা এই খাতকে ভারসাম্য প্রদান করেছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চিত্রটি মিশ্র। পরিষেবা খাতে নিয়োগের গতি শক্তিশালী ছিল এবং গত এক বছরে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। রাজ্য স্তরেও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে দ্রুততার লক্ষণ উৎসাহব্যঞ্জক। কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ এবং কেরালার মতো রাজ্যগুলিতে জিএসটি সংগ্রহের শক্তিশালী বৃদ্ধি এটি নির্দেশ করে যে উন্নয়নের সুবিধা কিছু খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সর্বত্র বিস্তৃত। এই পরিস্থিতিতে, এটাই বলতে হবে যে ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে এমন একটি মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তার কাছে সুযোগের পর সুযোগ রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে চ্যালেঞ্জ নেই বা কম আছে, সেগুলিও অনেক। তবে ভারতীয় পেশাদাররা যেভাবে সেই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, সেই উৎসাহ এবং যোগ্যতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই কারণেই আজ শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন, সম্প্রসারিত পরিষেবা খাত এবং স্থিতিশীল কর সংগ্রহ অর্থনৈতিক দৃঢ়তার চিত্র তুলে ধরছে। এর সঙ্গে যে বিষয়টি বোঝার আছে, তা হলো আমদানির উপর নির্ভরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সীমিত গতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যয় সংক্রান্ত চাপ আমরা যত বেশি কমাতে পারব, তা ভারতের জন্য তত বেশি মঙ্গলজনক হবে। বর্তমান পরিসংখ্যান অবশ্যই আশা জাগায় যে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়েও ভারত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকতে পারে। তবে এটি সমানভাবে এই দায়িত্বের অনুভূতিও জাগিয়ে তোলে যে এই আশাকে স্থিতিশীলতা দিতে নীতিগত সতর্কতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের গতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যার জন্য আমাদের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।