ভোটের কাজে সিভিক ও গ্রিন পুলিশে নিষেধাজ্ঞা, কড়া নির্দেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ কিংবা স্টুডেন্ট পুলিশ ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। উপ-সচিব শক্তি শর্মা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের দফতরে সবিস্তারে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সাধারণ নির্বাচনের কোনো কাজেই এই বাহিনীকে যুক্ত করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভোটগ্রহণের দিন ছাড়াও তার আগের ও পরের দিন—অর্থাৎ মোট তিন দিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় যেন তাঁদের দেখা না যায়, সেই বিষয়েও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ সম্পর্কে প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলিকে বিশদে অবহিত করার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগেও দুই দফায় এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক চিঠিতে সেই পূর্ববর্তী নির্দেশিকার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে কমিশনের অবস্থান আরও একবার দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করা হলো। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নাকা তল্লাশিতে উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক পুরুলিয়া: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে জেলায় কড়া নজরদারি চলাকালীন নাকা তল্লাশিতে উদ্ধার হলো নগদ টাকা। পুরুলিয়া মফস্বল থানার রুদ্রা গ্রামের বাসিন্দা অমর পাণ্ডে নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারায় সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, অমর পাণ্ডে পেশায় একজন ঠিকাদার। বৃহস্পতিবার তিনি তার কাজের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারি দল এবং পুলিশের যৌথ নাকা তল্লাশি চলছিল। অমরবাবুর গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানো হলে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা এবং বৈধ নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঘটনাস্থলে অমরবাবু ওই টাকার সপক্ষে কোনো যুৎসই প্রমাণ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এর পরেই কমিশনের আধিকারিকরা নিয়ম মেনে পুরো টাকাটি সিজ (Seize) করেন। টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর ঠিকাদার অমর পাণ্ডে দাবি করেন, শ্রমিকদের মজুরি মেটানোর জন্যই তিনি ব্যাংক থেকে এই টাকা তুলে আনছিলেন। হঠাৎ নাকা চেকিংয়ের মুখে পড়ে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে যান এবং সেই মুহূর্তে সমস্ত নথি পেশ করতে পারেননি।পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সঠিক প্রমাণপত্র জমা দিতে পারলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে টাকা ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলায় এই ধরণের চেকিং অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষক ও ভাগচাষিকে দ্রুত ত্রাণ, ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি করা হবে না: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : অকাল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক ও ভাগচাষিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, এতে কোনও বিলম্ব করা হবে না। বুধবার সকালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক এবং সরকার সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাদের পাশে রয়েছে। তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতির নির্ভুল ও দ্রুত সমীক্ষা করে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসনকে রাজস্ব, কৃষি-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ত্রাণ বিতরণে দেরি না হয়। পাশাপাশি ফসল বিমা সংক্রান্ত দাবিগুলিও দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে ত্রাণ শিবির খোলা এবং মান্ডি বা বাজার কমিটির মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন, প্রাণহানি বা গবাদিপশুর ক্ষতি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি আবাস যোজনার সুবিধাও দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকেই উত্তর প্রদেশের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি চলছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে।
আরামবাগে নির্বাচনী প্রচার মমতার, তোপ এসআইআর ইস্যুতে
সকাল সকাল ডেস্ক হুগলি : আরামবাগে বুধবার জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এসআইআর ইস্যুতে কমিশনকে নিশানা করেন। জানান, অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। অনেক মানুষের নাম তোলা বাকি আছে। মরে যাব তবু শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। আবার আদালতে যাওয়া উচিত। এসআইআর ইস্যুতে কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোট কেটে তৃণমূলকে হারানো যাবে না। তিনি এও বলেন, সবার নাম উঠবে, আজ নয় কাল। ৩২ লক্ষ নাম আমি নিজে গিয়ে কেস করে তুলে দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল বিচারকেরা যে নামগুলো ক্যান্সেল করেছে, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা যাবে। কিন্তু তার আগে কেন ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দিল আমার মাথায় ঢুকল না। তাই আমার মনে হয় আবার কোর্টে যাওয়া উচিত। আরামবাগের সভা থেকে মমতা বলেন, আমার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের নাম বাদ। তাতেও কোনও ফারাক পড়বে না। একটা ভোট থাকলেও তৃণমূলের বাক্সেই পড়বে। বিজেপির বাক্সে বা অন্য কোনও দলের বাক্সে পড়বে না। ভোট কেটে কিছু করতে পারবে না।
দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণের জ্ঞান, মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত থাকে : উপরাষ্ট্রপতি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন মঙ্গলবার বলেছেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণের জ্ঞান, মূল্যবোধ এবং সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত থাকে। তিনি বলেন, ইগনু-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বৃত্তিমূলক শংসাপত্র এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করে জাতীয় দক্ষতা পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইগনু-র ৩৯-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাধাকৃষ্ণন বলেন, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়- ইগনু সহজলভ্য শিক্ষার মাধ্যমে সমগ্র দেশকে সংযুক্ত করে এবং শিক্ষার পরিমণ্ডলকে রূপান্তরিত করে দেশকে গর্বিত করেছে। উপরাষ্ট্রপতি ইগনু-কে দেশের মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পরিমণ্ডলের একটি স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন, এটি শিক্ষাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে, বিশেষ করে তাদের কাছে যারা শৈশবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি কর্মজীবী ব্যক্তি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, আর্থিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী এবং নারীদের কাছে উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দিয়ে একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করেছে। রাধাকৃষ্ণন বলেন, ৩ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে, যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্নাতক অনুষ্ঠান করে তুলেছে।
একসাথে নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় টেট-২ উত্তীর্ণরা, আটক বহু চাকরিপ্রার্থী
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : টেট-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের একসাথে নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষোভকারীদের আটক করে এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। জানা যায়, ২০২৫ সালের টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একযোগে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি রাজ্য সরকার টেট-২ উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ১০২০ জনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রোস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষণ নীতিমালা মেনে নিয়োগ করা হলে বাস্তবে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০টি পদ পূরণ হবে। ফলে বাকি পদগুলো শূন্য থেকে যাবে এবং মোট উত্তীর্ণদের প্রায় অর্ধেকই বঞ্চিত হবেন। অথচ মোট ১৪৮৮ জন পরীক্ষার্থী টেট-২ উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং শূন্যপদের সংখ্যা তার থেকেও বেশি বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এদিন সকালে আগরতলায় সিটি সেন্টারের সামনে জড়ো হন টেট-২ উত্তীর্ণরা। সেখানে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর তাঁরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভে সামিল হয়। বিক্ষোভস্থল থেকে জনৈক চাকরিপ্রার্থী জানান, “আমরা ১৪৮৮ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু সরকার মাত্র ১০২০ জনকে নিয়োগের কথা বলছে। সংরক্ষণ নীতি মেনে চললে তারও অর্ধেকের মতো চাকরি পাবেন। তাহলে বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমরা সবাই একসাথে নিয়োগ চাই এবং বাকি নিয়োগ কবে হবে তার স্পষ্ট সময়সীমা জানতে চাই।” এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথমে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে এবং তাঁদের এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগরতলায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
“এবার টিটিএএডিসিতে পদ্ম ফুটবেই”—বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজীবের দৃঢ় প্রত্যয়
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের মধ্যেই আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। সোমবার আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এবার টিটিএএডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির পদ্ম ফুল ফুটতে চলেছে, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।” সোমবার সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন রাজীব ভট্টাচার্য। এরপর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ভারত মাতা, জনসংঘের দুই প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দলের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়। এর আগে ১৯৫১ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, “জনসংঘ থেকে বিজেপি-র পথচলার ইতিহাস প্রতিটি কার্যকর্তার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজীব ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, জনগণের সমর্থন নিয়ে এবার টিটিএএডিসিতেও বিজেপি সাফল্য অর্জন করবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনমুখী নীতির উপর ভর করেই এই সাফল্য আসবে। এদিকে, শুধু প্রদেশ কার্যালয়েই নয়, আগরতলায় বিভিন্ন মণ্ডল এবং বুথ এলাকায়ও দিনভর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়। পতাকা উত্তোলন, প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দলীয় কর্মীরা দিনটি পালন করেন। একইভাবে রাজ্যের সব মহকুমা, জেলা এবং মণ্ডল কমিটির উদ্যোগেও যথাযথ মর্যাদায় বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সেবাভিত্তিক রাজনীতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : সেবাভিত্তিক রাজনীতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করেছে, বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে সোমবার এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিজেপির স্থাপনা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া রাজনীতির ক্রমান্বয়ে অবক্ষয় ঘটে এবং সেবামুখী রাজনীতি ক্রমান্বয়ে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। এখন আমরা গর্বিত যে, আমাদের আচরণের মাধ্যমে আমরা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন নীতি প্রতিষ্ঠা করেছি: দেশই সর্বোপরি নীতি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশ অবগত, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজেপি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বিজেপি এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অতীতে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অর্জিত হবে। ব্রিটিশ আমলের শত শত কঠোর আইনের বিলোপসাধন; আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ; সাধারণ বর্গের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশগুলোর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা; আইনের মাধ্যমে ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করা; সিএএ এবং অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ—এগুলো হলো বিজেপির আন্তরিক প্রচেষ্টার সাক্ষ্য বহনকারী অসংখ্য অর্জনের মাত্র কয়েকটি দৃষ্টান্ত। আর আমাদের এই অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সুবিশাল ও পবিত্র বটবৃক্ষের পাদদেশে আমরা বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে রাজনীতির জগতে পা রাখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে, প্রথম কয়েক দশক ধরে আমরা সংগঠনের জন্য নীতি প্রণয়নে আমাদের শক্তিকে নিয়োজিত করেছিলাম। তারপর এলো সেই যুগ, যখন বিজেপি একটি শক্তিশালী, ক্যাডার-ভিত্তিক দল গঠনে অবিচল অঙ্গীকার নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছিল। আমরা কর্মীদের এক বিশাল ক্যাডার গড়ে তুলেছিলাম—এমন সব ব্যক্তি, যারা নিঃস্বার্থ সেবার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন, দলের নীতিগুলোকে তাঁদের জীবনের পথপ্রদর্শক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং কোনও অবস্থাতেই নিজেদের মূল্যবোধের সঙ্গে আপোস করেননি।”
প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার পথে বিজেপির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কোচবিহার : প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় রবিবার কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা শহরে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাসে করে কর্মীরা কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন। সেই সময় পথে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং আচমকাই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি কর্মীদের বাস সেখান থেকে নিরাপদে কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিজেপির তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।
নাসিকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, কুয়োয় গাড়ি পড়ে গিয়ে মৃত ৯
সকাল সকাল ডেস্ক নাসিক : মহারাষ্ট্রের নাসিকে ঘটে গেল মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। জলভর্তি কুয়োয় গাড়ি পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ৬টি শিশু রয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ডিন্ডোরি শহরের শিবাজী নগর এলাকায়। মৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পুলিশ জানিয়েছে, একটি অনুষ্ঠান থেকে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন সবাই। মৃতরা সকলেই ডিন্ডোরি তালুকার ইন্দোর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে ডিন্ডোরির শিবাজী নগরে তাঁদের গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি কুয়োয় পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডিন্ডোরি পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে কাছেই জলভর্তি একটি কুয়োয় পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত লাগান, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃত হলেন সুনীল দত্তু দারগুড়ে (৩২), তাঁর স্ত্রী রেশমা, আশা অনিল দারগুড়ে (৩২) এবং পরিবারের ছয় সন্তান—যাদের মধ্যে সাত থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী পাঁচজন মেয়ে এবং এগারো বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।