বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে শুক্রবার এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে শুক্রবার জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশন চলাকালীন সরকারের কৌশল, আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার এবং বিরোধীদের বিভিন্ন ইস্যুর মোকাবিলা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে তাঁর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনে সরকারের কর্মসূচি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে উপস্থাপন এবং সেগুলি পাস করানোর রণকৌশলও নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অর্জুনরাম মেঘওয়াল, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডুসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। আগামী ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সংসদের বাদল অধিবেশন চলবে। এই অধিবেশনে সরকারের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি, সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা, বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয় এবং বিরোধীদের সম্ভাব্য কৌশলের মোকাবিলা নিয়েই মূলত শুক্রবারের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও ভক্তির জোয়ারে ভাসল পুরী, আস্থার আবহে অনুষ্ঠিত হল শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রা
সকাল সকাল ডেস্ক ভুবনেশ্বর: প্রবল বর্ষণও থামাতে পারেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস। অটুট বিশ্বাস ও ভক্তিভাবকে সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পুরীর শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা। ওডিশা-সহ দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রথযাত্রায় অংশ নেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পুরী ও উপকূলীয় ওডিশার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে যায়। তবুও ভক্তদের ঢল থামেনি। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। ‘জয় জগন্নাথ’ এবং ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রথযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল নজরকাড়া। বৃষ্টিভেজা পথেই বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী ও শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে ওডিশি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা ভক্তদের মন জয় করে নেয়। প্রাচীন রীতি ও আচার মেনেই জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সকালে ভোগমণ্ডপে ধূপ নিবেদন দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর দেবদেবীদের রথে আরোহনের বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়। ‘পাহান্ডি বিজে’ অনুষ্ঠানে ঘণ্টা, কাহালি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির মধ্যে শোভাযাত্রা করে গর্ভগৃহ থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে রথে আনা হয়। ভগবান জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং দেবী সুভদ্রার দর্পদলন রথে দেবদেবীদের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব ঐতিহ্যবাহী ‘ছেরা পাহাঁড়া’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সাদা পোশাক পরে রূপোর পালকিতে এসে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সুগন্ধি জল ছিটিয়ে সম্পন্ন হয় এই আচার। এই অনুষ্ঠান সমাজে সমতা ও বিনয়ের বার্তা বহন করে বলে মনে করা হয়। সমস্ত আচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রথ টানা। প্রথমে বলভদ্রের তালধ্বজ, পরে সুভদ্রার দর্পদলন এবং সবশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথের নন্দীঘোষ রথ টানতে শুরু করেন ভক্তরা। তবে দীর্ঘ আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার তিনটি রথই নির্ধারিত গন্তব্য মৌসিমা মন্দিরে পৌঁছতে পারেনি। শুক্রবার সকালে আবার রথ টানা হবে বলে মন্দির প্রশাসন জানিয়েছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ছিল রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জল জমার সমস্যা মোকাবিলাতেও প্রশাসনের তরফে বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসব।
ভারত টেক্স ২০২৬-এ নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/রাঁচি: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ভারত টেক্স ২০২৬-এর তৃতীয় দিনেও ঝাড়খণ্ড প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব সিংভূম জেলার বহড়াগোড়ার অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টারের তৈরি বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ দেশ-বিদেশের ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা বহন করছে। বাঁশ ও স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি বিশেষ বোতলটি গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের তাপমাত্রা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে বাঁশ, স্টেনলেস স্টিল এবং খাদ্য-নিরাপদ প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করে তৈরি মগে পানীয়ের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে। রাজ্য সরকারের মতে, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ভারত টেক্স ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তসর রেশম, ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃত পণ্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প এবং বাঁশ-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সামগ্রীর মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করছে। অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টার শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকেই নতুন রূপ দিচ্ছে না, বরং আধুনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যও তৈরি করছে। লেজার কাটিং, লেজার খোদাই, সিএনসি রাউটিং এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশা তৈরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস্টারটি বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করছে। এবারের ভারত টেক্স ২০২৬-এ ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঝাড়খণ্ডের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্প ও বাঁশ-ভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
হাইড্রোজেন ট্রেন: দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী রেলের উদ্বোধন শুক্রবার
জিন্দ-সোনিপত রুটে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারে ভারতীয় রেলের নতুন অধ্যায়। সকাল সকাল ডেস্ক ভারতের রেল পরিবহণে শুরু হতে চলেছে এক নতুন যুগ। হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক রেল পরিষেবার পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে জিন্দ-সোনিপত রুটে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রকল্পকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ২,৬০০ যাত্রী বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই হাইড্রোজেন ট্রেন নিজস্ব জ্বালানি কোষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলবে। ফলে ট্রেন চলার সময় কোনও ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন হবে না। পরিবেশে নির্গত হবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প ও তাপ, যা দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে ভারতীয় রেলের বড় পদক্ষেপ রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেলের বিস্তৃত ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি ইতিমধ্যেই বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চালু হচ্ছে হাইড্রোজেন ট্রেন। প্রচলিত ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইনের পরিবর্তে এই ট্রেনে জ্বালানি কোষে হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের গণপরিবহণে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়বে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের ট্রেন দশ কামরার এই ট্রেনে রয়েছে দুটি শক্তি ইউনিট এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ। প্রতিটি শক্তি ইউনিটে জ্বালানি কোষ, ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও জিন্দ-সোনিপত রুটে এটি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে চলবে। যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং শক্তির দক্ষ ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েই এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন রেল মন্ত্রকের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলি দুই থেকে চার কামরার। সেই তুলনায় ভারতের দশ কামরার এই ট্রেন যাত্রী ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বৃহৎ পরিসরে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ চালুর ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতারও পরিচয় বহন করে। নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব এই প্রকল্পে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ট্রেনে হাইড্রোজেন গ্যাসের লিকেজ, ধোঁয়া, আগুন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা শনাক্ত করার জন্য অত্যাধুনিক সেন্সর বসানো হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ট্রেন এবং জিন্দে নির্মিত রিফুয়েলিং কেন্দ্রে উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশনের আওতায় হাইড্রোজেনভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্প। জিন্দে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে জল থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং ট্রেনে সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রেন চালুর আগে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ব্রেক ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গতিসংক্রান্ত সমস্ত কারিগরি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নও সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গবেষণা, নকশা ও মান নির্ধারণ সংস্থা, সমন্বিত কোচ নির্মাণ কারখানা এবং দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে জিন্দ-সোনিপত রুটে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রী পরিষেবা শুরু হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কালকা-শিমলার মতো পার্বত্য রেলপথেও হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, কম দূষণ, উন্নত নিরাপত্তা এবং আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয়ে এই উদ্যোগ ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন রুটে এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হলে সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার লক্ষ্য পূরণে বড় সাফল্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা
শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে মহারণ। সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। একসময় পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল মেসির দল জয় ছিনিয়ে নেয়। ফলে এবার বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই আটলান্টার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রথমার্ধে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে শারীরিক লড়াইই বেশি চোখে পড়ে। মোট ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। উভয় দলের একজন করে ফুটবলার হলুদ কার্ডও দেখেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে না পারলেও আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। দুই দলের রক্ষণভাগও দৃঢ়তা দেখায়, ফলে বিরতির আগে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করে ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মর্গান রজার্সের বাড়ানো বল ধরে অ্যান্থনি গর্ডন নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও গোল রুখতে পারেননি। গোল করার পর ইংল্যান্ড রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করে। ফলে দীর্ঘ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন ম্যাচের ৮৫ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে বক্সের বাইরে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ইংল্যান্ড মরিয়া চেষ্টা করলেও আর সমতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ ওঠার স্বপ্ন পূরণ করে আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার আধিপত্য পুরো ম্যাচে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। তারা প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। গোলের উদ্দেশে মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড পাঁচটি শট নিলেও মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণ, বলের দখল এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। সেই ধারাবাহিক চাপই শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ তৈরি করে দেয়। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ইংল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। ১৯৬৬ সালের পর আর শিরোপা জিততে পারেনি তারা। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে থাকা আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে খেলছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছিল। খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ফলেই এই গুরুত্বপূর্ণ জয় এসেছে। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিও সতীর্থদের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি বছরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। একইসঙ্গে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স। ফুটবলবিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল-এর দিকে। শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি আর্জেন্টিনা, নাকি নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাস গড়বে স্পেন—তার উত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে। সেই লড়াই ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
হঠাৎ নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, পিকনিক স্পটে মাঝনদীতে আটকে আট
অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা কার্বি আংলঙের লংসোকাংথু পিকনিক স্পটে আজ বৃহস্পতিবার হঠাৎ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতের মধ্যে নদীর মাঝখানে আটকে পড়েছেন আট পৰ্যটক। তাঁদের উদ্ধার করতে কসরত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন শুক্রবার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের শুভ সূচনা করবেন। প্রায় ২,৬০০ যাত্রী ধারণ ও ক্ষমতার এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব। কারণ, এটি নিজের ভেতরেই হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে চলবে, যার ফলে কোনও ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন হবে না। এই ট্রেন চলাচলের সময় কেবল জলীয় বাষ্প ও তাপ উৎপন্ন হবে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯তম দিনে, অঙ্গ বিকলের আশঙ্কা
অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি, ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে; হাইকোর্ট বলল, জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে সকাল সকাল ডেস্ক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং এনইইটি প্রশ্নফাঁস-সহ একাধিক ইস্যুতে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন ১৯তম দিনে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীর এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্রুত চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ না হলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসক সতীশ লাম্বা। তিনি জানান, গত ১৯ দিনে ওয়াংচুকের ওজন ৯ কিলোগ্রামেরও বেশি কমে বর্তমানে ৫৬.৯ কেজিতে নেমে এসেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার, হৃদ্স্পন্দনের হার মিনিটে ৭২ এবং রক্তচাপ শোয়া অবস্থায় ১০৫/৬১ ও বসা অবস্থায় ১০১/৬৫। আপাতত তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন এবং শরীরে জলের ভারসাম্যও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের উদ্বেগ শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন নিয়ে। ডা. লাম্বার বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শরীর এখন ‘প্রলম্বিত অনাহার’-এর দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। এই পর্যায়ে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশি ক্ষয় করতে শুরু করে, যার ফলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তৃতীয় ধাপে কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক দলের নিবিড় নজরদারি চলছে। এদিকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্টও। বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।” আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ – শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকরা পরীক্ষা করছেন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এই আশ্বাস নথিভুক্ত করে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রতিদিন তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন চালিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ চিকিৎসা হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আদালত মামলার নিষ্পত্তি করে। উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য উপবাসে বসেন। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে বৃহৎ শান্তিপূর্ণ পদযাত্রারও ডাক দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং আদালতের হস্তক্ষেপের পর আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সড়ক, রেল, অর্ধপরিবাহী শিল্প, মোবাইল উৎপাদন এবং ইউরিয়া উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পে ছাড়পত্র। সকাল সকাল ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের পরিকাঠামো, শিল্পোন্নয়ন এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বৈঠক-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সড়ক নির্মাণ, অর্ধপরিবাহী শিল্প, মোবাইল উৎপাদন, রেল অবকাঠামো এবং ইউরিয়া উৎপাদন সংক্রান্ত বড় প্রকল্পগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বারাণসীতে নতুন উড়াল সড়ক নির্মাণে অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত-এর মধ্যে অন্যতম হলো উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে জাতীয় সড়ক-উনিশ এবং বারাণসী ঘিরে নির্মিত সড়কপথের মধ্যে ছয় লেনের একটি নতুন উড়াল সড়ক নির্মাণ। ছেচল্লিশ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই প্রকল্পে ব্যয় হবে চৌদ্দ হাজার চারশো কোটিরও বেশি টাকা। সরকারের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বারাণসীর যানজট অনেকটাই কমবে এবং যাতায়াতের সময় প্রায় এক ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় কুড়ি মিনিটে নেমে আসবে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন এছাড়া বরুণা নদীর পাশ দিয়ে জাতীয় সড়ক-একত্রিশ এবং বারাণসী ঘিরে নির্মিত সড়কপথকে যুক্ত করতে আরও একটি উড়াল সড়ক নির্মাণেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তেতাল্লিশ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দশ হাজার নয়শো আটানব্বই কোটিরও বেশি টাকা। অর্ধপরিবাহী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ দেশে অর্ধপরিবাহী শিল্পকে শক্তিশালী করতে এক লক্ষ সাতাশ হাজার পাঁচশো কোটি টাকার নতুন কর্মসূচিতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের লক্ষ্য, দেশকে বৈশ্বিক অর্ধপরিবাহী উৎপাদন ও নকশা উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন সরকারের মতে, এই বিনিয়োগের ফলে উন্নত প্রযুক্তি, নতুন শিল্প স্থাপন, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ আরও বাড়বে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত-এর মধ্যে এটিকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি খাতের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোবাইল উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে জোর বৈঠকে দেশে মোবাইল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বাষট্টি হাজার পাঁচশো কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত হতে চলা এই প্রকল্পে উৎপাদনের ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক বাজারে ভারতীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। রেল অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের চারটি জেলাকে যুক্ত করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর আওতায় পারাদ্বীপ–হরিদাসপুর দ্বৈত রেলপথ এবং রাজখারসাওয়ান–ডাঙ্গোয়াপোসি চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন প্রায় তিন হাজার নয়শো সাত কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলির কাজ দুই হাজার ত্রিশ-একত্রিশ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহণের গতি বাড়বে এবং শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। আত্মনির্ভর উৎপাদন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে বড় প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি শিল্প, উৎপাদন ক্ষেত্র এবং কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি ইউরিয়া উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ নীতিও অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া কারখানায় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সড়ক ও রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাতায়াত সহজ হবে, পণ্য পরিবহণের সময় কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। অর্ধপরিবাহী ও মোবাইল উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরিয়া উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক বড় সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধায়ী গৌরব যাত্রা: সুশাসন নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বললেন ওম বিড়লা
রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনমুখী শাসনব্যবস্থার ওপর জোর লোকসভার অধ্যক্ষের। সকাল সকাল ডেস্ক জয়পুরে রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র মঞ্চ থেকে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে নাগরিকদের প্রত্যাশা বদলেছে। মানুষ এখন শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই নয়, বরং সংবেদনশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আইনসভাগুলিকে জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনসভাই গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তি ওম বিড়লা বলেন, বিধানসভা এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়নের প্রয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় সরকারের সামনে তুলে ধরা হয়। এই আলোচনা ও মতবিনিময় প্রশাসনকে আরও কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জনমুখী করে তুলতে সহায়তা করে। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনসভা শুধু আইন প্রণয়নের স্থান নয়, বরং জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। বিধায়ী গৌরব যাত্রা সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও দায়িত্বের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব লোকসভার অধ্যক্ষের মতে, বর্তমান সময়ে সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আইনসভাগুলিকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত, আলোচনা এবং কার্যকলাপ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছানো উচিত। এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে এবং প্রশাসনের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে। গণতন্ত্রের শিক্ষাঙ্গন হিসেবে বিধানসভা ওম বিড়লা বিধানসভাকে গণতন্ত্রের প্রকৃত শিক্ষাঙ্গন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখান থেকেই দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, কার্যকর আলোচনা, গঠনমূলক বিতর্ক এবং যুক্তিনির্ভর মতবিনিময়ের মাধ্যমেই উন্নত নীতি ও আইন প্রণয়ন সম্ভব। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন গণতন্ত্রের ঐতিহ্য এবং আইনসভাগুলির ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ওম বিড়লা বলেন, সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আলোচনা, বিতর্ক ও বিচার-বিবেচনা শুধু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভবিষ্যতের জন্যও তা গণতান্ত্রিক ইতিহাসের মূল্যবান দলিল হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এই আলোচনাগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী আইনসভা মানেই আরও কার্যকর শাসনব্যবস্থা। জনগণের সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নও দ্রুত হয়। ওম বিড়লার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সরকার নয়, আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিধায়ী গৌরব যাত্রা সেই দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে।