ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান, দিনের মতো মুলতুবি লোকসভা
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী সাংসদদের স্লোগান অব্যাহত থাকায় শুক্রবার দিনের মতো মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভার অধিবেশন। সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
কড়া নিরাপত্তায় পুরীতে বাহুড়া যাত্রা শুরু, শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তন ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক। ভুবনেশ্বর : পবিত্র নগরী পুরীতে শুক্রবার আয়োজিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাহুড়া যাত্রা (জগন্নাথদেবের ফিরতি রথযাত্রা) । ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা গুণ্ডিচা মন্দির থেকে পুনরায় শ্রীমন্দিরের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এই উপলক্ষে পুরী শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। পহণ্ডি বিহে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই যাত্রার সূচনা হচ্ছে। সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্ত এই পবিত্র যাত্রার সাক্ষী হতে পুরীতে সমবেত হতে শুরু করেছেন। গ্র্যান্ড রোড বা বড়দাণ্ডায় উপচে পড়া ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ওড়িশা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য একত্রিত হচ্ছেন। রথযাত্রার সমাপ্তি পর্ব হিসেবে আয়োজিত এই বাহুড়া যাত্রায় লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। রথগুলির সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পুঙ্খানুপুঙ্খ আয়োজন করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে, বিশেষ করে বড়দাণ্ডা মার্গে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যে পথ ধরে তিনটি রথ শ্রীমন্দিরের দিকে অগ্রসর হবে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অধীনে প্রশাসন পুরী ও তার আশেপাশের এলাকায় মোট ৩১টি পার্কিং জোন তৈরি করেছে। এই পার্কিং স্থানগুলিতে প্রায় ৭,৩৩০টি চার চাকা গাড়ি এবং ১৮,০০০-এরও বেশি দু-চাকার যানবাহন পার্ক করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ট্রাফিক ডাইভারশন ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পরও জারি আন্দোলন
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার নয়াদিল্লির ভিপি পটেল হাউসে বৈঠক করলেন ‘করকোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের দুই দাবিতে সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এখনও অনড় তারা।
ডিএ মামলার শুনানি পিছোল সুপ্রিম কোর্টে, ৮৫ শতাংশ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাজ্যের
সকাল সকাল ডেস্ক সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও শুনানি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি আরও কিছুটা সময়ের জন্য অনিশ্চিত রইল। পরবর্তী শুনানির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যেই বুধবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সরকারের দাবি, রাজ্যের কোষাগারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ রয়েছে। তাই আদালতের কাছে আংশিক ছাড় চেয়ে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, আপাতত ৮৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ বকেয়া ২০২৮ সালের মধ্যে চারটি কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রস্তাবও আদালতের সামনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এককালীন অর্থপ্রদানের বদলে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর রূপরেখা পেশ করেছে সরকার। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তার সুপারিশ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কাজ শুরু করা ওই কমিটির সঙ্গে নতুন সরকারও বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকের সুপারিশ এবং আর্থিক পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সর্বশেষ স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। কমিশনটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করবে। বর্তমান ডিএ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা, অন্যদিকে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ— এই দুই প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর সরকারি কর্মচারীদের। পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণার পাশাপাশি আদালত রাজ্যের প্রস্তাব সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখনও খারাপ আবহাওয়া, টানা ৫-দিন স্থগিত বৈষ্ণোদেবী যাত্রা
সকাল সকাল ডেস্ক।জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরের আবহাওয়া এখনও খারাপ, আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবারও স্থগিত রাখা হয়েছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা এবং ত্রিকুটা পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের জন্য বৈষ্ণো দেবী যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। টানা পঞ্চম দিনের মতো যাত্রা স্থগিত থাকায়, শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী তীর্থযাত্রার বেস ক্যাম্প ও যাত্রার প্রারম্ভিক কেন্দ্রটি জনশূন্য ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশের কারণে কাটরা এলাকায় তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তীর্থযাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত যাত্রাপথের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকেন।
বাদল অধিবেশনের চতুর্থ দিনেও উত্তাল সংসদ
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনের চতুর্থ দিনেও উত্তাল সংসদ। নিট-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। প্রথমে দুপুর বারোটা এবং পরে দুপুর দুটো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “আজ প্রধানমন্ত্রী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এটি একটি উসকানিমূলক বিবৃতি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত; তবেই আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হব।” সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, “সব দলই দাবি জানিয়েছে, নিট নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এনডিএ-র সব শরিক দল আবারও দাবি জানিয়েছে, নিট নিয়ে আলোচনা হোক। গতকাল খাড়গে জি এবং বিরোধী দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের মনে কিছুটা আশা জেগেছিল যে, আজ হয়তো আলোচনা হতে পারবে। কিন্তু কংগ্রেস দল একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, আলোচনা কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে চলবে তা আমরা নিজেদের মধ্যেই ঠিক করে নেব, কিন্তু কোনও শর্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার এই মানসিকতা ঠিক নয়, কারণ এর মাধ্যমে আপনারা আসলে আলোচনাটিই বন্ধ করতে চাইছেন। আমরা আবারও অনুরোধ করছি, কোনও রকম রাজনৈতিকীকরণ ছাড়াই সংসদের উভয় কক্ষে নিট পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অত্যন্ত জোরালো একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং দেশকে জানিয়েছেন, বিচার ব্যবস্থায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা প্রয়োজন; যাতে দেশে কোনও ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। সরকার এমন একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার অনুরোধ, আপনারা কোনও শর্ত চাপাবেন না।”
অসমে অপরিবর্তিত বন্যা পরিস্থিতি, মৃত বেড়ে ৩১
সকাল সকাল ডেস্ক। গুয়াহাটি : দু-একটি এলাকায় সামান্য জল কমলেও সার্বিকভাবে অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চড়াইদেওয়ে পাঁচ, গোলাঘাটে দুই এবং যোরহাট জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে এএসডিএমএ-এর বুলেটিনে। এ খবর লেখা পর্যন্ত বন্যার প্রভাবে ১৬টি জেলা যথাক্রমে শিবসাগর, যোরহাট, চড়াইদেও, গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর, শোণিতপুর, বিশ্বনাথ, ওদালগুড়ি, হোজাই, নগাঁও, কামরূপ (গ্রামীণ), কামরূপ (মেট্রো), তিনসুকিয়া এবং কার্বি আংলং-এর ৫ লক্ষ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এএসডিএমএ-এর তথ্য বলেছে, ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৮৭২টি গ্রাম এখনও বন্যার জলে প্লাবিত। প্রায় ২৪,২১০ হেক্টর কৃষিজমি জলের নীচে চলে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষককুল, এতে তাঁদের জীবিকা নির্বাহে সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা। শিবসাগরে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এর পর রয়েছে যোরহাট। যোরহাটে ৮৭,৬৬২ জন, চড়াইদেওয়ে ৭২,৬৪৬, ডিব্ৰুগড়ে ১৮,৬১৫ জন এবং ১৬,৭৯৯ জন গোলাঘাটে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয় ও ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসন ২৭৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে। ওই সব ত্রাণ শিবিরে ১ লক্ষ ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্ৰাণ ও উদ্ধারে যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবার দল, আসাম পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে যোরহাট জেলার অন্তর্গত টিয়ক রাজস্ব সার্কলের অধীন সেলেংঘাট এলাকা, সেলেং চা বাগানের কাছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালায় এনডিআরএফ। খোদ ডেপুটি কমান্ডেন্ট এনকে তিওয়ারির তত্ত্বাবধানে ইনস্পেক্টর কেবি নাথের নেতৃত্বাধীন দলটি পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছিলেন প্লাবিত বাড়ির ছাদে আটকে পড়া এক কিশোরী, প্রবল স্রোতে আটকে পড়া এক ব্যক্তি এবং বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া তিনজন মহিলা। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ বন্যার জলে থাকার ফলে মারাত্মক হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকেও উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নির্ধারিত ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উজান অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যার জলে ডুবে থাকায় উদ্ধারকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর রাজ্য প্রশাসন নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক পরিষেবায় বিভ্রাট, কম্পিউটার সংস্করণে সমস্যায় লক্ষাধিক ব্যবহারকারী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রবিবার দুপুরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পরিষেবায় বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা থেকে শুরু হওয়া এই যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লক্ষাধিক ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে কম্পিউটার ও বহনযোগ্য কম্পিউটার থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর থেকেই ফেসবুকের পরিষেবায় ত্রুটি দেখা দেয়। কম্পিউটার থেকে ফেসবুকে প্রবেশের চেষ্টা করলে পর্দায় ‘অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে উপলব্ধ নয়’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নতুন লেখা প্রকাশ, বার্তা আদান-প্রদান কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা—কোনও কাজই করতে পারছেন না। তবে স্বস্তির বিষয়, স্মার্টফোনে ফেসবুকের মোবাইল সংস্করণে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি এবং সেখানে পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। বিভ্রাটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি শুধু ভারতে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের একাধিক দেশেই একই ধরনের বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এক লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারী এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। কী কারণে এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং কবে পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কাজে ফেসবুকের উপর নির্ভরশীলরাও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৮, নিখোঁজ আরও ৬ জন
সকাল সকাল ডেস্ক রাজৌরি : জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬ জন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারী দলগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী এই দুই জেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে একাধিক এলাকায় আচমকা হড়পা বান নেমে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আংশিকভাবে মোবাইল পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে বহু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। শনিবার রাতভর অবিরাম বৃষ্টিতে একাধিক জায়গায় ভূমিধস এবং হড়পা বানের জেরে বহু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পুঞ্চ জেলার সুরানকোটের লোয়ার মুররা এলাকায়। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চলছে। বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজ ৬ জনের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন অমিত শাহ, সীমান্ত সুরক্ষায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন তিনি। শনিবার সকালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। সীমান্তে কর্তব্যরত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন। পরে উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার ওপর। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। সরকারি সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ রোধ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের তথ্যভাণ্ডারকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল রূপ দেওয়া, জাল ভোটার পরিচয়পত্র এবং ভুয়ো নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির প্রবণতা রুখতেও বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং জাল নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির মতো কর্মকাণ্ড রুখতে কেন্দ্র সরকার নতুন কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।