যোগের মাধ্যমে সুস্থ জীবনের পথে সিসিএলের অঙ্গীকার
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেড (সিসিএল)-এর উদ্যোগে কাঁকে রোডের জওহরনগর ক্লাবে একটি বিশেষ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিসিএলের শীর্ষ আধিকারিক ও বিপুল সংখ্যক কর্মী উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিএলের সিএমডি নিলেন্দু কুমার সিং, পরিচালক (অর্থ) পবন কুমার মিশ্র, পরিচালক (মানবসম্পদ) হর্ষ নাথ মিশ্র, পরিচালক (প্রযুক্তি/পরিচালনা) চন্দ্র শেখর তিওয়ারি, পরিচালক (পরিকল্পনা ও প্রকল্প) অনুপ হাঞ্জুরা এবং প্রধান সতর্কতা আধিকারিক পঙ্কজ কুমার। এছাড়াও সংস্থার বহু জ্যেষ্ঠ আধিকারিক ও কর্মী যোগাভ্যাসে অংশ নেন। বিশেষ যোগ সেশনের পরিচালনা করেন প্রখ্যাত যোগগুরু ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম ও সহজ যোগব্যায়ামের অনুশীলন করান। পাশাপাশি যোগের মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক ভারসাম্য এবং আবেগগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সিসিএলের গান্ধীনগর হাসপাতাল-সহ সংস্থার সব কার্যাঞ্চলেও পৃথক যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার মহাপ্রবন্ধক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, অংশীদার সংস্থার সদস্য, কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এই উপলক্ষে উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মীরা নিয়মিত যোগাভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার এবং সুস্থ জীবনধারা অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। আয়োজকদের মতে, কর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি, কর্মক্ষমতা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে সংস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং সুস্থ, কর্মক্ষম ও উদ্যমী কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে সিসিএল ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা জারি, রাস্তায় সেনা
সকাল সকাল ডেস্ক লাপাজ: ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। একই সঙ্গে সড়ক অবরোধ সরাতে সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকোচাষিদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের জেরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, চলমান অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই কয়েকশো কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থার আওতায় দেশজুড়ে সব ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত এলাকাগুলিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এল আল্টো শহরসহ একাধিক এলাকায় সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। রাস্তায় তৈরি করা ব্যারিকেড ও প্রতিবন্ধকতা সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজধানী লাপাজেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের। শহরের প্রধান চত্বর এবং প্রশাসনিক এলাকাগুলিতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, ‘‘বলিভিয়ার জনগণ এমন অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, যা তাদের কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের পথ বন্ধ করে দেয়।’’ তাঁর দাবি, জরুরি অবস্থার লক্ষ্য নাগরিক অধিকার খর্ব করা নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার করা। তবে বিক্ষোভকারীরা সরকারের এই অবস্থান মেনে নিতে রাজি নন। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট পাজের উদার অর্থনৈতিক সংস্কার সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী। আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছে। যদিও সংকট নিরসনে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে সরকার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের পথে না হাঁটা এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে ওই সংগঠন আন্দোলন প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। তবে আদিবাসী সংগঠনগুলির একটি বড় অংশ এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। দেশজুড়ে ৪০টিরও বেশি স্থানে সড়ক অবরোধ বহাল রয়েছে। এক আদিবাসী নেত্রীর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক অসন্তোষের এই ত্রিমুখী সংকট বলিভিয়ার নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
‘আমার কথা তারা শোনে’, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, নিহত ৫
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/বেইরুট: ইজরায়েলের ওপর নিজের প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। শনিবারের এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইজরায়েল তাঁর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল এবং তিনি যা বলেন, তারা তা-ই করে। লেবাননে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান রোধে তিনি ইজরায়েলকে প্রভাবিত করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের জবাব ছিল, ‘‘হ্যাঁ, আমি পারব। আমার প্রতি তাদের অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।’’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘সম্পর্ক ভালো, তবে তাঁকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।’’ যদিও তেহরানের সঙ্গে সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অতীতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই ইজরায়েলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেই চুক্তি বহাল থাকলে ইরান অনেক আগেই পরমাণু অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় ট্রাম্পের বক্তব্যে। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বাস্তবে তাঁর কার্যক্ষমতার পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। যুদ্ধবিরতির পর এত দ্রুত পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ট্রাম্প–মেলোনি বাকযুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
সকাল সকাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রকাশ্য বাকযুদ্ধকে ঘিরে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমছে। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা না করাই এর অন্যতম কারণ। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, যা সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অসুবিধার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, তাঁর জনপ্রিয়তা কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না, বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন।’’ এর আগেও দু’জনের মধ্যে কথার লড়াই দেখা গিয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনের সময় মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সহানুভূতি থেকেই তিনি সেই অনুরোধ বিবেচনা করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মেলোনি। তাঁর কথায়, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ মনগড়া কথা বলছেন।’’ অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতার চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে। সেই প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে প্রণালীতে কোনও ধরনের অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সমস্যা সমাধানে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজন: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেছেন, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যুর সমাধান অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের মতো করে করা সম্ভব নয়। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ সফর শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে লি জানান, ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার আগেই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এর জবাবে লি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের মতো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর জন্য বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। লি ট্রাম্পের সামনে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানের একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রথমে উত্তর কোরিয়ায় পরমাণু উপাদান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে, এরপর বিদ্যমান পরমাণু উপাদান দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, তবে তার আগে বাস্তবসম্মত ও স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রেসিডেন্টের দাবি, ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। লি আরও জানান, উত্তর কোরিয়া ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্বিগ্ন বলেই তাঁর কাছে মনে হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সংলাপ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, যদিও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাই সিওল, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সফরকালে লি ভ্যাটিকানে ১৪তম পোপ লিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইউথ ডে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য পোপকে আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) পরিদর্শনের অনুরোধও করেন। লি জানান, পোপ এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মতে, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি পোপের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া আলোচনার সময় পোপ রসিকতার সুরে জানান যে তিনি স্যামসাংয়ের ঘড়ি ও মোবাইল ফোন এবং হুন্ডাইয়ের গাড়ি ব্যবহার করেন।
বিশ্ব যোগ দিবসে কাঠমান্ডুতে গণযোগ কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে রবিবার ১২তম বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য গণযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সরকারি আধিকারিক, কর্মচারী এবং যোগবিশেষজ্ঞ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের মুখ্যসচিব সুমনরাজ আর্যাল, বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব, সরকারি কর্মচারী এবং যোগগুরুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে যোগাভ্যাস করে যোগের গুরুত্ব এবং এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতার বার্তা তুলে ধরেন। এ বছরের যোগ দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমেও এই বার্তাই দেওয়া হয় যে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে যোগ একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। এই দিবসের উদ্দেশ্য হল যোগের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নেপাল সরকারও প্রতি বছর এই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে, যাতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গ্রহণে উৎসাহিত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগচর্চা মানসিক চাপ কমায়, একাগ্রতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন উদ্যম ও শক্তি সঞ্চার করে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-মেলোনি প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
সকাল সকাল ডেস্ক রোম/আঙ্কারা : জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একে অপরকে লক্ষ্য করে করা মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে ট্রাম্প দাবি করেছেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি একাধিকবার তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ইতালিতে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় মেলোনি রাজনৈতিকভাবে সেই ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিতে চাইছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ইতালি তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। কিন্তু অভিযানের পর পরিস্থিতি বদলাতেই রোম আবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাঁর কথায়, ইতালির জনগণের সমর্থন তিনি অর্জন করেছেন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, কোনও বিদেশি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে নয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইতালিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলির ব্যবহার কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় সম্ভব। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ট্রাম্প পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন। জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, মিত্র দেশের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেয় না। এরই মধ্যে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত মার্কিন সফর স্থগিত করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া অস্বস্তিরই ইঙ্গিত। উল্লেখ্য, বেশ কিছু সময় আগেও ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু ইরান নীতি, সামরিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সেই সম্পর্কেই এখন স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে।
জুনে বড় ধাক্কায় সোনার দাম, ১০ গ্রামে কমেছে প্রায় ১০ হাজার টাকা; রুপোও সস্তা, ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার আশা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : জুন মাসে কলকাতার বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সোনা ও রুপোর দাম। মাসজুড়ে দামের ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যবান দুই ধাতুর দর নিম্নমুখী থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর বর্তমান মূল্যস্তর গয়না কেনার জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল সুযোগ তৈরি করেছে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুনের তুলনায় ২০ জুনে ২৪ ক্যারাট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম কমেছে ৯ হাজার ৫৫০ টাকা। একই সময়ে ২২ ক্যারাট হলমার্কযুক্ত গয়না সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে কমেছে ৯ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা। শনিবার কলকাতার বাজারে কর ছাড়া ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দর ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা। খুচরো বাজারে একই পরিমাণ সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। ২২ ক্যারাট হলমার্কযুক্ত গয়না সোনার প্রতি ১০ গ্রামের মূল্য ছিল ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা। রুপোর খুচরো বাজারদর প্রতি কেজিতে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৫০ টাকা। অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুন ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং খুচরো বাজারে ছিল ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১০০ টাকা। সেই সময় ২২ ক্যারাট গয়না সোনার মূল্য ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। রুপোর দাম ছিল প্রতি কেজিতে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সংশোধন, মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে এই পতন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের একাংশ এখন কেনাকাটার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ঘোষিত বাজারদরেই গয়না কেনা সম্ভব নয়। সোনার দামের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত হবে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং গয়না তৈরির মজুরি। বিভিন্ন বিপণি ও ব্র্যান্ডভেদে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত মূল্য ঘোষিত বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে। আসন্ন বিয়ের মরশুম এবং উৎসবের আগে সোনা ও রুপোর দামে এই সংশোধন বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহ ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকতে পারে।
ভিসা ও রুপে—দুই নেটওয়ার্কের সুবিধাসহ নতুন কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড আনল পিএনবি ও জ্যাগল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন কো-ব্র্যান্ডেড ‘টুইন’ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা একই সঙ্গে ভিসা এবং রুপে—দুই পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবেন। পিএনবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের সহযোগিতায় চালু করা ‘পিএনবি-জ্যাগল ক্রেডিট কার্ড’ পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি। পরিবেশ সচেতন গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে কার্ডগুলি বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যাঙ্কের মতে, এই কার্ডে দ্বৈত নেটওয়ার্কের সুবিধা থাকছে। ভিসা নেটওয়ার্কের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত সুবিধার পাশাপাশি রুপে নেটওয়ার্কের লাইফস্টাইল সুবিধা এবং ইউপিআই-ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিএনবির লক্ষ্য, ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্রেডিট কার্ড বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি, ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহী তরুণ গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) অশোক চন্দ্র বলেন, তরুণ এবং ডিজিটালভাবে সচেতন গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ব্যাঙ্ক উদ্ভাবনী ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, ভারতের ক্রেডিট কার্ড ক্ষেত্রে এখনও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং জ্যাগলের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে। জ্যাগল প্রিপেইড ওশান সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অবিনাশ রমেশ গোদখিন্ডি বলেন, “গ্রাহকদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও উন্নত আর্থিক প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরি করার যে কৌশল আমরা গ্রহণ করেছি, এই অংশীদারিত্ব তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
অস্ট্রেলিয়ায় শুরু বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যানবেরা : বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে একটি অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম বৃহৎ পরিসরের এমন উদ্যোগ, যা বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মোরেটন বে অঞ্চলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের সূচনা হয়। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কম্পিউটার ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপাদান বিজ্ঞান এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জনসংখ্যার বিচারে তুলনামূলকভাবে ছোট দেশ হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ গবেষক, উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের পরিবেশের কারণে দেশটিকে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি সংস্থা সাইকোয়ান্টামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম একটি কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে অঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গবেষণার উপযোগী পরিবেশ থাকায় এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্পোন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। বর্তমানে যেসব জটিল গণনামূলক সমস্যা প্রচলিত সুপারকম্পিউটার দিয়েও সমাধান করা কঠিন, ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার সেগুলির অনেকগুলিই তুলনামূলকভাবে কম সময়ে সম্পন্ন করতে পারবে। প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানমন্ত্রী টিম আয়ারস। তিনি এই উদ্যোগকে দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে। টিম আয়ারস বলেন, এই প্রকল্প শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প সফল হলে তা শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।