সকাল সকাল ডেস্ক
দোহায় দুই দিনের পরোক্ষ বৈঠকেও হরমুজ প্রণালী, ইরানের সম্পদ ফেরত, লেবানন যুদ্ধবিরতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
Hormuz Strait Crisis: দোহায় শেষ মার্কিন-ইরান বৈঠক, অচলাবস্থা কাটল না
দোহা : Hormuz Strait Crisis ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়ল। কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই দিনের পরোক্ষ বৈঠক শেষ হলেও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি হয়নি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই দুই দেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহী হলেও বাস্তব সমাধানের পথ এখনও কঠিন। বিশেষ করে Hormuz Strait Crisis-এর ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দোহার বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হল?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধিরা মূলত দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়—
- হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা
- আন্তর্জাতিক নৌচলাচল
- বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ
- লেবাননে যুদ্ধবিরতি
- ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক রূপরেখা
বৈঠকের পরিবেশ ইতিবাচক থাকলেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ Hormuz Strait Crisis?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালীতে উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং মার্কিন-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও নষ্ট করবে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তেল ও গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে ইরান যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে, তা সম্ভাব্য টোল আদায়ের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
ইরানের অবস্থান কী?
তেহরান অবশ্য নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।
ইরানের দাবি—
- হরমুজ প্রণালী তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।
- ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণালী পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।
- সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নির্ধারিত ফি আদায়ের অধিকারও তাদের রয়েছে।
ইরানের যুক্তি, প্রণালীর একটি বড় অংশ তাদের জলসীমার মধ্যে হওয়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত অধিকার তেহরানেরই থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
ওয়াশিংটনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মার্কিন প্রশাসনের মতে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তাই এর ভবিষ্যৎ পরিচালনা সংক্রান্ত যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলির মতামত জরুরি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, বাহরিন, কাতার ও ওমানের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ধীরে ধীরে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূল সংলগ্ন বিকল্প নৌপথ চালুর পর একাধিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে Hormuz Strait Crisis এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
ইরানের সম্পদ ও লেবানন ইস্যুতেও সমাধান হয়নি
দোহার আলোচনায় বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কয়েকশো কোটি ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া লেবাননের সংঘাত এবং সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়েও মতবিনিময় হয়। তবে কোনও ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর।
পরবর্তী বৈঠক কবে?
কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, আলোচনার দরজা এখনও খোলা রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ৯ জুলাইয়ের পরে নতুন করে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Background
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ। কাতারের মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক এই সংলাপ নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
Impact
- বৈশ্বিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।
- আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা।
- মার্কিন-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে পারে।
Official Statement
কাতারের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমান বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। ভবিষ্যতেও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
Public Information
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংলাপ অব্যাহত থাকা ইতিবাচক হলেও Hormuz Strait Crisis, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সহজ হবে না।
No Comment! Be the first one.