সকাল সকাল ডেস্ক
দীর্ঘ পাঁচ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শুরু হয়েছে Iran Funeral 2026-এর সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষকৃত্য উপলক্ষে শনিবার রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। তবে গোটা অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন, যা খামেনেইর কফিনের পাশেই রাখা হয়েছিল। শিশুটির ছবিও উপস্থিত মানুষের চোখে জল এনে দেয়।
Iran Funeral 2026-এ আবেগঘন পরিবেশ
শনিবার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে জাতীয় পতাকায় মোড়া খামেনেইর কফিন আনা হলে গোটা প্রাঙ্গণে নেমে আসে নীরবতা। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর পরিচিত কালো পাগড়ি, যা ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতীক।
কিন্তু সবার নজর কাড়ে পাশাপাশি রাখা পরিবারের সদস্যদের কফিন। বিশেষ করে ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন এবং তার পাশে রাখা শিশুর ছবি উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
ইরানের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খামেনেইর মরদেহ রাজধানী তেহরানে আনা হয়। শনিবার সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনের উপরে রাখা ছিল তাঁর পরিচিত কালো পাগড়ি, যা তাঁর ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সেই দৃশ্যের মধ্যেই সবার নজর কাড়ে পাশাপাশি রাখা পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট কফিনটি ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনির। কফিনের পাশে রাখা শিশুটির একটি ছবিও উপস্থিত মানুষকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে। অনেকেই কান্না চেপে রাখতে পারেননি, আবার কেউ কেউ প্রার্থনায় মাথা নত করেন।
ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে খামেনেইর মরদেহ তেহরানে আনা হয়। এরপর শনিবার সকাল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানী ছাড়াও ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে মোট ছয় দিন ধরে চলবে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। প্রশাসনের অনুমান, শুধু তেহরানেই আগামী তিন দিনে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হতে পারেন।
প্রশাসনের অনুমান, শুধুমাত্র তেহরানেই আগামী কয়েক দিনে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারেন। এছাড়াও ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি চলবে।
শুক্রবার রাত থেকেই হাজার হাজার সমর্থক গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের বাইরে অবস্থান করেন। শনিবার দরজা খুলতেই মুহূর্তের মধ্যে বিশাল এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শোকের মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার হাতে দেখা যায় লাল পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার। সমবেত মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানের পাশাপাশি প্রতিশোধের দাবিতেও সরব হন।
অনেকেই খামেনেইকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। উপস্থিত এক যুবক বলেন, তিনি শুধু তাঁর প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতেই সেখানে এসেছেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি
Iran Funeral 2026-এ উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার, সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি।
পার্লামেন্ট স্পিকার প্রকাশ্যেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)-এর নতুন প্রধানও। পাশাপাশি একাধিক বিদেশি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
ভারতের পক্ষ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে।
শেষকৃত্যের পূর্ণ সূচি
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত মরদেহ তেহরানেই রাখা হবে যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের পবিত্র শহর কোমে। পরে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় শহরগুলোতেও বিশেষ কর্মসূচি হবে। সবশেষে খামেনেইর জন্মস্থান মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Background
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা কারণে তাঁর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
Impact
- ইরানজুড়ে ব্যাপক শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
- লাখো মানুষের উপস্থিতি জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেছে।
- ১৪ মাসের নাতনির ছোট কফিন অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
- আন্তর্জাতিক মহলেও এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
Official Statement
ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী কয়েক দিন ধরে তেহরান, কোম, ইরাকের বিভিন্ন ধর্মীয় শহর এবং শেষপর্যায়ে মাশহাদে শেষকৃত্যের বিভিন্ন পর্ব সম্পন্ন হবে। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
Public Information
- অনুষ্ঠানস্থল: তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ
- শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ: কয়েক দিন ধরে
- সম্ভাব্য উপস্থিতি: দেড় থেকে দুই কোটির বেশি মানুষ
- সমাধিস্থল: মাশহাদ
No Comment! Be the first one.