সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে ভারত-সহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত-সহ ১৭টি দেশের উপর ১০ শতাংশ এবং আরও ৪৩টি দেশের উপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইৎজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যোগ করে মোট হার ১০ বা ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে কাজে লাগানো হয়। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্বব্যাপী অস্থায়ী ১০ শতাংশ ট্যারিফের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়েই নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশো বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখন ওয়াশিংটন তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রথা রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও তিনি দাবি করেন।
এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর বাণিজ্য নীতির অংশ। এর আগে ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক আমদানি শুল্ক’ সংক্রান্ত নির্দেশ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপরই ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৩০১ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে একাধিক দেশ। নরওয়ের বিদেশমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেন, তাদের দেশের বিরুদ্ধে এই শুল্কের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে নরওয়েতে ইতিমধ্যেই কঠোর বিধি রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এই শুল্ককে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে এবং তা প্রত্যাহারের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
কানাডার মার্কিন বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঁ বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই বিষয় এবং অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে দুই দেশের নাগরিকরাই উপকৃত হন।
অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মৌরা হিলি এক বিবৃতিতে বলেন, এই অতিরিক্ত শুল্কের ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলি অন্যায্য সুবিধা পেয়ে থাকে, যার ফলে মার্কিন সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন শুল্ক বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে বলে প্রশাসনের দাবি। যদিও সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়বে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের উপরও পড়বে।
No Comment! Be the first one.