আমেরিকায় শাটডাউনের ধাক্কা পড়ল ছুটিতে পাঠানো কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর, বেতনের টানাপোড়েন শুরু

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: আমেরিকায় সরকারি শাটডাউনের ফলে ছুটিতে পাঠানো কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেতন বিপদের মুখে পড়তে পারে। হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, এই কর্মীরা হয়তো আর আগের বেতন পাবেন না। সরকার ছুটিতে থাকা কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর বিষয়ে আপাতত সম্মতি দিতে নারাজ।

সরকারি শাটডাউনজনিত পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার প্রায় সব বড় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল পলিটিকো-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউনিয়ন নেতারা ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে পাস হওয়া আইনের পরিপন্থী। হোয়াইট হাউস জানিয়ে দিয়েছে, ছুটিতে পাঠানো কেন্দ্রীয় কর্মীদের বেতন না মেলার আশঙ্কা প্রবল।

ওভাল অফিসে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “প্রশাসন সবার চিন্তা করছে, তবে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।” অ্যাক্সিওস প্রথমে হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থানের খবর দেয়, যার পরেই শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অনেক মানুষকে ঝুঁকি ও সংকটে ফেলেছেন। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম শাসনকালে ৩৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে শাটডাউন চলার পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা বকেয়া বেতনের গ্যারান্টি দেয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থান ছুটিতে থাকা প্রায় ৭,৫০,০০০ কর্মীর বেতনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, তিনি ২০১৯ সালের সেই বকেয়া বেতন নিশ্চয়তা-বিধানের আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। জনসনের মতে, হোয়াইট হাউসের এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হবে, এবং আশা করা হচ্ছে, কর্মীরা শেষ পর্যন্ত বেতন পাবেন। তবে কিছু আইনি বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকার তা না-ও করতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের এই বিষয়ে দ্রুত কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এই সময় হোয়াইট হাউস ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি রাজ্যের জ্বালানি ও অবকাঠামো সংক্রান্ত অর্থায়ন স্থগিত করেছে। উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বলেছেন, শাটডাউনের ফলে যে কোনও চাকরি ছাঁটাইয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটরাই দায়ী থাকবেন।

সিএনবিসি-র রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শাটডাউনের সময় ছুটিতে থাকা কিছু কেন্দ্রীয় কর্মী কাজ ফিরে পেলেও আগের বেতন নাও পেতে পারেন। হোয়াইট হাউসের একটি খসড়া নোটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেতনবিহীন ছুটিতে থাকা কর্মীরা পূর্ববর্তী বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন না। এই সংকট দূর করতে কংগ্রেসকে বিশেষভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা কর্মীদের বকেয়া বেতন নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব, এটা নির্ভর করছে আমরা কাদের নিয়ে কথা বলছি তার ওপর।”

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) কর্মীসংকটের কারণে মঙ্গলবার রাতে ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কিছু সময়ের জন্য উড়ান বন্ধ রাখে। পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী রাত ১টা পর্যন্ত উড়ান স্থগিত ছিল।

কর্মীসংকটের কারণ স্পষ্ট না হলেও পরিবহন সচিব শন ডাফি সোমবার বলেন, শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সংখ্যা বেড়েছে, তবে অনেকেই অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি নিয়েছেন।

উড়ান বিলম্বের আরও একটি কারণ ছিল মঙ্গলবার বিকেলে ন্যাশভিলে হওয়া প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ঘণ্টায় ২৫ মাইল গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়, ভারী বৃষ্টিতে দৃশ্যমানতা তিন মাইল পর্যন্ত নেমে আসে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ন্যাশভিল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২৪৪টি উড়ান বিলম্বিত হয়।

বেতন সংক্রান্ত বর্তমান সঙ্কট নিয়ে কর্মী সংগঠনগুলি বলছে, প্রশাসন তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। মার্কিন কর্মী ব্যবস্থাপনা দফতর গত মাসে প্রকাশিত শাটডাউন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়েছিল, ছুটিতে পাঠানো কর্মীদের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে।

Read More News

কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে, ২০৩০-এ আহমেদাবাদে শতবর্ষের আসর

সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো : গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের...

Read More