সকাল সকাল ডেস্ক,
নয়াদিল্লি : দেশজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছে, আন্দোলনের ঘটনায় আটক ১৮ বছরের কম বয়সি নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না।
এই মামলায় দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহার, কেরল, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবদের নোটিশ পাঠিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত নজরদারি তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ড্রোনে ধারণ করা দৃশ্য, দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরার রেকর্ডিং, বেতার যোগাযোগের তথ্য এবং পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষে আসা ফোনকলের নথি। পাশাপাশি, আন্দোলন চলাকালীন সংগৃহীত প্রতিবাদকারীদের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ করা যাবে না। আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে হওয়া আন্দোলন মোকাবিলায় লাঠিচার্জ, ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস, রাবারের গুলি এবং বৈদ্যুতিক দণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। আদালত জানায়, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্বাধীন তদন্তের বিরোধিতা করছেন না। তবে তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের মধ্যে কিছু অপরাধমূলক ঘটনাও ঘটেছে এবং প্রায় ২০০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাই যে কোনও তদন্তে পুলিশ ও আন্দোলনকারী—উভয় পক্ষের ঘটনাই নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে বলেছে। তার আগে স্বাধীন তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে আদালত।
এর আগের শুনানিতেও সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছিল, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কোনও আন্দোলনের অজুহাতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। কোথাও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছিল আদালত। পাশাপাশি, সারা দেশে আন্দোলন মোকাবিলায় একরকম নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বেঞ্চের অপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, আহত ছাত্রছাত্রী এবং পুলিশকর্মী—উভয়ের নিরাপত্তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সহিংস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় অনেক পুলিশকর্মীর কাছে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম, যেমন হেলমেট, কেন ছিল না।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। পরে ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। প্রায় ২০ দিনের অনশনের পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় দিল্লির একাধিক এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
No Comment! Be the first one.