হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইজরায়েলের প্রস্তাব ফেরাল সৌদি আরব

সকাল সকাল ডেস্ক

রিয়াদ: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইজরায়েলের সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই প্রস্তাবে রাজি করানোর চেষ্টা হলেও সৌদি নেতৃত্ব তাতে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে ইজরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ইজরায়েল। তবে যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন সেই প্রস্তাবে কোনও আগ্রহ দেখাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত সৌদি জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, এই সামরিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চেয়েছিল ইজরায়েল। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ প্রশস্ত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফিলিস্তিন প্রশ্নে রিয়াদের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্ব আপত্তি জানিয়ে এসেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন রবিবার একই বিমানবন্দরে আরও একটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে এই হতাহতের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেন সীমান্তে সংঘাত অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার জেরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। এর পর দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের মোকাবিলায় ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে। একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, অন্যদিকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই রিয়াদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে হুতিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More