সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা, ১৪ অক্টোবর : পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্য বিধানসভার বিধায়ক তথা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন যে, এ ধরনের আজব দাবি তিনি নিজেই সবসময় করেন এবং এখন তাঁর আসল প্রয়োজন হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। বুধবার সকালে নিউ টাউন এলাকায় প্রাতঃভ্রমণ সেরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন অভিযোগ করেন যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তন্নিষ্ঠা সাহা নামের এক মহিলা সোজা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হাজির হন। ওই মহিলা নিজেকে প্রথমে ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’ এবং পরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভাইঝি’ বলে দাবি করেন। অভিযোগ ওঠে যে, তাঁর হাতে একটি ধারাল ছুরি ছিল এবং তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরবর্তীতে তিনি রাস্তায় শুয়ে পড়েন। সাংসদ দোলা সেনের আরও দাবি, ওই মহিলা সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
বুধবার সকালে সাংবাদিকরা এই চাঞ্চল্যকর নিরাপত্তা ত্রুটি ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তো এটাই বুঝতে পারলেন না যে নির্বাচনে মানুষ কীভাবে তাঁকে হারিয়ে দিল। এখন ওঁর উচিত ঘরের কোণে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেওয়া এবং বসে পর্যালোচনা করা যে বাংলার সাধারণ মানুষ আসলে কী চায়।”
এদিকে, এই ঘটনার পরই সাংসদ দোলা সেনের পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে কালীঘাট থানার আইসির কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত মহিলাকে ইতিমধ্যেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার জেরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই নেপথ্যের আসল সত্য কী, তা পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.