সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: চার দিনের সরকারি সফরে বুধবার থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই সফরে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্ক গোষ্ঠীর বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন। পাশাপাশি জি-২০ ও জি-৭ গোষ্ঠীর অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠকেও অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সরকারি সফরে থাকবেন। সফরকালে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, আর্থিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে একাধিক বহুপাক্ষিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।
এই সফরে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী একনিতি নিতিথানপ্রাপাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে সীতারামনের। পাশাপাশি সুইৎজারল্যান্ড, জাপান, লুক্সেমবার্গ এবং ভুটানের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং জাপান ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভাতেও যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেখানে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা, বিশ্ববাজারে ভারতের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে ভারত-আসিয়ান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও মতবিনিময় করা হবে।
এ ছাড়া জার্মানির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিনিয়োগের উপযোগী শহর গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ: নগর ও জল পরিকাঠামোয় বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন সীতারামন। এই আলোচনায় নগরোন্নয়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের মতে, এই আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলি ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই সফর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে ভারতের সক্রিয় অংশীদারিত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.